ছবির হাটকে কেন পুলিশি নিয়ন্ত্রিণ হতে দেয়া যাবে না।


ঢাকা শহরের ছবির হাট বা এইরকম জায়গা গুলো আমার কাছে বাংলাদেশের সমাজ-রাজনৈতিক-তাত্বিক কারনে একটু গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যদিও বলতে গেলে এইরকম জায়গা সারাদেশে খুব কম বা নাই বললেও চলে। আগে কখনো এমনভাবে আড্ডার কোন জায়গা ছিল বলে মনে আমার জানা নাই। টিএসসি বা বিউটিবোর্ডিং এর কথা শুনেছি। সাম্প্রতিক সময়ে ছবির হাটের উপর দফায় দফায় পুলিশি নিয়ন্ত্রণ দেখে আমি আমার কিছু চিন্তা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। জার্মান চিন্তাবিদ, ফ্রাঙ্কফোর্ট স্কুলের ক্রিটিকাল তাত্বিক, সমাজবিজ্ঞানের জীবন্ত কিংবদন্তী জুর্গেন হেবারমাসের একটি তত্ব আছে ‘থিওরি অব কমিউনিকেটিভ এ্যাকশন’, বইটাও এই নামেই তবে দুটো খন্ডে বিভক্ত। এই বইয়ে হেবারমাস তার কমিউনিকেটিভ এ্যাকশন আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমবারের মত সমাজের ‘পাবলিক স্পেয়ারে’র ধারনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন পাবলিক স্পেয়ার নিয়ন্ত্রিত হলে সমাজ নিয়ন্ত্রিত হয়। ছবির হাট একটা পাবলিক স্পেয়ার, এটাকে নিয়ন্রণ করলে আমাদের সমাজ ও নিয়ন্ত্রিতহবে। এটা বুঝতে হবে আমাদেরকে।

  • সমাজে এইপাবলিক স্পেয়ারের ধারনার তাত্বিক রুপ দেন হেবারমাস। তিনি মনে করেন ‘ আমরা কোন স্পেয়ারকে তখনই পাবলিক বলব যখন সেখানে বিভিন্ন ইভেন্ট এবং অকেশন গুলো সবার কাছে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যা সম্পূর্ণ এক্সক্লুসিভ বা গোপনীয়তার বিপরীত’, এই ধারনা সকল প্রাইভেট বা ব্যাক্তিগত ধারনার বিপরীত, এটা উল্টো নানান প্রাইভেট ধারনাকেই পাবলিকে পরিনত করে। তার মতে, এটা হল একটা কমন ওয়ার্ল্ড বা সার্বজনীন ক্ষেত্র যা সবাইকে একত্র করে। তিনি এটাকে ক্রিটিকাল পাবলিক ডিবেটের জায়গা হিসাবে ও চিহ্নিত করেন যা সমাজের সব কিছুকে যুক্ত করে। হেবারমাস আরো বলেন যে, এটা হল একটা ‘প্রোডাক্ট অফ ডেমোক্রেসি’।
  • মূলতঃ পাবলিক স্পেয়ার হল সামাজিক জীবনের এমন একটা জায়গা যেখানে মানুষ এসে একত্রে জড়ো হয়ে মুক্তভাবে কথা বার্তা বলে এবং তাদের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, এবং তাদের এই আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমাজে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক,বৌদ্ধিক, শৈল্পিক ক্রিয়া তৈরি হয়। এটা হল ডিস্কার্সিভ স্পেইস যেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুক্তভাবে আলোচনা করে একটা মিউট্যুয়াল ইন্টারেস্ট তৈরি করার জন্য একটা কমন জাজমেন্ট পৌছার সুযোগ থাকে। যে জাজমেন্টে পৌঁছানোর জন্য কারো পিছনে কোন প্রকারদমন-পীড়ন কাজ করে না। এই পাবলিক স্পেয়ারকে বলা হয় ‘আধুনিক সমাজের থিয়েটার বা নাট্যশালা’, যেখানে কথা বার্তার মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহন বাড়ে এবং সামাজিক জীবনের এমন একটা ক্ষেত্র তৈরি করে যেখানে প্রতিনিয়ত পাবলিক অপিনিয়ন তৈরি হতে থাকে।

আমি ছবির হাটকে এই রকম একটা পাবলিক স্পেয়ার মনে করি। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন মানুষের চিন্তার সম্মিলনে নতুন নতুন পাবলিক অপিনিয়ন তৈরি পারে। জীবনের প্রথম চাকরি নিয়ে এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে আমি ঢাকায় থিতু হয়েছি। অফিস বাংলামোটর হওয়ায় গত চার মাস থেকে রোজ বিকালে শাহবাগ যাই। কোন সময় যাদুঘরের সামনে বসি, কোন সময় পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে বসি, কোন সময় বসি ছবির হাটে। তবে সবচেয়ে ভাললাগে ছবিরহাটে বসে থাকতে। এই জায়গাটাকে আমার কাছে এক টুকরো ফরাসী জমিন মনে হয়।এখানে হাল-আমলের কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবি থেকে শুরু করে ফেসবুক ব্লগের পৌরাণিক যুগের সকল রথী-মহারথীদের সাথে রোজ বিকালে দেখা মেলে নতুন নতুন রথী-মহারথীদের, তারা সবাই আসেন, মূলত আড্ডা দেন। চারুকলার সামনের এই জায়গাটায় আগে শুধু চারুকলার ছাত্র-শিক্ষকরাই আড্ডা দিতেন আর এখন সেটা একটা জাতীয় আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে। যে যে কাউকেই আড্ডার জন্য ভেন্যু হিসাবে ছবির হাটে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন , বিষয়টাআমার কাছে আনন্দের মনে হয়। নানান কিসিমের লোকজন এখানে আসেন। প্রেমিক-প্রেমিকা,চিত্রকর, গায়ক, বাদক, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, রাজনৈতিক কর্মী, হতাশাগ্রস্তযুবক, পানসেবী, মাদকসেবী, অসবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি, পৌঢ়া সবার একটা মিলন ক্ষেত্রহয়ে উঠেছে এই জায়গাটা। এটা পজিটিভ জিনিস।

কিন্তুগত দুই এক মাস থেকে দেখছি জায়গাটার উপর এক ধরনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন চলছে, দফায়দফায় পুলিশি উচ্ছেদে এখন জায়গাটা শূন্য হয়ে আছে। এখানে যে সকল চায়ের দোকানদার ছিল তাদের পরিবারগুলো আজ ঢাকা শহরের নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার। এটা একটা আর্থিক বা অর্থনৈতিক দিক। কিন্তু যে বিষয়টা গুরু্ত্বপূর্ণ সেটা হল এই জায়জাগাটা ধীরে ধীরে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনে যাচ্ছে,একসময় হয়ত পুরোটা নিয়ন্ত্রন নিবে, তার ফলে মুক্তচিন্তা চর্চার একটা জায়গা সংকুচিত হবে। ব্যাপারটা এ্যালার্মিং।

এইধরনের পাবলিক স্পেয়ার সমাজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ আবার শাসকের জন্য হুমকি ও বটে।পাবলিক স্পেয়ারে নানবিধ চিন্তার মানুষ যখন একসাথে ক্রিয়া করে তখন তাদের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহন বাড়ে। তারা নানান বিষয়ের উপর আলোচনা করে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারে। নানান ধরনের ইস্যুর উপর তারা ক্রিয়া শুরু করতে পারে, যা মূলত শাসক শ্রেনীর জন্য একধরনের হুমকি।

  • আমাদের দেশে পাবলিক স্পেয়ারের ভূমিকা কতুটূকু মূখ্য সেটা বুঝা যায়, শাহবাগের গণজাগরণ মুভমেন্ট দিয়ে । ব্লগিং দুনিয়ার এ্যানটিভিস্টরা তাদের আড্ডার একটা বড় জায়গা হিসাবে বেচে নিয়েছিলেন শাহবাগকে। ছবির হাটকে। এখানে তাদের বিভিন্ন মতামতের আলোচনা একটা ঐক্যে পৌঁছে ছিল বলেই ‘জামাত-শিবির বিরোধী একটা বিস্ফোরণ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার’তুঙ্গে উঠেছিল। (এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখযোগ্য সেটা হলঃ ব্লগ , ফেইসবুক বা সোশালনেটোয়ার্ক এটা ও একটা পাবলিক স্পেয়ার, যদি ও এই বিষয়ে হেবারমাসের লিখায় আমি কিছুপাই নি, আমার কাছে মনে হয় এটা হল ভার্চুয়াল পাবলিক স্পেয়ার, যেখানে পাবলিক স্পেয়ারের মতই মুক্তভাবে আলোচনা করে পাবলিক অপিনিয়ন তৈরি করার বড় একটা জায়গা, শুধুপার্থক্য হল পাবলিক স্পেয়ারে শারিরীক উপস্থিতি থাকে এখানে নাই, সেখানে ডিস্টান্টবা দুরত্ব একটা ফ্যাক্টর কিন্তু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সেটা নাই)। এই আন্দোলনের বাইরেও এখানে একটা রাজনৈতিক প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যারা মোটা দাগে এই দেশের সকল গণআন্দোনকেধীরে ধীরে পল্টন থেকে শাবাগের দিকে পোলারাইজড করেছে। ইহা পাবলিক স্পেয়ারের ফল।
  • পাবলিক স্পেয়ারের একটা বড় উদাহরন দেই, ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৯ সালে ফ্রেন্স রেভ্যুল্যুশনের সময় যখন বাস্তিল দূর্গের পতন ঘটে তখন সেখানে বড় একটা ভূমিকা ছিল এই পাবলিক স্পেয়ারের।ফরাসী সমাজে যগুলো পানশালা ছিল, থিয়েটার ছিল, শিল্প-সাহিত্যের আড্ডাখানা ছিল সকল জায়গাতেই ষোড়শ লুই এর বিরুদ্ধে ভিতরে ভিতরে জনমত তৈরি হয়েছিল, সমাজে সকল অংশের লোকেই তখন সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, সেক্যুলারিজম, ধর্ম, বিজ্ঞান, যুক্তি এইসববিষয়ে নিয়ে নিজের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সাধারন মতামত তৈরি করেছিল এবং পরে যখন বোনাপার্টের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয় তখন সমাজ পতনে এটা গভীর ভূমিকা ছিল। পুরনো সমাজ ভিতর থেকে আগে থেকেই নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল উপস্থিত সময়ে সেটা জাস্ট ভেঙ্গে পড়েছে। এখানে পাবলিক স্পেয়ারের একটা বিরাট ভূমিকা ছিল।

আমাদেরকে বিষয়টা এভাবে ভাবা দরকার। ছবিরহাট বা এই ধরনের জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রিত হলে সমস্যা আছে, এটা মানুষের সামাজিক এ্যাক্সেসকে নষ্ট করবে, স্বাধীনভাবে কথা বলা, চিন্তা চর্চাকে ব্যহত করবে, সাধারন মানুষের পলিটিক্যাল রিয়েকশন এ্যকটিভিজমকে বাঁধা দেবে। দিনদিন আমাদের দেশে পাবলিক স্পেয়ারগুলো যেভাবে সংকুচিত হয়ে আসছে, এইসব জায়গাগুলো ও একদিন সংকুচিত হয়ে যাবে, যা আসলে মুক্তভাবে চিন্তা চর্চার জায়গাগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট করবে। সমাজের প্রতিবাদ শক্তির মিলিত হবার জায়গা নিয়ন্ত্রন করবে। ফলে সম্মিলিত মুক্ত বুদ্ধির চিন্তা চর্চা, প্রতিবাদ প্রতিরোধের মিলিত সমাবেশ বাঁচানোর জন্য জনগনের সম্মিলিত ক্ষেত্রকে আমাদের রক্ষা করা উচিত। সরকারি বা প্রশাসনিক নিয়ন্রণ থেকে সরাসরি মুক্ত রাখা উচিত। সারা দেশের এই রকম যতগুলো পাবলিক স্পেয়ার আছে সব কয়টাকে বাঁচানোর জন্য আমাদের আশু কর্মসূচী নেয়া উচিত।

২০ thoughts on “ছবির হাটকে কেন পুলিশি নিয়ন্ত্রিণ হতে দেয়া যাবে না।

  1. সরকার তো অকাজের কাজি! তবে, সব
    সরকার তো অকাজের কাজি! তবে, সব সরকারের আমলেই কিন্তু ছবির হাট আর মোল্লার ক্যান্টিন নিয়ে তাফালিং করা হয়েছে। ছরকারের এই অতিরিক্ত ফাইজলামি বন্ধ হোক!

  2. আওয়ামী লীগ মনে করতেছে সে খুব
    আওয়ামী লীগ মনে করতেছে সে খুব চালাক। তাই গাছেরটাও খাইতেছে, আর তলারটাও কুড়াইতেছে মনের সুখে। আর ভাবতেছে ভালোই তো দিন কাটতেছে। এরকম ভাবার পেছনে জ্বালানি যোগাচ্ছে চাটার দলেরা। যারা আওয়ামী লীগের গুয়ের মধ্যেও আতরের গন্ধ খুঁজে পায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভুলে গেছে যে অতি চালাকের গলায় দড়ি।
    ছবির হাট ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নিউজে দেখলাম প্রায় ৫০০ শিল্পকর্ম নষ্ট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি এরপরেও দাবী করে তারা প্রগতিশীল দল, তাহলে সেই দাবীর মুখে থুঃ

  3. ছবির হাটে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন
    ছবির হাটে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হোক। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  4. সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাওয়া
    সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাওয়া শুরু হয়েছে। আগামি শীতে এই জায়গায় তেতুল, বাবুনগরীদের মত ধর্ম ব্যবসার প্রমোশনমুলক কর্মসূচী ওয়াজ মাহমিলের মত অনুষ্ঠানের জন্য এই জায়গাগুলো বরাদ্ধ দেওয়া হবে। শিল্প-সংস্কৃতি বুঝতে একটা বিশাল মন লাগে। আওয়ামি বলদগুলা ধান্ধা ছাড়া আর কিছু বুঝে বলে মনে হয় না।

  5. ঢাকা শহরের আর যে যে জায়গায়
    ঢাকা শহরের আর যে যে জায়গায় প্রগতিশীল আড্ডা হয়, যেখানে লেখক, শিল্পী, ব্লগাররা বসে আড্ডা মারে সেগুলো চিহ্নত করে কওমি মাদ্রাসা ও ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জমি লিজ দেওয়া হোক!

  6. শিরোনামে বানান ভুল চোখে পড়ছে।
    শিরোনামে বানান ভুল চোখে পড়ছে। আশা করি, সংশোধন করে নিবেন। সব রাষ্ট্রই তরুণ শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনীতিকদের আড্ডাকেন্দ্রকে ভয় পায়। তারা কোনো অযুহাত পেলেই ওই আড্ডাকেন্দ্র উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। তবে আমাদের এখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে, প্রতিবাদটা নেই। যারা ছবির হাটের ১০ বছর উদযাপন করেছিলেন তারা কাল কেউ ভাঙচুরের সময় কোনো বাধা দেয়নি। চারুকলার ছাত্ররাই বেশি ছবির হাটের উন্মুক্ত গ্যালারীতে বিনামূল্যে প্রদর্শনীর সুযোগ ভোগ করে। তারাও কেউ কাল বাধা দেয়নি। আজ গিয়ে দেখলাম কয়েকজন একটা ব্যানারের সামনে বসে আছেন। কিছু ছবি ছিটিয়ে রেখে শৈল্পিক এক ধারণা বিনির্মাণ করছেন। মালামাল লুট ও হামলার প্রতিবাদ ব্যানারে এটুকু লেখেই ক্ষ্যান্ত তারা। অথচ হামলাকারী পুলিশের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে ওরা আমাদের সব একে একে দখল করে নেবে, বলার অপেক্ষা রাখে না।

  7. এই জায়গাটা যে এত গুরুত্বপূর্ণ
    এই জায়গাটা যে এত গুরুত্বপূর্ণ তা তো আগে জানতাম না। জীবনে একটা আক্ষেপ থাইকা গেল। আশাকরি অচিরেই সব শান্ত হয়ে যাবে। এগুলা পার্মানেন্ট হয় না।

    1. এই জায়গাটা যে এত গুরুত্বপূর্ণ

      এই জায়গাটা যে এত গুরুত্বপূর্ণ তা তো আগে জানতাম না।

      বেচারা! আপনি আসলেই অনেক দুর্ভাগা!

      1. জ্বি ভাইডি! তয় সেটা আগের মত
        জ্বি ভাইডি! তয় সেটা আগের মত জমজমাট হইলে সময় করে আসব, আপনাদের কথা শুনব। আমি আবার কথা কম বলি খুব।

  8. হ্যাবারমাসের পাবলিক স্ফিয়ারের
    হ্যাবারমাসের পাবলিক স্ফিয়ারের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিলো এখানে সব ধরণের নাগরিক অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং মূলত রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে। আমি যতদূর জানি ছবির হাটে মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুনেরাই বেশী আড্ডা দিতো এবং এটা যতটা না রাজনৈতিক তার চেয়েও অধিক সংস্কৃতিক। সেদিক থেকে কি ছবির হাটকে আমি হ্যাবারমাসের আরেকটি ধারনা ‘বুর্জুয়া পাবলিক স্ফিয়ার’ দিয়ে দেখতে পারি? যদিও ছবির হাট ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে শুনে আমারও খারাপ লেগেছে। আমার নিজেরও যথেষ্ট পছন্দের জায়গা ছিলো ওটা।

    1. পেশাদার সুশিল বুদ্ধিজীবি
      পেশাদার সুশিল বুদ্ধিজীবি টাইপের মন্তব্য। তবে একেবারে ফেলে দেওয়ার মত কিছু বলেন নাই। আওয়ামি দলকানারা এ বিষয়ে কিছু বলছেন না ক্যানো?

      1. আওয়ামি দলকানারা এ বিষয়ে কিছু

        আওয়ামি দলকানারা এ বিষয়ে কিছু বলছেন না ক্যানো?

        আমগরু’রা আর কি-ই বা বলিবে! তাহারা হয়তো বলিবে যে, এটা কিছুই না। এরকম হইতেই পারে…ব্লা, ব্লা,ব্লা…!

  9. ছবির হাটের এই বিপরযয়ের
    ছবির হাটের এই বিপরযয়ের প্রতিবাদে একটা প্রতিবাদী মানববন্ধন করা যেতে পারে…!
    সিংহ হয়ে ঘুমিয়ে থাকার চেয়ে বিড়াল হয়েও চিৎকার করা ভালো।

  10. ছবির হাটের শিল্পীরা দাবি
    ছবির হাটের শিল্পীরা দাবি তুলেছেন যে, ‘তারা ছবির হাটে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কৃতি-শিল্প-সাহিত্যের চর্চার সুযোগ চান’ যে রাষ্ট্র বল প্রয়োগ করে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় সেই রাষ্ট্রের কাছে পৃষ্ঠ-পোষকতা চাওয়া আর কোলে বসে গুয়া মারা খাওয়া সমান কথা হে ভাহেগণ-ভগ্নীগণ, এইটা না বুঝলে সারা জীবনে ও আপনারা শিল্প আর সাহিত্যের মর্ম বুঝতে পারবেন না। আপনারা যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা নেন, তাহলে এখানে আপনাদের দিয়ে মিলাদ পড়ানো হবে, বাৎসরিক খুতবা বয়ান হবে, শাহবাগ থেকে টি এস সি পর্যন্ত তেতুল গাছ লাগানো হবে, নেতারা এসে আপনাদের মহান ছবির উপর মুতে দিবে, কি, এইসব চান নাকি আপনারা?
    গতকাল লিখেছিলাম, ছবির হাট একটা ‘পাবলিক স্পেয়ার’ আমাদের এটাকে বাঁচানো উচিত। এগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদের মত, এদের সুরক্ষা রাখা আমাদের কর্তব্য। কিন্তু সেই সাথে এটা ও আমাদের মনে রাখা উচিত, হেবার মাস বলেছেন একটা পাবলিক স্পেয়ারের ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক সচেতনতা বা এ্যাকটীভিজমের চেয়ে সাংস্কৃতিক চর্চা বেশী হয় তাহলে সেটা তখন ‘বুর্জোয়া পাবলিক স্পেয়ারে পরিনত হয়’। এবং এভাবে একটি পাবলিক স্পেয়ার ধীরে ধীরে স্ট্রাকাচারালি ত্রান্সফর্ম করে।

    ছবির হাটের ‘ছবি’ সংবলিত এই অংশের লোকজন যদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার সাহায্য নেন তাহলে সেটা বুর্জোয়া পাবলিক স্পেয়ারেই পরিনত হবে। এই ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা দরকার।অবশ্য ইতিমধ্যে উনারা যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানে তাদের রাজনীতি সচেতনতার কিছুই পাওয়া যায় না, উনারা মনে করেন ‘শিল্পীদের আঁকা ছবি হলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এবং ফুটপাতের দোকানের মতো এগুলো ভেঙে ফেলার কোনো অধিকার প্রশাসনের নেই’। তার মানে কি ফুটপাতের দোকান চাইলেই ভেঙ্গে ফেলা যায় বলে উনারা মনে করেন?
    আমাদের মাথায় রাখতে হবে ছবির হাটে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অংশ আছে, সবার লক্ষ্য ও উদেশ্য আছে, কিন্তু সবচেয়ে কার্যকরী দিক ও তার এ্যাকটিভিস্টদের এখানে মূল ভুমিকা পালন করতে হবে।
    আমাদের যা করা দরকার সেটা হল, ছবির হাটকে রাজনীতি সচেতন চিন্তা-চর্চার একটা মুক্তাঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা, শিল্পের সাথে সমাজ সচেতনতার যোগ সাজোস গড়ে তোলা, সারা দেশে আরো মুক্তাঞ্চল গড়তে মনোযোগ দেয়া।

  11. ছবির হাটে নিয়মিত মিলাদ
    ছবির হাটে নিয়মিত মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ, দোয়া খায়েরের আয়োজন হোক। বেশরিয়তি কাজ কারবার ছইলত ন….

  12. ছবির হাটের শিল্পীরা দাবি
    ছবির হাটের শিল্পীরা দাবি তুলেছেন যে, ‘তারা ছবির হাটে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কৃতি-শিল্প-সাহিত্যের চর্চার সুযোগ চান’

    লেখক এই দাবীর কথা কোথা থেকে পেলেন জানতে ইচ্ছা হচ্ছে। ছবির হাট কখনোই কোন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা চায়নি, এখনো চায়না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *