বিদেশে টাকা পাচার করছে সামিট পাওয়ার, গন্তব্য ব্রিটেন!

বাংলাদেশে এখন গণ লুণ্ঠনের সব থেকে বড় নাম ‘কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’। বিদ্যুৎ না দিয়েই রেন্টালের মালিকগুলো কেন্দ্র ভাড়া নিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ভরছে। এ প্যাচাল বহু পুরানো। কিন্তু এর সাথে নতুন এক ফ্যাসাদ যুক্ত হয়েছে; তাহলো রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও ইন্ডিপেডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) বা এক কথায় সব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত তেল আমদানি করতে চায় এইসব বেসরকারি কম্পানিগুলো। ইতিমধ্যে সামিট, ইউনাইটেড পাওয়ার এর মত সরকার ঘনিষ্ট কম্পানিগুলো এ অনুমতি পেয়েছে। বাকি যারা ছিলো তাদেরও তা দেওয়ার জন্য ৪০ বছরের পুরানো আইন পরিবর্তনের উদ্যেগ নিয়েছে সরকার। সাদা চোখে দেখলে উদ্যেগটি ভালো মনে হবে। কিন্তু এর মাঝেই আছে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের নিদারুন কৌশল। আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুখ খানের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশের শীর্ষ প্রভাবশালী বিদ্যুৎ কম্পানি সামিট পাওয়ারের বিরুদ্ধে তেল আমদানির নামে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

তার আগে জেনে নেওয়া দরকার তেল আমদানির আইনটি কি?
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুযায়ী বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ নেই। ওই অধ্যাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি-রপ্তানি, বিপণন ও বিতরণের দায়িত্ব বিপিসি’র কাছে ন্যাস্ত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০১২ সালে যখন দেশের রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর ব্যাপকহারে ফার্নেস অয়েলের প্রয়োজন হয়ে পড়লে বিপিসি তা সামাল দিতে হিমসিম খায়। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি তেল সংরক্ষণের ক্ষমতা তখন কম ছিলো। এরপর থেকেই বিপিসি তাদের জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ পরিস্থিতিতে বিপিসি চায় না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আমদানি করুক। কিন্তু সরকার এ পরিস্থিতিতে আইন পরিবর্তন করে কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎ কোম্পানীগুলোকে তেল আমদানি করার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েছে। তেল আমদানিই এসব গ্রুপের মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য তেল আমদানির নামে অর্থ পাচার করা। কারণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কি হারে তেল আমদানি করবে সেখানে কোন মনিটরিং থাকবে না। আর এ সুযোগে তেলের মুল্য বেশি দেখিয়ে ওভার ইনভয়েজে’র মাধ্যমে কাজটি করছে সামিটসহ যাদের তেল আমদানীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলো।

সামিট পাওয়ারের অর্থ পাচার :
বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নিজ উদ্যোগে জ্বালানি তেল আমদানি করছে সামিট গ্রুপের মদনগঞ্জ ১০২ মেগাওয়াট, খুলনা ১১০ মেগাওয়াট ও খুলনা ১১৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের বারাকা পতেঙ্গা ৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, জুলদা ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কম্পানি লিমিটেড তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ হাজার ৪৬৬ মেট্রিক টন ফার্ণেস অয়েল আমদানি করে (এলসি নং-২৪৮৬১৩০২০৯৫৫)। প্রতিষ্ঠানটির বিল অফ লেডিংয়ে (বিএল) প্রতি টন ফার্ণেস অয়েলের দাম ধরা হয়েছে ৬৫৯ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার। এফওবি’র (ফ্রি অন বোড) ভিত্তিতে এম টি স্ট্রোভোলাস নামের একটি জাহাজে করে (ইনভয়েজ নং-এসএপি/২০১৩/০৯/০০১, শিপমেন্ট তারিখ-২৯/০৯/১৩) এসব ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়। এই আমদানি মূল্যের সাথে ২৫ ডলার প্রতি টন জাহাজ ভাড়া যোগ করলে দাম দাড়ায় প্রায় ৬৮৪ দশমিক ২২ ডলার।

সিঙ্গাপুর ভিত্তিক জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য বিষয়ক প্রকাশনা প্লেটস’র হেডিংয়ে প্রকাশিত দর অনুযায়ী তখন ফার্নেস অয়েলের আন্তর্জাতিক মূল্য ছিল ৬১৪ দশমিক ২৭ ডলার প্রতি টন। প্রায় কাছাকাছি সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সিঙ্গাপুর থেকে সিএন্ডএফ (কষ্ট এন্ড ফ্রেইড অর্থাৎ জাহাজ ভাড়াসহ) ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে প্রতি টন ৬৫১ ডলার মূল্যে।

সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কম্পানি লিমিটেডের বিল অফ লেডিংয়ে উল্লেখিত দর এবং আন্তর্জাতিক বাজার দর বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৫ ডলার বেশি দামে প্রতিষ্ঠানটি ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কম্পানি প্রায় আট লাখ ৩০ হাজার ৪৬ ডলার অর্থাৎ ছয় কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪২ টাকা সিঙ্গাপুরের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিঙ্গাপুর ভিত্তিক জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দর (প্লেটস’র হেডিংয়ে প্রকাশিত দর) অনুযায়ী বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করে থাকে।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কম্পানি লিমিটেড সিঙ্গাপুর থেকে আরো ১৯ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করে (এলসি নং-২৪৮৬১৩০২১৩০৭)। এই চালানের বিল অফ লেডিংয়ে প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের দাম দেখানো হয়েছে ৬৫১ দশমিক ৯৫ ডলার। এ চালান পরিবহন করতে প্রতি টনে আরো ২৩ দশমিক ৬৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু ওই সময় সিঙ্গাপুর ভিত্তিক তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে (প্লেটস’র হিসাব অনুযায়ী) ফার্নেস অয়েলের দর ছিল প্রায় ৬১১ ডলার।

বিপিসির এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বরে বিপিসি সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২০ জাহাজর মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে। প্রতি টনের দাম পড়েছে ৬৪৮ দশমিক ৯৫ ডলার। বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ ভাড়াসহ ফার্নেস অয়েলের এই দাম পড়েছে।

সামিট অয়েল এন্ড শিপিং কম্পানির দ্বিতীয় চালানের (এলসি নং-২৪৮৬১৩০২১৩০৭, ইনভয়েজ নং-এসএপি/২০১৩/১২/০০২, শিপমেন্ট তারিখ-১০/১২/১৩) নথিপত্র এবং আন্তর্জাতিক বাজার দর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের জন্য আর্ন্তজাতিক মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪১ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। পুরো চালানটির পেছনে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ২০৯ ডলার অর্থাৎ প্রায় ছয় কোটি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা সিঙ্গাপুরের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে নবনির্মিত বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড নামের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক পক্ষ সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচ হাজার ১২০ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য গত ৭ ফেব্র“য়ারী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে নথিপত্র জমা দেয়। এসব নথিপত্র (এলসি নং- ১০২২১৩০২০০০৯) বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে ৬২৪ মার্কিন ডলার মূল্যে। এর সাথে জাহাজ ভাড়া যোগ করা হয়েছে আরো ৮৮ ডলার।

এসময় সিঙ্গাপুরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ফার্নেস অয়েলের মূল্য ছিল প্রায় ৬০৬ দশমিক ৩৬ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বিপিসি গত ৩ ফেব্র“য়ারী সিঙ্গাপুর থেকে (সিএন্ডএফ ভিত্তিতে অর্থাৎ জাহাজ ভাড়াসহ) ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে ৬১৩ ডলার মূল্যে।

আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য এবং বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের আমদানি মূল্যে তুলনা করেলে দেখা যায় প্রায় ১৭ দশমিক ছয় ডলার অতিরিক্ত দামে ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়েছে। অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯০ হাজার ১১২ ডলার অর্থাৎ ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৬ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে জ্বালানি তেল আমদানির অভিযোগ উঠেছিল।

ওভার ইনভয়েজ’র টাকা কোথায় যায়?:
বাংলাদেশ থেকে টাকা ওভার ইনভয়েজিং করে আমদানী ঋণ পত্রের (এল/সি) মাধ্যমে পাচাকৃত অতিরিক্ত এই অর্থ কোথায় যায়? এ নিয়ে কাজ করেছেন নিউএজের প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যান। তার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এসব ওভার ইনভয়েজিং অর্থ তেল বিক্রেতা দেশ থেকে বিক্রেতা বা ক্রেতার প্রতিনিধির মাধ্যমে হুন্ডি করে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে বিনিয়োগ করছে দেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতিক ও দলটির প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ থেকে অর্থ কেন এতো দেশ থাকতে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডেই পাচার করতে হবে? এই অতি কঠিন প্রশ্নের সরল উত্তর হলো- স্থানটি ব্রিটেনের হলেও এখানে যে নিয়ম রয়েছে, তাতে আপনি যদি ওই দ্বীপ রাষ্ট্রে কোন বিনিয়োগ করেন তাহলে অর্থের কোন উৎস জানতে চাওয়া হবে না। ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে যে অর্থ পাচার হয়েছে তার মধ্যে দেশের আওয়ামী লীগের রথি মহারথিরা থাকলেও বিদ্যুৎখাতের দুই মহারথি আছেন। এরা হলেন ‘সামিট পাওয়ার’ ও ‘ইউনাইটেড গ্রুপ’। অর্থাৎ তেল আমদানির নামে বহু আগে থেকেই এরা সমানে টাকা বিদেশে পাচার করছেন। বাহা! ভালোতো, ভাল না!?

অবিশ্বাসীদে জন্য ডেভিড বার্গম্যানের এই তিনটি রির্পোটের লিংক নীচে দেওয়া হলঃ
১. Local businessmenâ��s link to offshore cos revealed
২. AL leaderâ��s family set up offshore cos
২. Legality of offshore companies, bank accounts

পাচারের তালিকায় যারা আছেন :

কাজী জাফর উল্লাহ: এই আওয়ামী রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এর আগে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা বলে কথা! আওয়ামী লীগ করলে টাকা পাচার, মানুষ পাচারসহ আরো যত পাচার আছে সবই করা যাবে, সমস্যা নেই। কাজী জাফর উল্লাহ তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বৌয়ের নামে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন। এতে অবশ্য চ্যাতনা দণ্ডের কোন কোন সমস্যা নাই।

সামিট পাওয়ার: ফারুক খানের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ খান। এই খান সাহেবের পুরো পরিবার ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে নিজেদের নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ৫ সদস্যের পরিবারে ছেলে মেয়ে স্ত্রী ছেলের বৌ সবার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মালিকানা নিশ্চিত করেছেন। হাজার হোক প্রগতিশীল পরিবার। সমবন্টন না হলে কিন্তু প্রগতিশীলতার উত্তরীয় খসে যাবার সম্ভাবনা আছে।

ইউনাইটেড গ্রুপ: মালেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে দখল করে নেয় সিরাজগঞ্জের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ কেন্দ্রের মালিক বনে যান ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা। এই রাজা সাহেব আবার খুলনা পাওয়ার (কেপিসিএল) এরও মালিক সামিটের সাথে যুক্তভাবে। কেপিসিএলের তেল আনার অনুমতি বহু আগেই আওয়াম লীগ সরকার দেয়, সেটা ১৯৯৮ সালের কথা। বহুদিনের পুরানো অভিযোগ এ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও দিনের পর দিন তেল আমদানির নামে দেশের টাকা বিদেশ পাচার করে আসছেন হাসান সাহেব। এই হাসান মাহমুদ রাজা গতবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপেদষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকিকে সাথে নিয়ে শুরু করেন সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলের কাজ। সে কাজে বাধা না আসায় টাকা বেশুমার পাঠাতে শুরু করেন ওভার ইনভয়েজিং ও হুন্ডি করে দেশের বাইরে।

এরা ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে বাংলাদেশ থেকে পাচার টাকায় বিনিয়োগ করেছেন বহু অর্থ। এই না হলে বাংলাদেশ? ভাবতেই ভালো লাগছে! দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করতো সেই ব্রিটেনেই এখন আমাদের বিনিয়োগ। আর আমাদের শ্রমিকেরা কাজের অভাবে এ দেশে ধুকে ধুকে মরে বা সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে কস্টের কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়। স্বদেশ তোমায় সালাম। হাসান মাহমুদ রাজা তোমায় পুঁজিবাদি সালাম।

আরো আছেন সৎ প্রতিমূর্তীর স্কয়ার: স্কয়ার দেশি পণ্য এইরকম বাল ফালানি বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি করলেও বিদেশে টাকা পাচারে কিন্তু থেমে থাকে নি। প্রবাদ প্রতিম পুরুষ স্যামসং এইচ চৌধুরীই পাচার করেছেন শত কোটি টাকা। ‘আমার দেশ আমার পন্য’ এই টাইপ বিজ্ঞাপন দেখলে মাথায় রক্ত উঠে যায়, ইচ্ছে করে এদের কালো মুখে এক দলা থুথু নিক্ষেপ করি।

মোনেম গ্রুপ: শেষ যেইবার, ‘নামে সিভিল সমাজ কামে আর্মি’ ক্ষমতা নিলো সেই ২০০৬ এর ১১ জানুয়ারিতে তখন থেকে এই গ্রুপটি সামরিক সরকারের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে রোড ঘাটের সব কাজ নিয়ে নেয়। কুড়িল ফ্লাইওভারের কাজটিও তারা পেয়েছে। চট্টগ্রামে গার্ডার ভেঙ্গে যে মানুষ মারা গেছে সেটাও এই গ্রুপের মহান কির্তী। এসব কির্তীমানরা এবার বিদেশে টাকা পাচার শুরু করেছেন। যার গন্তব্য ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ড।
এদের মত আছেন আরো অনেকে।

সাগর-রুনির দেশে আমরা কে হে:
সাগর রুনির মৃত্যুর পর এই রহস্যের কিনারা করা যায়নি। এইসব তথ্য ঢাকার অনেক সাংবাদিকের কাছেই আছে। কিন্তু কার ঘাড়ে কয়টা মাথা বলেন? কালের কণ্ঠ ১৭ মে ভেতরের পাতায় একটি খবর প্রকাশ করেছে তেল আমদানির নামে বিদেশে টাকা পাচারের ওপর। কিন্তু সেখানে সামিট পাওয়ারের নাম নেই। কারণ কি? কারণ হলো সাগর-রুনি হবার ইচ্ছে নেই কারোরই।

সাগর রুনিকে কে হত্যা করেছে এ তথ্য আমার কাছে নেই। তবে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে সাগর রুনিকে হত্যার পেছনে সামিট পাওয়ার ও এটিএন বাংলার লোকজন জড়িত। সরকার এ কারণে তাদের আর ঘাটায়নি। যেখানে নিজের ঘরই নিরাপদ নয় সেখানে কাজ করে বাসায় ফেরার নিশ্চয়তা কোথায়?

এভাবে ক্ষমতার দাপটে বাংলাদেশ থেকে আরো কত রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী-রাজনৈতিক নেতারা শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, তার খবর আমরা কতটাই বা জানি?

আসুন আমরা চেতনার ফেরিওয়ালাদের চেতনার জয় মুখ বুজে দেখে যাই। ওরা আরো বেড়ে উঠুক তরতর করে। একটা জিনিস মনে রাখবেন, দেশটা রসাতলে গেলে এই দুষ্টচক্রের কিচ্ছু হবেনা। ক্ষতিটা আমার-আপনার মত সাধারণ জনগণেরই হবে।

২৪ thoughts on “বিদেশে টাকা পাচার করছে সামিট পাওয়ার, গন্তব্য ব্রিটেন!

  1. সততার পরাকাষ্টা
    সততার পরাকাষ্টা স্কায়ার!!
    সামিট পাওয়ার আর আ.লীগ হলো ক্ষমতার পরিণতি।

  2. আর কত কাহিনী আপনি ফাঁস করবেন?
    আর কত কাহিনী আপনি ফাঁস করবেন? একের পর এক বোমা যেভাবে ফাটাচ্ছেন, পুরাই অস্থির ব্যাপার স্যাপার। প্রতিদিন নতুন কাহিনী শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকি। সামিট গ্রুপের বিষয়ে এখন সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্কার। কিন্তু অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাহিনী জেনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। স্কয়ারের মত প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা শুনে স্তব্দিত!

    আপনার অনুসন্ধানী এক্সক্লুসিভ অব্যাহত থাকুক।

  3. মনে হচ্ছে, এ জগতে যা কিছু
    মনে হচ্ছে, এ জগতে যা কিছু দেখি সবই এক পর্দা, যার উপর বানানো সিনেমা চলে। আর পর্দার ওপারে কঠিন বাস্তবতা।

    1. জনাব, শুধুমাত্র ইমো দিয়া চইলা
      জনাব, শুধুমাত্র ইমো দিয়া চইলা গেলেন? নাকি বলবেন এসব কিছু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাঁধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র! এক যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে খাইয়া গেলেন অনেকদিন। বাঙালীকে আপনার দল হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট অনেক দেখাইছেন। বাদপড়া বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজন আবুলের দুর্ণীতির দায় কি আওয়ামীলীগের না?

      1. না এসব দূর্নীতি যেই করুক না
        না এসব দূর্নীতি যেই করুক না কেনো তা তুলে ধরা উচিত। তবে একটা কথা আমাদেরও মাথায় রাখা উচিত, বঙ্গ দেশে বা ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষমতায় গেলে চরম সৎ ব্যক্তিও অসৎ হয়ে যায়, কিনবা হয়ে পড়তে বাধ্য হয়। প্রথমটা হয়তো স্বজনপ্রীতি দিয়ে শুরু হয় এরপর আস্তে আস্তে মানুষ দূর্নীতির পথে পা বাড়ায়। আর যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতায় সুতরাং বর্তমান সময়ের সমস্ত কিছুরই দায় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের। সেটা সফলতাতেও যেমন, তেমন দূর্নীতিতেও।

        1. সফৃলতার চেয়ে দুর্নীতির
          সফৃলতার চেয়ে দুর্নীতির খতিয়ানটাই বেশি। দু’য়েকটা সফলতার উদাহরণ দেন দেখি। আমি সফলতা খুঁজে পাচ্ছি না।

  4. এসব পড়তেই থাকি, জানতেই থাকি,
    এসব পড়তেই থাকি, জানতেই থাকি, গিলতেই থাকি হা করে… করার কিছুই নাই?!!! :মাথাঠুকি: :কথাইবলমুনা:

    1. কিছুই করার নাই বলে বসে থাকি
      কিছুই করার নাই বলে বসে থাকি বলেই আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেদের ইচ্ছে মত যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাস্ট্রে জনগনই মুল ক্ষমতার উৎস। কিন্তু শক্তিশালী ও জবাবদিহী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। আজ নারায়গঞ্জের জনগণ যদি সোচ্চার না হত, তাহলে সাত খুনের গতি অন্যদিকে চলে যেত। র‍্যাবের কর্মকর্তাদের প্রেফতার করা হত না।

  5. বলার আছে একটাই…
    যারে

    বলার আছে একটাই…
    যারে চড়াইলাম কাধে, সেই মাথায় কাঠাল ভাইংগা খায়…

    তথ্যবহুল অসাধারন লেখনীর জন্য সাধুবাদ।

Leave a Reply to আরিফুজ্জামান তুহিন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *