অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো (ইহা একটি ফেসবুকীয় প্রেম কাহিনী)

ফাহাদ আবীর Wants to be your friend

কিছু না ভেবেই রিকুয়েস্ট টা এক্সেপ্ট করে নিলো বৃষ্টি। সচারাচর ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট সে এক্সেপ্ট করে না। তার ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছে কেবলমাত্র তার পরিচিত মানুষজন। ফাহাদ আবীর নামটা ভালো লেগে গিয়েছিলো তার। না ভেবেই এক্সেপ্ট করে ফেলেছে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট। আবীরের প্রোফাইলখানা একবার ঘুরে দেখতে গেলো বৃষ্টি। এ কি! ছেলেদের প্রোফাইলে এত প্রাইভেসি! শুধুমাত্র নাম আর জন্মদিনের তারিখ ছাড়া প্রোফাইলে আর কিছুই নেই! প্রোফাইল পিকচারটাও তালা দেওয়া! শুধু দূর থেকে দেখা যায় কিন্তু স্পট বুঝা যায় না। আবীর ছোটখাটো গল্প লিখক। আবীরের লেখাগুলো পড়তে লাগল সদ্য আবিরের ফ্রেন্ডলিস্টে স্থান পাওয়া বৃষ্টি।



ফাহাদ আবীর Wants to be your friend

কিছু না ভেবেই রিকুয়েস্ট টা এক্সেপ্ট করে নিলো বৃষ্টি। সচারাচর ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট সে এক্সেপ্ট করে না। তার ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছে কেবলমাত্র তার পরিচিত মানুষজন। ফাহাদ আবীর নামটা ভালো লেগে গিয়েছিলো তার। না ভেবেই এক্সেপ্ট করে ফেলেছে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট। আবীরের প্রোফাইলখানা একবার ঘুরে দেখতে গেলো বৃষ্টি। এ কি! ছেলেদের প্রোফাইলে এত প্রাইভেসি! শুধুমাত্র নাম আর জন্মদিনের তারিখ ছাড়া প্রোফাইলে আর কিছুই নেই! প্রোফাইল পিকচারটাও তালা দেওয়া! শুধু দূর থেকে দেখা যায় কিন্তু স্পট বুঝা যায় না। আবীর ছোটখাটো গল্প লিখক। আবীরের লেখাগুলো পড়তে লাগল সদ্য আবিরের ফ্রেন্ডলিস্টে স্থান পাওয়া বৃষ্টি। আবীরের লিখগুলো পড়ে রিতিমত আবীরের ফ্যান হয়ে গেলো বৃষ্টি! এত সুন্দর করে মানুষ লিখে কিভাবে ভেবে পাচ্ছে না সে! আবীরকে একটা ম্যাসেজ দেওয়া দরকার।

-‘একজন লেখকের গল্পগুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো।’

এই ম্যাসেজটি পাঠিয়ে ফেসবুক থেকে লগ আউট করল বৃষ্টি। উত্তরের অপেক্ষায় থাকার মাঝে রয়েছে অদভুত আনন্দ।আনন্দকে উপভোগ করাই শ্রেয়।

এদিকে ফেসবুকের অনেকের চোখের মনি ফাহাদ আবীর দুপুরের হালকা ঘুম শেষ করে বালিশের পাশ থেকে ল্যাপটপ খানা নিয়ে লগিন করলো ফেসবুকে। সারাদিন তার কাছে অনেক ম্যাসেজ আসে। কিন্তু তার চোখ আটকে গেলো বৃষ্টির সেই ম্যাসেজটিতে।

-‘একজন পঠিকার ম্যাসেজ পেয়ে আনন্দিত হলাম।’

ম্যাসেজটি পাঠিয়ে আবীর তার নতুন একটি লেখা পোষ্ট করায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।

রাত দশটার সময় ফেসবুকে লগিন করে একটা ম্যাসেজ দেখতে পেলো বৃষ্টি। ম্যাসেজে ঢুকেই দেখলো আবীরকে পাঠানো তার ম্যাসেজের প্রতি উত্তর এসে গেছে। আবীরও ফেসবুকে আছে। তাদের মধ্যে ম্যাসেজ আদান প্রদান শুরু হয়ে গেলো।

-লেখকটি কেমন তা এখনো জানা হলো না। শুধুমাত্র লেখকের গল্পগুলোই পড়া হয়েছে।

-লেখকটি বিবিএ পড়ছে। মা বাবার একমাত্র বেকার সন্তান। লেখাপড়ায় খুব একটা ভালো না। পঠিকা সম্পর্কে লেখক এখনো কিছু জানে না! লেখক কি জানতে পারে তার গল্পগুচ্ছের পঠিকা সম্পর্কে? ?

-হ্যা অবশ্যই পারে। তবে তার জন্য যে লেখককে আরো অপেক্ষা করতে হবে!

-অপেক্ষা করা লেখকের প্রিয় কাজ। যাদের কোনো জরুরি কাজ থাকে না তারা অপেক্ষা করতেই পছন্দ করে।

-দেখা যাবে লেখকের ধৈর্য কতখানি।

-দেখুক। ধৈর্যের পরীক্ষা খুব খারাপ পরীক্ষা নয়।

আবীরের ম্যাসেজ দেখে মুচকি হেসে লগ আউট করলো বৃষ্টি।

২ মাস পর

ফেসবুকে ঢুকে বৃষ্টির ম্যাসেজ পেলো আবীর!

-পঠিকা এইবার এইচ এসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার চাপের কারণে ফেসবুকে বসতে পারে নি। লেখকের ধৈর্যের পরীক্ষায় লেখক ৯৯% সফল হয়েছে!

-তার মানে পঠিকা এতদিন অনেক বিজি ছিলো। তবে লেখক পঠিকাকে অনেক মিস করেছে!

এভাবেই আগাতে লাগলো তাদের ফেসবুকের ম্যাসেজ আদান প্রদান।

৬ মাস পর

-আমার সাথে কবে দেখা করবে বৃষ্টি?

-যেদিন আমার ইচ্ছা হবে!

-সেই দিনটার জন্য দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ অপেক্ষা করছি।

– আরো করো। ‘-আচ্ছা

-রাগ করলা?

-না

– ০১৬******** এই নাও আমার সেলফোন নাম্বার!

আবীর ম্যাসেজটা দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলো না! সেলফোনের স্ক্রিনে বৃষ্টির সেলফোন নাম্বার তুলছে আবীর। তার হাত কাঁপছে!

-হ্যালো

-পঠিকা?

-না লেখকের প্রেমিকা।

-লেখকের বিশ্বাস হচ্ছে না!

-কেনো?

-কন্ঠ এত সুন্দর দেখতে যেনো কেমন হবে! লেখকের ভয় লাগছে। লেখককে যদি পছন্দ না হয় তার!

-হাহাহাহা। দেখা যাক কি হয়

এভাবে এগিয়ে যেতে লাগলো ফোনালাপ।

১ বছর পর

আবীর বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে আছে। বৃষ্টি তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে!

-লেখক কি আমাকে চিনতে পারছে না?

-লেখক বিশ্বাস করতে পারছে না!

-হাহাহা

-হাসি এত সুন্দর কেনো? কাছে এসে বসবা?

– না ধৈর্য ধরতে হবে।

-পঠিকার জন্য ধৈর্য ধরা লেখকের প্রিয় কাজ।

১ বছর ৬ মাস পর

বৃষ্টিকে দেখতে এসেছে বরপক্ষ! বৃষ্টির চোখে বৃষ্টির ফোটা! তার যে শুধু আবীরকে চাই। বৃষ্টির মা অনেকটা জোড়পূর্বক তাকে বরপক্ষের সামনে নিয়ে যায়। এ কি! এ যে লেখক বসে আছে সামনে। লেখকের ঠোটের কোনায় দুষ্টু হাসি।

আম বরের সাথে আলাদাভাবে কথা বলতে চাই। এই বলে বৃষ্টি চলে গেলো অন্য রুমে পেছনে আবীর।

-আমাকে কাঁদাতে খুব ভালো লাগে না?

-এতদিনতো ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছি! একবার নিতেও পারবো না?

-না। শুধু আমি নিতে পারবো।

আসলে বৃষ্টিকে আবীরের মা অনেক আগেই পছন্দ করে রেখেছিলো! আবীর জানতো। কিন্তু সে বৃষ্টিকে কোনদিন দেখে নি! তার মা ও তাকে বলেছিলো সময় আসলে দেখবি! ফেসবুকে বৃষ্টি নামের মেয়ের আইডিতে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছিলো না জেনেই! তবে বৃষ্টির পরিচয় পাওয়ার পর সে বুঝতে পেরেছিলো এই বৃষ্টিই তার মার পছন্দ করা পাত্রী! তাই এগিয়ে গিয়েছিলো প্রেমের দিকে। আর বৃষ্টিকে রাখতে চেয়েছিলো কাছে।

আবীর আর বৃষ্টির বাসর রাত!

বিছানার একপাশে ল্যাপটপ নিয়ে ফেসবুকে আবীর। অন্য পাশে মোবাইলে ফেসবুকে বৃষ্টি।

-কাছে আসবা?

-ধৈর্য ধরো!

-ধৈর্য ধরা বৃষ্টির বরের প্রিয় কাজ!

-বৃষ্টি তা খুব ভালোভাবে জানে!

অত:পর ফাহাদ আবীর এবং অগ্নিলা বৃষ্টি সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো!

১৪ thoughts on “অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো (ইহা একটি ফেসবুকীয় প্রেম কাহিনী)

    1. হাহাহা সবাই শেষে হতাশা দেয়!
      হাহাহা সবাই শেষে হতাশা দেয়! আমি একটু বেশিই মিল দিলাম :চশমুদ্দিন:

    1. ফেসবুকে প্রেম খুব কঠিনও না!
      ফেসবুকে প্রেম খুব কঠিনও না! অনেককে করতে দেখেছি। তবে টিকেনি।

    1. কি আর করব বলেন।ইদানিং কালে
      কি আর করব বলেন।ইদানিং কালে বাংলা ছবিগুলো বেশিরভাগ তামিল টামিল থেকে নকল করে। নতুন কিছু লাগবে তো তাই না?? বানাইয়া দিলাম প্লট একটা :ভেংচি:

  1. ভাই লেখার শেষে সবসময় মিলন হতে
    ভাই লেখার শেষে সবসময় মিলন হতে হবে নাকি ? পাঠক ব্যতিক্রমী কিছু পড়তে ভালোবাসে । তার জন্য ধৈর্য ধরতে হলে ধরব । কিন্তু আশা করছি পরবর্তীতে ব্যতিক্রমী কিছু পাবো । শেষের টুকু বাদে ভালোই লাগলো । তবে মনে হলো অতিরিক্ত আবেগ নিয়ে লেখেছেন এই আর কি ! :থাম্বসআপ:

  2. অতঃপর তাহারা খাটের দুপাশে বসে
    অতঃপর তাহারা খাটের দুপাশে বসে হাতে মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে অপেক্ষা করিতে লাগল!!!

  3. আমার এক বন্ধুর ফেসবুকে প্রেম
    আমার এক বন্ধুর ফেসবুকে প্রেম থেকে বিয়ে শাদী হয়ে বাচ্চাকাচ্চাও হয়ে গেছে। এখন তারা আসলেই সুখে শান্তিতে বসবাস করিতেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *