অতির নাই গতি

অতি বা অতিরিক্ত নিয়ে বাংলায় অনেক প্রবাদ আছে যেমন “অতি লোভে তাতি নষ্ট ” “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’’ “অতি(অধিক) সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট” ইত্যাদি ইত্যাদি ।আমার এক খালামনি আছেন যিনি প্রায়ই বলেন অতির নাই গতি ।এখানে গতি বলতে উনি স্পিড কে বুঝান নাই ।গতি মানে উপায় । আসলে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না। যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি অকল্যাণ বা ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায় ।

অতি বা অতিরিক্ত নিয়ে বাংলায় অনেক প্রবাদ আছে যেমন “অতি লোভে তাতি নষ্ট ” “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’’ “অতি(অধিক) সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট” ইত্যাদি ইত্যাদি ।আমার এক খালামনি আছেন যিনি প্রায়ই বলেন অতির নাই গতি ।এখানে গতি বলতে উনি স্পিড কে বুঝান নাই ।গতি মানে উপায় । আসলে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না। যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি অকল্যাণ বা ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায় ।
আমাদের দেশে আজকাল দুই অতির উদ্ভব হয়েছে একদল অতি আস্তিক আর একদল অতি নাস্তিক এর । এদের যন্ত্রণায় কথা বলাই দায় । কোন কথা কারও বিপক্ষে গেলেই হল ব্যাস আর রক্ষা নাই একদল বলবে মৌলবাদী বা পাকি দালাল বা রাজাকার আর অন্যদল এর বিপক্ষে গেলে তারা বলবে কাফের,মুরতাদ বা ভারতীয় দালাল ।
এদের জ্বালায় বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের দালালরা একেবারেই কোণঠাসা ।
পরমত সহিষ্ণুতা বা অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধটুকু এরা হারিয়ে ফেলছে । সবার মাঝেই কাজ করে কেমন এক যুদ্ধংদেহি মনোভাব ।সমালোচনা কে গ্রহন করার উদারতাটুকু তারা হারিয়ে ফেলছে ।
এই সব অতি নাস্তিক আর অতি আস্তিকদের নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমি নিজের সম্পরকে একটু বলে নেই যদিও এটা আমার একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যাপার এবং এ বিষয়ে কারও কাছে কফিয়ত দিতে আমি দায়বদ্ধ নই ।তারপরও বলছি আমি একজন আস্তিক আর আমার ধর্ম বিশ্বাস ইসলাম ।
এমন একটা বিষয়ে কথা বলার কারন সম্পূর্ণই নিজের ব্যাক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতা ।
যাই হোক প্রথমেই বলি অতি নাস্তিক দের কথা ।এদের অনেকেই বিশেষ করে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা না বুঝেই নাস্তিক । এটা তাদের কাছে প্রগতিশীলতার প্রতীক । ঈশ্বর কে গালাগালি করা আর ধর্ম কে কটাক্ষ করার মাঝেই এদের নাস্তিকতা। বিশেষ করে আল্লাহ আর ইসলাম ধর্মের উপর এদের ভীষণ ক্রোধ ।
ইহুদি রাবাই বা শিখ সরদার এর দাড়ি দেখে এরা কিছু মনে না করলেও মুসলিম মাওলানা বা সাধারন দাড়িওয়ালা মুসলমানের দাড়ি দেখলেই এদের গায়ে আগুন ধরে যায় ।
এইসব অতি নাস্তিকরা নিজের মতামতকে যুক্তি দ্বারা উপস্থাপন করার চেয়ে ধর্ম কে গালাগালি করাই উত্তম পন্থা মনে করে ।
অথচ নাস্তিকতা একটা দর্শন ।নাস্তিকরা অবিশ্বাসী নয় বরং তারা প্রকৃতিবাদে বিশ্বাস করে । তারা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বলে কিছু নেই । সৃষ্টির সব কিছুর মুলেই রয়েছে প্রাকৃতিক বিবর্তন ।মানব ধর্মই হল আসল কথা ।
কারও বিশ্বাস কে কখনই জোর করে পরিবর্তন করা যায় না । আর পৃথিবীর কোন ধর্মেই বলা নাই একজনকে জোড়জবরদস্তি করে ধর্মে বিশ্বাসী করে তোলার । আর এটা কি সম্ভব ? কেমন করে একজন সুস্থ আর স্বাধীনচেতা মানুষের মনকে আপনি নিয়ন্ত্রন করবেন ?
আমি খুব কাছ থেকে কিছু প্রকৃতিবাদী মানুষের কথা শুনেছি ।তারা আমার বেশ কাছের লোক ।এদের মাঝে মুসলিম ছাড়াও হিন্দু আর একজন খৃস্টান আছেন । সঙ্গত কারনেই আমি তাদের নাম প্রকাশ করলাম না ।
দুঃখিত একটু ভুল বলে ফেললাম ,জন্ম সুত্রে তারা উপরোক্ত ধরমালম্বি হলেও কেউ তা পালন করেন না কারন তারা প্রকৃতিবাদী ।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল এই উচ্চশিক্ষিত মানুষগুলোর মুখে আমি একবারও কোন ধর্মের প্রতি একটাও বাজে মন্তব্য করতে শুনি নাই। বরং তারা যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন তাদের বিশ্বাস কে ।
তবে একথাও মনে রাখতে হবে কেউ যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করে সেটা যেমন তার তেমনি তারও কোন অধিকার নাই অন্যের বিশ্বাস কে আঘাত করার বা অপমান করার ।

এবার আসি অতি আস্তিকদের প্রসঙ্গে । এরা বড় বিপদজনক এবং ক্ষেত্র বিশেষে কেউ কেউ ভয়ংকর ও বটে ।
সবকিছুতেই এদের জাত গেল মনোভাব । এদের ধর্মানুভুতি খোলা ক্ষতের মত একটু হাওয়া লাগলেও আঘাত লাগে তাতে ।
ছোট বড় যেকোনো বিষয়েই তাদের মনে হয় কাজটা ধর্ম বিদ্বেষী হয়ে গেল ।
আরে ভাই ধর্ম আর বিশ্বাস কি এতই ঠুনকো যে একটুতেই ভেঙ্গে যাবে ।
পহেলা বৈশাখ নিয়ে এদের আপত্তি কারন ওইদিন হিন্দুরা পূজা করে । আমার এক পড়শি চাচা আমাকে অনেক উপদেশ দিলেন এই বৈশাখে যে কেন এই দিন নতুন পোশাক গায়ে দিয়ে ঘুরতে হবে ?মেলা খেলা করে কাটাতে হবে ? এটা তো মুসলমানের উৎসব না।যখন তাকে আমি বললাম এটা তো আসলে ধর্মীয় কোন উৎসব না এটা বাঙ্গালীদের উৎসব। তিনি সোজা উত্তর দিলেন ,এই দিন তো হিন্দুরা পূজা করে তা তোমরাও তাই করবা নাকি? আমি তাকে বললাম চাচা হিন্দুরা পুজা করে বাংলা মাস অনুসারে আর আমাদের ঈদ রোজা হয় চান্দ্র মাস অনুসারে তাই প্রতিবার ঈদ দশ দিন করে আগায় এখন যদি এমন হয় ঈদ এর দিন কোন পূজা পরে তাহলে কি আমি ঈদ পালন করব না ?
উনি আমার কথার সরাসরি উত্তর না দিয়ে অসন্তোস্ট মনে বলেছিলেন যাদের অন্তরে শয়তান সীলমোহর মেরে দেয় তাদের বোঝানো মুশকিল ।
বারান নামে আমার এক ভারচুয়াল দোস্ত ছিল ইয়াহু তে যার বাড়ি ইরানে । গল্পচ্ছলে একদিন তার কাছে শুনেছিলাম কেমন ঘটা করে তারা শাহনামা দিবস পালন করে । আমরা অনেকেই হয়ত মহাকবি ফেরদৌসির শাহনামা পড়েছি বা এর কিছু গল্প শুনেছি।
সোহরাব রুস্তম অনেক বড় বীর ছিলেন । কিন্তু এরা অর্থাৎ এই চরিত্রগুলা কিন্তু মুসলিম ছিল না এরা ছিল জরাথ্রুস্ট ,অগ্নি উপাসক । তারপরও ইসলামিক রাস্ট্র ইরানে এই উৎসব হয় কারন ওঁরা এই উৎসবকে পার্সিয়ান দের উৎসব মনে করে ।
শুধুমাত্র মাউলানা বা অল্প শিক্ষিত মানুষকে বলে লাভ নাই অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তিও আছে এই অতি আস্তিকদের দলে ।
টিপ পরতে আমি অনেক পছন্দ করি , যদিও সবসময় আমার টিপ পরা হয় না ।ছোট বড় রংবেরং এর টিপ আমার বেশ লাগে ।বাসা থেকে এ কারনে আমাকে কখনই কেউ কিছু বলে নাই ।আমার মা নিয়মিত নামাজ পড়তেন , রোযা রাখতেন বাবাও নামাজ পড়েন , রোযা রাখেন নিয়মিত । অথচ এক বান্ধবীর বোন যিনি কিনা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারী বলেই ফেললেন ,তুমি কপালে টিপ দিও না এটা তিলক কাটার শামিল ।
আমি খুব ই অবাক হলাম তিলক কাটে মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাস এর কারনে আর আমি টিপ পরি সাজুগুজুর জন্য ।
উনার সাথে তর্ক করার ইচ্ছা আমার হয় নাই আর একজন শিক্ষিত মানুষকে বুঝানো অনেক কঠিন যদি না সে নিজে বুঝতে চায় ।

কি আর বলব হাঁপ ধরে গেছে এই অতি আস্তিক আর অতি নাস্তিকদের জ্বালায় । তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনায় ।

৭ thoughts on “অতির নাই গতি

  1. অথচ এক বান্ধবীর বোন যিনি কিনা

    অথচ এক বান্ধবীর বোন যিনি কিনা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারী বলেই ফেললেন ,তুমি কপালে টিপ দিও না এটা তিলক কাটার শামিল ।

    বড়ই বিনোদন পাইলাম!

    1. কি কহিব—******&&& টিপ পরতে
      কি কহিব—******&&& টিপ পরতে আমি অনেক পছন্দ করি , যদিও সবসময় আমার
      টিপ পরা হয় না ।ছোট বড় রংবেরং এর টিপ আমার বেশ
      লাগে ।

      আপ্নার টিপ লাগ্ল এ অধম ছোট ভাইকে স্মরণ করেন। আমারও. ভাল লাগে কপালে লাল সূর্যের. মত টিপ

    1. হম বুঝলাম আর তাই ধন্যবাদ দিতে
      হম বুঝলাম আর তাই ধন্যবাদ দিতে পারলাম না । 😀 😀 আপনার কাছে নিশ্চয়ই প্রথম অংশটুকু অসাধারন লেগেছে :ভেংচি:
      আমাদের এমন শব্দ ব্যাবহার করা উচিত কি যা আমরা বিশ্বাস করি না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *