আগুন

আজ ৩ জুন … নিমতলির ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার চার বৎসর পূর্তি আজ ।

২০১০ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার চানখাঁর পুল এলাকা সংলগ্ন নিমতলিতে কোন এক বাড়ির সামাজিক অনুষ্ষ্ঠানের জন্য রান্না করার সময় আগুন ধরে যায় । উক্ত বাড়ির নিচতালায় ছিল রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম । শুধু মাত্র একটি বাড়িতে না পুরো এলাকা জুড়েই ছিল অনেক কলকারখানা আর গুদাম ।

আজ ৩ জুন … নিমতলির ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার চার বৎসর পূর্তি আজ ।

২০১০ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার চানখাঁর পুল এলাকা সংলগ্ন নিমতলিতে কোন এক বাড়ির সামাজিক অনুষ্ষ্ঠানের জন্য রান্না করার সময় আগুন ধরে যায় । উক্ত বাড়ির নিচতালায় ছিল রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম । শুধু মাত্র একটি বাড়িতে না পুরো এলাকা জুড়েই ছিল অনেক কলকারখানা আর গুদাম ।
ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পরে আগুনের লেলিহান শিখা । ভয়াবহ অগ্নিকান্ড তাৎক্ষনিক ভাবে কেড়ে নিয়েছিল একশ সতেরটি তাজা প্রান। পোড়া শরীর নিয়ে হাস পাতালে ভর্তি হয়েছিল দেড়শ জনের বেশি। যাদের অনেকেই পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ঘটনা অনেক কেই করেছে এতিম,বিকলাঙ্গ আর সহায় সম্বলহীন।
যে বাসা থেকে আগুনের সুত্রপাত সেই বাড়ির তিনজন পুরুষ মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছেলেন কারন সেদিন ছিল শুক্রবার।আর নারী ও শিশুসহ পরিবারের সবাই আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যায় । কি মর্মান্তিক এই মৃত্যু ।
প্রত্যক্ষদর্শী দের কথা অনুযায়ী আগুন নাকি পানির ঢেউ এর মত রাস্তায় ভাসছিল । জুতার কারখানায় চামড়া পাকা করতে যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যাবহৃত হয় তা হল টলুইন ডাই আসাসিনেট তার কারনেই নাকি আগুন এভাবে পানির মত ভেসে বেড়াচ্ছিল। এই দ্রব্য চরম ভাবে দাহ্য।
সেই ঘটনার চার বছর হয়ে গেল অথচ কেউ কি শাস্তি পেয়েছে না বন্ধ হয়েছে আবাসিক আর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কলকারখানা স্থাপন ?
আসলে প্রতিনিয়ত আমাদের এখানে ঘটছে নানা চাঞ্চল্যকর ঘটনা । ফলে খুব সহজেই ধামাচাপা পড়ে যায় আগের ঘটনাটা ।
ঢাকা দক্ষিনে অপরিকল্পিত ও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বাড়ি ঘর নির্মাণ আর কলকারখানা সব মিলে এক যাচ্ছেতাই অবস্থা । মাঝে মাঝে মনে হয় অনিয়মটাই এখানে নিয়ম ।
এখানে অধিকাংশ বাড়ির ভিতরে কলকারখানা চলছে । আবার কোন কোন বাসার নিচতালায় রয়েছে প্ল্যাস্টিক সহ নানারকম ক্ষতিকারক পদার্থের গুদাম ।
আমি কলকারখানার বিপক্ষে নই । কারন অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের গুরুত্ব অপরিসিম। কিন্তু কলকারখানা স্থাপন করতে হবে তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে । আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যাবহার কতটুকু নিরাপদ তা ভেবে দেখতে হবে।
এখনো সমান তালেই চলছে নিমতলি সহ আশেপাশের এলাকায় কলকারখানা আর রাসায়নিক পদার্থের গুদাম । শুধু নিমতলি নয় বকশীবাজারের আশেপাশের এলাকা গুলোতে একই অবস্থা ।
বিলাসবহুল বাড়ির ভিতরেই আছে জুতার কারখানা কিংবা অবৈধ ভাবে পড়ানো হচ্ছে ক্ষতিকারক কোন রাসায়নিক দ্রব্য । অবাধে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এসব কারখানা আর গুদাম স্থাপন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে এসব কারখানা।আর ভয়াবহ ভাবে দুষিত করছে বাতাসকেও। বায়ু দূষণের কুফল হিসাবে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অসুখ ।বিশেষ করে চামড়ার ক্যান্সার ।
চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা ছাড়া আমাদের মনে হয় কিছুই করার নাই । আজ হয়ত দু একটি পত্রিকার পাতায় এ বিষয়ে ছোট একটি সংবাদ আসবে কারন ঘটনা চার বছর আগের আর হয়ত মিলাদ মাহফিল এর আয়োজন করে চলবে খানাপিনা । তারপর কাল থেকে আবার সবাই আলোচনার জন্য পেয়ে যাবে হয়তবা আরও একটি ঘটনা ।এভাবেই চলছে, চলবে কিন্তু আর কত?
কিছু মুনাফাখোর মানুষের কাছে জিম্মি থাকবে সাধারণ মানুষের জীবন।আর প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে ।

৮ thoughts on “আগুন

  1. ধন্যবাদ মিলি আপি, আমরা কেন
    ধন্যবাদ মিলি আপি, আমরা কেন যেন সব কিছু চট করে ভুলে যায়, নিমতলির ঘটনা (২০১৩ সালের ৩ জুন, ঝরে যায় ১২৩ টা প্রাণ ) হতে শিক্ষা নেই নি, নেইনা কোন ঘটনা হতে। আজও তাই নিমতলি হতে সরানো হয়নি রাসায়নিক গুদাম। —– খবরে দেখলাম।

    1. শুধু নিমতলি না ঢাকা দক্ষিনের
      শুধু নিমতলি না ঢাকা দক্ষিনের অনেক এলাকাতেই রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ও গুদাম …………নিমতলি অগ্নিকান্ড ঘটে ২০১০ এ ১৩ তে না

  2. হৃদয়বিদারক একটা ঘটনা। তিনটা
    হৃদয়বিদারক একটা ঘটনা। তিনটা বিবাহযোগ্যা এতিম মেয়েকে নিজের মেয়ে হিসেবে গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর নিজের খরচে তাদেরকে জাঁকজমকের সাথে গণভবনে বিয়ে দিলেন। তাদের স্বামীদের স্ব স্ব যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিরও ব্যবস্থা করে দেন। এমন একটা কষ্টকর ঘটনার পরেও দেশবাসী মাতৃস্নেহের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ দেখেছিলো।
    মানুষের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়া এমন অগ্নিকান্ড না ঘটুক।

    1. তিনটি মেয়ের বিয়ে দিয়ে উনি
      তিনটি মেয়ের বিয়ে দিয়ে উনি অবশ্যই একটি মহৎ কাজ করেছেন কিন্তু আর ও অনেক অসহায় মানুষ আছে অই দুর্ঘটনার শিকার । যারা সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে আর তাছাড়া কোন কিছুই কখন মানুষের জীবনের চেয়ে দামি হতে পারে না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *