কর্ণ-যে ভাবে আমরা শব্দ শুনতে পাই, বহি কর্ণ,পর্ব-২৮(২)

আপনারা ২৭-১ পর্বে জানতে পেরেছেন শব্দ তরঙ্গ কী ভাবে উৎপত্তি হয় ও কীভাবে তা আমাদের কর্ণ কুহরে পৌছায়।(চিত্র-১)

এর পরে কী ঘটে?

এরপর এই শব্দ তরঙ্গকে কর্ণের ৩টি কক্ষকে অতিক্রম করতে হয়্। এগুলী হল-
১)বহি কর্ণ (EXTERNAL EAR)
২)মধ্য কর্ন (MIDDLE EAR)
৩)আভ্যন্তরীন কর্ণ (INNER EAR)চিত্র-২

তার পর কী ঘটে?

আপনারা ২৭-১ পর্বে জানতে পেরেছেন শব্দ তরঙ্গ কী ভাবে উৎপত্তি হয় ও কীভাবে তা আমাদের কর্ণ কুহরে পৌছায়।(চিত্র-১)

এর পরে কী ঘটে?

এরপর এই শব্দ তরঙ্গকে কর্ণের ৩টি কক্ষকে অতিক্রম করতে হয়্। এগুলী হল-
১)বহি কর্ণ (EXTERNAL EAR)
২)মধ্য কর্ন (MIDDLE EAR)
৩)আভ্যন্তরীন কর্ণ (INNER EAR)চিত্র-২

তার পর কী ঘটে?
কর্নের শেষ বা আভ্যন্তরীন কক্ষে শব্দ তরঙ্গ পৌছাইলে সেখানকার RECEPTOR কোষ (HAIR CELL)এই শব্দ তরঙ্গকে সংগহ করে সরাসরি বৈদ্যুতিক প্রবাহে রুপান্তরিত করে ফেলে। তারপর এই RECEPTOR কোষ এই বৈদ্যুতিক প্রবাহকে মস্তিস্কের ৮ম বিশেষ স্নায়ূ,AUDITORY স্নায়ু,এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে মস্তিস্কের TEMPORAL LOBE এ অবস্থিত AUDITORY CENTER বা শ্রুতি কেন্দ্রে পৌছাইয়া দেয়।চিত্র-৩

তখন মস্তিস্ক এই তরঙ্গকে বিশ্লেষন করে ফেল্লে আমরা শব্দটা সম্পর্কে সবকিছু জানতে ও বুঝতে পারি।
তখন আমরা বুঝতে পারি এটা আমাদের শত্রুর শব্দ নাকি মিত্রের শব্দ।এই শব্দ আমাকে কী বার্তা দিচ্ছে,ইত্যাদি সব কিছু।

এবার তাহলে কর্ণের প্রথম কক্ষ,বহি কর্ণ, (EXTERNAL EAR) কি বস্তু একটু দেখা যাক।

কর্ণের ৩টি কক্ষের মধ্যে একমাত্র এই বহি কর্ণ অংশ টুকুই দর্শন যোগ্য অংশ। বাকী দুইটি কক্ষ আমাদের দৃষ্টির সম্পূর্ণ অগোচরে।

বহি কর্ণের ৩ টি অংস আছে, যেমন-
১) AURICLE (কানের লতি)
২) EXTERNAL AUDITORY MEATUS (বহি কর্ণ সুড়ঙ্গ পথ)
৩)TYMPANIC MEMBRANE ( OUTER SURFACE) কানের পর্দা (বহি-তল)

এবার এর একটা একটা করে দেখা যাক-
১) AURICLE (কানের লতি)

AURICLE (কানের লতি) আমরা সবাই খালি চোখে দেখতে সক্ষম হই।এর বিভিন্ন অংশের ভিন্ন ভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে। (চিত্র-১ দেখুন)

এটা মাংসপেশী ও FIBRO CARTILAGE দ্বারা তৈরী।এর বাইরের পার্শটা CONCAVE, এবং এখান থেকে কর্ণের বহি সুড়ঙ্গ পথ আরম্ভ হয়ে ভিতরের দিকে চলে গিয়েছে।

এটা এমন ভাবে তৈরী যেন,বাহির হতে আগত শব্দ তরঙ্গ কে একত্রিত করিয়া তার দিকটা বহি সুড়ঙ্গ এর মধ্যে ধাবিত করে দিতে পারে, ঠিক যেমনটা একটা বড় পাত্র হতে ছোট একটা বোতলের সরু মুখের মধ্য মধ্য দিয়ে তেল ঢালিবার সময় একটা কাফা ব্যবহার করিয়া আমরা, তেল পড়ার দিকটা ছোট বোতলটার অভ্যন্তরের দিকে নিশ্চিত করে থাকি।(১)

২) EXTERNAL AUDITORY MEATUS (বহি কর্ণ সুড়ঙ্গ পথ)

এই সুড়ঙ্গ পথটি আরম্ভ হয়েছে বাহিরে কর্ণের লতি হতে এবং শেষ হয়েছে অভ্যন্তরে কানের পর্দার বহি-তলে।এর বাহিরের মুখটা একেবার সরাসরি উন্মুক্ত না থেকে কানের লতির TRAGUS নামক অংস দ্বারা আংশিক ঢেকে রাখা আছে,একটা নিরাপত্তা বাধা হিসাবে,যাতে একেবারে সরাসরি এই পথে কিছু ঢুকে না পড়তে পারে।

এই সুড়ঙ্গ পথটি প্রায় ১ ইঞ্চি দৈর্ঘ ও ০.২৮ ইঞ্চি ব্যাস। এই সুড়ঙ্গের গতিপথটাও একেবারে সরল সোজাপথে নয়।সামান্য একটু বাঁকা আছে। এই বক্রতাও কিছুটা আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা এনেছে।

এর গতি পথ বাহির হতে সম্মুখ ও নীচের দিকে।
এর চর্মে এক ধরনের গ্লান্ড আছে যা WAX নিসরন করে।এর প্রাচীর ভিতরে ২/৩ অংশ অস্থি ও বাহিরের ১/৩ অংস FIBRO CARTILAGE দ্বারা আবৃত।চিত্র-২ (১)

৩)TYMPANIC MEMBRANE ( OUTER SURFACE), কানের পর্দা (বহি-তল)
কর্ণের বহি সুড়ঙ্গ শেষ হয়েছে কর্ণের পর্দার বহি তলে। শব্দ তরঙ্গের বায়ুমন্ডলে চলার পথ এখানেই শেষ হয়ে যায়।তবে শব্দের তরঙ্গ কানের পর্দার উপর আঘাত করে অপর পৃষ্ঠে মধ্য কর্ণে, আর একটি তরঙ্গ উৎপন্ন করে দেয়, ঠিক যেমন তবলার চামড়ার পিঠে আঘাত করলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।

এরপর যখন মধ্য কর্ণ বর্ণনা করা হবে তখন জানতে পারবেন,মধ্য কর্ণের ঘটনা ও ওখান থেকে শব্দ তরঙ্গ কোন মাধ্যম ব্যবহার করিয়া আভ্যন্তরীন কর্ণে পৌছায়।

যেহেতু সুড়ঙ্গ পথটি একেবারে সরল পথ নয় ও ওখানে আলোক পৌছায় না, এই কারনে কর্ণের পর্দাটি দেখতে AURIOSCOPE নামক একটি যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়.যাতে ব্যাটারী আলোক ও ম্যাগনিফাইং গ্লাস সংযুক্ত থাকে।

এই যন্ত্র দ্বারা পর্দাটির বহিতল (OUTER SURFACE)পরিস্কার ভাবে দেখা যায়।কিন্তু পর্দার আভ্যন্তরীন তল (INNER SURFASE)যা মধ্য কর্ণের দিকে থাকে তা কখনো দেখা সম্ভব হয়না।
(চিত্র-২ ও ৪ দেখুন)

এর বিভিন্ন অংস গুলীর নাম চিত্র-৪ এ দেখতে পারেন। তবে মধ্য কর্ণ বর্ণনার পূর্বে পর্দার সব কিছু জানতে পারবেননা।
কী কী অসুবিধা ঘটতে পারে এই পর্দার?

হাঁ, অবশ্যই অনেক রকমের অসুবিধা ঘটতে পারে কানের পর্দায়।
এই পর্দা যদি কোন ভাবে ফেটে যায় বা ছিদ্র হয়ে যায় তা হলে এই পর্দা শব্দ তরঙ্গ অভ্যন্তর পাঠাতেও পারবেনা আর আপনি ঐ কান দিয়ে আর কখনো শুনতেও পারবেননা।

কী কী কারনে কানের পর্দা ফাটতে বা ছিদ্র হতে পারে?
যেমন-

১)কানে কোন অপরিস্কার পানি বা কিছু ঢুকলে,জীবানু মুক্ত না করে কোন শলাকা দ্বারা কান পরিস্কার করলে বা কানে ঢুকালে।

২)আপনার কোন বন্ধু আপনার সরাসরি কানের উপর একটা থাপ্পড় মারলে বা কানের নিকট বিকট শব্দের একটা বিস্ফোরক পটকা ফুটাইলে, তখন হঠাৎ অতি উচ্চ শব্দ তরঙ্গ সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে সরাসরি কানের পর্দায় সজোরে আখাত করার কারনে, সংগে সংগে কানের পর্দা ফেটে যায়।

৩)এমন কোন যায়গার যদি বসবাস করা হয়,যেমন বড় বড় এয়ার পোর্টের, বা কোন কারখানার নিকটে, যেখানে অনবরত উচ্চ শব্দ শুনা লাগে, তাহলে আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক মাত্রার শব্দ শুনার ক্ষমতা হারাতে থাকবে।তাকে উচ্চস্বরে না বল্লে আর শুনতে পারবেনা।

৪)জন্ম থেকে কোন কারণে বধির হলে সে বোবাও হয়, কারণ আমরা শিশু কালে কথা বলা শিখি কথা শুনে শুনে।

বহিকর্ণ এ পর্যন্ত সমাপ্ত। আগামী পর্বে মধ্য কর্ণ সম্পর্কে জানতে পারবেন।

চিত্র-১, বহি কর্ণের লতি।


চিত্র-২, কর্ণের ৩টি কক্ষ।


চিত্র-৩, মস্তিস্কে HEARING CENTER, যেখানে শব্দের সর্বশেষ বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পৌছায়।


চিত্র-৪ TYMPANIC MEMBRAME (কানের পর্দা) অরস্কোপে যে ভাবে দেখা যায়।

পূর্বের পর্ব সমূহ-

২৮তম পর্বের সুত্র সমূহ

১) http://en.wikipedia.org/wiki/Ear
AUDITORY & VESTIBULAR PATHWAYS
2) http://www.bioon.com/bioline/neurosci/course/audvest.html
3) HAIR CELL
http://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK11122/

২ thoughts on “কর্ণ-যে ভাবে আমরা শব্দ শুনতে পাই, বহি কর্ণ,পর্ব-২৮(২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *