সুখ সয় না রে পাগল…!!

ছোটবেলা থেকেই নাম নিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। তখন টিভি চ্যানেল বলতে কেবল বিটিভিই ছিল। শুক্রবার বেলা ৩ টায় চ্যানেল খুলে যখন অনুষ্ঠান-সূচী শোনাত, পূর্নদৈর্ঘ বাংলা ছায়াছবির শ্রেষ্ঠাংশে প্রায়শই আমার নামটা পাওয়া যেত। শুরু হয়ে যেত জ্বালাতন। “আইজ তো তোরে পিডাইয়া তক্তা বানাইয়া হালাইবে…!!!”

ব্যাপক হতাশ হয়ে পড়তাম। বাপ-মা কোন দুঃখে যে আমার নাম রাজীব রাখতে গেল…??!!!
এর পর সময় গড়াল। মিশা সওদাগরদের ভিড়ে গুনী শিল্পী রাজীব হারিয়ে গেলেন। আর আমার ভিলেইনী ট্যাগটাও মুছে গেল।


ছোটবেলা থেকেই নাম নিয়ে মারাত্মক বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। তখন টিভি চ্যানেল বলতে কেবল বিটিভিই ছিল। শুক্রবার বেলা ৩ টায় চ্যানেল খুলে যখন অনুষ্ঠান-সূচী শোনাত, পূর্নদৈর্ঘ বাংলা ছায়াছবির শ্রেষ্ঠাংশে প্রায়শই আমার নামটা পাওয়া যেত। শুরু হয়ে যেত জ্বালাতন। “আইজ তো তোরে পিডাইয়া তক্তা বানাইয়া হালাইবে…!!!”

ব্যাপক হতাশ হয়ে পড়তাম। বাপ-মা কোন দুঃখে যে আমার নাম রাজীব রাখতে গেল…??!!!
এর পর সময় গড়াল। মিশা সওদাগরদের ভিড়ে গুনী শিল্পী রাজীব হারিয়ে গেলেন। আর আমার ভিলেইনী ট্যাগটাও মুছে গেল।

যখন কলেজে পড়ি, ফুয়াদের কম্পোজিশানে নিটোল পায়ে রিনিক-ঝিনিক গানটা বেরোল। হুলুস্থুল জনপ্রিয়তা। সিঙ্গারের নাম রাজীব। ভাবলাম এই তো সুযোগ! নিজ উদ্যোগে রাজীবের ক্যাম্পেইন আরম্ভ করে দিলাম। যদি কিছুটা হালে ফেরা যায়!! ভাবলাম আস্ত-একখান গরু জবাই দিয়ে রাখা নামটা নিয়ে বাকি জীবনটা সুখে শান্তিতে কাটিয়ে দিতে পারব। কিন্তু বিধি বাম..!!
কিছুদিনের মধ্যে কপালে একটা গার্ল-ফ্রেন্ড এসে জুটল। রিতীমত হাবুডুবু খাওয়া প্রেম। এবার দেখা গেল নতুন বিপত্তি। আমার নামটা নাকি মারাত্মক কমন টাইপের। মুদি দোকান, চায়ের দোকান, বাসের পেছনে, রিক্সার পিছনে, সব জায়গায়ই নাকী রাজীব নামের ছড়াছড়ি। আর আমারও এমনি ফাটা কপাল, ওর সাথে রিক্সা করে ঘুরতে বেরোলেই কোত্থেকে যেন ডজন খানেক রিক্সা পিছনে রাজীব লেখা সাইন বোর্ড নিয়ে হাজির হয়ে যেত। একদিন তো দেখলাম এক ঠেলাগাড়ির গায়ে লাল রংএ গোটা গোটা করে লেখা- “রাজীব পরিবহন- সমগ্র বাংলাদেশ, ৫ টন..!”
যাই হোক, সিদ্ধান্ত হল নামের স্পেলিং চেঞ্জ করতে হবে। Rajib না লিখে Raziv লিখতে হবে। তাতে নাকী উচ্চরন রাজীভ হয়, হিন্দি সিরিয়ালের নায়কদের মত শুনায়। অগত্যা কি আর করা, Raziv লেখার অভ্যাস করে দিলাম। বছর চারেক থাকার পর টিকতে না পেরে গার্ল-ফ্রেন্ড ভাগল, কিন্তু অভ্যাসটা ঠিকই রয়ে গেল।

সুখ সয় না রে পাগল…!! যখন ভিলেইন রাজীবের হাত থেকে পিছলে বেড়িয়ে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই পড়লাম নতুন এক সেলিব্রেটির কবলে। মডেল প্রভা আর রাজীবের প্রনয় এবং বিচ্ছেদের বলিদান দিতে হল আমাকেও। এমনকি রাজীবের আপত্তিকর জায়গায় চর্বির পরিমান নিয়ে গান-টানও বেড়িয়ে গেল। এবার আর যাই কোথায়!! ভার্সিটির বাসে জুনিয়র হতচ্ছাড়াগুলো গেয়ে গেয়ে মুখস্ত করিয়ে ছাড়ল। আর বন্ধুদের কথা না হয় না ই বললাম। একেবারে ইজ্জত নিয়ে টানাটানি অবস্থা!! তবে মানির মান আল্লাহ্ রাখেন। আমারটাও রাখবেন।
ব্লগার রাজীবের ইস্যুটা সেনসেটিভ হওয়াতে এযাত্রা হয়ত বেঁচে গেলাম। না জানি অদূর-ভবিষ্যতে আবার কোন রাজীবের আগমন ঘটে আজীব রাজীবের ১২টা বাজিয়ে যায়…!!!
এত দিন জানা ছিল না যে, আমার নামে পুরো একটা গ্রামও আছে। গ্রামের নাম রাজীব-পুর। ভগ্ন হৃদয়ে দু’এক ফোটা আশার সঞ্চার ঘটল…

৬ thoughts on “সুখ সয় না রে পাগল…!!

  1. একটি রাজিব নামের
    একটি রাজিব নামের আত্নকাহিনী…………
    সুখ আছে রে পাগলা……… :ভেংচি: :ভেংচি:
    এক নামে এতো ভেরিয়েসান কয় জনের কপালে জোটে?? :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *