নিউ ইয়র্কের বইমেলায় জামায়াতী এজেন্ডা—মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র!

হাসান ফেরদৌস প্রথম আলোতে একটা কলাম লিখেছিলেন গেল বছর। ডিসেম্বরের ৬ তারিখে। নির্বাচনের আগে। কলামটির দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে শুরুতে বলেছেন–‘বাংলাদেশের জন্য কোনটা বেশি জরুরি: গণতন্ত্র, না মুক্তিযুদ্ধ?’ এই তর্ক যারা করে তাদেরকে এঁড়ে বাঁচাল বলে তিনি গালি দিয়েছিলেন।


হাসান ফেরদৌস প্রথম আলোতে একটা কলাম লিখেছিলেন গেল বছর। ডিসেম্বরের ৬ তারিখে। নির্বাচনের আগে। কলামটির দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে শুরুতে বলেছেন–‘বাংলাদেশের জন্য কোনটা বেশি জরুরি: গণতন্ত্র, না মুক্তিযুদ্ধ?’ এই তর্ক যারা করে তাদেরকে এঁড়ে বাঁচাল বলে তিনি গালি দিয়েছিলেন।

কিন্তু গালি দিলেও হাসান ফেরদৌস এই তর্ককে উড়িয়ে দেননি। বলেছেন– এটা নিয়ে তর্ক হতে পারে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নাম করে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে—সেটার জন্য এই তর্কটা কেউ কেউ উঠিয়েছেন। ওঠাটা খুব সঙ্গত। কারণ মুক্তিযুদ্ধ করে যে দেশটির জন্ম হয়েছিল, সেই দেশের জন্মের পরপরই একদল মানুষ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা অর্জনকে তাদের অগ্রাধিকার বিবেচনা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়, তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণেই দরকার পড়েছিল গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে ফেলা।

এই একদল লোক কারা? হাসান ফেরদৌস বলেননি। লক্ষ্য করুন—শব্দটি একদল। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর পরে বাকশাল করেছিল। সে সময়ে সদ্য-স্বাধীন দেশটিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশী-বিদেশী শক্তি সরকারের ভেতরে বাইরে প্রবলভাবে সক্রিয় ছিল। একটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। একে মোকাবেলা করার জন্য দেশে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন অনুভব করেছিল আওয়ামী লীগ। বাকশাল তারই একটা প্রক্রিয়া মাত্র। এটা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। হয়েছে। হবে।

বাকশালকে আওয়ামী বিরোধী-স্বাধীনতা বিরোধীরা একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই বলে থাকে। বলে থাকে আওয়ামী লীগ বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা বলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাটা বাংলাদেশের জন্য খারাপ খবর। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে দেশকে ভাগ করে ফেলেছে। ইত্যাদি। এগুলো রীতিমত চেতনার দিক থেকে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী-শক্তির তৈরী করা রাজনৈতিক মিথ। এটা একটু সতর্কভাবে বিবেচনা করলেই বোঝা যাবে হাসান ফেরদৌস এই একদল শব্দটিও এই মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী-শক্তির তৈরী করা রাজনৈতিক মিথ থেকেই সহজভাবে নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র ধারণাটিও সেই রাজনৈতিক মিথেরই বুদ্ধিবৃত্তিক ভাষ্য।

মস্কোপন্থী সিপিবি ও ন্যাপ বাকশালকে স্বাগত জানিয়েছিল। তারা বাকশালে যোগদান করেছিল। বাকশালের অংশ হয়েছিল। তারা কখনো অভিযোগ করেনি–আওয়ামী লীগ তাদেরকে জোর করে বাকশালে যোগদানে বাধ্য করেছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে ফেলেছিল। সিপিবি-ন্যাপ বাকশালকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বলে তুলোধুনা করে না। হাসান ফেরদৌস সে সময়ে এই সিপিবি’র অন্ধ সমর্থক ছিলেন। সিপিবি-ন্যাপ-আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়েই মস্কোতে ফ্রি লেখাপড়া করার সুবিধা নিয়েছিলেন।

২.
বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অঙ্গীকার করেছিল। কেউ কেউ মনে করেছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী করবে না। এটা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটা ফাঁকা বুলি। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারটি শুরু করেছে। বিচার প্রক্রিয়াটা অনেক দূর পৌঁছেছে। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় এসেছে। কাদের মোল্লা ফাঁসিতে ঝুলেছে। এই বিচার প্রক্রিয়াকে বাতিল করার জন্য জামায়াত-বিএনপি সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন-জখম, জ্বালাও-পোড়াও করেছে। তবুও আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসেনি পুরো ক্ষমতাকালে। তাদেরকে থামানো যায়নি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে। ফলে যে কোনো প্রকারেই হোক না আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করাটা তাদের জন্য জরুরী হয়ে পড়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে।

তখন মতিউর রহমান সম্পাদিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একটা জরীপ করেছিল। জরীপে বলেছিল—এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে না। জিতবে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা ক্ষমতায় আসবেই। পত্রিকার জরীপটিতে খুব বেশি নয়–কিছু লোক অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম আলো এই আওয়ামী লীগের হেরে যাওয়ার ধুয়াটি জোরে শোরে তুলেছিল। এটা দেখে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল মহল বলেছিলেন—প্রথম আলো এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত দেখতে চায়। ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করাতে চায়। এটা জামায়াতী এজেন্ডা। এই জামায়াতী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এই রকম একটি জরীপ বানিয়েছে প্রথম আলো। ঠিক এই সময়েই হাসান ফেরদৌস মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র নামের এই কলামটি লেখেন প্রথম আলোতে। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে খুব কৌশলে মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র এই তর্কটা উস্কে দেন।

তিনি যা লেখেন তার মোদ্দা কথা হল– আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধকে রক্ষা করার নাম করে গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিতে চাইছে। এটা আওয়ামী লীগের ভুল। মুক্তিযুদ্ধের নামে আওয়ামী লীগ খুব বেশি চাপাচাপি করলে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে। সেটা ভালো কথা নয়। এটাতে ভয় পাওয়ার কারণ আছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ বাদ—এখন গণতন্ত্র বাঁচানোটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের স্বার্থে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উচিত এই নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেওয়া।

আমাদের এখন মুক্তিযুদ্ধ নয়—গণতন্ত্রের বড় প্রয়োজন। গণতন্ত্রের কাছে মুক্তিযুদ্ধ অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অর্থাৎ কূটতর্কের মাধ্যমে হাসান ফেরদৌস বলার চেষ্টা করছেন –মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশে গণতন্ত্রকে এক ধরনের বড় সংকটে ফেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অথচ কে না জানে- মুক্তিযুদ্ধ একটি চেতনা। আর গণতন্ত্র একটা ব্যবস্থা। দুটোকে এক করে দেখার উপায় নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি ভিত্তি। আর গণতন্ত্র তার উপরে নির্মিত অবকাঠামো। গণতন্ত্রের সংকট হতে পারে। সে সংকটও মোচন করা যায়। গণতন্ত্রের সংকটকে গণতান্ত্রিক উপায়েই মোকাবেলা করতে হয়।

আমেরিকায়ও গণতন্ত্রের সমস্যা হয়। কিছুদিন আগেও হয়েছিল বুশ এবং আল-গোর নির্বাচনের সময় ফ্লোরিডার টালাহাসি ভোট গণনা নিয়ে। এখন এই সমস্যা সমাধানে আমেরিকার স্বাধীনতার চেতনা থাকা উচিৎ কিনা–এই প্রশ্নটি কেউ তোলেনি। ভারতে ইন্দিরা গান্ধী জরুরী অবস্থা জারী করেছিল ১৯৭৫ সালে। এটাকে গণতন্ত্রের একটা সংকট হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। কেউ অভিযোগ তোলেনি এই সংকট দূর করতে হলে ভারতের উচিত বৃটিশ আমলে ফিরে যাওয়া । সেই জরুরী অবস্থা তোলা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর দল কংগ্রেস সেবারে পরাজিত হয়েছে। আবার পরে কংগ্রেস বহুবার ক্ষমতায় এসেছে। এভাবে ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী অবস্থায় এসেছে। গণতন্ত্রের সংকটকালে ভারতের স্বাধীনতাকে কোনো ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষ করার চেষ্টাও করেনি। যারা করে তারা কোনো না ভাবে স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করে। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটের জন্য মুক্তিযুদ্ধ—একাত্তরের চেতনা—স্বাধীনতাকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা ছিল বা আছে বা হচ্ছে। হাসান ফেরদৌসের এই প্রবন্ধটিই তার প্রমাণ।

৩.
বিএনপি ২০১৪ সালের এই নির্বাচনে আসেনি। কেনো আসেনি—সেটা তাদের ব্যাপার। নির্বাচনে না আসায় প্রথম আলোর জরীপটির ফলাফলের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সুযোগ ঘটেনি।

বিএনপি নির্বাচনে আসেনি বলে নির্বাচন থেমে থাকেনি। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করেছে। নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ জিতেছে। বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও বন্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। নতুন করে নির্বাচনের কোন হাওয়া নেই। মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র এই আওয়াজটিও নেই। আওয়াজ দেওয়ার কোনো কারণ কার্যত দেশে নেই।

কিন্তু এর মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র এই তর্কটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। গোপনে নয়। প্রকাশ্যে। দেশে নয়—বিদেশে। পাকিস্তানে নয়—আমেরিকায়। তুলছে কারা? কঠিন প্রশ্ন।

তুলছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি নিউ ইয়র্কে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মুক্তধারা নামে বাংলা বই-পত্রিকা-সিডি বিক্রির একটি দোকানের মালিক। এই মেলার আয়োজনের সঙ্গে যারা জড়িত থাকেন তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে পরিচিত। উদার প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি রাজনীতি মননশীলতার চর্চা করে থাকেন তারা। হাসান ফেরদৌসও খুব ঘনিষ্টভাবে এই মেলায়সহ মুক্তধারার নানা আয়োজনে যুক্ত থাকেন।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এদের নিয়েই প্রতিবছরে নিউ ইয়র্কে একটি বইমেলার আয়োজন করে। এ মেলায় বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের বইপত্র বিক্রি হয়। নাচ-গান-কবিতাপাঠ-সেমিনারের আয়োজন হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা থেকে বাঙালী লেখক-কবি-সংস্কৃতিসেবীরা মেলায় যোগ দেন। গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু লোকজনও সরকারী খরচে মেলায় এসে আমেরিকা বেড়িয়ে যাচ্ছে। বেড়াক। তাতে কিছু যায় আসে না।

মুক্তধারার বইমেলা এ বছরও হচ্ছে ১৩,১৪ ও ১৫ জুন– তিন দিন ধরে। প্রতি বছরই দেশের বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সেমিনার করে থাকে। সে সব ইস্যুর মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে। এই বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সংখ্যালঘু নির্যাতন, সাম্প্রদায়িকতা শক্তির উত্থান, সন্ত্রাস, যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটিই মুক্তধারার বইমেলার সেমিনারের বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয়নি। এ বছরে মেলার প্রধান সেমিনারের কী নোট করা হয়েছে ফেরদৌস প্রণীত প্রথম আলো প্রকাশিত —‘মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র’ বিষয়টিকে। অদ্ভুত।

হাসান ফেরদৌস দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্কে আছেন। চাকরি করেন জাতি সংঘে। নিউ ইয়র্কের মূল ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত দৈনিক প্রথম আলোতে নিয়মিত কলাম লেখেন।

বেশ ক’বছর ধরে হাসান ফেরদৌসের কলামগুলোতে ফাঁকে ফোকরে ভীন্ন কিছু বিষয় আসছে। সেটা হল—পাকিপন্থী মেহেরজান সিনেমার প্রতি সমর্থন। মেহেরজান সিনেমাতে পাকিস্তানের সঙ্গে পূনর্মিত্রতার আকূল আহবান করা হয়েছিল। সরকারী উদ্যোগে প্রতিবছর স্কুল-কলেজের জন্য বই কেনা হয়। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বই সরকারী উদ্যোগে না কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। বলেন—গোলাম আজমের বই বাতিল করাটা স্বাধীন চিন্তাকে রুদ্ধ করার নামান্তর। অথচ তিনি স্যাটানিক ভার্সাস বইটি নিষিদ্ধের দাবী তুলেছেন।

যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হলে তার নিন্দা করে প্রস্তাব পাশ করা হলে বাংলাদেশে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। আমজনতা পাকিস্তানের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছেদের দাবী তোলে। তখন হাসান ফেরদৌস বলেন রাজনীতির সঙ্গে কুটনীতি মেশানো ঠিক নয়। পাকিস্তানের পার্লামেন্ট যে প্রস্তাব করেছে—সেটা ঠিক আছে।

অর্থাৎ হাসান ফেরদৌসের চিন্তার মধ্যে পরিবর্তন ঘটছে। তিনি কোনো না কোনোভাবে পাকিস্তানপন্থীদের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন। তিনি মূর্খ নন। পড়াশুনা করা লোক। বইটইও লেখেন। তিনি না বুঝে পাকিস্তানীপন্থার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন সেটা ভাবা ঠিক হবে না। বুঝেসুঝেই করছেন। সেটা করতেই পারেন। এটা তার ব্যক্তি অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এটা নিয়েও আম জনতার ভাবনা করা ঠিক নয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তির চিন্তা ও তৎপরতা বাস্তবায়নের ভার যখন একটা সংগঠন গ্রহণ করে তখন সেটা নিয়ে সন্দেহ জাগে। এবং সে চিন্তাটি যখন যুদ্ধাপরাধীদের প্রাণ-ভোমরা হয়ে কাজ করতে চায় তখন বিস্মিত নয়—বিমূঢ় হয়ে উঠতে হয়।

ফলে প্রশ্ন জাগে কী এমন ঘটল যে নিউ ইয়র্কের মুক্তধারার বইমেলার আয়োজকদেরকে এই জামায়াতি এজেন্ডা প্রচারের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে হল!!

টিকা
১. নিষিদ্ধ গ্রন্থ
২. কুটনীতি বনাম রাজনীতি
৩. মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র –হাসান ফেরদৌস

১০ thoughts on “নিউ ইয়র্কের বইমেলায় জামায়াতী এজেন্ডা—মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র!

  1. আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের তিন

    আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের তিন বছর পরে বাকশাল করেছিল। সে সময়ে সদ্য-স্বাধীন দেশটিতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশী-বিদেশী শক্তি সরকারের ভেতরে বাইরে প্রবলভাবে সক্রিয় ছিল। একটা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। একে মোকাবেলা করার জন্য দেশে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন অনুভব করেছিল আওয়ামী লীগ। বাকশাল তারই একটা প্রক্রিয়া মাত্র।

    এই বাস্তবতা’টাকে অনেকেই মানতে চায় না।

    1. এই বাস্তবতা মানার পরিবেশ কি
      এই বাস্তবতা মানার পরিবেশ কি আওয়ামীলীগ তৈরী করতে পেরেছে? ব্যর্থতার দায় কার? আমাদের নাকি?

      1. ব্যর্থতার দায় কার? আমাদের

        ব্যর্থতার দায় কার? আমাদের নাকি?

        ব্যর্থতার দায় অবশ্যই আওয়ামীলীগের।
        আরেকটি কথা, ব্যর্থতা এবং সফলতার দায় ঘাড়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতা আপনাদের এখনও হয়ে ওঠে নি।
        চেষ্টা করতে থাকুন।

  2. আপনার বিশ্লষণ চমৎকার।এই ধরনের
    আপনার বিশ্লষণ চমৎকার।এই ধরনের মুখোশধারী সুশীলদের জন্য দেশের ভাল কাজগুলো বিতর্কিত হয়ে পড়ে।

  3. আমাদের এখন মুক্তিযুদ্ধ

    আমাদের এখন মুক্তিযুদ্ধ নয়—গণতন্ত্রের বড় প্রয়োজন। গণতন্ত্রের কাছে মুক্তিযুদ্ধ অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

    অর্থাৎ কূটতর্কের মাধ্যমে হাসান ফেরদৌস বলার চেষ্টা করছেন –মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশে গণতন্ত্রকে এক ধরনের বড় সংকটে ফেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অথচ কে না জানে- মুক্তিযুদ্ধ একটি চেতনা। আর গণতন্ত্র একটা ব্যবস্থা। দুটোকে এক করে দেখার উপায় নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একটি ভিত্তি। আর গণতন্ত্র তার উপরে নির্মিত অবকাঠামো। গণতন্ত্রের সংকট হতে পারে। সে সংকটও মোচন করা যায়। গণতন্ত্রের সংকটকে গণতান্ত্রিক উপায়েই মোকাবেলা করতে হয়।

    সুন্দর বিশ্লেষণ। ভাল্লাগছে।

  4. কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের

    কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটের জন্য মুক্তিযুদ্ধ—একাত্তরের চেতনা—স্বাধীনতাকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা ছিল বা আছে বা হচ্ছে। হাসান ফেরদৌসের এই প্রবন্ধটিই তার প্রমাণ।

    এই দাবি আওয়ামী লীগাররাও করেছিল যে, নির্বাচন ঠিকমত করে ‘স্বাধিনতা বিরধী’দের ক্ষমতায় আসতে দেয়া যায়না।

    আর আপনার লেখাটা পড়লে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ নূর হোসেন আর ডঃ মিলনের আত্মত্যাগকে পায়ে মাড়িয়ে গেলেও সেটাকে আপনারা ভালোই বলবেন।

    আপনার আওয়ামী লীগতো আপনাদের ভারত, যার দালালী আপনার আওয়ামী লীগ অইতিহাসিকভাবের করে আসছে, তাকে দেখেও কিছু শিখতে পারলোনা যে সেখানকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশন কত শক্তিশালী।

  5. হাসান ফেরদৌস… ( এই পর্যন্ত
    হাসান ফেরদৌস… ( এই পর্যন্ত লিখে আর কমেন্ট করতে ইচ্ছা করে নাই) আজকাল নতুন কারো ব্যাপারেই আর উতসুক হয়ে জানিনা)

  6. কারো চিন্তা চেতনা যতক্ষণ আমার
    কারো চিন্তা চেতনা যতক্ষণ আমার পক্ষে যাবে ততক্ষন ঠিক আছে, বিরোদ্ধে গেলেই জামা-পাকি……………….এধরনের মনোভাবকে ঘৃনা করি

  7. জন্মের পর থেকে শুধু
    জন্মের পর থেকে শুধু মুক্তিযুদ্দের চেতনাই শুইনা আসলাম। পাকিস্তান বলে যে কোন দেশ আছে তা কখন দেখি নাই, তবে ভারতের বর্ডারে প্রতিদিন পাখির মত মানুষ মারতে দেখি, আরো দেখি কাটাতারের বেড়ায় মা-ভোনগ মাইরা যুলাইতে, তারপরও এই শুয়ারের বাচ্চা,মাদারচোদ,খানকির ছেলেদের কখন বলতে শুনিনা ওদের বিরুদ্ধে একটা কথা, তবে এখন বুঝি এরা কেন বলে না….১৯৭১ সালে ভারতিরা যাগ চুইদ্দা জন্ম দিছিল তাদের একটা পক্ষপাতিত্ত থাকতেই পারে তাদের বাবাদের পক্ষে….শত হইলেও বাবাতো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *