বাঙালি লেখক সমাচার

বাংলাদেশের বাজারে চার ধরনের লেখক আছে বলে আমার অভিমত । – নিম্নবিত্ত , মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত ।
উচ্চবিত্ত শ্রেনীতে পড়ে আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী , খাদেজা আক্তার রেজায়ী , দেলোয়ার হোসেন সাঈদী প্রমুখ ধর্মীয় পুস্তক লেখক । বাংলার এমন কোন মুসলিম ঘর নাই যেখানে এদের কোন না কোন বই না থাকবে । সম্প্রতি একটি বাংলা ইসলামিক ব্লগে এরকম একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে – আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরীর ” আর রাহিকুল মাখতুম ” গ্রন্থটি ১৩ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই গ্রন্থ থেকে লেখক যা কামিয়েছেন , তা জাফর ইকবাল স্যারের সারাজীবনের উপার্জনের কয়েকগুন । কাজেই তাকে উচ্চবিত্ত শ্রেনীতে রাখা যেতেই পারে ।


বাংলাদেশের বাজারে চার ধরনের লেখক আছে বলে আমার অভিমত । – নিম্নবিত্ত , মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত ।
উচ্চবিত্ত শ্রেনীতে পড়ে আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী , খাদেজা আক্তার রেজায়ী , দেলোয়ার হোসেন সাঈদী প্রমুখ ধর্মীয় পুস্তক লেখক । বাংলার এমন কোন মুসলিম ঘর নাই যেখানে এদের কোন না কোন বই না থাকবে । সম্প্রতি একটি বাংলা ইসলামিক ব্লগে এরকম একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে – আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরীর ” আর রাহিকুল মাখতুম ” গ্রন্থটি ১৩ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই গ্রন্থ থেকে লেখক যা কামিয়েছেন , তা জাফর ইকবাল স্যারের সারাজীবনের উপার্জনের কয়েকগুন । কাজেই তাকে উচ্চবিত্ত শ্রেনীতে রাখা যেতেই পারে ।

মধ্যবিত্ত শ্রেনীর লেখক হিসেবে জাফর ইকবাল স্যার , আহমেদ ছফা , হূমায়ন আহমেদ , এমদাদুল হক মিলন এদেরকে আনা যেতে পারে । এদের লেখা সবাই পড়ে , কিন্তু পড়ে কেউ হজম করে না , ডিরেক্ট পশ্চাদ্বার দিয়ে ছেড়ে দেয় । উদাহরণস্বরুপ – জাফর ইকবাল স্যার তার অধিকাংশ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ , শেখ মুজিব এবং বিজ্ঞানকে তরুণ সম্প্রদায়ের মাথায় ” পুশ ইন ” করানোর বিস্তর চেষ্টা করেন । কিন্তু তরুণ সম্প্রদায় ” ঝালমুড়ি ” এর মত সেগুলো গিলে । গেলা কমপ্লিট হলে পাকিস্তানের জার্সি পড়ে মাঠে খেলা দেখতে চলে যায় । পাঠকশ্রেনীর উপর এদের প্রভাব হাওয়াই মিঠাইয়ের মত । কাজেই এরা মধ্যবিত্ত লেখক ।

নিম্নবিত্ত হিসেবে আমি বলব তসলিমা নাসরিন , হূমায়ুন আজাদ , আরজ আলী মাতুব্বর কে । পাঠক সমাজের কাছে তারা অস্পৃশ্য , ঘৃন্য । এদের একটাই সমস্যা , এরা তাদের লেখায় ঈশ্বর এবং ধর্মীয় ব্যাবস্থাকে ” Fuck Off ” করে থাকেন । এদের একটি অসাধারণ ক্ষমতা আছে – যা সত্য , তা যত নির্মম , তা যত অশ্লীলই হোক না কেন ; তাদের কলম পিছু হটে না । এদের কাটতি বাজারে খুব একটা নেই । কেউ কেউ আহ্লাদ করে এদের ” সমালোচিত লেখক ” বলেন । এদের লেখা সমসাময়িক কালে খুব সমালোচিত হলেও পরবর্তীতে খুবই আলোচিত হয় । যেমন – কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা বের হবার পর চারিদিকে ছি ছি রব উঠেছিল , জেলে পর্যন্ত প্রেরণ করা হয়েছিল । কিন্তু এখন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় “বিদ্রোহী” না হলে চলেই না । আরজ আলী মাতুব্বরের ” সত্যের সন্ধানে ” প্রকাশিত হবার পর মাত্র ৫৬ কপি বই বিক্রী হয়েছিল , তার নামে হয়েছিল মামলা । হূমায়ুন আজাদকে করা হয়েছিল হত্যা । কিন্তু এখন তাদের বানী , বচনে অনলাইন তোলপাড় ।

ওরে ও পাগলা ভোলা!
দে রে দে প্রলয় দোলা
গারদগুলা
জোরসে ধরে হেচ্‌কা টানে!
মার হাঁক হায়দারী হাঁক,
কাধে নে দুন্দুভি ঢাক
ডাক ওরে ডাক,
মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!


এই লাইন কটা একমাত্র নিম্নবিত্ত লেখকদের পক্ষেই লেখা সম্ভব । আর কারো পক্ষে না , কারো না ।

৮ thoughts on “বাঙালি লেখক সমাচার

  1. লিখেছেন চার প্রকার দিয়েছেন
    লিখেছেন চার প্রকার দিয়েছেন তিন। যা হোক, আমি কিন্তু নিম্নবিত্তে শ্রদ্ধাশীল।

      1. হুমায়ুন আজাদকে তো হত্যা করা
        হুমায়ুন আজাদকে তো হত্যা করা হয়নি, হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সফল হয়নি।

  2. বাঙ্গালী লেখক সম্পর্কে আপনার
    বাঙ্গালী লেখক সম্পর্কে আপনার ধারনা অপ্রতুল এবং শ্রেণিবিন্যাসকরণ’টাও একেবারে সাদামাটা।
    আর পাঠক সম্পর্কে আপনার ধারণা নেই বললেই চলে!

  3. আহমদ ছফা’কে মধ্যবিত্তের
    আহমদ ছফা’কে মধ্যবিত্তের পর্যায়ে নিয়ে গেলেন??

    ও হ্যা, পাঠ্যবইয়ের লেখকরাও কিন্তু উচ্চবিত্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *