জামাত-শিবিরের সরকার গঠনের স্বপ্ন ……

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জামাত-শিবিরের যারা যারা দেশের বিরোধীতা করেছিলো এবং যাদের অপরাধ ছিলো গুরুতর তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর সরকার আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন । আর যাদের অপরাধ কম ছিলো তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন ! ইচ্ছা করলে তিনি তখন এদের সবাইকে “ফায়ারিং স্কোয়াড”-এ নিতে পাড়তেন বা উত্তাল জনসমুদ্রের হাতে ছেড়ে দিতে পারতেন । সঙ্গত কারণেই তিনি তা করেননি । কারণ ? তিনি আসলেই লীডার ছিলেন, অন্য কিছু না । এখন তো অনেকেই বলেন তিনি নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় চান নি ! এই ধরণের মানুষের প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই করার নেই । এইসব মানুষরা হচ্ছেন এক কথায় “নিমকহারাম” ।


১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জামাত-শিবিরের যারা যারা দেশের বিরোধীতা করেছিলো এবং যাদের অপরাধ ছিলো গুরুতর তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর সরকার আইনের আওতায় এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন । আর যাদের অপরাধ কম ছিলো তাদেরকে সাধারণ ক্ষমা করে দেন ! ইচ্ছা করলে তিনি তখন এদের সবাইকে “ফায়ারিং স্কোয়াড”-এ নিতে পাড়তেন বা উত্তাল জনসমুদ্রের হাতে ছেড়ে দিতে পারতেন । সঙ্গত কারণেই তিনি তা করেননি । কারণ ? তিনি আসলেই লীডার ছিলেন, অন্য কিছু না । এখন তো অনেকেই বলেন তিনি নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় চান নি ! এই ধরণের মানুষের প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই করার নেই । এইসব মানুষরা হচ্ছেন এক কথায় “নিমকহারাম” ।

সত্যি কথা বলতে বঙ্গবন্ধু আসলেই বিরাট ভুল করেছিলেন (এই কথা আমার না, এটা আওয়ামিলীগ সহ অন্যান্য প্রায় সকল দলের বড় বড় লীডারকেই স্বীকার করতে দেখেছি)। যে ভুলের খেসারত তিনি তার সমগ্র পরিবারের হত্যা (শুধুমাত্র ভাগ্যগুণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বেচে যান) হওয়ার মাধ্যমে দিয়ে গেছেন । তিনি কখনো বিশ্বাসই করতেন না, বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে না বা তাকে বাংলাদেশী কেউ হত্যা করতে পারে । কিন্তু এখন সব কিছুই ইতিহাস । তিনি ভুলে গেছিলেন এই আমরা বাঙ্গালীরাই বীরের সাথে সাথে মীর-জাফরের জাতি ।

জামাত-শিবির খুবই সুসংগঠিত একটি দল । যা বাংলাদেশের অন্য দলগুলোর মধ্যে দেখা যায় না । তাদের সাধারণ কর্মি থেকে শুরু করে শুরা কমটি পর্যন্ত সব কিছু সিস্টেমেটিক ওয়েতে সংগঠিত হয় । আর আমাদের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যা দেখাটা সত্যি ভাগ্যের বিষয় । বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য জামাত-শিবিরের কাছ থেকে শিক্ষনীয় হচ্ছে – কিভাবে নেতা তৈরি করতে হয় ? বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই যে বিষটার অভাব বেশি দেখা যায় তা হচ্ছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ! দল যদি শীর্ষ নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়ে তবে কে দলকে এগিয়ে নিবে ? যার প্রমাণ গত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের আমলেই দেখা গেছে ।

শুনতে পাই জামাত-শিবির ২০২০ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে বিরাট ভূমিকা রাখবে । মোটা দাগে বলতে গেলে তারাই নাকি সরকার গঠন করবে ! এই কথা শুনতে পাওয়ার পর কি আর ঠিক থাকা যায় ? অনেকে তো একে হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন ! আসলেই কি তা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয় ? আমার তা মনে হয় না । কারণ, ১৯৭৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত জামাত-শিবির যা যা করেছে তা যদি খুব ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় তবে দেখা যাবে জামাত-শিবির বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে । প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যাংক-বীমা-অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল সর্বপরি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও তাদের বিচরণ প্রকট !

একটু অফ টপিক আলোচনা –

বলা হয় পৃথিবীতে যেহেতু ইসলাম ধর্ম সবার শেষে এসেছে, সেহেতু এই ধর্ম খুবই প্রিসাইজ বা সুসংগঠিত । যদি তাই হয় তাহলে পৃথিবী জুড়ে আমরা মুসলমানরাই কেন আজ এত বিতর্কিত ? মুষ্টিমেয় কিছু নামধারী মুসলমানদের জন্য আমরা সাধারণ মুসলমানরা কেন টেরোরিস্ট গ্রুপ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছি ? অনেকে বলতে পারেন এটা পশ্চিমাদের প্রোপাগান্ডা ! আসলেই কি তাই ? এতে আমাদের কি কোনই ভূমিকা নাই ? অবশ্যই আছে । আমরাই ওদেরকে সুযোগ করে দিয়েছি, আমাদেরকে ভূলভাবে উপস্থাপন করে দিয়ে !

আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে মানে মানুষকে তার পথে আনার জন্য শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রবর্তন করেন । যেখানে তিনি কোন উচু-নিচু বিভেদ করেন নি । তিনি সবাইকে সমান করেছেন । আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বেচে থাকতেও কোন বিভক্তি সৃষ্টি করেননি । কিন্তু যেই তিনি ওফাত নিলেন তার পর থেকেই শুরু হয়ে গেল উচু-নিচু বিভেদ । এমনকি অনেকেই তো আবার নিজেকেই নবী হিসাবে দাবী করা শুরু করে দিল ! যেখানে আল্লাহপাক স্বয়ং নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আমাদের শেষ নবী ও রাসূল । তারপরে আর কোন নবী বা রাসূল এই পৃথিবীতে আসবে না । আর আমাদের জীবন ব্যবস্থার জন্য যেহেতু কোরআন শরীফ নাজিল করেছেন তিনি নিজেই একে রক্ষা করবেন । যা আমরা প্রতিনিয়তই দেখে আসছি, কিভাবে তিনি হাফেজ তৈরির মাধ্যমে তা রক্ষা করে যাচ্ছেন ।তারপরও আমরা নাফরমানি জাতি তার (আল্লাহ) সাথে নাফরমানি করে যাচ্ছি !

আজকে আমরা মুসলমানরা বিভিন্ন মাজহাব, সুন্নী-শিয়া-কাদিয়ানিতে বিভক্ত হয়ে গেছি । সুন্নীরা বলছি আমরাই প্রকৃত ইসলামের অনুসারী আবার শিয়ারা বলছে তারা প্রকৃত ইসলামের অনুসারী ! আর ইদানিং তো আরেক দল দাড়িয়েছে আহমেদি বা কাদিয়ানী ! এদের নেতা “গোলাম মোহাম্মদ কাদিয়ানী” । যিনি নাকি গণিত পরীক্ষায় ফেল করে নবী হয়ে গেছেন ! নাউজুবিল্লাহ ।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের জীবন ব্যবস্থাকে সুন্দর করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছিলেন । যেটা খুব দরকার ছিল । যার মধ্যে একটি হচ্ছে শরীয়া আইন । এটা সে সময়কার বর্বর, উগ্র মানব জাতির জন্য খুবই দরকার ছিল । কিন্তু বর্তমানের এই আধুনিক যুগে মানুষ যেখানে খুবই সামাজিক (Exceptional is not example) সেখানে আর সেই শরীয়া আইন এক্সিট করে না । কিন্তু তারপরও আমাদের মধ্যে কিছু এক্সট্রিমিস্ট ধর্মীয় নেতারা তাদের সুবিধার জন্য সেই শরীয়া আইনকে সামনে রেখে অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন । যাদের মধ্যে জামাত-শিবির অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে । বাংলাদেশে জামাত-শিবির বা হেফাজতে ইসলাম আওয়াজ দিছে বা দিচ্ছে তারা দেশে শরিয়া আইন চায় ! আর এই শরিয়া আইন যে বর্তমানে কতটুকু সাংঘর্ষিক আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে তার প্রচুর রেফারেন্স আছে ইউটিউবে । সময় সুযোগ পেলে তার লিংক দেওয়ার চেষ্টা করব ।

ফিরে আসি মূল কথায় –

আর জামাত-শিবির এই ইসলামকে সামনে রেখেই দেশের সাধারণ ধর্মভীরু মানুষদের বোকা বানিয়ে যাচ্ছে । ধর্মনিরপেক্ষ বলে কিছু যে হতে পারে তাই তারা মানতে রাজি না ! সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন তো তাদেরকে আরো আশাবাদি করচ্ছে ।সবারই তো মনে আছে আশা করি – বিজেপির মূলমন্ত্রই ছিলো “হিন্দুত্ববাদ” । সেখানে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে জামাত-শিবির ইসলামতত্ব নিয়ে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখতেই পারে । আর ফিনেনশিয়াল দিক দিয়ে যখন তারা এত সাউন্ড । আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সুযোগেই আছেন কিভাবে জামাত-শিবিরের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায় !

সেই জামাত-শিবিরের সরকার গঠন করার স্বপ্ন দেখাটাই তো স্বাভাবিক । তাদের এই স্বপ্নের কথা শুনে অনেকে বোদ্ধা রাজনিতিকরা তো হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন ! তারা বলেন এটা নাকি জামাত-শিবিরের আকাশ-কুশুম স্বপ্ন । কে কতটুকু তা বিশ্বাস করেন আমি জানি না কিন্তু সম্প্রতি তাদের কর্মকান্ড গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আমার মনে হয়েছে তা মোটেও অসম্ভব নয় তাদের জন্য । তারা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা সত্যি ভাববার বিষয় । আমাদের স্বাধীনতাত্তর ইতিহাস দেখলে দেখা যায় জামাত-শিবির কিভাবে আস্তে আস্তে আমাদের সমাজে নিজেদের বিস্তার বা প্রভাব বজায় রাখে চলেছে । যার উদাহরণ সম্প্রতি বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচন । বলা হয় আওয়ামিলীগ নাকি জামাত-শিবিরের শত্রু ! কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কি তাই বলে ? দলে দলে জামাত-শিবিরের কর্মিরা আওয়ামিলীগে যোগদান, জামাত-শিবির+আওয়ামিলীগ একসাথ হয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন করা ! এই সকল বিষয় কি তার প্রমাণ দেয় না? গত বছর ২০১৩ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারীর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা ঘটেছে বা ঘটচ্ছে তা কি প্রমাণ করে না জামাত-শিবির কতটা সংগঠিত তাদের দলীয় কার্যক্রমে । প্রয়োজনের খাতিরে তারা কতটুকু সহনশীল আবার কতটুকু নির্মম ?

এক দিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন দেশে সাময়িক সময়ে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটছে তা নাকি জামাত-শিবির করছে আর অন্য দিক দিয়ে আমরতা দেখতে পাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামিলীগের সুবিধাভোগী নেতা-নেত্রীরা দলে দলে জামাত-শিবিরের কর্মিদের সাদরে গ্রহণ করে নিচ্ছেন আওয়ামিলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলে ! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো সব জানেন, তবে কেন সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন জামাত-শিবিরের মত একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আপনার দলে প্রবেশ করার ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামিলীগ ছাড়া বিএনপি বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না সরকার গঠন করার, সেখানে বিএনপি-জামাত জোট দুই-দুইবার (বিতর্কিত তিনবার) সরকার গঠন করে ! আবার আওয়ামিলীগ কি করল ? ক্ষমতায় আসার জন্য জামাতের সাথে একই টেবিলে বসল ! দয়া করে কেউ বলতে আসবেন না এটা কোন ভূল কথা (সব কিছুই ইতিহাস, ইচ্ছা করলেই মুছতে পারবেন না। স্বাক্ষী প্রমাণ সবই আছে । পত্র-পত্রিকার ছবি যার বড় প্রমাণ)। আবার যেখানে তখনকার শীর্ষ নেতৃত্বরাই বলেছেন আন্দোলনের সময় অনেককে নিয়েই আন্দোলন করতে হেয়েছিলো । কে কখন কিভাবে এসেছে তা দেখা হয়নি ! এই কথাটি কতটুকু বিশ্বাস যোগ্য বলে আপনি মনে করেন ?

আবার গত সপ্তাহে সরকারের আইনমন্ত্রী যে স্টেটমেন্ট দিছেন তাতে জামাত-শিবিরের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচার করার কফিনে শেষ পেরেগ ঠোকা হয়ে গেছে । সবাই ধারণা করছেন এই বিচার আর হবে না । সরকার শুধু শুধু মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে – যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে বলে ! যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে ক্ষমতায় থাকার একটি ইস্যু মাত্র । কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন এটা হবার নয় । বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে জামাত-শিবিরের বিচার হবেই হবে এবং তা আওয়ামিলীগ সরকারই করবে ।

সুতরাং, জামাত-শিবির নামক দানবকে যদি এখনি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে ভবিষ্যতে কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে । যেমন অবস্থা এখন আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার মত দেশের ।

১৭ thoughts on “জামাত-শিবিরের সরকার গঠনের স্বপ্ন ……

  1. কি জানি কি মন্তব্য
    কি জানি কি মন্তব্য করব—————– জামাত শোধন হয়ে শুদ্ধ পথে আবার যদি আসে, হ্ততো আবার তাঁরা ক্ষমতায় আসবে

  2. জামাত-শিবির নিজে থেকে কখনো
    জামাত-শিবির নিজে থেকে কখনো সরকার গঠন করতে পারবেনা, যদি আওয়ামী লীগ বিএনপে তাদের চান্স না দেয়। কাজেই, জামাত ভবিষ্যতে কি করতে পারে, এটা নিয়ে ভিত হওয়ার কারণ নেই। তারা আসলে তেমন কোন শক্তি না, এবং ভবিষ্যতেও হতে পারবেনা, কারন বাংলাদেশের মানুষ গনতান্ত্রিক দলকেই পছন্দ করে, কোন ইসলামের লেবাসধারী দলকে নয়।

    1. বিজেপির বয়স বলা হয় তিরিশ
      বিজেপির বয়স বলা হয় তিরিশ বছরের মতো। আসলে পার্টিটা শতবর্ষী। তাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার কালিমা ঝেড়ে ফেলার জন্যেই ‘হিন্দু মহাসভা’ নতুন নামে ‘বিজেপি’ হিসেবে আবির্ভুত হয় আশির দশকে। বিপুল বিশাল দল কংগ্রেস কিন্তু বিজেপি বা তার আগের নামের পার্টির রাজনীতি নির্মূলের চেষ্টা করে নি। কংগ্রেস বিজেপিকে নিয়েছিল অনেকটা ‘নেসেসারি ইভিল’ হিসেবে। জনতা দল, সিপিএম, ইত্যাদিকে দুর্বল করার জন্য কংগ্রেস চেয়েছিল এক চিমটি বিজেপি। কিন্তু কট্টর ডানপন্থীদের একটা ব্যাপার হলো, হাওয়া দিলেই বাড়ে। হাওয়া পেতে পেতে আজ সেই বিজেপি কংগ্রেসকে একটি ক্ষুদ্র দলে পরিণত করেছে।

      জামাতকে নতুন নামে নিয়ে আসার একটা কানাঘুষা চলছে কয়েক বছর ধরেই। কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন জামাত মাইনাস যুদ্ধপরাধী ইজ ইকুয়াল টু গুড বয় অ্যান্ড লিট্‌ল বয়। এই তত্ত্ব যে কত অসাড়, বিজেপির উত্থান ও কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থাই তা প্রমাণ করে। বিজেপির গায়ে ছিল মূলত একটিমাত্র হত্যাকান্ডের কালিমা (দাঙ্গা হাঙ্গামা ছাড়া) আর জামাতের গায়ে লক্ষ নিযুত মানুষের গণহত্যার কালিমা। বিজেপির আদর্শ যত খারাপই হউক না কেন, তা কোনো না কোনোভাবে দেশপ্রেম কেন্দ্রিকই ছিল, যেখানে জামাতের আদর্শ যাই হউক না কেন তারা দল হিসেবেই দেশদ্রোহী, দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। সেই জামাতকে ছদ্মবেশ ও ছদ্মনাম উপহার দিয়ে যতই লিটল গুড বয় বানাতে চান না কেন, সে একসময় সব কিছু অধিকার করে নেবে। তবে সিজনাল লীগাররা তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না, ঠিক যেমন সিজনাল ব্যবসায়ীরা ফরমালিন বা কার্বাইড নিয়ে চিন্তা করে না যে অনেক পরে দেশের কি ক্ষতি হবে।

      যুদ্ধপরাধের অভিযোগে জামাতের বিচার হলে যেটা হবে, অন্য নামেও তারা সংগঠিত হতে পারবে না, জেএমবি, হুজি, হিতা ইত্যাদি যেমন পারে না। ব্যক্তিগতভাবেও তাদের সদস্যরা অন্য দলে সহজে ভিড়তে পারবেন না। তবে শুধু নিবন্ধন বাতিল হলে তারা সহজেই নতুন নামে একটি মডার্ন লিবারেল ইসলামিস্ট মুখোশের দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে। যেহেতু চিহ্নিত বড় সাইজের যুদ্ধপরাধীরা জেলের ভেতরে এখন এবং সেই গুড লিটল বয় এর সদস্যরা বেশীরভাগই তরুণ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম, তাই তারা সহজেই নিজেরাই নিজেদেরকে যুদ্ধপরাধীমুক্তদল সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে পারবে। সেই সার্টিফিকেটে সীলছাপ্পরও হয়তো অনেকে দেবেন, কেউ কেউ হয়তো নাস্তিক ট্যাগ খাওয়া থেকে বাঁচতে। তবে সেই গুড লিটল বয় যে কত বড় হিংস্র দানব হিসেবে আবির্ভূত হবে, ইতিহাস তার পূর্বাভাস দেয়।

      দায়িত্বশীলেরা দয়া করে কয়েকটি কথা মনে রাখবেন, জামাতের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরাঃ
      ১/ মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ ও ইন্ডিয়ার কারসাজি মনে করে,
      ২/ বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্থপতি মনে করে না,
      ৩/ ১৯৭১ এর গণহত্যাকে স্বীকার করে না,
      ৪/ ১৯৭৫ এর হত্যাকান্ডকে সমর্থন করে,
      ৫/ রাষ্ট্রের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা বা অসাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে,
      ৬/ বাঙালি পরিচয় স্বীকার করে না।

      আর, মনে রাখবেন, বঙ্গবন্ধু শুধু এই দলটিকেই নিষিদ্ধ করেন নাই, তাদের ধারার সকল রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। জেনারেল জিয়া এসে ফরমান জারি করে তাদের মুক্ত করেন ও আবার রাজনীতি করার, শক্তি সঞ্চয় করার, প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ করে দেন। সুপ্রীম কোর্ট সেই সব ফরমান বাতিল করে দিয়েছে, জেনারেল জিয়ার পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে। অর্থাৎ, জামাত ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ও জেনারেল জিয়ার ছেড়ে দেয়া এগারো হাজার যুদ্ধপরাধী ইতিমধ্যেই বিচারাধীন হয়ে যাবার কথা। আমরা দেখতে চাই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ এবং সুপ্রীম কোর্টের রায় এক অবৈধ স্বৈরশাসকের বাতিল হওয়া ঘৃণ্য ফরমানের থেকে অনেক বেশী শক্তি রাখে। জনগনকে সাথে রাখুন, জনগণ পাশে থাকলে কোনো অপশক্তির চাপ বা ষড়যন্ত্রই সফল হয় না, বঙ্গবন্ধু দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তা। জয় বাংলার জয় হউক। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চিরজীবী হউক।

      — Shams Rasheed জয়

      1. সদস্যরাঃ
        ১/ মুক্তিযুদ্ধকে

        সদস্যরাঃ
        ১/ মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ ও ইন্ডিয়ার কারসাজি মনে করে,
        ২/ বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্থপতি মনে করে না,
        ৩/ ১৯৭১ এর গণহত্যাকে স্বীকার করে না,
        ৪/ ১৯৭৫ এর হত্যাকান্ডকে সমর্থন করে,
        ৫/ রাষ্ট্রের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা বা অসাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে,
        ৬/ বাঙালি পরিচয় স্বীকার করে না।

        এসব কারণেই কখনো তারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবেনা, যেটা ভারতে বিজেপি পেরেছে।

      2. ভাই রা উপজেলা নির্বাচনে
        ভাই রা উপজেলা নির্বাচনে জামাতকে ভোট দিল কে, তাঁরা আমিলিগ ও বি এন পি হতে বেশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিরবাচিত হয়েছে

  3. জামাত কখনো একক ভাবে রাষ্ট্র
    জামাত কখনো একক ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে না যদি না আওয়ামীলীগ বা বিএনপি এদের কাঁধে উঠায়।
    তবে হ্যাঁ, ভবিষ্যতে এই দেশে দুইতা দলের অস্তিত্ব থাকবে। এক হচ্ছে আওয়ামীলীগ আর দুই হচ্ছে জামাত-শিবির।

      1. আঁতাতের কোন বিষয় নয়। এটা
        আঁতাতের কোন বিষয় নয়। এটা সক্ষমতার বিষয়। এই বিচার ঠেকাতে জামাত যে পরিমাণ টাকা বিদেশে বিনিয়োগ করেছে তা অকল্পনীয়। এছাড়া আরও অনেক বিষয় আছে যা এখানে বলা সম্ভব নয়।

    1. অলরেডি দুই ট্রাম তো বিএনপি-এর
      অলরেডি দুই ট্রাম তো বিএনপি-এর লেজুড়বৃত্তি করেই জামাত সরকার গঠন করেছিল ! তাই না ? এখন ভাববার এবং দেখবার বিষয় আওয়ামিলীগ কি করে ? তবে এদের গতি যা বলে তাতে অদূরভবিষ্যতে মনে হয় না কারো লেজুড়বৃত্তি করতে হবে । Because money is the big factor………..

  4. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো সব জানেন, তবে কেন সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন জামাত-শিবিরের মত একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আপনার দলে প্রবেশ করার ।

    সন্ত্রাসিরা গডফাদারদের কাছে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

    1. হি হি হিহি মাননীয়
      হি হি হিহি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো সব জানেন, তবে কেন সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন জামাত-শিবিরের মত একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আপনার দলে প্রবেশ করার ।

  5. এই কাজটা করছে স্থানীয় নেতারা।
    এই কাজটা করছে স্থানীয় নেতারা। তারা টাকার বিনিময়ে এমন কোন কাজ নাই যে, করতেছে না।কিন্তু তারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে যে, এরা কখনো প্রকৃত লীগ হবে না।
    কারণ, শুয়োরের বাচ্চা সবসময় শুয়োর হয়। আর রাজাকারের বাচ্চা সবসময় রাজাকার হয়।

    1. এই কথাটা আমি, আপনি এবং আমরা
      এই কথাটা আমি, আপনি এবং আমরা বিশ্বাস করি । কিন্তু একটা জিনিষ খেয়াল করে দেখেন এই আমাদের সংখ্যা কতজন ? ১৬ কোটি জনসংখ্যার কত অংশই বা আমরা এই জামাত-শিবির নিয়ে সচেতন । দাড়ি রাখলেই যেমন জামাত-শিবির নয় ঠিক তেমনি দাড়ি ছাড়াও মানুষজন জামাত-শিবির সাপোর্ট করে ! জয় ভাইয়ের বুলেট পয়েন্টগুলাই আবার দিচ্ছি –

      ১/ মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ ও ইন্ডিয়ার কারসাজি মনে করে,
      ২/ বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্থপতি মনে করে না,
      ৩/ ১৯৭১ এর গণহত্যাকে স্বীকার করে না,
      ৪/ ১৯৭৫ এর হত্যাকান্ডকে সমর্থন করে,
      ৫/ রাষ্ট্রের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা বা অসাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করে,
      ৬/ বাঙালি পরিচয় স্বীকার করে না।

      এই পয়েন্টগুলা তারা তাদের নিউ জেনারেশনকে ব্রেইন ওয়াশ করে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে । আমি নিজেই তার স্বাক্ষী । লন্ডনে আমি এমন অনেক ছেলেকে দেখেছি । এমনকি আমার ক্লাশেও এমন পোলা-পাইন দেখেছি যারা এইসব বিশ্বাস করে । এদের সাথে যত তর্কই করি না কেন এরা অন্য কোন কিছু বিশ্বাস করতে চায় না ! বুঝেন এবার অবস্থা । আর সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনের কথা না বাদই দিলাম ।

      আমি ঢাকার ছেলে । জন্ম এবং বড় হওয়া এই শহরে । সত্যি কথা বলতে একটা বয়স পর্যন্ত ঢাকা ছাড়া সব কিছু ছিল গ্রাম । ভূল ভেঙ্গেছে অনেক পরে । ঢাকা বাংলাদেশের ক্যাপিটাল । তার মানে এই না ঢাকাই বাংলাদেশ । বাংলাদেশ ৬৪ জেলা নিয়ে গঠিত । যেখানে ঢাকাও একটি জেলা এবং বিভাগ ।

      জামাত-শিবির যে গতিতে বা যেভাবে সেটআপ তৈরি করছে তাতে মনে হয় না অদূর ভবিষ্যতে ওদের কাওকে দরকার হবে । কারণ আমাদের বেশিরভাগই নীতিহীন এবং লক্ষ্যহীন !

  6. জামাত-শিবির যে গতিতে বা

    জামাত-শিবির যে গতিতে বা যেভাবে সেটআপ তৈরি করছে তাতে মনে হয় না অদূর ভবিষ্যতে ওদের কাওকে দরকার হবে । কারণ আমাদের বেশিরভাগই নীতিহীন এবং লক্ষ্যহীন !

    পুরোপুরি সহমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *