গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৬

গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৬

পর্ব: ০৫

রুমাল চোর

একটি চমৎকার বুদ্ধিমত্তার খেলা হচ্ছে রুমাল চোর খেলা। অনেক অঞ্চলে এটি ‘মুড়াখেলা’ নামে পরিচিত।

গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৬

পর্ব: ০৫

রুমাল চোর

একটি চমৎকার বুদ্ধিমত্তার খেলা হচ্ছে রুমাল চোর খেলা। অনেক অঞ্চলে এটি ‘মুড়াখেলা’ নামে পরিচিত।
গ্রামাঞ্চলে সাধারণত বনভোজন, স্কুলে বা গ্রামে ছেলে মেয়েরা কিংবা কোনও অনুষ্ঠানে সময় কাটানোর জন্য এক সময় অপরিহার্য ছিল ‘রুমাল চোর’ খেলা। কারণ, এই খেলায় একটি রুমাল অথবা এক টুকরো কাপড় ছাড়া আনুষঙ্গিক কোনও সরঞ্জাম লাগে না ।

খেলয়াড়ঃ ৫/৮/১০/১৫ জন ছেলেমেয়ে একত্রে কিংবা আলাদা ভাবেও ‘রুমাল চোর’ খেলা খেলা যায়।কিন্তু চচার্র অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলা।

চোর নির্বাচনঃ প্রথমে ‘উবু-দশ-কুড়ি’ বা অন্য কোনও গণনা-পদ্ধতির মাধ্যমে(কানামাছি খেলায় যেমন করে চোর বানানো হয়) একজনের চোর নির্ধারণ করা হয়।

খেলার নিয়মঃ চোর নির্ধারণের পর চোরকে একটি রুমাল বা একটুকরো কাপড় হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। চোর ছাড়া দলের বাকি খেলোয়াড়রা বসে বৃত্তাকারে বা গোল হয়ে কেন্দ্রের দিকে চেয়ে। এরপর চোরকে রুমাল হাতে নিয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়াতে হয়।

খেলোয়াড়রা ‘রেডি’ বলার পর তাদের ঘিরে বৃত্তাকারে ঘুরতে হবে চোরকে । ঘুরতে ঘুরতে খুব সন্তর্পণে কোনও একজন খেলোয়াড়ের পেছনে রুমালটি রেখে দিতে হবে। তাই এই সময় সজাগ থাকতে হয় অন্য খেলোয়াড়দের। তারপর একপাক ঘুরে আসার পর যার পেছনে রুমাল রাখা হয়েছে সে যদি টের না পায় অর্থাৎ চরুমাল রাখার বিষয়টি টের না পেয়ে বসেই থাকে, তাহলে তার কপালে জোটে মহা দুর্ভোগ। বমাল অর্থাৎ রুমাল-সহ ধরা পড়ায় ওই খেলোয়াড় এর পিঠে চোর গুমগুম করে কিল মারার সুযোগ লাভ করে। ব্যস, সে-ই হবে নতুন চোর। আর পুরান চোর বসে পড়বে নতুন চোরের জায়গায়।

আর সে যদি টের পেয়ে যায় তাহলে সে রুমালটি নিয়ে চোরকে কিল মারতে যাবে। তবে কিল মারার সময় চোরের পিছনে বেশি দৌড়ানো যাবে না, কারণ চোর যদি তার জায়গায় বসে যায় তাহলে সে আবার চোর হবে। এই ভাবে খেলা চলবে যতক্ষণ ইচ্ছে_ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
কোথাও কোথাও চোর

পেছনে রুমাল ফেলেছে কিনা তা হাত দিয়ে দেখার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আন্দাজ ভুল হলে মুশকিলে পড়তে হয় ওই খেলোয়াড়কে। কেননা রুমাল আছে এই আশঙ্কায় পেছনে হাত দিয়ে বোকা বনে গেলে, সেই খেলোয়াণের চোর হওয়ার নিয়মও চালু আছে অঞ্চলভেদে।

ষোল গুটি খেলাঃ

আবহমান বাঙালি জীবনের সাথে যে সকল

খেলাধুলা জড়িয়ে আছে চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ষোলগুটি খেলা। এ খেলাটি বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই প্রচলিত। বিশেষত গ্রাম এলাকায় এটি একটি জনপ্রিয় খেলা। ঠিক কবে থেকে খেলাটি চালু হয়েছে এ ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও এটি এদেশের একটি প্রাচীন ও দেশীয় খেলা। ষোল গুটি বুদ্ধির খেলা। খেলার পদ্ধতি ছকে যুদ্ধের কৌশল প্রচ্ছন্ন রয়েছে। এদিক থেকে খেলাটি দাবার সমধর্মী বলা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে এই খেলার প্রচলন আছে। চট্টগ্রামে এই খেলাটি ‘মোঘল- পাঠান খেলা’ নামে পরিচিত।

দাবা খেলার গ্রাম্য সংস্করণ ষোল গুটি

খেলা। ষোল গুটি বাংলাদেশের গ্রামীন পুরুষদের অন্যতম প্রধান খেলা। অলস অবসরে গ্রামের যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা ষোলগুটি খেলে। মাটিতে দাগ কেটে শুকনো ডাল ভেঙ্গে গুটি বানিয়ে চলে এই দীর্ঘমেয়াদি খেলা। বুদ্ধি, ধৈর্য, কৌশল ও সতর্কতার সাথে খেলাটি খেলতে হয় বলে বয়স্ক লোকসহ সব বয়েসের লোকেরা এই খেলা খেলে থাকে। এই খেলার উপকরণ একদম সহজলভ্য।
খেলার নিয়মাবলীঃ

দুজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এই খেলা হয়ে থাকে। উভয় খেলোয়াড় ১৬ টি করে মোট ৩২ টি গুটি দিয়ে এই খেলা খেলে থাকে। খেলার সুবিধার্থে উভয়পক্ষের গুটির বর্ণ আলাদা হয়। সাধারণত মাটিতে দাগ কেটে ষোল গুটির ঘর বানানো হয়। প্রতি পক্ষেই ১৬টি করে গুটি থাকে। শুধু ঘরের মাঝখানের দাগটি

দান চালার জন্য খালি থাকে। কোনাকুনি দাগের গুটিগুলো সারা ঘর জুড়ে এক ঘর করে কোনাকুনি খেতে পারে। উলম্ব দাগ কাটা ঘরের

গুটিগুলো লম্বভাবে এক ঘর করে খেতে পারে। অপর পক্ষের গুটিকে ডিঙ্গাতে পারলেই সে গুটি কাটা পড়ে। এই ভাবে প্রতিপক্ষের গুটির সংখ্যা কমিয়ে শূন্য করে ফেলতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়। তবে অঞ্চলভেদে ১৩টি কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক গুটি খেয়ে ফেলতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে

খেলা শুরুর আগেই সংখ্যাটি ঠিক করে নেয়া হয়। ষোল গুটির আর একটি রূপান্তর হলো বাঘ ছাগল খেলা। এক পক্ষ ষোলটি গুটি নেয় এবং অন্য পক্ষ একটি গুটি নিয়ে বাঘ ছাগল খেলা খেলে। একটি গুটিকে বাঘ এবং ষোলটি গুটিকে

ছাগল বলে। বাঘের কোনাকুনি এবং লম্বালম্বি সব ধরনের গতিই বৈধ। ছাগল বা ষোল গুটির চাল অন্য খেলার মতই। ১৬ গুটি দিয়ে বাঘের চাল বন্ধ করে দিতে পারলেই খেলা শেষ হয়ে যায়। আর বাঘ চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের সবগুলো গুটিকে খেয়ে নিতে।

আধুনিক সংস্করনঃ
এখন হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর যুগ। বর্তমানে কম্পিউটারে এই খেলাটি খেলা যায়।১৬ গুটি খেলাটির সবচেয়ে আধুনিক সংস্করন বর্তমানে আন্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য ডেভেলাপ করা হয়েছে। এই অ্যাপ্লিকেশনটি গুগল প্লে স্টোর থেকে সংগ্রহ করা যাবে। https://play.google.com/store/recommended?sp=CAEwAA%3D%3D:S:ANO1ljJWlbk&c=apps

অবসরের খেলা হওয়া সত্ত্বেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে নির্মল বাঙালিয়ানার ছাপ। অন্যান্য দেশীয় খেলার পাশাপাশি আপন ঐতিহ্যে টিকে থাকুক প্রাণের খেলা ষোলগুটি- বাংলায়, বাঙালিয়ানায়; সব সময়।

১৪ thoughts on “গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৬

  1. আবারো একটি অসাধারণ লেখার
    আবারো একটি অসাধারণ লেখার জন্য অভিনন্দন!
    অফটপিকঃ আকাশ ভাই, আপনার পুরো নাম কি রোকন রাইয়ান?

      1. ওরে আমার মডু ভাই, মওলা ভাই
        ওরে আমার মডু ভাই, মওলা ভাই …

        :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  2. গ্রামে এখনো এই খেলাগুলোর
    গ্রামে এখনো এই খেলাগুলোর প্রচলন আছে। শহরে শ্রমিক অধ্যুসিত জায়গাগুলো ১৬গুটি খেলতে এখনো দেখা যায়। ছোটবেলায় উপরের খেলাগুলো আমরা অনেক খেলেছি। সুন্দর পোস্ট।

  3. বৃষ্টির দিনে শীম এর বিচি, কাঠ
    বৃষ্টির দিনে শীম এর বিচি, কাঠ কয়লা এসব দিয়ে ঘরের দাওয়ায় বসে ১৬ গুটি খেলার কথা মনে পড়ে যায়…. আহা…

  4. পুরাই কপি পেস্ট। আপনার পুরা
    পুরাই কপি পেস্ট। আপনার পুরা সিরিজটাই কপিপেস্ট!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *