প্রসঙ্গ: পদ্মা সেতু। রেল চলাচলে পরোক্ষ সহায়তা এডিবি।

পদ্মা সেতুতে রেল চলাচলে পরোক্ষ সহায়তা করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ না থাকলেও সেতুর উভয় পাশে রেললাইন সংযোগ স্থাপনে সহায়তার প্রাথমিক আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এডিবির বাংলাদেশ অফিস সূত্র থেকে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জনকণ্ঠকে জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক পদ্মা সেতুর উভয় পাশে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি। আশা করছি শীঘ্রই সহায়তার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


পদ্মা সেতুতে রেল চলাচলে পরোক্ষ সহায়তা করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ না থাকলেও সেতুর উভয় পাশে রেললাইন সংযোগ স্থাপনে সহায়তার প্রাথমিক আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এডিবির বাংলাদেশ অফিস সূত্র থেকে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জনকণ্ঠকে জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক পদ্মা সেতুর উভয় পাশে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি। আশা করছি শীঘ্রই সহায়তার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করতে ৩ বছর আগে দুটি প্রকল্প নেয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে এতদিন এ প্রকল্প দুটির কাজ খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে ইতোমধ্যেই ঢাকার কমলাপুর থেকে মাওয়া ও মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ জাজিরা হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এ কাজে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্প দুটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১ হাজার ৮শ’ ৪০ কোটি টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে এডিবির সঙ্গে ইআরডির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী তিন বছরে এডিবি বাংলাদেশকে কি পরিমাণ সহায়তা দেবে সেসব বিষয় আলোচনা হয়েছে। এ সময় পদ্মা সেতুর উভয় অংশে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব ও এডিবি ডেস্কের প্রধান সাইফুদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আগামী তিন বছরে এডিবি যে অর্থ সহায়তা দেবে সেখানে রেল খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুর উভয় অংশে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পের বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। তবে এটুকু বলতে পারি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে যাবে।

এডিবির ঢাকা অফিসে নিযুক্ত যোগাযোগ কর্মকর্তা গোবিন্দ বার জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক আলোচনার মধ্যেই রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে পদ্মা নদীর ওপর শুধু সড়ক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে সরকার। ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পদ্মা সেতুতে রেলপথ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন হয়। সড়ক ও রেলপথবিশিষ্ট দ্বিতল পদ্মা সেতুর নক্সাও চূড়ান্ত হয়।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এডিবির আপত্তিতেই পদ্মা সেতুর মূল প্রকল্পে রেলপথ নির্মাণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি সেতুতে রেললাইন নির্মাণের জন্য পৃথক ঋণ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সে সময় পৃথক দুটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

রেলওয়ের তথ্যমতে, পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করতে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। এডিবির পরামর্শে ২০১১ সালে ঢাকা থেকে ফতুল্লা হয়ে মাওয়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার ও মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু সংযোগসহ জাজিরা হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে দুটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তা গ্রহণ করা হয়নি। ২০১২ সালে প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়।

পদ্মা সেতুতে ৫ কিলোমিটার রেলপথ ও ৮১ কিলোমিটার সংযোগ রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ঢাকা-মাওয়া রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৩ হাজার ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ মাওয়া-ভাঙ্গা রেলপথ নির্মাণে ২ হাজার ৯শ’ ৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটিতে এডিবির ঋণ দেয়ার কথা ছিল যথাক্রমে ৫শ’ ৯৫ কোটি ৬০ লাখ ও ১ হাজার ২শ’ ২৫ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকার গে-ারিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রেলপথ থাকলেও তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এ পথের আমূল সংস্কার করা প্রয়োজন। তাছাড়া অবশিষ্ট ৪৬ কিলোমিটার রেলপথ নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। নতুন এ রেললাইন তৈরিতে ছোট-বড় কমপক্ষে ৫৬টি সেতু নির্মাণও প্রয়োজন। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী নদীতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫টি বড় সেতু নির্মাণ করতে হবে। আর পদ্মা সেতুর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল সংযোগ স্থাপনে পাচুরিয়া-ফরিদপুর-পুকুরিয়া-ভাঙ্গা ৬০ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কার করা হচ্ছে। এ রেলপথ মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ জাজিরা হয়ে ভাঙ্গা রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় কমাতে গত বছর রেল অংশ বাদ দেয়ার চিন্তাভাবনা করলেও পরে তা থেকে সরে আসে সরকার। নতুন করে নক্সা প্রণয়ন ও পৃথক রেল সেতু নির্মাণ ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়।
সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য দাতা সংস্থার মধ্যে ওই বছরের ১৮ মে জাপানের সঙ্গে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান বিষয়ক চুক্তি করে সরকার। ২৪ মে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১৪ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৬ জুন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা (৬১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মধ্য দিয়ে সেতু নির্মাণে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে সবগুলো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ হয়। কিন্তু তারপরই সমস্যা দেখা দিয়েছিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে। এ পর্যায়ে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত দিতে কালক্ষেপণের কারণে এবং পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন দ্রুত করতে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চায়না বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংককে সাফ জানিয়ে দেয় সরকার। পদ্মা সেতু প্রকল্পে সংস্থাটির ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব প্রত্যাহার করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক ই-মেইল বার্তায় বিশ্বব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। এটি জানানোর পরদিন সকালে বিশ্বব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করে এবং সন্ধ্যায় সরকারী এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচনী অঙ্গীকার পরিপূরণের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর জন্য শুধু সড়ক সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও এই তথ্য সরবরাহ করে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। তার আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি জানুয়ারির মধ্যে নিশ্চিত করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সরকার।

পরবর্তীতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে থাকে। বর্তমানে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেয়ার মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

সূত্র:দৈনিক জনকণ্ঠ।

৭ thoughts on “প্রসঙ্গ: পদ্মা সেতু। রেল চলাচলে পরোক্ষ সহায়তা এডিবি।

  1. কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়,
    :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:
    কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়, অপেক্ষা করা ছাড়া বোঝার উপায় নাই।

    1. যে সময় যাচ্ছে নিজের রিপোর্ট
      যে সময় যাচ্ছে নিজের রিপোর্ট বলে চালিয়ে দেইনি তাতেই আপনার খুশি হওয়া দরকার।

  2. একদম কপিপেস্ট পোস্ট কাম্য নয়।
    একদম কপিপেস্ট পোস্ট কাম্য নয়। তথ্যসুত্র কাজে লাগিয়ে নিজের মতো করে লিখলেই পারতেন।
    পদ্মা সেতু নিয়ে জল অনেক ঘোলা হয়েছে। সেই ঘোলা জলের মাঝে মাছ শিকার না করে দ্রুত এর বাস্তবায়ন হলেই ভালো। এক বঙ্গবন্ধু সেতু কিভাবে উত্তরবঙ্গের চেহারাই পাল্টে দিয়েছে তা নিজের চোখে দেখা। তাই আশা করি পদ্মা সেতু দক্ষিণের ক্ষেত্রেও একই ভূমিকা রাখবে। ব্যয় বেশী হলেও একবারে রেল সংযোগ সহ সেতু বানানই ভালো হবে। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটের চেয়ে এগিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে কাজ করার কালচার তৈরি করতে হবে।

    1. খবরটা যাদের চোখ এড়িয়ে গেছে
      খবরটা যাদের চোখ এড়িয়ে গেছে তাদের জানানোর জন্যেই সেয়ার করলাম।
      আর এটাযে জনকণ্ঠ থেকে নেয়া তা নিচে উল্লেখ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *