দক্ষিনবাংলার উপক্ষেতি জনপদ মঠবাড়ীয়া উপজেলা

বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর উপজেলার অন্তর্গত বলেশ্বর নদীর তীর বেষ্টিত একটি সবুজ শ্যামল জনপদ মঠবাড়ীয়া । মঠবাড়ীয়া শুধু ইতিহাসের স্বাক্ষী নয় বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ভৌগলিক কারনে অনেক গুরুত্ব বহন করে । কয়েকটি দর্শনীয় স্থানসহ মঠবাড়ীয়া সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিন দিয়ে বহমান বলেশ্বর নদীর মাঝখানে গত ৫০ বছর পূর্বে জেগে ওঠা প্রায় ১২ কিলোমিটার বেষ্টিত মাঝের চর মঠবাড়ীয়ার সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে । ফসলের মৌসুমে বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ দেখলে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের ভৌগলিক ম্যাপে মঠবাড়ীয়ার অবস্থান হল, উত্তর অক্ষাংশের ২২০০৯ ডিগ্রি এবং ২২০২৪ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ এবং পূর্ব অক্ষাংশের ৮৯০৫২ ডিগ্রি এবং ৯০০০৩ ডিগ্রির মধ্যে এ উপজেলা অবস্থিত । পিরোজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মঠবাড়ীয়া উপজেলার উত্তরে পিরোজপুর সদর এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা, পূর্বে কাঁঠালিয়া এবং বামনা উপজেলা, দক্ষিনে পাথরঘাটা উপজেলা এবং পশ্চিমে বলেশ্বর নদ । সবুজের অপার লীলাভূমি মঠবাড়ীয়া উপজেলার আয়তন ৩৫৩.২৫ বর্গকিলোমিটার প্রায় । ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ২,৬৩,৫২৭ জন । যার মধ্যে পুরুষ ১,৩১,৯৬০ এবং মহিলা ১,৩১,৫৬৭ জন প্রায় । এটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১২৯নং নির্বাচনী সংসদীয় আসন যা পিরোজপুর-৩ নামে পরিচিত । ৯৪টি গ্রাম, ৬৭টি মৌজা, ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, দু’টি নদনদী (গোমতী ও বুড়ি), ৩১টি হাটবাজার, ৯টি ব্যাংক শাখা, ১২টি পোষ্ট অফিস/সাব পোষ্ট অফিস এবং ১টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে ছবির মত সাজানো একটি উপজেলা হিসেবে মঠবাড়ীয়াকে মানুষ চেনে । শিক্ষাক্ষেত্রে ১৯৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭টি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়, ৪২টি উচ্চ বিদ্যালয় (৩৫টি সহশিক্ষা এবং ৫টি বালিকা), ৩২টি দাখিল মাদ্রাসা, ৭টি ফাজিল মাদ্রাসা, ১টি কামিল মাদ্রাসা, ৮টি কলেজ (৭টি সহশিক্ষা এবং ১টি বালিকা) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখছে । যার কারনে শিক্ষা ক্ষেত্রে মঠবাড়ীয়ার মানুষের শিক্ষার হার ৬৬% উন্নিত করা সম্ভব হয়েছে (পুরুষ ৬৭% এবং মহিলা ৬৫%) ।

বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মত মঠবাড়ীয়াও কৃষি নির্ভর একটি জনপদ । এ জনপদের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কৃষি ভিত্তিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত । ২৫ শতাংশ মানুষ মৎস শিকার পেশার সাথে এবং বাকী ১০ শতাংশ অন্যান্য পেশায় জড়িত । ৩৫৩.২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট একটি উপজেলা যেখানে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের বাস । যাদের বছরে খাদ্য চাহিদা প্রায় ৫১,৭২১ টন সেখানে মোট জমির পরিমান মাত্র ২৩,৫০০ হেক্টর । যার মধ্যে নিট ফসলি জমি ২২,০০০ হেক্টর । যার কারনে মঠবাড়ীয়ায় উৎপাদিত খাদ্যশস্য এখানকার বিপুল মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে না পারার কারনে প্রতি বছর পার্শ্ববর্র্তী উপজেলা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন খাদ্যসশ্য আমদানি করতে হয় । মঠবাড়ীয় মানুষ চিকিৎসা ক্ষেত্রে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে । কেননা এ উপজেলায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের জন্য ডাক্তারের পদ মাত্র ৩৭টি তবে কর্মরত থাকেন ৩৪ জন । তাও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অভাবে ডাক্তাররা মঠবাড়ীয়ায় স্থায়ী হতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং সুযোগ পেলেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান । মাত্র ৫০ সজ্জার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ বিপুল জনসংখ্যাকে চিকিৎসা নিতে হয় । নার্স, সহকারী নার্সের সংখ্যাও একেবারে কম । উপজেলায় ১২টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর চিকিৎসা সেবা প্রায় বন্ধ । যা দু’একটিতে চালু আছে তার প্রতিও মানুষের আস্থা নেই ।

বাংলাদেশের অন্যকোন জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্ভবত এতটা খারাপ নয় যতটা মঠবড়ীয়ার । অথচ মঠবাড়ীয়ার দক্ষিন সীমান্তবর্তী থানা পাথরঘাটায় দেশের বৃহত্তর মাছের আড়ৎ রয়েছে । বঙ্গোপসাগর থেকে শিকার করা মাছ পাথরঘাটা হয়ে সারা দেশের ছড়িয়ে পড়ে । স্থলপথে পাথরঘাটা থেকে মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর জন্য মঠবাড়ীয়ার বুক ছাড়া অন্য কোন বিকল্প রাস্তা নেই । মঠবাড়ীয়া চরখালী সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা প্রায় এক যুগ ধরে । দেশের দু’টো রাজনৈতিক দল পালাক্রমে ছয়বার সরকার গঠন করলেও চরখালী-মঠবাড়ীয়ার সংযোগ সড়কটির কোন উন্নতি হয়নি । মাঝে মাঝে সংস্কারের নামে কোটি টাকা বরাদ্ধ হলেও সে টাকা যেমন প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত ছিল তেমনি লুটপাটের রাজত্বের কারনে কোন সংস্কার কাজই তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি । ৮ম জাতীয় সংসদে বিএনপির শাসনামালে, নবম ও দশম জাতীয় সংসদের আওয়ামীলীগের সময়ে কয়েকবার এ রাস্তাটির ব্যাপারে কথা উঠলেও সে কথায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি । কোন ভাল মানের পরিবহন ঢাকা থেকে মঠবাড়ীয়া আসতে চায়না কারন তারা যদি মঠবাড়ীয়ার রাস্তায় তাদের গাড়ী প্রবেশ করায় তাতে নাকি তাদের গাড়ীর আয়ুষ্কাল কমে আসে । এ রাস্তাটি মেরামত কিংবা সংস্কার না করার কারনে কেবল মঠবাড়ীয়ার বাইরের মানুষই মঠবাড়ীয় আসতে চায় না বরং যারা খোদ মঠবাড়ীয়ায় জন্ম গ্রহন করেছে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিংবা দেশের বাহিরে অবস্থান করছে তারাও তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ মঠবাড়ীয়ায় আসতে ভয় পায়। মঠবাড়ীয়ার আভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও খারাপ । সিডর হয়েছে প্রায় ৮ বছর পূর্বে । সেই সিডরের আঘাতে মঠবাড়ীয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন বেতমোর এবং মাছুয়াকে সংযোগকারী ব্রিজটি একেবারে ভেঙ্গে যায় । নদীপথে যোগাযোগরে জন্য স্টিমার যাতায়াত খুব সহজলভ্য এবং আরামদায়ক । ঢাকা, চাঁদপুর কিংবা বরিশালের সাথে মঠবাড়ীয়ার যোগাযোগে জন্য স্টিমার সার্ভিসের টার্মিনালটি মাছুয়ায় অবস্থিত হওয়ার কারনে বেতমোর, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা ইউনিয়ন থেকে প্রত্যহ মানুষকে মাছুয়ায় আসতে হয় । দীর্ঘ ৮ বছর পূর্বে ভেঙ্গে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘ দিনেও নির্মান না করার এসব ইউনিয়নের মানুষকে তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকোয় প্রায় ১০০ মিটার প্রশস্থ একটি খাল পাড় হতে হয় । আমড়াগাছিয়া এবং সাপলেজা ইউনিয়নের সাথে মঠবাড়ীয়ার যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ সেতু আমাড়াগাছিয়া বাজারস্থ ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে প্রায় বছর খানেক পূর্বে অথচ এখনও সে ব্রিজটিকে সংস্কার করা হয় নি । মঠবাড়ীয়ার সাথে বেতমোর এবং ধানীসাফা ইউনিয়নের সাথে মঠবাড়ীয়ার একমাত্র সংযোগ সেতু হাসপাতাল রোডের সেতুটি প্রায় দুই বছর পূর্বে একটি কার্গোর ধাক্কায় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে। এ সেতুটি ব্যবহার করে প্রত্যহ লক্ষাধিক মানুষ এবং গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে যোগাযোগ রাখত । সে ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর এ জনপদের মানুষ প্রায় যোগাযোগ শুন্য হয়ে পড়েছে । এ সব ইউনিয়নের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তাকে যোগাযোগের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে হবে । অথচ সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না । এছাড়াও এই একবিংশ শতাব্দীতেও মঠবাড়ীয় কয়েক শত কিলোমিটার রাস্তা এখনো কাঁচা । শুকনা মৌসুমে এ সকল রাস্তায় কোনমতে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে মানুষ যোগাযোগহীন হয়ে পড়ে । তাছাড়া যে সকল রাস্তায় ইটসলিং দেয়া হয়েছে তাও ভেঙ্গে গেছে । যার কারনে মঠবাড়ীয়ার আভ্যন্তরীন যোগাযোগের একমাত্র উপায় মটরসাইকেল দূর্ঘটনা নিত্যদিনকার খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

দেশে ডিজিটালাইজেশানের জোঁয়ার বইছে । অথচ অবহেলিত জনপদ মঠবাড়ীয় দুই তৃতীয়াংশ জনপদে এখনো বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা তার পৌঁছে নি । যা দু’চার ইউনিয়নে বিদ্যুত সংযোগ পৌঁছেছে সেখানেও দিনের প্রায় পুরোটাই লোডশেডিং থাকে । সারা দেশ তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ পেলেও মঠবাড়ীয়া অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে ।

কথায় বলে, ‘নদীর এপর ভাঙ্গে ওপার গড়ে এইতো নদীর খেলা’ । সেরকই ভেঙ্গে যাচ্ছে মঠবাড়ীয়ার পশ্চিম-দক্ষিন উপকূল । বলেশ্বর নদীর ভয়াল থাবায় প্রত্যহ মঠবাড়ীয়ার আয়তন কমে আসছে । বিশেষ করে বেতমোর ও মাছুয়া ইউনিয়নস্থ নিযামিয়া, জরিপের চর গ্রাম প্রায় নদীগর্ভে বিলিীন হওয়ার পথে । ভাঙ্গনের তীব্রতা এতই প্রকট যা দেখলে ভয় লাগে। বর্তমান অবস্থার মত ভাঙতে থাকলে মঠবাড়ীয়ার মানুষকে পানিতে ডুবে মরতে হবে । কেননা ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর সিডরের ভয়াবহ আঘাত থেকে যে বেরিবাঁধ মঠবাড়ীয়াবাসীকে প্রাণে রক্ষা করেছিল সেই বেরিবাঁধের অনেকটাই বলেশ্বর গ্রাস করতে শুরু করেছে । মঠবাড়ীয়ার অপার সম্ভাবনার ‘মাঝেরচর’ গ্রামটি সিডরের সময় ধ্বংসের মূখোমূখি হয়েছিল । পরবর্তীতে ব্রিটেন এ গ্রামটিকে আর্থিক ভাবে ব্যাপক সহায়তা করে । তৎকালীন সময়ের বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার হোসেন একাধিকবার মাঝেরচর ভ্রমনে এসেছেন । সবুজের লীলাভূমি এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বৃক্ষ সমৃদ্ধ মাঝের চরও আজ হুমকির মুখে । মাঝের চরের পশ্চিম অংশে চলছে প্রবল ভাঙ্গনের খেলা । সরকার পাঁজা ব্যবস্থায় ইটপোড়া নিষিদ্ধ করলেও কিছু মানুষ ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে বছরের বর্ষাকাল বাদে প্রায় পুরোটা সময় ইট পোড়ে । এতে মঠবাড়ীয়ার পরিবেশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । বিশেষ করে বনাঞ্চলের অস্তিত্ব হুমকীর সম্মূখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে । যার কারনে প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে । স্থানীয় সরকার প্রশাসন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ । কিছু অসাধু মানুষ মঠবাড়ীয়ার নিকটস্থ সুন্দরবন অঞ্চল এবং মাঝের চর থেকে চোরাই পথে কাঠ সংগ্রহ করে পাঁজা মালিকদের কাছে বিক্রি করছে । এতে সুন্দরবন এবং মাঝেরচরও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ।

বলেশ্বর নদীতে তাকালে দেখা যায়, ডজন ডজন বালি উত্তোলক ড্রেজার বিরামহীন ভাবে অবৈধ পন্থায় বালি উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যাচ্ছে । পরিকল্পনাহীনভাবে বালি উত্তোলন করার কারনে নদী ভাঙ্গন বেড়ে যাচ্ছে এবং সরকারও বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে । সরকার যদি পরিকল্পনা মাফিক বালি উত্তোলনের জন্য বলেশ্বর নদীর কিছু অংশকে ইজারা দেয় তবে এ খাত থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব । মঠবাড়ীয়ার বলেশ্বর উপকূলীয় সিংহভাগ মানুষ জেলে । তারা সারা বছর নদীতে মাছ শিকার করে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে । তবে কিছু অসাধু জেলে এবং তাদের সাহায্যকারীরা কারেন্ট জাল কিংবা নেটের মাধ্যমে মাছ শিকার করে । যার ফলে কোটি কোটি ছোট মাছের জীবন মারা পরে । সে মাছগুলো এত ছোট যে খাওয়ার উপযোগী নয় কিন্তু মারা পড়ছে । এ ব্যাপারে মঠবাড়ীয়ার মৎস অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করলেও প্রায়ই কোন এক দৈব শক্তির বলে অসাধুরা অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে এবং দেশের মৎস সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলছে । মঠবাড়ীয়া থেকে নদীপথে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে মাত্র ঘন্টা তিনেক সময় লাগে । আর সুন্দরবনকে যেমন বন্যপ্রাণীর অভয় আশ্রয়স্থল বলা হয় তেমনি ডাকাতদেরও অভায়ারাণ্য বলা হয় । মঠবাড়ীয়ার মানুষ বিভিন্ন দেশে গিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে শুরু করেছে । এই সুযোগটা ডাকাতরা বছরের বিভিন্ন সময়ে বেশ কাজে লাগাচ্ছে । গভীর রাতে অস্ত্রের মূখে মানুষকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাচ্ছে । কাজেই বেতমোর, সাপলেজা এবং মাছুয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ফাঁড়ি স্থাপন করা সময়ের দাবী ।

সর্বোপরি বলা যায়, রাষ্ট্র যতদিন একটি জনপদের উন্নতি না চাইবে ততদিন সে জনপদটি অবহেলিত থেকে যাবে । কাজেই সরকারের কাছে মঠবাড়ীয়াবাসীর সকল মানুষের পক্ষ থেকে অনুরোধ করব যাতে মঠবাড়ীয়ার অবকাঠামোকে দেশের অন্যান্য উপজেলার মত গড়ে তোলা হয় । অর্থনৈতিক এবং প্রাকৃতিকভাবে মঠবাড়ীয়ায় অনেক সম্ভাবনাময় খাত আছে । নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সে সম্ভাবনাকে রাষ্ট্র্রে মঙ্গলের হাতিয়ার বানানো যেতে পারে । আশা করি মঠবাড়ীয়ার স্থানীয় সাংসদ এবং সরকারদলীয় নেতাদের পরামর্শে সরকার অচিরেই মঠবাড়ীয়াকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শামিল করে গড়ে তুলবে ।

রাজু আহমেদ । কলাম লেখক ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *