আজ মৌমিতার জন্মদিন

আজ আমাদের মৌমিতার জন্মদিন।অন্যান্য দিন সকালে তাকে উঠাতে মায়ের অবস্থা কাহিল হয়ে যায় কিন্তু আজ খুব ভোড়েই ঘুম ভেঙে যায় মৌমিতার।শুধু যে জন্মদিন সে জন্যই কেবল না,আজ তার বাবা আসবে।বাবা টা যে কি এমন চাকরি করে,যে মাসের বেশিরভাগ দিনই তাকে থাকতে হয় বাইরে বাইরে।তবে বাবার নিশ্চয়ই অনেক মজা,কারণ সে সারা দেশ ঘুরে বেড়ায়।সারা দেশ ঘুরে যেদিন বাবা বাড়িতে আসে সেদিন মৌমিতার জন্য ঈদ।আজকে বাবার আসার কথা,বাবা তাকে কথা দিয়েছিল,যত কাজই থাক আজকে সে আসবেই।অবশ্য বাবা আগেই তাকে উপহার দিয়ে গিয়েছে।মৌমিতা জিজ্ঞেস করেছিল-
“আমার জন্মদিন তো ১৫ জুন,তুমি আজকে কেন গিফট দিচ্ছ আমাকে?”

আজ আমাদের মৌমিতার জন্মদিন।অন্যান্য দিন সকালে তাকে উঠাতে মায়ের অবস্থা কাহিল হয়ে যায় কিন্তু আজ খুব ভোড়েই ঘুম ভেঙে যায় মৌমিতার।শুধু যে জন্মদিন সে জন্যই কেবল না,আজ তার বাবা আসবে।বাবা টা যে কি এমন চাকরি করে,যে মাসের বেশিরভাগ দিনই তাকে থাকতে হয় বাইরে বাইরে।তবে বাবার নিশ্চয়ই অনেক মজা,কারণ সে সারা দেশ ঘুরে বেড়ায়।সারা দেশ ঘুরে যেদিন বাবা বাড়িতে আসে সেদিন মৌমিতার জন্য ঈদ।আজকে বাবার আসার কথা,বাবা তাকে কথা দিয়েছিল,যত কাজই থাক আজকে সে আসবেই।অবশ্য বাবা আগেই তাকে উপহার দিয়ে গিয়েছে।মৌমিতা জিজ্ঞেস করেছিল-
“আমার জন্মদিন তো ১৫ জুন,তুমি আজকে কেন গিফট দিচ্ছ আমাকে?”
বাবা বলেছিলেন-“এমনিই।এখন দিয়ে যাচ্ছি,যদি ধর না আসতে পারি?”

মৌমিতা ঐদিন বাবার সাথে অনেক রাগ করেছিল।বাবা তার জন্মদিনে না থাকার ফন্দি করছে কিনা সেটাও ভেবেছিল সে।কিন্তু তার বাবা কখনও এমন করতে পারেনা।সে জানে ভাল করেই,বাবা অবশ্যই তার জন্মদিনের দিন ঠিকই হাজির হবে।কিন্তু কখন আসবে বাবা?মৌমিতা জানে বাবা এখন কোথায়।সেখান থেকে কি আসতে পারবে বাবা?ভাইয়া বলেছে ওখান থেকে বাবা আসতে পারবে না।কিন্তু মৌমিতার তীব্র বিশ্বাস,বাবা অবশ্যই আসবে।কারণ আজ যে তার জন্মদিন।তার এক বান্ধবি বলেছে আজ নাকি বাবা দিবস!বাবার জন্য আবার আলাদা কিসের দিবস সেটা বুঝতে পারেনি মৌমিতা।বিজয়দিবস,স্বাধীনতা দিবসের কথা শুনেছে সে কিন্তু বাবা দিবস?সে আবার কি?সে যাই হোক,এক দিক দিয়ে ভালই হল।তার জন্মদিনের দিনই যদি বাবা দিবস হয় তাহলে তো সেটা বেশ মজার।তাহলে তো বাবা আসবেই।

মৌমিতার আর অপেক্ষা করতে ভাল লাগেনা।বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সে।কখন আসবে বাবা?বাবা কি আজকে আসবে না?সবাই বলে বাবা যেখানে গিয়েছে সেখান থেকে আসা সম্ভব না।কিন্তু মৌমিতা জানে,বাবা তাকে কথা দিয়েছে।বাবা কথা দিলে কখনও সেটা ভুলে যায়না।এই তো সেবার বাবা কথা দিয়েছিল যত কাজই থাকুক পহেলা বৈশাখে মেলায় নিয়ে যাবে।ঠিক পহেলা বৈশাখের সকালে বাবা এসেছিল।এসেই মৌমিতা কে নিয়ে গিয়েছিল বৈশাখি মেলায়।কিবে দিয়েছিল কত খেলনা!আজকেও আসবে বাবা।কারণ আজ যে তার জন্মদিন!

গতকাল বাবার বন্ধুরা এসেছিল,কেক নিয়ে।এনেছিল আরও অনেক খেলনা-উপহার।কিন্তু তার জন্মদিন তো আজ!ওনাদের নাকি কাল ছুটি ছিল,তাই কালই এসে জন্মদিন পালন করে গেল!এটা কি হয় কখনও?ছুটি বলে একদিন আগেই জন্মদিন পালন কিভাবে করে?তাহলে তো বাবা যাওয়ার আগেই তার জন্মদিন পালন করে যেতে পারত।তবে হ্যা,এই আংকেলরা তাকে অনেক আদর করে।আগে অবশ্য এই আংকেলরা এত আসত না বাসায়।এখন আসে।তার জন্য মজার মজার খাবার,আইসক্রিম,চকলেট নিয়ে আসে।আর অনেক আদরও করে।তবে মৌমিতার কাছে সব থেকে ভাল লাগে বাবার আদর।বাবার মত আর কেউ তাকে আদর করতে পারেনা।

সেদিনের কথা ভেবে ভয় হয় মৌমিতার,যেদিন সবাই বলছিল বাবা আর আসবেনা।সবাই কান্না করছিল খুব-মা,নানি,খালা,আরও অনেক কে যাদেরকে আগে কখনও বাসায় দেখেনি মৌমিতা।বাবার কিছু হয়েছে কিনা ভেবে ভয় পাচ্ছিল মৌমিতা।আবার তার মনে হল,না বাবার কিছু হবেনা,বাবা যাওয়ার আগে আমি দোয়া পড়ে ফু দিয়ে দিয়েছি!সেদিন হঠাৎ করে সবাই মিলে গ্রামে রওনা দিল কেন সেটাও বুঝলনা মৌমিতা।তবে অনেকদিন পর দাদাবাড়ি যাচ্ছে দেখে খুব মজা লাগছিল তার।সেখানে তার আরও ভাই বোন আছে।তাদের সাথে অনেক খেলা করা যাবে।আর বাবাও নাকি সেখানে যাচ্ছে।

গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় টুকু তার ভাল মত মনে পড়েনা কেন জানি।তাদের দেখে কেন জানি সবাই খুশি হলনা।কেউ হাসল না।সবাই কাদছিল।এত কান্না কখনও দেখেনি মৌমিতা।খুব ভয় করছিল তার।বাবাকে খুজছিল ভীড়ের মধ্যে।কিন্তু কোথাও খুজে পাচ্ছিল না।চাচ্চু বলেছিল,”তোমার বাবা ঐদিকে আছেন।”চাচ্চুর কথায় কিছুটা ভরসা পেয়েছিল মৌমিতা।পুরো সময়টা কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে কেটেছিল তার।পরদিন রাতেই তার ফিরে এল ঢাকায়,বাবাকে ছাড়াই।এর মধ্যে বাবা কে দেখেওনি মৌমিতা।ফেরার সময় প্রথমবারের মত অনেক কেদেছিল সে।অনেক কেদেছিল।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যাথা গেল।মা এসে কয়েকবার ডেকে গিয়েছে।কিন্তু তার নড়তে ইচ্ছা করছে না একদমই।যদি হঠাৎ করে বাবা চলে আসে।দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকতে হবেনা?কত বেলা হয়ে গেল তাও বাবা আসেনা।

বাবা কি আসবেনা?আজ যে তার জন্মদিন,বাবা কথা দিয়েছিল।বাবা কি কথা রাখবেনা?বাবার দেয়া গিফট এখনও খোলেনি মৌমিতা।আজ বাবা আসলে তারপর খুলবে বলে ঠিক করে রেখেছে সে।কিন্তু কোথায় বাবা?বাবা কি আসবেনা আজকে?বাবা কি আসবেনা আর কোন জন্মদিনেই???

(না,মৌমিতার বাবা আসবেনা।কারণ তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখান থেকে কারও ফিরে আসা সম্ভব না।এই মৌমিতা কিংবা তার বাবা কোন কাল্পনিক চরিত্র না।কাহিনীটাও কাল্পনিক নয়।মৌমিতার বাবা আমার বাবার বন্ধু।গত মাসে ফরিদপুরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।আজ সত্যিই মৌমিতার জন্মদিন।মৌমিতা আজও বিশ্বাস করে তার বাবা হঠাৎ করে আসবে দরজায়,এসে চমকে দেবে তাকে!মৌমিতার মত যারা বাবার আদর থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য ভালবাসা।পৃথীবির সকল বাবা কে বাবা দিবসের শুভেচ্ছা।মৌমিতাদের বাবারা যেখানেই থাকুক,ভাল থাকুক।)

৭ thoughts on “আজ মৌমিতার জন্মদিন

  1. মৌমিতা আজও বিশ্বাস করে তার

    মৌমিতা আজও বিশ্বাস করে তার বাবা হঠাৎ করে আসবে দরজায়,এসে চমকে দেবে তাকে!

    মানুষ এজন্যি বিশ্বাস করে মৃত্যুর পরের জগতে! বিশ্বাস করে ধর্মে; কারণ ধর্ম ছাড়া আর কেউ মৃত্যুর পর প্রিয়জনদের সাথে মিট করার আশা দেখায়না।

    1. অনন্তকাল বেচে থাকা কিংবা মৃত
      অনন্তকাল বেচে থাকা কিংবা মৃত আপন জন দের সাথে পুণরায় একত্রিত হওয়ার ইচ্ছা থেকেই ধর্মের সৃষ্টি।

  2. জানি,মৌমিতার বাবার মতো আমার
    জানি,মৌমিতার বাবার মতো আমার বাবাও আর কখনো ফিরে আসবে না…
    বাবা কতোদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা কোথায় মানিক আমার ওরে বুকে আয়….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *