কোন সংগঠন যদি একাধিক অপরাধ করে থাকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারেঃ নির্মূল কমিটি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাত্তরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিচার সম্পর্কে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন সে বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ জ্ঞাপন করেছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। আজ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়―


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাত্তরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীর বিচার সম্পর্কে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন সে বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ জ্ঞাপন করেছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। আজ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়―

‘২৯ ও ৩০ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াতে ইসলামীর চলমান বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তা আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, ১) আইসিটির আইনে সংগঠনের বিচারের কথা বলা হলেও শাস্তির কোনও উল্লেখ না থাকার কারণে এ মুহূর্তে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যাবে না, ২) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামায়াতের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এই মুহূর্তে আইসিটিতে জামায়াতের বিচার করা হলে ওই মামলায় প্রভাব পড়তে পারে এবং ৩) জামায়াতের যে সব নেতা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তাদের কয়েকজনের বিচার ও শাস্তি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার তাদের শাস্তি হলে আগের শাস্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এসব বিবেচনায় আইনমন্ত্রী এখনই জামায়াতের বিচার না করার পক্ষে তার অভিমত গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

‘একাত্তরের গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের বিচার সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্যে আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছি। আমরা মনে করি ’৭১-এর গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইসিটিতে যে বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে আইনমন্ত্রীর অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর এই বক্তব্যের কারণে তা বিঘিœত হবে। একইসঙ্গে গোটা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিলম্বিত করবার জন্য জামায়াতে ইসলামী দেশে-বিদেশে যে বহুমাত্রিক তৎপরতা চালাচ্ছে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য সে ক্ষেত্রেও ইন্ধন জোগাবে।

‘আমরা জানি মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে এই বিচারের ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা সবসময় উল্লেখ করেছেন। গত ২২ বছর ধরে আমরা ’৭১-এর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য দলের বিচারের কথা বলছি। ব্যক্তির পাশাপাশি দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি সংগঠন এবং এসব দলের ঘাতক বাহিনীসমূহের বিচার না হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি প্রহসনে পরিণত হবে। ট্রাইবুনালে জামায়াতের যেসব নেতার বিচার হয়েছে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। জামায়াতের দলীয় দর্শন গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। দলের বিচারের ক্ষেত্রে শাস্তি কী হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারকদের, আইনমন্ত্রীর নয়। নুরেমবার্গ ট্রাইবুনালসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাপরাধের জন্য অপরাধী সংগঠনের বিচার কীভাবে হয়েছে, কীভাবে শাস্তি দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে যদি আইনমন্ত্রী জ্ঞাত থাকতেন তাহলে এ ধরনের মন্তব্য তিনি করতে পারতেন না। সুপ্রিম কোর্টে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত আপিলের সঙ্গে আইসিটিতে যে অপরাধে জামায়াতের বিচার হবে তার কোন সম্পর্ক নেই। চট্টগ্রামের আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিচার চলাকালে আইসিটিতে তার বিচার চলমান ছিল। জামায়াতের আইনজীবী কখনও বলেননি এক ব্যক্তির দুই আদালতে এক সঙ্গে বিচার হতে পারে না। কোন সংগঠন যদি একাধিক অপরাধ করে থাকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারে, এটি সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়, এর জন্য আইনজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের নিকট বিচারপ্রত্যাশী সমগ্র জাতি, বিশেষভাবে ৩০ লক্ষ শহীদ পরিবারের আকুল আহ্বান হচ্ছে― যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সকল বাধা ও বিভ্রান্তি দ্রুত অপসারণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং অঙ্গীকার পূরণ করুন। এই বিচারের ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের কালক্ষেপণ জামায়াত ও স্বাধীনতাবিরোধীদের অবস্থান শক্তিশালী করবে এবং একই সঙ্গে তা আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে।’

স্বাক্ষরদাতাঃ
বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, বিচারপতি সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, সাংবাদিক কামাল লোহানী, অধ্যাপক অজয় রায়, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, লেঃ কর্ণেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, ডঃ নুরন নবী, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন, অধ্যাপিকা হামিদা বানু, শিল্পী হাশেম খান, স্থপতি রবিউল হুসাইন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, কলাম লেখক মমতাজ লতিফ, সমাজকর্মী নূরজাহান বোস, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার, শহীদজায়া সালমা হক, সমাজকর্মী আরমা দত্ত, শিল্পী আবুল বারক আলভী, মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল, কাজী মুকুল, অধ্যাপক গাজী সালেহউদ্দিন, সাব্বির রহমান খান, এডভোকেট খন্দকার আবদুল মান্নান, কলাম লেখক সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, ড. মোহাম্মদ সেলিম, সমাজকর্মী কাজী লুৎফর রহমান, গ্র“প ক্যাপ্টেন (অবঃ) ফজলুল হক, লেখক আলী আকবর টাবি, ডাঃ সৈয়দ শাফিকুল আলম, অধ্যাপিকা জারিনা রহমান খান, সাংবাদিক জুলফিকার আলি মাণিক, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব, ডাঃ নুজহাত চৌধুরী, অধ্যাপক মোঃ আয়েশ উদ্দিন, এডভোকেট বায়েজিদ আক্কাস, সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন, মহব্বত হোসেন খান, প্রভাষক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, এডভোকেট কে এম আবদুস সালাম, কবি জয়দুল হোসেন, খোন্দকার আবদুল মালেক শহীদুল্লাহ্, গোলাম মোহাম্মদ ঈদু, আবদুল গফ্ফার, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, শামসুল আলম মঞ্জু, মশিউর রহমান খোকন, এডভোকেট হাবিবউল্লা চৌধুরী, চন্দন শীল, আনসার আহমদউল্লা প্রমুখ।

ধন্যবাদান্তে,

কাজী মুকুল
সাধারন সম্পাদক,
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ,
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
৩০মে ২০১৪

৯ thoughts on “কোন সংগঠন যদি একাধিক অপরাধ করে থাকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হতে পারেঃ নির্মূল কমিটি

  1. ১) আইসিটির আইনে সংগঠনের

    ১) আইসিটির আইনে সংগঠনের বিচারের কথা বলা হলেও শাস্তির কোনও উল্লেখ না থাকার কারণে এ মুহূর্তে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যাবে না

    বিচার করা হবে, কিন্তু শাস্তির উল্লেখ নাই, এটা কেমন আইন করা হল!! :-B

  2. জামায়াতকে রক্ষা করার দায়িত্ব
    জামায়াতকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামীলীগ বিএনপি’র চেয়ে অনেক বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। চেতনার ব্যবসা করতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের সাথে বিশাল প্রতারণা করেছে। নির্মূল কমিটিকে এই ইস্যুতে সোচ্চার দেখতে চাই।

    1. সব ইসলামী ব্যাংকের টাকার
      সব ইসলামী ব্যাংকের টাকার খেলা। সাবেক বলে সফিক সাহেব টাকা পায়না, আনিস সাহেব টাকা পাচ্ছে। অবশ্য সফিক সাহেব স্কাইপি কেলেংকারীতে জিয়াউদ্দিনের মাধ্যমে জামায়াতের অনেক টাকা ICSF থেকে কামিয়েছেন। বলতে গেলে সে অনেক কথা। এই জিয়াউদ্দিনের সাথে ট্রিবিউন গ্রুপের আবার বিশাল দহরম-মহরম।

  3. আইনমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য
    আইনমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য সরকারী বক্তব্য হিসাবেই গণ্য হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত নিষিদ্ধ বিষয়ে সরকারের মনোভাব জানা গেছে। আদতে সরকার নিজেই চাচ্ছেন না জামাতের রাজনিতি নিষিদ্ধ করা হোক। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির এই ইস্যু নিয়ে কার্যকর ভুমিকা দাবী করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *