চলমান নার্সিং আন্দোলন ও এর সম্ভব্য ভবিষ্যৎ

রোগীদের সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ডাক্তার ও নার্সের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। কিন্তু সেখানে বাঙলাদেশে ডাক্তার ও সার্নের অনুপাত অত্যান্ত দু:খজনক, এককথায় লজ্জাজনক। পাকিস্তান সময়কালে এদেশে নার্স পাওয়া দুষ্কর ছিলো। তদানিন্তন সময়ে নার্স আনা হতো ভারত থেকে। কিন্তু সেই আদিম মনোভাব থেকে মানুষ বের হয়ে এসেছে। শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেছে নার্সিংয়ের। বর্তমান সরকারের বিগত শাষনামলে বেশ কয়েকটি সরকারী নার্সিং কলেজ চালু হয়। সরকারী ও বেসরকারী মিলে বেশ সনোষজনক। আরও বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বিএসসি নার্সরা বের হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সতযে, এসব বিএসসি নার্সদের সরকারী ভাবে নিয়োগের কোন নীতিমালা নেই!! যা বিএসসি নার্সদের ফেলছে বিপদে-বিপাকে। পাশাপাশি নার্সদের ধরা হচ্ছে ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে। এখন স্বাভাবিক ভাবে একটা প্রশ্ন জাগছে মনে। ১ম শ্রেণীর কর্মকর্থা হতে আসলে কি প্রয়োজন? কেন নার্সরা বিসিএস-এ অংশগ্রহণ করতে পারবে না? ডিগ্রীধারী, ৪বছর মেয়াদী অনার্সধারী, আইনজীবিরা যদি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারে, অথ্যাৎ চার বছর মেয়াদী এসব কোর্সের শিক্ষার্থীরা যদি বিসিএস ক্যাডার হতে পারে, তাহলে বিএসসি নার্সরা চার বছর মেয়াদী (৬মাস ইন্টার্নীসহ আরও বেশি) ডিগ্রী নিয়েও কেন বিসিএস-পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। কেন তারা ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়েই থাকবে?
বর্তমান সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ডাক্তার কর্তৃক নার্স লাঞ্ছিত। যা নিয়ে নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অষোন্তষ দেখা দিয়েছে এবং আন্দোলনও চলছে। তো কি কারণে একজন ডাক্তার একজন নার্সকে অবলীলায় আঘাত করতে পারে? শুধু মাত্র পদমর্যাদার কম বেশির কারণে। ডাক্তাররা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা সম্পন্ন আর নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা সম্পন্ন। কিন্তু এমনটাতো হওয়া অনুচিত। যদি নার্সরা প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা পায় তাহলে নিঃসন্দেহে ডাক্তাররা এমন আচরণ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আর বিএসসি নার্সদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দান তাদের অধিকারের মধ্যেই পরে। আর এ অধিকার তাদের(বিএসসি নার্সদের) দিতেই হবে। আন্দোলন করেই হোক, আর স্বাভাবিক ভাবেই হোক।
আমার মনে হয় নার্সদের মনে দুটি ক্ষোভ কাজ করে। যা তাদের প্রাপ্য।

এক) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ।
দুই) সরকার কর্তৃক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন।

বর্তমান সময়ে নার্সরা সংঘবদ্ধ ভাবে আন্দোলন করছে। যদিও সেটা দোষী ডাক্তারের বিচারের দাবিতে। তাদের মাঝে যে সংঘবদ্ধতা লক্ষ্য করছি তাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন মুরু করাটা মাত্র সময়ের দাবি। আর মনে হয় চলমানই আন্দোলনটা সেদিকেই এগুচ্ছে, পক্ষান্তরে সেদিকেই এগিয়ে যাওয়া উচিত।

১২ thoughts on “চলমান নার্সিং আন্দোলন ও এর সম্ভব্য ভবিষ্যৎ

    1. দু:খজনক হলেও আপনার কথাটা
      দু:খজনক হলেও আপনার কথাটা সত্যি চন্দ্রবিন্দু। কিন্তু একটা চেষ্টাতো করতে হবে।

  1. কোন ডাক্তার কোন নার্সকে
    কোন ডাক্তার কোন নার্সকে লাঞ্ছিত করলে তার বিচার করতে হবে। এতে কোন ছাড় দেওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু লাঞ্ছিত হয় বলে তাকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিতে হবে এটা কেমন যুক্তি ভাইজান? তাইলে তো দেশের সব সেক্টরেই যারা নিচু পদমর্যাদার আছে তাদের সবাইকে একই উঁচু শ্রেণীর পদমর্যাদা দিয়ে দিতে হয়। কি অদ্ভুত যুক্তি। আর নার্সিং কোর্স একটি ডিপ্লোমা কোর্স। ডিপ্লোমা কোর্স করে কেউ প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা পায় নাকি? ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা পায়? সারা বিশ্বেই পদমর্যাদার এই একই ধাপ অনুসরণ করা হয়। আর বঙ্গদেশেই কেবল এরকম অদ্ভুত দাবী দেখতে হয়। প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা দিয়ে ১:৩ অনুপাতে নিয়োগ দিয়ে এতো নার্সদের বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে কিনা সেটা ভেবেছেন?

    আগে দাবী ঠিক করেন। নাইলে আন্দোলন হালে পানি পাবেনা। নার্সদের নিয়োগ পদ্ধতি ঠিক করার দাবী তোলেন। মূল দাবী ঠিক না রেখে উদ্ভট দাবী নিয়ে আন্দোলন করে কোন ফায়দা হবে না।

    1. আতিক ভাই…… চার বছর মেয়াদী
      আতিক ভাই…… চার বছর মেয়াদী বিএসসি নার্সিং কোর্স। 2007 সালের পর থেকে এই কোর্স চালু হয়েছে। তো বিএসসি করলে কেন বিসিএস দিতে পারবে না? একটু ব্যখ্যা করবেন কি?

    2. লাঞ্ছিত হয়েছে এটার জন্য প্রথম
      লাঞ্ছিত হয়েছে এটার জন্য প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দাবি করার মতো পাগল নিশ্চই আমি নই। এটা দাবি করছি কারণ এটা তাদের প্রাপ্য, এটা তাদের অধিকার।

  2. ডা:আতিক, আপনি কি জানেন না যে
    ডা:আতিক, আপনি কি জানেন না যে বাংলাদেশের নার্সরা এখন বিএসসি করে বের হচ্ছে? দেশে সাতটি সরকারী এবং কয়েক্টি প্রাইভেট নার্সিং কলেজ বিদ্যমান আছে। নার্সরা এখন আর ডিপ্লোমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেদিক থেকে কেন বিসিএসে নার্সিং ক্যাডার চালু করে নার্সদের প্রথম শ্রেনির মর্যাদা দেয়া হবে না?

  3. ভাই আন্দোলনের কথা বাদ
    ভাই আন্দোলনের কথা বাদ দিন,আন্দোলনে আন্দোলনে আন্দোলিত হয়ে গেছি।
    আজ-কাল মানববন্ধন,মিছিল এসবের স্লোগান মানুষ শুনেও শোনেনা।

    1. স্বাভাবিক ভাবে অধিকার দেবে
      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: স্বাভাবিক ভাবে অধিকার দেবে না। তাহলে বঞ্চিতরা কি করবে? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

      1. জে.এম.বি স্টাইলে হামলা করা
        জে.এম.বি স্টাইলে হামলা করা যেতে পারে 😀
        তবে আন্দোলন করে লাভের চেয়ে ক্ষতিটা বেশি হয় তাতো দেখছেন-ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *