আমাদের স্বাধীনতা এবং বিশ্বকাপ

আমরা স্বাধীন একটা জাতি।। আমাদের স্বাধীন একটা ভু-খন্ড রয়েছে, রয়েছে স্বাধীন একটা পতকা। যার মুল্য দিতে হয়ছে অনেক। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এই দেশ টাকে পেয়েছি।
অজস্র রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীন আমাদের দেশ। অগনিত বীর আর বিরঙ্গনা মায়ের আত্বত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ নামক একটি ভুখন্ড, সেই ভুখন্ডতেই পত পত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা, আর সেই পতাকাই যেন নির্বাক হয়ে পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের পরিচয় “”আমরা বাঙ্গালী””।

আমরা স্বাধীন একটা জাতি।। আমাদের স্বাধীন একটা ভু-খন্ড রয়েছে, রয়েছে স্বাধীন একটা পতকা। যার মুল্য দিতে হয়ছে অনেক। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে এই দেশ টাকে পেয়েছি।
অজস্র রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীন আমাদের দেশ। অগনিত বীর আর বিরঙ্গনা মায়ের আত্বত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর বুকে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ নামক একটি ভুখন্ড, সেই ভুখন্ডতেই পত পত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা, আর সেই পতাকাই যেন নির্বাক হয়ে পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের পরিচয় “”আমরা বাঙ্গালী””।
আর পুরো বিশ্বের মানুষ একবার হলেও ফ্লাশব্যাকে গিয়ে বুঝে নিচ্ছে এরাই সেই জাতি যারা, নিজের মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, নিজের দাবি আদায়ের জন্য দ্বীধা করেনি ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাড়াতে। বুকের তাজা রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে অন্যায়ের বাধ। তাইতো ১৯৭১ সালের ১৬ই এপ্রিল “নিউ স্টেটসম্যান,লন্ডন” পত্রিকায় “Blood of Bangla Desh” শির্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল “If blood is the price of a people’s right to independence, Bangla Desh has overpaid.”
আমরা সেই জাতি যারা সবচেয়ে দাম দিয়ে কিনেছি এই বাংলা কে।
” দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা
কারো দানে পাওয়া নয়,
দাম দিছি প্রাণ লক্ষ কোটি
জানা আছে জগৎময়,
দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা
কারো দানে পাওয়া নয়।”
হ্যাঁ আমরা দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা,কারোর দানে পাওয়া নয়।
মধ্যযুগ ১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা স্বাধীন ছিলো। তার পর পরাধীনতার ছিকলে বন্দি হয়ে পরে। যদিও ঐ সময় স্বাধীন সুলতানদের কেও-ই প্রকৃত দিক দিয়ে বাঙ্গালী ছিলেননা । এরপর মুঘল সুবাদারদের দ্বারা বাংলা শাসিত হয়েছে । মুর্শিদকুলি খান বাংলার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বা দিওয়ান হিসেবে বাংলায় আগমন করে, মুঘল শাসনের দূর্বলতার সুযোগে “নবাবী” যুগের সূত্রপাত ঘটান। এই যুগেরই শেষ নবাব হলেন সিরাজউদ্দোলাহ। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে তিনি “কার্যত স্বাধীন” বলা গেলেও তত্ত্বগতভাবে তিনি তথা তার পূর্ববর্তী সকল নবাবই ছিলেন কেন্দ্রিয় মুগল শাসনের অধীন।
ব্রিটিশ শাসনের একেবারে শেষে এবং পাকীস্তানী ঔপনিবেশিক আমলের প্রথম দশকে কোন কোন বাঙ্গালীকে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধান্মন্ত্রী হিসেবে দেখা গেলেও সেটাও পরাধীনকাল, খন্ডিত শাসন এবং ষড়যন্ত্র পযুদস্ত বাঙ্গালীর অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাঙ্গালী পরাধীনতার গ্লানী নিয়ে পুড়েছে হাজার বছর । ১৯৪৭ এ ভারতবর্ষ দিক্ষন্ডিত হল । তখন বাংলার বুকে নেমে এল দ্বি-জাতী তত্ত্বের পাপ। সে পাপে পুড়তে পুড়তে বঙ্গালীর মুখের বলির উপর আক্রমন করল। সহ্যের বাধ যেন আর সইলনা। এ জাতি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে রাঙাল বাংলাকে। রফিক,সালাম, বরকত, নাম না জানা আরো কতজন। তবুও পরাধীনতা ছাড়েনি। স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য যেন উকি দেয় বাংলার আকাশে। ভাষা আন্দোলন, গণ অভ্যূথান, ছয় দফা, নির্বাচন, নিরুঙ্কশ সঙ্খ্যাগরিষ্ঠতা……।
তবুও কি ছাড়লা ঐ নরপিশাচরা !!! ক্ষমতা দেওয়ার প্রলভোন দেখিয়ে, ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর করল গুলি বর্ষন…। ঢাস ! ঢাস!! ঢাস!!! পরাধীন বাঙ্গালী আর কত সহ্য করবে… আর সহ্য করেওনি বাঙ্গালী!!
৭ই মার্চ-এ বাঙ্গালির অবিসংবাদিত নেতার ভাষনেই বাঙালী বুঝে গেছিল স্বাধিকার আন্দোলনের ডাক,এবং পাকিস্থানি নরপিশাচদের ক্ষমতা হস্তান্তরের নীল নকশা।
অতঃপর বাঙ্গালীর স্বাধীনতার চুড়ান্ত ঘোষনা। ৭১ এর মার্চে বঙ্গগবন্ধু গ্রেফতারের আগ মুহুর্তেই তিনি লিখেন স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র এবং গ্রেফতারের পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।এবং বিভিন্ন স্থানে তা পাঠ করা হয় জাতীর উদ্দ্যেশে। অতঃপর তৎকালিন পূর্ব পাকিস্থানের সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙ্গালী মেজর জিয়াউর রহমান চট্ট্রগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাঙ্গালীর উদ্দ্যেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের হয়ে বাঙ্গালীর স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন।
বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য উদয় হয়। পাকিস্থানীদের পরিকল্গপিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয়ে যায় প্রতিরোধযুদ্ধ; জীবন বাঁচাতে প্রায় ১ কোটি মানুষ পার্শ্ববর্তী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। বাঙ্গালী স্বাধীকার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে।
এরই পথ ধরে, ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের বাঙ্গালীর প্রথম স্বাধীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। যা মুজিব নগর সরকার নামে খ্যাত। আর এই সরকারের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অধিষ্ঠান প্রথম বাঙ্গালী হিসেবে অনন্য।
মুজিব নগর সরকার, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, তাজ উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন স্বাধীন বাঙ্গালী জাতীর প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এবং এম মনসুর আলী, এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান, খন্দকার মোস্তাক পান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব। যেহুতু সেই সময় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার ছিলেন তাই সৈয়দ নজরুল ইসলাম (উপ-রাষ্ট্রপতি) অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তৎকালিন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালী সদস্য এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ দেশকে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর কব্জা থেকে মুক্ত করতে গড়ে তোলে “মুক্তিবাহিনী”। দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে, গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী সারাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে নাস্তা-নাবুদ করতে থাকে।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে, পৃথিবীর তৎকালীন পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এই জাতি। ৩লক্ষ মা, তার সম্ভ্রম এবং ৩০ লক্ষ শহিদ প্রাণ দেন এই দেশের তরে। বাঙ্গালী বীরেরা প্রাণ উজার করে দেয়, বাংলার ভূখন্ড,বাংলার মানচিত্র, লাল সবুজের পতাকা, সার্বভৌমত্ত্ব রাষ্ট্র তথা বাঙ্গালীতর স্বাধীকার জন্য।
পাকিস্থানী নরপিশাচ হানাদার বাহিনী সহ পাকিস্থানী দোসররা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে এই বাঙ্গালীকে বধ করতে আর পারবেনা। তাই তারা বাঙ্গালীর, বাংলা বিজয়ের ঠিক আগ মুহুর্তে ১৪ই ডিসেম্বর, বেছে বেছে হত্যা করে বাঙ্গালী সূর্য সন্তানদের। বাঙ্গালীকে পরিকল্পিতভাবে মেধা শুন্য করতেই,দেশের মেধাবী সন্তান তথা বুদ্ধিজীবিদেরকে ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি দালাল আলবদর রাজাকারেরা। (যাদের বিচার আজও পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন হয়নি বাংলার মাটিতে।)
অতঃপর আসে সেইদিন বাঙ্গালির বিজয়ের দিন হ্যাঁ আমি ১৬ ডিসেম্বরের কথাই বলছি। শত্রুমুক্ত হয় এই জাতি। বাঙ্গালী তার স্বাধীকার আন্দোলনে বিজয় লাভ করে। বাংলার মাটিতে উড়ায় বাংলার লাল সবুজের পতাকা, যা পত পত করে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার আকাশে। বাংলার প্রতিটি মাটি,পানির কণা,প্রতিটি গাছের পাতা, কান্ড, বাংলার প্রকৃতি তথা বাংলার মানুষ, পুরো বাঙ্গালি জাতি গাইতে থাকে
“আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস,
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি…… ”
এত ত্যগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি আমাদের স্বাধীনতা, পেয়েছি একটি ভু-খন্ড,পেয়েছি সার্বভৌমত্ত রাষ্ট্র, পেয়েছি মানচিত্র, পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা।
কিন্তু আমরা কতটুকু রাখতে পেরেছি বা পারছি তার সম্মান ? বাংলার বুকে রাজাকার আলবদর এখনো বিদ্যমান। এখনো অনেক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা পায়না তার সঠিক মুল্যায়ন। আমি এখনো আবার সেই পরাধীন শত্রুর কাছে বারে বারে নিঘৃত হই। যারা বারে বারে করেছে ক্ষত বিক্ষত এই বাংলাকে। আজও শান্তি পায়না বিরঙ্গনা মা । শান্তিতে ঘুমাতে পারেনা স্বাধীন বাংলার মাটিতে শায়িত বীরেরা । তাদের আত্তারা এখনো যেন করে ওঠে আর্তনাদ । এর বড় কারন আমরা নিজেরাই । এর জন্য সবেচেয়ে আমরাই বড় অপরাধী। 🙁 🙁 🙁 আমরা জেনে, না জেনে করছি অনেক ভুল।

বাংলার বুকে স্বাধীন বাংলার পতাকাকে অনেক সময়ই করা হচ্ছে অপমান। এই বিশ্বকাপের সময়ও অন্য দেশের পতাকা টাঙ্গাচ্ছি নিজের দেশের পতাকা ছাড়াই।
আবার নিজের দেশের পতাকা দিয়ে ওরালেও খোলা আকাশের নিচে রাতভর তা রেখে
দিচ্ছি নির্দ্বিধায় । সত্যিই অপমান জনক !! বিশ্বকাপের চেয়ে কি হাজার বছরের চেষ্টার ফল বাঙ্গালীর স্বাধীনতাটাই কি ছোট ?? যদি বড়ই হয় তবে কেন অপমান করছি আমার স্বাধীকার আন্দোলনের ফল এই লাল সবুজের পতাকাটাকে? যদি সাপোর্ট করতেই চায় তবে নিয়ম ও আইন অনুযায়ী পতাকার ব্যবাহার করা কি সম্ভব নয়?? আমরা কি আইন ভংগ করছিনা।??

আমার ছোট জ্ঞানে এত বড় ইতিহাসকে ছোট করে উপস্থাপন করার এটাই ছিল বড় কারন। যেন আমরা আমাদের পতাকার মর্ম একটু হলেও বুঝি। এবং অন্যকে পতাকার অপমানের ব্যাপারে সতর্ক করি।

‪#‎Appendix‬:
বাংলাদেশ সংবিধান
মুজিব নগর সরকার ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ- মোহাম্মদ ফয়েক উজ্জামান
এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কিত আরো অনেক কিছু যা আমি আমার বয়সে পড়েছি এবং জেনেছি তা পর্যালোচনা করে।

৭ thoughts on “আমাদের স্বাধীনতা এবং বিশ্বকাপ

  1. দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা
    কারো

    দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা
    কারো দানে পাওয়া নয়।

    এই রকম তথ্যমূলক ইতিহাস লিখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  2. ভাই, বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত
    ভাই, বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত বিশকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত অন্য দেশ নিয়ে এই উন্মাদনা চলবেই !

  3. আসলে আমাদের চুলকানীটা একটু
    আসলে আমাদের চুলকানীটা একটু বেশি। সবই বুঝি এবং মানি শুধু বিচার শেষে তাল গাছটা দাবি করি, এই আর কি!!!

  4. আমরা তো সেদিনই আমাদের জাতীয়
    আমরা তো সেদিনই আমাদের জাতীয় পতাকার সম্মানের পুটু মেরে দিয়েছিলাম, যেদিন রাজাকারদেরকে নির্বাচিত করে তাদেরকে জাতীয় পতাকাশোভিত গাড়িতে চড়তে দিয়েছি। আমাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এসব যতোদিন আত্মায় ধারন করতে না পারবো, ততোদিন পর্যন্ত আমরা জাতীয়তাবোধ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের মর্মটা বুঝতে পারবে না।

  5. লেখাটা খুব ভালো লাগলো।
    লেখাটা খুব ভালো লাগলো। :ধইন্যাপাতা:

    ফুটবল/ক্রিকেট খেলায় পাকিস্থান ছাড়া যেকোনো দেশকে সমর্থন করাই যায়, কিন্তু সেই দেশের পতাকা নিয়ে অতিরিক্ত লাফালাফি নৈতিকভাবেই অনুচিত।

    ভিনদেশী পতাকা নিয়ে লাফালাফি করতে গিয়ে, ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণ আর প্রায় চার লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই লাল সবুজের পতাকার যেন কোনক্রমেই অবমাননা না হয় সে বিষয়ে সকল বাঙ্গালীকে সচেতন থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *