▌ ইরেজার থেকে আত্ম উপলব্ধি

ছোটবেলা চাচার সাথে লাইব্রেরি স্ট্যাশনারি থেকে খাতা, পেন্সিল, ইরেজার, সার্পনার এই সব কিনতে যেতাম (পড়ালেখার দেখভালের সকল দায়িত্ব ছিল এই কাকার উপর)। ঐ সময় সাধারণ মানের HB পেন্সিলের দাম ছিল ৪ টাকা। আর ইরেজার ছিল দুই ধরণের। একটার দাম ছিল ৩ টাকা আর অন্যটার দাম ছিল ৫ টাকা।


ছোটবেলা চাচার সাথে লাইব্রেরি স্ট্যাশনারি থেকে খাতা, পেন্সিল, ইরেজার, সার্পনার এই সব কিনতে যেতাম (পড়ালেখার দেখভালের সকল দায়িত্ব ছিল এই কাকার উপর)। ঐ সময় সাধারণ মানের HB পেন্সিলের দাম ছিল ৪ টাকা। আর ইরেজার ছিল দুই ধরণের। একটার দাম ছিল ৩ টাকা আর অন্যটার দাম ছিল ৫ টাকা।

দুইটাই কিন্তু ইরেজার, তবুও দামের তফাতের কারণটা বুঝতাম না। কাকা অবশ্য আমার জন্যে ৫ টাকা দামের ইরেজারটাই সবসময় কিনত। আমি তার কাছে একবার দোকানে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম- “যদি একই জিনিষ কম দামে পাওয়া যায় তাহলে কেন আমরা বেশি দামের টা নেই?” কাকা হুট করে কোন জবাব দেয়নি, প্রশ্নটা শুনে সুন্দর করে হেসেছিল শুধু। তারপর দোকানিকে একটা ৩ টাকার ইরেজার আরেকটা ৫ টাকার ইরেজার দিতে বলল। আর দুইটাই কিনে নিয়ে আসল।

এইবার আমাকে ব্যবহার করার জন্যে ঐ ৩ টাকার ইরেজারটা দিল। লেখা ভুল হবার পর যখন ইরেজার দিয়ে লেখার উপর ঘষলাম তখন দেখলাম এই ইরেজারটা আগে ব্যবহৃত ইরেজার থেকে অনেকটা ভিন্ন, যদিও দেখতে প্রায় একই রকম। এটি আগে ব্যবহৃত ইরেজারটা থেকে অনেকটা শক্ত আর যখন লেখার উপর ঘষছি তখন আগের ইরেজারটার মত খুব সহজেই দাগ মুছতে পারছে না। উপরন্তু যতটুকু জায়গায় ঘষছি ততটুকু জায়গা কেমন কালো হয়ে যাচ্ছে। আর বার বার ঘসার ফলে লেখা কাগজটা ছিঁড়ে যাবার মত অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে।

এরপর কাকা ৩ টাকার ইরেজারটা নিয়ে সেই ৫ টাকার ইরেজারটা আবার দিলেন। ইরেজারটা ধরার সাথে সাথেই বুঝলাম এটা কতটা নরম। আর এখন প্রয়োজনের সময় ইরেজার ব্যবহার করতে আর বেগও পেতে হচ্ছে না। খুব সহজেই ভুল গুলি মুছে ফেলতে পারছি। খাতার পৃষ্ঠারও কোন ক্ষতি হচ্ছে না, যেখানে মোছার জন্যে ঘষা দিয়েছিলাম ঐ স্থানেও কোন কালো দাগ থাকছে না।

আমার সেই প্রশ্নের উত্তরটা কাকা মুখে মুখে না দিয়ে একেবারে আমাকে দিয়েই অনুধাবন করিয়ে ছিলেন।

এর অনেকদিন পর আরেকটা ব্যাপার ঐ ছোট্ট ঘটনা থেকে বুঝতে পেরেছিলাম।
জীবনে চলতে গিয়ে অনেক ভাবেই অনেক স্থানে আমরা ভুল করে ফেলি। আর সেই ভুল গুলি অনেক সময় মোচন করেই তারপর সামনে এগুতে হয়। যখন আমরা ভুল গুলিকে সাধারণ ভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি তখন কিন্তু অবস্থাটা ঐ ৩ টাকার ইরেজারের মতই হয়। ভুলটা আদতে মোচন হয় না, কিন্তু জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

কিন্তু যদি ভুলটার সত্যিকারের মর্ম বুঝতে পারি আর সেটাকে ততটুকুই গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি তখন সেটা মোচন করাও অনেকটা সহজ হয়, আর পরিপার্শ্বিক ক্ষতিরও কোন সম্ভাবনা থাকে না। উল্টো ভুল না করে কিভাবে এরপর এগুতে হবে সেই ব্যাপারেও নিজের বিবেক অনেকটা সচেষ্ট হয়ে যায়।

মূল ব্যাপারটা হল আত্ম উপলব্ধি। কোনটা ৩ টাকার ইরেজারের মত আর কোনটা ৫ টাকার ইরেজারের সমমানের সেটা নির্ণয় করে তারপর কাজ করতে হবে….

১০ thoughts on “▌ ইরেজার থেকে আত্ম উপলব্ধি

  1. ধন্যবাদ।
    ছোট্ট একটা উদাহরন

    ধন্যবাদ।
    ছোট্ট একটা উদাহরন দিয়ে ব্যাপক এক চিন্তার উম্মেশ ঘটাবার চেষ্টা কে স্বাগত জানাই।
    ভাল থাকবেন।

  2. উদাহরণ যথেষ্ট যুক্তিগত।।
    উদাহরণ যথেষ্ট যুক্তিগত।। ধন্যবাদ… আমি কিন্তু এমনটা উপলব্ধি করিনি। ঐ পাঁচ টাকার ইরেজারটা আমার বাবাও কিনে দিতেন, কারণ একটা ওরেঞ্জ ফ্লেবার পেতাম যা আমাকে আকৃষ্ট করতো।

    1. ফ্লেবার তো অনেক ধরনের ছিল।
      ফ্লেবার তো অনেক ধরনের ছিল। চকলেট ফ্লেবারের একটা ইরেজার এক ক্লাসমেট ব্যাবহার করতো। সেটা দেখেও লোভ হয়েছিল এবার। কিন্তু তার খাতাই প্রমাণ করতো ঐ ইরেজার কতটুকু কাজের।

      ধন্যবাদ।
      শুভ কামনা থাকলো :খুশি:

  3. জীবনে চলতে গিয়ে অনেক ভাবেই
    জীবনে চলতে গিয়ে অনেক ভাবেই অনেক
    স্থানে আমরা ভুল করে ফেলি। আর সেই ভুল
    গুলি অনেক সময় মোচন করেই তারপর সামনে এগুতে হয়।
    –+++++±++++++++
    ভাল লাগ্ল ভাই সাহেব.:-) 🙂 🙂

  4. ইরেজার থেকেও যে নতুন কিছু
    ইরেজার থেকেও যে নতুন কিছু শিখা যায় তা শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. শেখার জন্যে হলে তো অনেক জিনিষ
      শেখার জন্যে হলে তো অনেক জিনিষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তুর উপর শিক্ষা লাভ করা যায়। তবে মূল বিষয় সেক্ষেত্রে আগ্রহ। আপনার কি পরিমাণে আগ্রহ আছে শেখার সেটাই বিবেচিত হবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে।

      ধন্যবাদ।
      শুভ কামনা থাকলো :খুশি:

    1. অনেকেই এরচেয়েও ভালো
      অনেকেই এরচেয়েও ভালো দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলে। অনেকেই অনেক বিষয় বুঝে। কিন্তু তাদের অনেকেই সেটা বুঝাতে পারে না; কিংবা চেষ্টা করে না। এতটুকুই পার্থক্য।

      ধন্যবাদ।
      শুভ কামনা থাকলো :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *