ফরমালিন এবং এর থেকে বাঁচার উপায়

ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল (ইংরেজি: Formaldehyde, Methanal) এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ। বর্ণহীন ও দূর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হিসেবে এর সবিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এটি আগুনে জ্বলে এবং বিষাক্ত পদার্থবিশেষ। এর রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CH2O। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় সচরাচর এটি ফরমালিন নামে পরিচিত হয়ে থাকে।

প্রকৃতিতে ফরমালিন কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সংমিশ্রণে তৈরী হয়। ১৮৫৯ সালে রুশ রসায়নবিদ আলেকজান্দর বুতলারভ ফরমালিনের অস্তিত্ব তাঁর প্রতিবেদনে তুলে ধরেন।পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে অগাস্ট উইলহেম ভন হফমেন স্বার্থকভাবে চিহ্নিত করেন।


ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল (ইংরেজি: Formaldehyde, Methanal) এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ। বর্ণহীন ও দূর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হিসেবে এর সবিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এটি আগুনে জ্বলে এবং বিষাক্ত পদার্থবিশেষ। এর রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CH2O। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় সচরাচর এটি ফরমালিন নামে পরিচিত হয়ে থাকে।

প্রকৃতিতে ফরমালিন কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের সংমিশ্রণে তৈরী হয়। ১৮৫৯ সালে রুশ রসায়নবিদ আলেকজান্দর বুতলারভ ফরমালিনের অস্তিত্ব তাঁর প্রতিবেদনে তুলে ধরেন।পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে অগাস্ট উইলহেম ভন হফমেন স্বার্থকভাবে চিহ্নিত করেন।

ফরমালিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সংক্রমিত হতে না দেয়া। অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাককে মেরে ফেলতে পারে। রং তৈরী, বস্ত্রখাতে কাপড় কুঞ্চিত হতে না দেয়া, সংরক্ষণ, বিস্ফোরণ এবং পলিমার তৈরীতে এটি ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে এর অত্যাধিক ব্যবহার হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য পঁচতে না দেয়া এবং এটি আমাদের দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। বিষাক্ততা এবং উদ্বায়ী, অপব্যবহারের প্রেক্ষিতে ফরমালিন মানব স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকারক পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ১০ জুন, ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম কর্তৃক ফরমালিনকে মানুষের ক্যান্সার রোগ সৃষ্টিতে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানায়। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ফরমালিন ব্যবহার ও ফরমালিনজাত দ্রব্যাদি আমদানীতে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফরমালিনসম্পৃক্ত জিনিসপত্রে ফরমালিনের ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ক্ষতিসমূহ

ফরমালডিহাইড আমাদের চোখের রেটিনা সেলে আঘাত করে এর ফলে আমাদের দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারি। পেট ব্যাথা, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারে। অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে। এছাড়া ধিরে ধিরে এটি আমাদের লিভার, কিডনি, হার্ট ইত্যাদি অকেজো করে ফেলতে পারে।

চলুন ফর্মালিন দূর করার কিছু পদ্ধতি জেনে নেই-

কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?

  • পরীক্ষায় দেখা গেছে পানিতে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়।
  • লবনাক্ত পানিতে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়।
  • প্রথমে চাল ধোয়া পানিতে ও পরে সাধারন পানিতে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়।
  • সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও পানির মিশ্রনে (পানিতে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়।

কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন ?

  • খাওয়ার আগে ১০ মিনিট গরম লবণ পানিতে ফল ও সবজি ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন-
  • যে ধরনের রাসায়নিক দেয়া হোক না কেন যদি একটু আমরা একটু সচেতন হই তাহলে ফল খাওয়া সম্ভব। আমাদের যা করতে হবে তা হল- খাওয়ার আগে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশী সময় ফলগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজ। পাকার পর হয় ইটা লাল। এখন গাছে রাসায়নিক স্প্রে করে যার ফলে লিচু গাঁড় মেজেনটা রং ধারন করে তা বড়ই মনমুগ্ধকর। কিন্তু চকচক করলে সোনা হয় না সেটা মনে রেখে কখনোই গাঁড় মেজেনটা রঙ্গের লিচু কেনা যাবে না।
  • সবজি রান্না করার আগে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
  • বেগুনে এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয় । এই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার ক্ষতিকর না যদি নিয়মানুসারে দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকেরা এ ব্যাপারে অজ্ঞ। তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। প্রতিটি কীটনাশকের ক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকে।
  • যেমন- একটি কীটনাশকের সেলফ লাইফ বা জীবন সীমা ৭দিন, তার মানে কীটনাশকটা ব্যবহারের ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, যা কীটপতঙ্গের জন্য ক্ষতিকর। তাই কৃষকদের উচিত কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত ৭দিন পর ফলন তোলা। কিন্তু তারা তা না করে ২-১ দিনের মাঝেই ফলন তোলেন। ফলে কীটনাশকের ক্রিয়া ক্ষমতা থেকে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের উপর। তাই বাজারে সতেজ, উজ্জ্বল বেগুন না কিনে কিছুটা অনুজ্জ্বল, পোকায় কিছুটা আক্রান্ত এমন বেগুন কেনাই ভালো।

আপনাদের সকলের সুস্ততা কামনা করে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।

তথ্যসূত্র- অনলাইন।

২২ thoughts on “ফরমালিন এবং এর থেকে বাঁচার উপায়

  1. আমাদের সবার উচিত
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আমাদের সবার উচিত নির্দেশনানুযায়ী খাদ্যকে ফরমালিনমুক্ত করা।

  2. তারমানে ফরমালিন মিশান থাকবেই
    তারমানে ফরমালিন মিশান থাকবেই আর আমরা লবন জলে আর সিরকা তে ভিজিয়ে ফরমালিন মুক্ত করার চেস্টা করব?
    মাছ কেটে ১ ঘন্টা লবন পানিতে রাখলে মাছ আর আস্ত থাকবে না রান্না বা ভাজার সময় ভেঙ্গে যাবে আর সিরকাতে ভিজালে এতক্ষণ টক তো হবেই আর খেতে হবে মাছের সুপ

    1. মাছ কেটে ১ ঘন্টা লবন পানিতে

      মাছ কেটে ১ ঘন্টা লবন পানিতে রাখলে মাছ আর আস্ত থাকবে না রান্না বা ভাজার সময় ভেঙ্গে যাবে আর সিরকাতে ভিজালে এতক্ষণ টক তো হবেই আর খেতে হবে মাছের সুপ

      এই জিনিসতো মাথায় ঢুকে নাই।

  3. কি আর কমু? আজকাল ফল খাইতেই ভয়
    কি আর কমু? আজকাল ফল খাইতেই ভয় লাগে। তাই প্রায় সকল ফল খাওয়া বাদ দিছি। শুধুমাত্র দেশী ফল যেগুলায় ফরমালিন দেওয়া হয় না সেইগুলা খাই। তাও ঢাকায় সেগুলা পাওয়া মুশকিল। আর মাছের কথা কি কমু। ফরমালিন ছাড়া মাছ নাই বললেই চলে। এমনকি ঢাকার বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল শপেও এই কাম করা হয়। দুইদিন আগেই এগোরা ধরা খাইল। তাই বেঁচে থাকতে চাইলে হয় গ্রামে যাও, নইলে এইভাবে প্রসেস কইরা খানাপিনা চালাও।

    ধন্যবাদ কাজের পোস্ট দেওয়ায়।

  4. এত হ্যাপা করে খাওয়ার কি
    এত হ্যাপা করে খাওয়ার কি দরকার? বিষাক্ত খাওয়ার ছাড়াও বিশুদ্ধ খাওয়ারের অভাব কি এত বেশি?

    1. তাহলে ফল খাওয়া বাদ দিতে, মাছ
      তাহলে ফল খাওয়া বাদ দিতে, মাছ খাওয়া বাদ দিতে হবে। সবজীতে মেশায় কিনা এখনও জানিনা। :মাথাঠুকি:

  5. গুগলায়া পাইলাম ভিন্ন তথ্য।
    গুগলায়া পাইলাম ভিন্ন তথ্য। ভিনেগার হলো একটা এসিড, আবার ফরমালিনও এসিড। সেই হিসেবে বিষে বিষক্ষয় হবে না এক্ষেত্রে। অধিকাংশ জায়গায় দেখলাম, ফরমালিন লঘুকরণের ক্ষেত্রে পানির ব্যবহারটাই প্রেফার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *