শেষ পর্যন্ত ইমরান এইচ সরকার মহাজাগতিক শক্তির অধিকারী হল !!!

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৫ তারিখ । ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে সংঘঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাদের মোল্লাকে প্রদত্ত আদালতের দন্ডাদেশ এর প্রতি খুশি না হতে পেরে ঢাকাস্থ শাহবাগে গঠিত হল অরাজনৈতিক গণজাগরণ মঞ্চ । এ মঞ্চের প্রধান দাবী ছিল কাদের মোল্লাকে যাবত জীবন দন্ডাদেশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসি দিতে হবে এবং অন্যান্য যুদ্ধপরাধীকেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে । বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা শক্তির একাংশ, তরুন ও সুশীল সমাজরে কিয়দাংশসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গণজাগরন মঞ্চে হাজার হাজার মানুষের বিরামহীন বিক্ষোভে সারা দেশ প্রকম্পিত হয়েছিল । স্লোগান কন্যাদের গগনবিদারী চিৎকারে শুধু ঢাকা শহরকে নয় বরং বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রুপসা থেকে সাঁতুরিয়া পর্যন্ত তারুন্যের উদ্দামতা ছড়িয়েছিল । গণজাগরন মঞ্চের কল্যানে অনেক অখ্যাত তরুন-তরুনী দেশের নায়ক নায়িকায় পরিনত হল । ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কিংবা লাগার অপবাদ কিংবা অপরাধে কিছু আলেমসহ অনেক মানুষ খলনায়কেও পরিনত হয়েছিল । গ্রামের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বালিকা লাকী আক্তার যেমন স্লোগান কন্যার খেতাব পেয়েছিল তেমনি একজন পেশাদার চিকিৎসক ডা. ইমরান এইচ সরকার গণজাগরন মঞ্চের মূখপাত্র নিযুক্ত হয়ে দেশের আবাল বৃদ্ধ-ভনিতার কাছে পরিচিতি পেয়েছিল । আবার গণজাগন মঞ্চ গঠনের সমসায়িক সময়ে ইসলাম ধর্মের প্রান পুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি অপবাদ দেয়ার অপরাধে থাবা বাবা খ্যাত রাজীব কিছু দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ দেয়ার পরে দেশের সর্বোচ্চ স্থানের ব্যক্তি কর্তৃক দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ উপাধি পাওয়াও কম গৌরবের কিসে !

অরাজনৈতিক ব্যানারে গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু হলেও গণজাগরণ মঞ্চের বয়স সপ্তাহ না পেরুনোর আগেই এটা দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংঘের অংশে পরিনত হয়েছিল । বিভিন্ন টেলিভিশন গণজাগরন মঞ্চে মানুষের উপস্থিতি ‘লাইভ টেলিকাষ্ট’ বা সরাসরি সম্প্রচার করলেও বিরিয়ানী কিংবা টাকার বিনিময়ে কম মানুষের উপস্থিত হয়নি বলে শোনা গেছে । ঢাকাস্থ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীকে ‘স্বেচ্ছায় বাধ্যতামূলক’ভাবে শাহবাগে উপস্থিত করা হয়েছে । দেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংঘঠনের নেতা-নেত্রীরা তাদের কর্মীদেরকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে উপস্থিত হতে আদেশ দিয়েছেন । বিরিয়ানীর টাকা জোগাড় করার জন্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানী কিংবা ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবী করে তা চাঁদা আকারে আদায় করা হয়েছে । সে সকল ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর সাহস পায়নি কেননা তারা টাকা দিতে রাজি না হলে তাদের কপালেও ইবনে সিনা কিংবা ইসলামী ব্যাংককে প্রদত্ত তিলক অঙ্কিক হত । আবার অনেকে রাজকারদের বিচার কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য বিদেশের বন্ধুদের থেকেও টাকা উত্তোলন করে দিয়েছে । স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশে যারা প্রকৃতার্থে মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিল তাদের সঠিক বিচার হোক সেটা অনেকের মত আমারও কাম্য ছিল এবং সে বিচার ব্যবস্থায় যাতে স্বচ্ছতা থাকে সেটা সব সময় মনে প্রাণে চাইতাম । কিন্তু বিচার ব্যবস্থায় সে স্বচ্ছতা নিয়ে অনেকরই প্রশ্ন ছিল কিংবা এখনো আছে ! আস্তিক-নাস্তিক অনেক বিতর্ক থাকলেও গণজাগরণ মঞ্চের বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারী ড. ইমরান এইচ সরকারকে তখন অনেক পছন্দ করতাম । অনেকটা আপনও মনে হত । কিন্তু যখন জানলাম এই মানুষটি মানুষের দানের টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তখন প্রথমে নিজের উপর ধিক্কার আসল কারন আমি এই চোর লোকটাকে আপন ভেবে ছিলাম ? এ লোক তো শুধু আমার কাছেই ঘৃণিত হবার কথা নয় বরং দেশের অনেকের কাছেই ঘৃনিত হওয়ার কথা । দেশের যে সকল মানুষের উপর স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে বা হচ্ছে তা যদি সত্য হয় তবে তারা সে সময় অবারিত সুযোগ পেয়েছিল অপরাধে জড়ানোর কেননা তখন তাদের বিচার করার মত কোন প্রতিনিধি ছিল না কিন্তু এই সভ্য সময় অসভ্যের মত ডা. ইমরান এইচ সরকার কাজটা করল কী ? দেশের ভাগ্য ভালো নয়ত ডা. ইমরান এইচ সরকার যদি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে থাকত তাহলে কত জঘন্য কাজ করতে পারত তার দৃষ্টান্ত তার এখনকার কাজেই পাওয়া যায় ।

বিরিয়ানীর ছড়াছড়ি, ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা, দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ছত্র-ছায়া বিশেষ করে দেশের পাশ্ববর্তী একটি প্রভাবশালী দেশের সমর্থনে প্রায় বছর অবধি রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কের উপর নির্মিত গণজাগরন মঞ্চ এবং তাতে হাজার মানুষের উপস্থিতি কিংবা দেশের অন্যতম বৃহৎ দু’টো হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধে আমাদেরকে কোনপ্রকার ক্ষতি করে নি ! জীবযাত্রাকেও ব্যাহত করে নি ! বরং শাহবাগীরা অর্থ্যাৎ গণজাগরন মঞ্চের সমর্থকরা চাইলে আমরা তাদেরকে আরও আরও যায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য রাজী ছিলাম । গণজাগরন মঞ্চে যারা উপস্থিত হয়েছে তাদেরকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা যেন গণজাগরন মঞ্চে কোন প্রকার হামলা করতে না পারে সেজন্য সর্বদা পুলিশ পাহারা, গণজাগরন মঞ্চের নেতা-নেত্রীদেরকে ‘তিন স্টার’ কিংবা ‘ফাইভ স্টার’ হোটেলে সিকিরিউটিগার্ডসহ আবাসন বানিয়ে দেয়া আরও কত সুযোগ সুবিধা ! ইসলাম ধর্মের প্রচারক এবং মানবতার শেষ্ঠ শিক্ষক হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে অশালীন ভাষায় কটুক্তি করার কারনে কটুক্তিকারী অপরাধীদের বিচার দাবীতে এবং কোরাআন সুন্নাহকে সমুন্নত রাখার জন্যে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে একদল গরীব আলেম মাত্র একটি রাত ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে রাত্রি যাপনের সুযোগ চেয়েছিল অথচ তাদেরকে হত্যা, নির্যাতন করে ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হল । হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে মাসের পর মাস নির্যাতন করা হল । শাহবাগীরা কিংবা হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা দু’ই দলই আন্দোলনকারী, কেউ আক্রমনাত্মক নয়, একদল বিচারের দাবীতে, আরেকদল আল্লাহর জমীনে আল্লাহর হুকুমত কায়েমের লক্ষ্যে আন্দেলনরত অথচ তাদের একদলকে জামাই আদরে রেখে দেশের বড় বড় রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানী সরবারাহ করিয়ে আহার নিদ্রার ব্যবস্থা করে পোষন করা হল আরেক দলকে ঝেটিয়ে বিদেয় করা হল-নিশ্চয়ই এর পিছনে গুঢ় রহস্য আছে । যে রহস্যের কিয়দাংশ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বাকি অংশ প্রকাশের অপেক্ষায় ।

হঠাৎ করে আত্মার বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল । এতদিন যারা পাহারা দিয়ে গণজাগরন মঞ্চ সমর্থকদের লালন পালন করল, গণজাগরন মঞ্চ ঘোষিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিল, সারা দেশব্যাপী নিরবতা পালন করল এমনকি সংসদেও এ কর্মসূচী পালন করা হল সেই তাদের সাথে সম্পর্ক চুকে গেল । যে পুলিশ বাহিনী এতদিন গনজাগরণ মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সেই তারাই রোলার দিয়ে গণজাগরন মঞ্চকে গুড়িয়ে দিল । গণজাগরন মঞ্চের কতিপয় সমর্থককে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে দিল, রাজাকারদের বিচারের দাবিতে এতদিন যারা আন্দোলন করে গেল সেই তাদেরকেই পুলিশ রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিল-এটাও কি মানা যায় ? তবুও গণজাগরন মঞ্চের নেতারা মুখে কুলুপ এঁটে ছিল । এতদিন যারা তাদের ছায়া দিয়েছিল সেই তারা এখন সূর্যের তাপ যাতে ভালোভাবে মাথায় লাগে তার ব্যবস্থা করছেন । যাদের ছত্র-ছায়ায় সমগ্র ঢাকায় মিছিল দিয়ে বেড়ানো যেত সেই তাদের যন্ত্রনায় এখন গণজাগরন মঞ্চের নেতারা রাস্তায় নামতে পারছে না । অবশ্য গণজাগরন মঞ্চ বিলুপ্তির পূর্বে মঞ্চের নেতাদের মতবিরোধে গণজাগরণ মঞ্চ দ্বি-খন্ডিত হয়েছিল । ঐক্যবদ্ধভাবেই যারা শেষ অবধি দাঁড়াতে পারে নি ভঙ্গুর দশা নিয়ে তাদের তো দাঁড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না ।

সম্প্রতি দেশের আইনমন্ত্রী এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়ে যে কথা বলেছে তা গণজাগরন মঞ্চের নেতাদের কিংবা সমর্থকদের পছন্দ হয় নি । ডা. ইমরান এইচ সরকার আইনমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শুনে আওয়ামীলীগ জামাতের সাথে সমঝোতা করেছেন বলে বিবৃতি দিয়েছে । তিনি আরও বলেছেন, সরকার রাজাকারদের বিচার থেকে সরে এসেছে এবং রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য নানা ফন্দি ফিকির করছে । ডা. ইমরান এইচ সরকারের এ মন্তব্যেও সরকারীদল থেকে কোন বিবৃতি আসে নি । গণজাগরন মঞ্চের নেতা সমর্থকরা সরকার চুপ থাকায় একটু সাহস পেয়ে রাজপথে মিছিল করতে নেমেছিল । আর কী রক্ষা আছে ? সরকারের পুলিশবাহিনীসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যরা গণজাগরন মঞ্চের নেতাদেরকে ইচ্ছামত কেলিয়েছে । কয়েকজন আহত হয়েছে । ডা. ইমরান এইচ সরকারের ভাগ্যেও সম্ভবত দু’একটি পরেছে । ডোজ পরলে যা হয় ! ডা. ইমরান এইচ সরকারও উত্তেজিত হয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দিয়েছে । ডা. ইমরান এইচ সরকার সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছে , “কিভাবে ক্ষমতা থেকে টেনে হিচড়ে নামাতে হয় তা আমরা জানি, ক্ষমতা থেকে নামিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে পাকিস্তানের ট্রেনে তুলে দেয়া হবে” । শত ব্যস্ততার মাঝে সব সময় তো আর বিনোদন পাওয়া যায় না তবে ডা. ইমরান এইচ সরকারের কথায় জাতি নিশ্চয়ই ব্যাপক বিনোদন পাবে । ডা. ইমরান এইচ সরকারের ক্ষমতা দেখে হয়ত বিএনপি অবাক হয়ে ভাবছে শেষ পর্যন্ত ডা. ইমরান এইচ সরকার মহাজাগতিক শক্তির মালিক হল ? তবে বিএনপির ভয়ও আছে পাকিস্তানের ট্রেনে তো তাদেরকেই আগে চড়তে হবে পরে না হয় শাসক দলকে ! অপরদিকে আওয়ামীলীগের নেতারা হয়ত ডা. ইমরান এইচ সরকারের কথা শুনে মুচকি মুচকি হাসছে আর বলছে, ‘শত হাতি গেল তল, পিঁপড়া বলে কত জল’ । অবশ্য মহাজাগতিক ক্ষমতা পেলে ভিন্ন কথা এটা কিন্তু সরকারকে মনে রাখতে হবে !

রাজু আহমেদ ।
raju69mathbaria@gmail.com

১২ thoughts on “শেষ পর্যন্ত ইমরান এইচ সরকার মহাজাগতিক শক্তির অধিকারী হল !!!

  1. শাহবাগীরা কিংবা হেফাজতে

    শাহবাগীরা কিংবা হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা দু’ই দলই আন্দোলনকারী, কেউ আক্রমনাত্মক নয়, একদল বিচারের দাবীতে, আরেকদল আল্লাহর জমীনে আল্লাহর হুকুমত কায়েমের লক্ষ্যে আন্দেলনরত অথচ তাদের একদলকে জামাই আদরে রেখে দেশের বড় বড় রেস্টুরেন্ট থেকে বিরিয়ানী সরবারাহ করিয়ে আহার নিদ্রার ব্যবস্থা করে পোষন করা হল আরেক দলকে ঝেটিয়ে বিদেয় করা হল-নিশ্চয়ই এর পিছনে গুঢ় রহস্য আছে । যে রহস্যের কিয়দাংশ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বাকি অংশ প্রকাশের অপেক্ষায় ।

    ধৈর্য নাই ভাই, আপনার লেখা পড়লেই আমার নাকে কেমন জানি গন্ধ লাগে।
    সম্ভবত নাকের সমস্যা হইচে!

  2. আমার জন্য তো আপনার নাক কাটতে
    আমার জন্য তো আপনার নাক কাটতে বলতে পারি না তবে ঢাক্তার দেখান ভালো হয়ে যাবে । আমি নিরপেক্ষ

    1. কে যেন বলছিল পাগল আর শিশু
      কে যেন বলছিল পাগল আর শিশু ব্যতীত কেউই নিরপেক্ষ না। আপনি কোন ক্যাটাগরির ভাইয়া? :ভাবতেছি:

  3. ” শত হাতি গেল তল, পিঁপড়া বলে
    ” শত হাতি গেল তল, পিঁপড়া বলে কত জল”
    ____ প্রবাদটি কি একটু কাটছাঁট করেছেন?
    তারপরেও আপনার পোস্টের জন্য উপযুক্ত!

  4. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার

    ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কিংবা লাগার অপবাদ কিংবা অপরাধে কিছু আলেমসহ অনেক মানুষ খলনায়কেও পরিনত হয়েছিল ।

    গণ জাগরণ মঞ্চ কখনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় নাই। এদের সাথে জরিত কিছু কর্মী ব্যাক্তিগতভাবে হয়তো দিয়েছে, কিন্তু সেজন্য দায়টা মঞ্চের উপর চাপানো যায়না।

    আর হেফাজত আক্রমাণাত্মক না হলেও গত ৫ইমে তারা কিন্তু কম সহিংসতা করে নাই।

  5. হেফাজতের আন্দোলন কখনই অহিংস
    হেফাজতের আন্দোলন কখনই অহিংস ছিল না আর ৫ মে তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে আর রাস্তা ঘাটে যেভাবে মেয়েদের অসম্মান করেছে তা রাজধানী বাসি দেখেছে ।
    এই সব মাওলানারা মাদ্রাসার দরিদ্র আর এতিম শিশুদের মিথা বলে ভয় ভিতি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যাবহার করার জন্য ঢাকায় এনে কিভাবে রাতের আধারে অচেনা শহরে তাদের ফেলে সটকে পড়েছে তাও আমাদের জানা ।
    আপনার লেখার সাথে তাই কোনভাবেই সহমত প্রকাশ করতে পারছি না

  6. গণজাগন মঞ্চ গঠনের সমসায়িক

    গণজাগন মঞ্চ গঠনের সমসায়িক সময়ে ইসলাম ধর্মের প্রান পুরুষ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি অপবাদ দেয়ার অপরাধে থাবা বাবা খ্যাত রাজীব কিছু দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ দেয়ার পরে দেশের সর্বোচ্চ স্থানের ব্যক্তি কর্তৃক দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ উপাধি পাওয়াও কম গৌরবের কিসে !

    থাবা বাবাকে চিনেন? তার লেখা পড়েছেন? নাকি ছাগুদের লেখা পড়েই তার সম্পর্কে জেনেছেন? রাজীব মোটেও গণজাগরন মঞ্চ গঠনের সমসাময়িস সময়ে ওই রকম লেখা লেখেনি। সে নাস্তিক্যবাদ চর্চা করে এসেছে দীর্ঘদিন ধরেই। গণজাগরন মঞ্চের একজন অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন রাজীব। যখনই তিনি তার ক্ষুরধার লেখনী দিয়ে জামাত শিবিরকে আক্রমণ করলেন, তখনই তাকে জীবন দিতে হলো। ছাগুভাষ্যমতে কাদেরমোল্লার শহীদ উপাধি নিয়ে আপনার দেখি মাথাব্যাথা নাই, আর রাজীবের বেলায় এসে আপনার পশ্চাদ্দেশে জ্বলুনি শুরু হয়ে গেলো?

    বিরিয়ানী কিংবা টাকার বিনিময়ে কম মানুষের উপস্থিত হয়নি বলে শোনা গেছে

    বিরিয়ানী এবং টাকার বিনিময়ে শাহবাগে মানুষ গেছে, এটার স্বপক্ষে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ দিতে না পারলে আপনার পোষ্ট থেকে লাইনটি কেটে পাঠকদের কাছে ক্ষমা চাইবেন।

    ঢাকাস্থ বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীকে ‘স্বেচ্ছায় বাধ্যতামূলক’ভাবে শাহবাগে উপস্থিত করা হয়েছে। বিরিয়ানীর টাকা জোগাড় করার জন্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানী কিংবা ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবী করে তা চাঁদা আকারে আদায় করা হয়েছে ।

    স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে যেতে হয়েছে !!!! কোন কোন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা গিয়েছিলো, নাম বলুন। বিরিয়ানীর জন্য চাঁদা আদায়ের কোন তথ্য প্রমান থাকলে উপস্থাপন করুন।

    কোরাআন সুন্নাহকে সমুন্নত রাখার জন্যে আল্লামা শফীর নেতৃত্বে একদল গরীব আলেম মাত্র একটি রাত ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে রাত্রি যাপনের সুযোগ চেয়েছিল অথচ তাদেরকে হত্যা, নির্যাতন করে ঢাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হল ।

    একদল গরীব আলেম !!! হাহাহাহাহাহা… আপনে মশকরা করলেন নাকি ভাই? আমি চট্টগ্রামে থাকি। আসার আহ্বান জানালাম। আপনাকে শফী বুইড়ার মাদ্রাসায় নিয়ে যাবো। হাটহাজারীতে শফীর পোলার বিশালায়তনের কম্প্লেক্স দেখাবো। মোনাফেক কাকে বলে জানেন? যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না। হেপচুতিয়ারা আবেদন করেছিলো দিনে মজমা বসিয়ে দিনের বেলায়ই ঢাকা ত্যাগ করবে। মতিঝিলের মতো একটা কমার্শিয়াল এলাকায় যদি কর্মদিবসে রাস্তাঘাট কয়েক লাখ মানুষ করাত, লাঠি নিয়ে বসে থাকে, তাহলে জনজীবন কতোটা বিপর্যস্ত হতে পারে- একবার ভাবুন। তাদেরকে বের করে দেয়াটাই ছিলো মুখ্য উদ্দেশ্য। আল জাজিরার চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে মরা মানুষের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করার জন্যই তারা আসছিলো সেখানে? অযথা ল্যাদাবেন না।

    আপনার পোষ্টের প্রায় প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দেয়ার জন্য আমার একটা পোষ্ট আছে, সেটা পড়বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *