জলফড়িং


ফাহাদের ঘুম ভাঙল টিয়া পাখির শব্দে। ঘুমের মাঝেই ব্যাপারটা তাঁর কাছে গোলমেলে লাগলো। ঢাকা শহরে কাকের কা কা শব্দে ঘুম ভাঙাটাই স্বাভাবিক। বসন্তকালে দুই একটা কোকিল ডাকলেও ডাকতে পারে। যারা বাসায় ময়না পাখি পোষে তাঁদের ক্ষেত্রে ময়নার ডাকে ঘুম ভাঙাটাও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সকালে টিয়া পাখি আসবে কোথা থেকে?



ফাহাদের ঘুম ভাঙল টিয়া পাখির শব্দে। ঘুমের মাঝেই ব্যাপারটা তাঁর কাছে গোলমেলে লাগলো। ঢাকা শহরে কাকের কা কা শব্দে ঘুম ভাঙাটাই স্বাভাবিক। বসন্তকালে দুই একটা কোকিল ডাকলেও ডাকতে পারে। যারা বাসায় ময়না পাখি পোষে তাঁদের ক্ষেত্রে ময়নার ডাকে ঘুম ভাঙাটাও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সকালে টিয়া পাখি আসবে কোথা থেকে?

চোখ মেলবার সাথে সাথেই রহস্যের সমাধান হয়ে গেল। তাঁর টেবিলের উপর জলজ্যান্ত একটা টিয়া পাখি বসে আছে। টেবিলের উপর একগাদা খাম ছড়ানো। টেবিলের পাশের চেয়ারটা টিয়া পাখির মালিকের দখলে। নাদুশনুদুশ চেহারার টিয়া পাখির মালিককে হঠাত দেখলে কেউ ভাবতেও পারবে না যে তিনি শাহবাগের ফুটপাতে গত ৩ দিন ধরে টিয়া পাখি দ্বারা মানুষের ভাগ্য পরীক্ষা করছেন। তর্কের খাতিরে হয়ত এটা মেনে নেওয়া যেতে পারে কিন্তু টিয়া পাখির মালিক যে প্যারাসাইকোলজির উপর এমফিল করছেন সেটা মেনে নেওয়ার মত মানুষ একজনকেও পাওয়া যাবে না সে ব্যাপারে ফাহাদ ১০০ ভাগ নিশ্চিত। এত কিছুর পরেও তিনি আজিজ সুপার মার্কেটের এই মেসে ফাহাদের সাথে কেন পড়ে আছেন সেটা ফাহাদের নিকট এক বিরাট রহস্য। অবশ্য এই রহস্য ভেদ করবার প্রতি তাঁর কোন আগ্রহ নেই। কিছু রহস্য না হয় থাকলই অমিমাংসিত।

“ওহে ভ্রাতা, উঠে পড়। তোমার জন্য পরোটা আর গরুর মাংস লইয়া আসিয়াছি। ভক্ষণ করিয়া আমাকে উদ্ধার কর। আমাকে আমার বিজনেসে মন দিতে হইবে।“

“তোর ফটকাবাজি কেমন চলছে?”

“Mind your language brother. ব্যবসা ব্যবসাই। সেটা হাকিম চত্বরে ফুচকা বিক্রি করাই হোক কিংবা নাজিমুদ্দিন রোডের ফজলু ভাইয়ের পিঠা বিক্রির ব্যবসাই হোক। আমি তো অনেক ভালো ব্যবসা করছি। টিয়া পাখির মুখ দিয়ে কথা শুনিয়ে জীবনের প্রতি বিতস্রুদ্ধ মানুষের জীবনের উপর ভরসা ফিরিয়ে আনছি । এটাকে মোটেই তুমি ফটকাবাজি বলতে পার না। সেই সাথে হিউম্যান সাইকোলজির উপর ছোটখাট একটা কোর্সও হয়ে যাচ্ছে।“

“সেই ধান্দাই যে করছিস সেটা তো বুঝতেই পারছি। মোবাইলটা দে। Angry Birds খেলি কিছুক্ষন।“

“এই নে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। তুই বের হবি না কিন্তু বাসা থেকে।“

রায়হান বাথরুমে ঢুকবার সাথে সাথেই ফাহাদ বিছানা থেকে উঠে জানালার পাশে এসে বসল। ওইতো, কাকটাকে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন নিয়ম করে এই সময়েই ফাহাদের জানালার পাশে এসে বসে। কাকদেরও মনে হয় একটা জীবনচক্র থাকে। সেই চক্করে একবার আঁটকে পড়লে আর মনে হয় বের হওয়া যায় না। কাঁকটাকে দেখলে ফাহাদের কেমন যেন মায়া হয়। নিঃসঙ্গ একটা কাঁক। পরোটার একটা অংশ ছিঁড়ে কাঁকটার দিকে এগিয়ে ধরল ফাহাদ। কাঁকটা এগিয়ে এসে পরোটার অংশটুকু মুখে তুলে নিল।

“বুঝলি কাকিরা, আজ আমার মনটা বেশ ভাল। আজ আমার ভালবাসার মানুষকে প্রপোজ করতে যাচ্ছি। দোয়া করিস যেন ছ্যাকা না খাই।“

কাকিরার (ফাহাদের দেওয়া নাম) অবশ্য ফাহাদের কথা শোনার দিকে কোন আগ্রহ দেখা গেল না। সে পরোটা নিয়ে ব্যস্ত।

“সেঁজুতির জন্য একটা কবিতা লিখেছি। কবিতাটা শোনাবার পর তাকে প্রপোজ করব। বুদ্ধিটা ভাল না রে? সেঁজুতি খুব ভাব নেয় যে সে কবিতা পছন্দ করে না। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোন বাঙালি মেয়ে কবিতা পছন্দ করবে না এটা কি হয় নাকি রে? তোকে কবিতাটা শোনাই, শোন কেমন হয়েছে।“

যতবার ভাবি হব স্থির বনস্পতি
ততবার ঠিক মেটাতে হয়
উত্তাল সময়ের দায়।

যতবার সময় নিশ্চল
ততবার ঘুরাতে হয়
দুর্বহ রথের চাকা।

যতবার তোমায় স্মরি
ততবার প্রক্ষেপণে বিদ্ধ হয়
আমার হৃদয়।

যতবার আক্ষেপে মরি
ততবার নিষিক্ত নিকেতনে কাঁদে
কল্পনার রঙিন ফানুস।

কাকিরার মাঝে এইবারও কোন ভ্রূক্ষেপ দেখা গেল না। সে এখনও পরোটা খাওয়ায় ব্যস্ত। ফাহাদ মোবাইলটা হাতে নিল। সেঁজুতিকে একটা ফোন দিতে হবে।

*****
“কি বলবি ঝটপট বলে ফেল, ব্যস্ত আছি।“

“কেন, সাজুগুজু করছিস নাকি?”

“থাপ্পর খাবি, সাজগোজ করা ছাড়া মেয়েদের কি আর কোন কাজ থাকতে পারে না?”

“অন্যদের হয়ত থাকতে পারে, তোর আছে কি না সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।“

“ফালতু প্যাঁচাল পারবি না। কি বলতে চাস বলে ফেল।“

“ঝটপট রেডি হয়ে কলা ভবনের সামনে চলে আয়। কলাপাতা রঙের যেই শাড়িটা তোকে গিফট করেছিলাম সেইটা পড়ে আসবি। কপালে টিপ দেওয়াটা অপশনাল। মন চাইলে দিবি, না চাইলে দিবি না। তবে টিপ পড়লে অবশ্যই ছোট টিপ পড়বি। বড় টিপে তোকে মানায় না। চোখে কাজল দিতে পারিস। অন্য সময় তোকে খেপালেও আজ কিছু বলব না।“

“সকাল সকাল কি গাঁজা বা ফেনসিডিল জাতীয় কিছু খেয়েছিস নাকি? খেপেছিস ক্যান?”

“সুন্দরী, আজ তোকে আমি অফিসিয়ালি প্রপোজ করতে আসছি। তাই এইটুকু রোমান্টিকতা কি তোর কাছ থেকে আশা করতে পারি না?”

“প্রেমের প্রপোজ নাকি বিয়ের প্রপোজ?”

“তোর যেটা পছন্দ, আমি ডুবতে রাজি আছি আজ, আমার খোলা হাওয়া।“

“চুপ থাক, গান তোর আসে না, এই সক্কালবেলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান না করলেও চলবে। তুই আয়, আমি নাস্তা করি নি। তোর সাথে চা খেতে পারি বড়জোর এইটুকুই।“

“আমি জানি আমার কোন DSLR ক্যামেরা নাই যা দিয়ে লাক্স সুন্দরীদের মত করে তোর ছবি তুলতে পারব আর তুই সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করতে পারবি। বাইকে চড়তে তুই পছন্দ করিস কিন্তু তোকে পিছনে নিয়ে ঘুরবার জন্য আমার কোন বাইক নাই। আমার এত টাকাপয়সাও নাই যে তোকে প্রচুর শপিং করে দিতে পারব। কিন্তু আমার আকাশের মত বিশাল একটা হৃদয় আছে আর সেই হৃদয়ে মাউন্ট এভারেস্টের জমাট বাঁধা বরফের সমপরিমাণ ভালবাসা তোর জন্য জমা করে রেখেছি।“

“বাহ, ভাল বলেছিস তো। তালিয়া। কিন্তু এইসব মিষ্টি কথায় কি চিড়ে ভিজবে? ওই কথাটা শুনিস নাই? A successful man is a man who makes more money than his wife can spend. And a successful woman is a woman who can find such a man. আমি এমন একজন সফল নারী হতে চাই যার জামাই একটু বয়স্ক হলেও ক্ষতি নেই, প্রচুর পয়সা থাকলেই হবে।“

“সেঁজুতি, আমি সিরিয়াস।“

“ঠিক আছে, আমি তোকে হ্যাঁ বলব কি না সেটা ভেবে দেখার জন্য আমার একটা ধাঁধার জবাব তোকে দিতে হবে। উত্তর দিতে পারলে তোর প্রপোজের বিষয়টা ভেবে দেখতে রাজি আছি।“

“বলে ফেল, আমি আসতে আসতে উত্তর বের করে ফেলব।“

“আকাশের কোন বাসিন্দা যদি হুট করে সাগরের কোন বাসিন্দার প্রেমে পড়ে যায় তাহলে তাদের ভালোবাসার পরিণতি কি দাঁড়াবে? উত্তর দেওয়ায় জন্য তোর হাতে সময় আছে ৩০ মিনিট। এখন টা টা বাই বাই।”

*****
“এই মামা, টিএসসি যাবেন?”

“যামু না।“

“চলেন না মামা। আপনাকে ভাড়ার সাথে বিট লবন দিয়ে এক গ্লাস লেবুর শরবত ফ্রি খাওয়াব।“

রিকশাওয়ালা এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল “৩০ টাকা দিতে হবে।“

অন্য কোন দিন হলে আজিজ সুপার মার্কেটের নিচ থেকে কলা ভবন পর্যন্ত ৩০ টাকা ভাড়া চাওয়ার অপরাধে রিক্সাওয়ালাকে একটা রামধমক দিত সেই বিষয়ে ফাহাদ নিশ্চিত। কিন্তু আজকের দিনটা আলাদা। কেন জানি আজ খুব কৃষ্ণচূড়া দেখতে ইচ্ছে করছে। বহুদিন তাঁর কৃষ্ণচূড়া দেখা হয় না। সেঁজুতির কাছে শুনেছে কলা ভবনের পাশে দুইটা গাছে নাকি কৃষ্ণচূড়ার বান ডেকেছে। মৌসুমের প্রথম কৃষ্ণচূড়া। আকাশী নীল জারুল ফুলগুলো কৃষ্ণচূড়ার রাজত্বে ভাগ বসাতে চাইলেও খুব একটা নাকি পাত্তা পাচ্ছে না। নিজ চোখে না দেখা পর্যন্ত শান্তি নেই।

*****
“এক্সকিউজ মি, আপু।“

পিছনে ফিরে যূথী দেখল এলোমেলো চুলের একটা ছেলে তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসছে। হাসিতে অভদ্রতা নেই তবে অদ্ভুত একটা সারল্য আছে। এলোমেলো চুলটা মনে হয় বর্তমানের স্টাইল। দেখতে ভালই লাগে।

“জি বলুন।“

“আকাশের কোন বাসিন্দা যদি হুট করে সাগরের কোন বাসিন্দার প্রেমে পড়ে যায় তাহলে তাদের ভালোবাসার পরিণতি কি দাঁড়াবে?”

“মানে কি?”

“আসলে এটা একটা ধাঁধা। আমার ভালোবাসার মানুষটা আমাকে শর্ত দিয়েছে যদি আমি এই ধাঁধার জবাব দিতে পারি তাহলে আমার ভালোবাসার প্রস্তাবে সে রাজি হবে। আমি উত্তরটা বের করতে পারছি না। আপনি কি আমাকে হেল্প করবেন, প্লীজ।“

কিছু কিছু ছেলে থাকে যারা ভিন্নরকম পদ্ধতিতে মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করতে পছন্দ করে। এই ছেলেটাও কি তেমন? কিন্তু মায়াভরা সরল চাহনি দেখে যূথী রাগও করতে পারছে না। আচ্ছা, কিছুক্ষণের জন্য বেচারাকে মনে হয় বিশ্বাস করা যায়।

“আপনার কেন মনে হচ্ছে যে এই ধাঁধার উত্তর আমি দিতে পারব?”

“মনে হল তাই বললাম। একটা মেয়ের দেওয়া ধাঁধা, একটা মেয়েই হয়ত সমাধান করতে পারবে।“

যূথী হেসে ফেলল। এমনিতে তাঁর খুব একটা কাজ নেই। ক্লাস হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয় নি।

“আপনার যুক্তিটা খুবই ফালতু। তারপরেও না হয় মেনেই নিলাম। ঠিক আছে, ভেবে বলছি। কিন্তু আমার লাভটা কি হবে তাতে? আপনি না হয় আপনার প্রেমিকার মন পাবেন, আমি কি পাব।?”

“কৃষ্ণচূড়া। লাল কৃষ্ণচূড়া। সাথে নীল জারুল একদম ফ্রি। আমি নিজে আপনাকে গাছ থেকে ফুল তুলে দিব। খুশি?”

যূথী আবারও হাসল। এই ধরণের পাগলামিগুলো কোন মেয়ে পছন্দ না করবে? ছেলেটার প্রেমিকা ভাগ্যবতী। সাথে সূক্ষ্ম একটা বেদনাও তাঁর ভেতর যে কাজ করছে না তা না। কোন এক সময় কেউ একজন তাঁর জন্যও এইরকম পাগলামিই করেছিল। ফিরিয়ে দেওয়ার পর সেই যে মানুষটা চলে গেল, আর ফিরে এল না। এত্ত ইগো থাকলে কি প্রেম করা যায়?

*****
বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে রায়হান কোথাও ফাহাদকে দেখতে পেল না। মোবাইলটা এলোমেলো বিছানায় পড়ে আছে। নাস্তাও খাওয়া হয় নি। গেল কোথায় ফাহাদ? মোবাইলটা হাতে নিয়েই চমকে উঠল রায়হান। ডায়াল লিস্টের শেষ নাম্বারটা তাকে চমকে দিয়েছে। শিট। এখনই তাকে বের হতে হবে এবং তারও আগে দুই জায়গায় ফোন দিতে হবে। তাঁর আশঙ্কাটাই সত্যি হতে চলেছে।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ফাহাদের ডায়াল করা শেষ নাম্বারটায় ফোন দিল রায়হান। ওইপাশ থেকে অনুমিত উত্তরটাই ভেসে আসল, “দুঃখিত, এই মুহূর্তে আপনার ডায়াল করা নাম্বারে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটু পরে আবার ডায়াল করুন।“

*****

তুই চিরদিন তোর দরজা খুলে থাকিস,
অবাধ আনাগোনার হিসেব কেন রাখিস?
সাক্ষাৎ আলাদিন তোর প্রদীপ ভরা জিনে,
কেন খুঁজতে যাস আমায় সাজানো ম্যাগাজিনে?

ভেজা রেলগাড়ি হয়ত সবুজ ছুঁয়ে ফেলে
আর সারাটা পথ ভীষণ খামখেয়ালে চলে!
তারপর বেরোয় মেঘ আর তারায় ভরা স্টেশন,
একটু থামতে চায় প্রেমিকের ইন্সপিরেশন!

বাহ, ছেলেটার গানের গলা তো বেশ ভাল? বলা নেই কওয়া নেই হঠাত গান শুরু করে দিল। যূথী কিছুটা হলেও অবাক হয়েছে। ফাহাদের অবশ্য সেদিকে নজর নেই। একমনে গান গাইতে গাইতে হঠাত করেই গান থামিয়ে যূথীর দিকে তাকাল,

“আমার নাম তো আপনাকে বলা হয় নি। আমি ফাহাদ। আপনি?”

“যূথী”

“সুন্দর নাম। আচ্ছা আমার গানের গলা কি খুব খারাপ?”

“নাহ, বেশ ভাল। হঠাত আমাকে গান শোনাতে শুরু করলেন যে?”

“সেঁজুতিকে এই গানটা শুনিয়ে প্রপোজ করব ভাবছি। আপনার সামনে একটু রিহার্সাল দিলাম আর কি।“

কেন জানি যূথীর মন খারাপ হয়ে গেল। ধুর, সে কি ভাবছিল ফাহাদ তাঁকেই গান শোনাচ্ছে? ফাহাদ কেন তাকে গান শোনাবে? ফাহাদের গান সেঁজুতির জন্য বরাদ্দ। নাহ, সেঁজুতিকে দেখার কৌতূহল হচ্ছে খুব। তাঁর হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে। দেখা যাক ফাহাদ আর কতখানি পাগলামি সেঁজুতির জন্য বরাদ্দ রেখেছে।

ফাহাদের সাথে সময়টা ভালই কাটছিল কিন্তু এর পরের ঘটনাটার জন্য যূথী একদমই প্রস্তুত ছিল না। ফাহাদ কাছের কৃষ্ণচূড়া গাছ বেয়ে উঠতে শুরু করেছে।

“আরে করছেন কি? গাছে উঠছেন কেন?”

“আপনার জন্য কৃষ্ণচূড়া ফুল তুলে আনছি। আপনাকে দেখে বুদ্ধিমতি মনে হচ্ছে। আমার ধারণা আপনি ধাঁধার জবাবটা বের করতে পারবেন। তখন তো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ফুল আপনাকে দিতেই হবে। সেঁজুতি যদি আমাকে আপনার জন্য ফুল তুলতে দেখে তাহলে আমার প্রেমটা শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে যাবে। ওই রিস্কে যেতে চাইছি না।“

যূথী কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। ফাহাদ অনেকদূর উঠে পড়েছে। ফাহাদ দেখা যাচ্ছে ভালই গাছে চড়তে জানে। নিশ্চিত গ্রাম কিংবা মফস্বলের ছেলে। ঢাকার ছেলেরা গাছে চড়তে কিংবা সাঁতার কাটতে জানে না।

“ক্যাঁচ ধরতে পারবেন তো? আমি ছুড়ে দিচ্ছি আপনি লুফে নিন।“

কথাগুলো বলে সদ্য তোলা ফুলগুলোর একটা ঝাঁক ফাহাদ যূথীর দিকে ছুড়ে দিল। যূথী ধরতে পারল না। নিচু হয়ে ফুলগুলো তুলে আবার ফাহাদের দিকে তাকিয়েই সে চমকে গেল। ফাহাদের মুখায়বব হঠাত পাল্টে গেছে। হাসিখুশি মুখের মাঝে ভর করেছে রাজ্যের আতঙ্ক। আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু খুঁজছে বলে মনে হচ্ছে। এত আতঙ্কের কারণ কি? সাপ নাকি? নাহ, তাও তো না। ফাহাদের আতঙ্কিত মুখের দিকে তাকিয়ে যূথী নিজেও ভয় পেতে লাগলো। হঠাত করে কি হয়ে গেল সে বুঝতে পারছে না।

“সরে যান, ঝড় আসছে। বিশাল ঝড়। এই কৃষ্ণচূড়া গাছ সেই ঝড়ের ধাক্কা সামলাতে পারবে না। আপনি সরে যান।“

ফাহাদের চিৎকারে কেবল যূথীই না, আশেপাশের বেশ কিছু তরুণ-তরুণীও সচকিত হয়েছে। তাঁদের চোখেও কৌতূহল। যূথীর খুব অস্বস্তি লাগছে। চারপাশের সবাই কেমন করে একবার তাঁর, আরেকবার ফাহাদের দিকে তাকাচ্ছে। আকাশে উজ্জ্বল সূর্য, মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই।

“ফাহাদ, আপনি নেমে আসুন। ঝড় আসবে না।“

“ঝড় আসছে। এখন নামতে গেলেই বিপদ। আপনি সরে যান, চলে যান, চলে যান।“

ফাহাদের একটানা আতঙ্কিত চিৎকারে চারপাশের সবাই ছুটে আসল। বড় বড় চোখ করে ফাহাদ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর চোখগুলো কৃষ্ণচূড়ার মতই লাল হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে যে কোন সময় ফেটে রক্ত বেরিয়ে আসবে।

ঠিক এই সময় একসাথে তিনটা ঘটনা ঘটল। কেউ একজন যূথীর হাত থেকে কৃষ্ণচূড়া ফুলগুলো কেঁড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলল। তীব্র সাইরেনের শব্দ তুলে একটা এ্যাম্বুলেন্স কলা ভবনের পাশ দিয়ে বিজনেস ফ্যাকাল্টির মাঠে প্রবেশ করল এবং ফাহাদ গাছ থেকে লাফ দিল। ফুল কেড়ে নেওয়া ব্যক্তির দিকে তাকাল যূথী।

“আপনাকে বিরক্ত করবার জন্য দুঃখিত মিস। আমি রায়হান।“

*****
এ্যাম্বুলেন্স থেকে স্ট্রেচার বের করা হচ্ছে। ফাহাদের বাম পা’টা মনে হয় মচকে গেছে। ব্যাথায় কোঁচকানো মুখ থেকে সমস্ত আতঙ্ক বিদায় নিয়েছে। সেদিকে একবার তাকিয়ে যূথী রায়হানের দিকে ফিরে তাকাল। তাঁর চোখে প্রশ্ন।

“আমি জানি না আপনি কে। তবে আপনি এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার সাথে জড়িয়ে গেছেন দেখে খারাপ লাগছে। ফাহাদের হয়ে আমিই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি একইসাথে ওর বন্ধু এবং বর্তমান অভিভাবক।“

“আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।“

“বললেই বুঝবেন, আর আপনাকে বলাই যায়। ফাহাদ আসলে Bipolar disorder এর রোগী। Bipolar Disorder বুঝেন তো।“

“আমি মেডিকেলের ছাত্রী নই।“

“Bipolar Disorder হচ্ছে এমন এক ধরণের রোগ যেখানে রোগী একইসাথে Depression এবং Mania তে ভুগে। সে যখন ভাল অবস্থায় থাকে তখন খুব ভাল থাকে আর যখন হতাশা কিংবা আতঙ্কে থাকে তখনও তীব্র মাত্রায় থাকে। এবং এই দুই বিপরীত অবস্থা মুহূর্তেই Overlap করতে পারে। আপনার সাথে যখন ফাহাদের কথা হচ্ছিল তখন সে Overexcited অবস্থায় ছিল। আমি যেই মুহূর্তে এসে পৌঁছাই তখন সে পুরোপুরি বিপরীত অবস্থা মানে তীব্র আতঙ্কে অসাড় হয়ে পড়েছিল এবং এই আতঙ্কই তাকে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়তে বাধ্য করেছিল। আবার এখন দেখুন সে একদম শান্ত।“

“এরকম হওয়ার কারণ কি? আর সেঁজুতিই বা কোথায়। ফাহাদের কথা অনুযায়ী সেঁজুতির তো এতক্ষণে এখানে পৌঁছে যাওয়ার কথা। নাকি সেঁজুতি কোন কাল্পনিক চরিত্র?”

“নাহ, কাল্পনিক কোন চরিত্র না। সেঁজুতিকে ফাহাদ ভালবাসত। সেঁজুতিও ফাহাদকে ভালবাসত। দুই বছর আগে এমনই কোন এক দিনে ফাহাদ সেঁজুতিকে ভালোবাসার কথা জানাতে এসেছিল। সেদিন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মাঝেই সেঁজুতির নিষেধ সত্ত্বেও ফাহাদ এই গাছটায় উঠেছিল সেঁজুতিকে কৃষ্ণচূড়া ফুল তুলে দিবে বলে। এর মাঝেই প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়ে যায়। ঝড়ে গাছের একটা ডাল ভেঙে সেঁজুতির মাথায় পড়ে। দুই দিন ICU তে থাকবার পর সেঁজুতি মারা যায়। এরপর থেকেই ফাহাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। সে নিজেকে কখনোই ক্ষমা করতে পারে নি। এছাড়া মাঝে মাঝেই কল্পনায় সেঁজুতির সাথে কথা বলত। সেঁজুতির মৃত্যুর জন্যও নিজেকেই দায়ী করত সবসময়।“

যূথী কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তাঁর গলাটা কেন জানি খুব ভারী ভারী লাগছে।

“তারপর?”

“তারপর আর কি? এভাবেই চলছে। আমি তাঁর দেখাশোনা করতে থাকি। খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলতে আমিই ছিলাম। ইদানিং ফাহাদ অনেক স্বাভাবিক আচরণ করত। নিজের বাসায়ই থাকে তবে মাঝে মাঝেই আমার কাছে চলে আসে। আমি ভাবতাম ঠিক হয়ে গেছে। আজ মোবাইলের ডায়াল লিস্টে সেঁজুতির নাম্বার দেখেই বুঝতে পারলাম পুরাতন রোগ তাঁর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমার অস্ট্রেলিয়াতে স্কলারশিপ হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম চলে যাব মাস দুয়েকের মধ্যেই। এখন মনে হচ্ছে ফাহাদের জন্য যাওয়াটা পেছাতে হবে আরও কয়েকমাস। একটা সময় আমার জন্য সে অনেক করেছে। তাঁর জন্য কিছু করতে পারাটা এখন আমার দায়িত্বের মাঝেই পড়ে।“

যূথীর মনটা ভার হয়ে গেছে। সে কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না।

“আপনি শুধু শুধু ঝামেলায় পড়লেন। আবারও ফাহাদের পক্ষ হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। উঠছি তাহলে। দেখি ওর পা’টা কতটা মচকাল।“

রায়হান উঠে দাঁড়াল। যূথী ফাহাদের দিকে ফিরল। ফাহাদ তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে। তাঁর মুখে সেই সরল হাসিটা আবারও ফিরে এসেছে।

“জানেন যূথী, আমি ধাঁধার উত্তরটা ঠিকই বের করতে পেরেছিলাম, কিন্তু সেঁজুতিকে বলবার সুযোগ পাই নি। ICU তে সেঁজুতির রুমের দরজায় দুইদিন ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলাম যেন ধাঁধার উত্তরটা তাঁকে জানাতে পারি। পারি নি।“

“ধাঁধার উত্তরটা আমাকে বলা যায়?”

“আপনাকে ক্লু দিয়ে দিয়েছি। নিজেই বের করে নিন। যাকে বলতে চেয়েছিলাম তাঁকে তো আর বলতে পারি নি। অন্য কাউকে বলে আর কি হবে?”

ফাহাদকে বহন করা স্ট্রেচারটা এ্যাম্বুলেন্সের ভিতর ঢুঁকে গেল। এ্যাম্বুলেন্সটাও দেরী না করে ছেড়ে দিল। উত্তেজনা শেষ তাই আশপাশ ফাঁকা হতে সময় লাগলো না। কি আশ্চর্য, দেখতে না দেখতেই আকাশ কাল হয়ে গেল। ঝড় আসবে নাকি? যূথী টিএসসির দিকে হাঁটতে হাঁটতে ধাঁধাটার কথাই ভাবছিল। তাঁর বুকের ভিতরটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। হঠাত করেই ফাহাদের গাওয়া গানটার পরের অংশটুকু তাঁর মনে পড়ল। এবং সেই সাথে ধাঁধার জবাবটাও সে পেয়ে গেল।

তোর এ সকাল ঘুম ভেঙ্গে দিতে পারি!
তোর এ বিকেল ঘুরি ছিঁড়ে দিতে পারি!
তোকে আলোর আলপিন দিতে পারে!
তোকে বসন্তের দিন দিতে পারি!

আমাকে খুঁজে দে জলফড়িং!

“আকাশের কোন বাসিন্দা যদি হুট করে সাগরের কোন বাসিন্দার প্রেমে পড়ে যায় তাহলে তাদের ভালোবাসার পরিণতি কি দাঁড়াবে?”

ধাঁধার উত্তর হবে, “জলফড়িং”

২৬ thoughts on “জলফড়িং

  1. যতবার ভাবি হব স্থির বনস্পতি

    যতবার ভাবি হব স্থির বনস্পতি
    ততবার ঠিক মেটাতে হয়
    উত্তাল সময়ের দায়।

    যতবার সময় নিশ্চল
    ততবার ঘুরাতে হয়
    দুর্বহ রথের চাকা।

    যতবার তোমায় স্মরি
    ততবার প্রক্ষেপণে বিদ্ধ হয়
    আমার হৃদয়।

    যতবার আক্ষেপে মরি
    ততবার নিষিক্ত নিকেতনে কাঁদে
    কল্পনার রঙিন ফানুস।

    কবিতাটা অসাধারণ!

    1. অনেক ধন্যবাদ। কবিতাটার অর্ধেক
      অনেক ধন্যবাদ। কবিতাটার অর্ধেক আমার নিজের লেখা। বাকি অর্ধেক ধার করা।

  2. গল্পটা বেশ বড়। অফিসের কাজের
    গল্পটা বেশ বড়। অফিসের কাজের ফাঁকে তিন কিস্তিতে পড়ে শেষ করলাম। ভাল লেগেছে। আপনার প্রতিটা গল্পে অন্য ধরনের একটা আমেজ থাকে। সাহিত্যের পাঠক হয়ত কম। কিন্তু আপনাদের নিয়মিত অংশগ্রহন বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করবে। সাহিত্যের কদর প্রবাহমান। এর কোন নির্দ্দিষ্ট ক্ষণ, কাল নাই। দশ বছর পরেও মানুষ পড়বে।

    নিয়মিত লেখক হয়ে উঠুন।

    1. উৎসাহমূলক মন্তব্যের আপনাকে
      উৎসাহমূলক মন্তব্যের আপনাকে ধন্যবাদ দুলাল ভাই। আপনার উৎসাহ সবসময়ই আমাকে প্রেরণা যোগায়। অনেকদিন পর লিখলাম তাই হয়ত গল্পটা বড় হয়ে গেছে। আমি সবসময় নিজের আনন্দের জন্য লিখি। তাই কে পড়ল, কয়জন পড়ল সেটা কখনোই আমার কাছে মুখ্য বিষয় না। তবে কেউ সমালোচনা কিংবা প্রশংসা করলে ভাল লাগে। নিজের লেখার মান উন্নত করবার চেষ্টা করা যায়।

      নিয়মিত লিখতে ইচ্ছে হয় কিন্তু অফিসের বর্তমান ব্যস্ততায় সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি নিয়মিত লিখতে পারব।

  3. আরও একটি চমৎকার শঙ্খচিলের
    আরও একটি চমৎকার শঙ্খচিলের ডানা প্রোডাকশন। আমার অসম্ভব প্রিয় একটা গানকে কেন্দ্র করে গল্পটা লিখেছেন। তাই ভালো লাগাটা আরও বেশী। দুলাল ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি- নিয়মিত লেখক হয়ে উঠুন। আর গল্প বিশাল হলেও পড়তে একটুও ক্লান্তি আসেনি।

    1. অনেক অনেক ধন্যবাদ আতিক ভাই
      অনেক অনেক ধন্যবাদ আতিক ভাই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: একটু বেশি বলে ফেললেন মনে হয় :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: তবে খুশি হইসি :খুশি: :খুশি:

  4. চমৎকার আপনার লেখনি, সত্যিই
    চমৎকার আপনার লেখনি, সত্যিই অভিভূত হয়ে গেলাম লেখা পড়ে। বর্ণণা শৈলী দূর্দান্ত, ব্লগে এমন লেখা আজকাল পাওয়া দুষ্কর। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ
      আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  5. আপনার অসুস্থতার সুবিধা মনে হয়
    আপনার অসুস্থতার সুবিধা মনে হয় আমরাই নিলাম। খুব সুন্দর একটা গল্প হয়েছে ডানা ভাই।
    অনেক শুভেচ্ছা আর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন সেই দোয়া করছি।

    1. কারও পৌষ মাস আর কারও সর্বনাশ
      কারও পৌষ মাস আর কারও সর্বনাশ :মাথাঠুকি: প্রশংসা আর শুভকামনার জন্য :ধইন্যাপাতা:

      1. অফিসের কাজে একটু দৌড়ের উপর
        অফিসের কাজে একটু দৌড়ের উপর আছি। তাই ব্লগে আসতে পারি না সব সময়। আসলেও মন্তব্য করতে পারি না।

      1. হা হা হা, নারে ভাই ডুব দেই
        হা হা হা, নারে ভাই ডুব দেই নাই। অফিস আমাকে চুবানি দিচ্ছে, দম দেয়ার ফুরসৎ পাচ্ছি না।

  6. কি বলব!!! যা বলার তা আগেই বলে
    :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: কি বলব!!! যা বলার তা আগেই বলে দিয়েছি, আর বলার মত নতুন কিছু খুঁজে পাচ্ছি না।

    1. থাক, কিচ্ছু বলার দরকার নাই।
      থাক, কিচ্ছু বলার দরকার নাই। :আমিকিন্তুচুপচাপ: :আমিকিন্তুচুপচাপ: :আমিকিন্তুচুপচাপ:

  7. ব্যাক ইন একশন….
    বি.দ্র: এই

    ব্যাক ইন একশন….

    বি.দ্র: এই লেখা কতোদিন পর্যন্ত চলবে? অর্থাৎ আবার ক’দিনের জন্য গায়েব হচ্ছেন?

    1. গায়েব হওয়ার শখ নাই ভাইডি। কথা
      গায়েব হওয়ার শখ নাই ভাইডি। কথা হইল অফিসে কুত্তার মত খাতাইলে গপ্প আইবো কই থাইক্কা :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *