‘যুদ্ধশিশু’


মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘যুদ্ধশিশু’ নিয়ে একটা রিভিউ লিখবো লিখবো করে দুইটা দিন পার হয়ে গেলো নানান ব্যাস্ততায়.. একটু সময় বের করে হালকার উপর ঝাপশা দিয়ে এখন লিখতে বসেছি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এদেশে প্রবেশ যদি ও ধুকতে থাকা এদেশীয় চলচ্চিত্রকে জন্য মৃত্যু পরোয়ানার শামিল এবং আমি নিজেই তার ঘোর বিরধী তবুও যেহেতু ‘যুদ্ধশিশু’ নামেই বলে দেয় মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত তাই লোভ সামলাতে পারলাম না। চলে গেলাম বলাকায়। পথে যেতে একটু দেরি হওয়ায় শুরুতেই খানিকটা মিস করে ফেল্লাম। নির্ধারিত আসনে বসার সময়ে দর্শকের উপস্থিতি লক্ষয় করে বেশ ভালো লাগলো.. কিন্তু কাহিনীতে মনোনিবেশ করা মাত্র-ই টাশকি খেলাম। এ কোন বাংলা ভাষায় কথা বলেরে!!! এযে আমার আপনার আঞ্চলিক ভাষা নয়। এযে মেদিনীপুরের ভাষা। তাও আবার বলছে ঢাকার সাংবাদিক সমাজ। যাই হোক শুরুতেই সংলাপের উপর নাখোশ হলেও কাহিনীতে মননিবেশ করলাম। কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলবনা শুধু মাত্র হালকার উপর ঝাপশা মেরে যাবো চলচ্চিত্রটির ভুলত্রুটিগুলো নিয়ে। মুলত এটি আর্ট ফিল্ম ঘরানার। যারা চলচ্চিত্রের অ, আ, ক, খ বোঝেন তারা বুঝবেন একটি আর্টফিল্মে কি কি প্রয়োজন হয়।শুধুমাত্র ক্যামেরা উল্টাপাল্টা ঘুরালেই আর্টফিল্ম হয়না… সেক্ষেত্রে কাহিনীর সাথে সংলাপ এবং বাস্তবতার সাথে দৃশ্যায়ন,কোরিয়োগ্রাফী, লাইটিং এর সামাঞ্জস্যপুর্ন সহাবস্থান থাকতে হয়। আর এই যায়গাতেই সামগ্রিকভাবে এই চলচ্চিত্রটি ফেল্টু মেরেছে। শুরুতেই সংলাপের কথা বলেছি যা পুরো চলচিত্র জুড়েই আমাকে নস্টালজিক করে দিয়েছে। মনে হয়েছে কতদিন পর মিনা কার্টুন দেখছি… কি ঢাকা শহরের সভ্য সাংবাদিক সমাজ, কি গ্রামের গন্যমান্য শিক্ষক, উদবাস্তু শরনার্থির দল, এমনকি একালের শাহাবাগের তরুন প্রজন্মের প্রত্যেকের কন্ঠসবর থেকেই বের হয়েছে সেই পরিচিত মিনা কার্টুনীয় ভাষা। চলচ্চিত্রটির নামকরনে নতুনত্যের আভাস থাকলেও মুলত দেখতে বসে নিরাশ হতে হয়েছে। পাকবাহিনীর হাতে আমাদের লাখো মা বোনদের নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে এক অর্থে এদেশের লাখো বীরাংগনা মা বোনকে হেয় করা হয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে অত্যাচারিত মা বোনদের রাতের বেলা পরিশ্‌কার হওয়ার জন্য কাঁটাতার ঘেরা ক্যাম্পের বাহিরে যেতে দেওয়া হচ্ছে এবং তারা একজন ও পালিয়ে না গিয়ে পাহাড়ী ঝরনায় গোসল করে আবার নিজ উদ্দোগে ফিরে আসছে। এমনকি কোন পাহারাদার ও দেওয়া হচ্ছে না তাদের সাথে, আবার দেখানো হচ্ছে অলস সময়ে তারা নেচে সময় পার করছে, নিজেদের থাকার ঘরের আশেপাশের যায়গা নিজ উদ্দ্যগে ঝাড়ু দিচ্ছে। এসবের মাধ্যমে পরিচালক কি বোঝাতে চেয়েছেন তা আমার বোধগম্য না হলেও যেটুকু এই মগজে বোধগম্য হয়েছে তাতেই আমি লজ্জয়ায় কুকড়ে গিয়েছি। আর কিছু বলার ভাষা সত্যি-ই খুজে পাচ্ছি না। বাস্তবতার সাথে সমাঞ্জস্যতা না থাকায় চলচ্চিত্রটি এক অর্থে দৃশটি কটু লেগেছে… দু একটি উদাহরন না দিলেই নয়… যেমন এক পর্যায়ে দেখানো হয়েছে ভাতের অভাবে ঠিকমত খেতে পাচ্ছেনা কেউ এমন একটি শরনার্থী দলের ভিতরে একজন মহিলার সন্তান প্রসব হওয়ায় থালা ভর্তি লাড্ডুর পাহাড় দিয়ে সবাইকে মিশ্‌টি মুখ করানো হচ্ছে। বলি লাড্ডু কি আসমানে ধরে? যদি ধরে তাহলে ভাত কেন ধরে না….? এ যেন সেই বাংলা প্রবাদ “জোটেনা পান্তা, গপ্পে মারে দই”। আবার সেই শরনার্থী দলটি যেহেতু মুসলমান সেখানে সন্তান প্রসবের পর উলুধ্‌বনী আসে কিভাবে! হ্যা আমাদের কৃস্টি কালচারে বাচ্চা প্রসব হলে একেক ধর্মীয় বিধান অনুসারে একেক ভাবে তা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এভাবে গোজামিল দেওয়ার কোন দরকার ছিলো না। আবার দেখানো হল সেই শরনার্থী দলটির উপর যখন পাক বাহিনী আক্রমন করল তখন তাদের একজনকে একটি ছেলে (ছবির একটি উল্যেখযোগ্য চরিত্র) গুলি করে মেরে ফেললো আর দুই গাড়ি বোঝাই পাক সেনারা তখন গাড়ি সহ কোথায় যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। শুধু ছেলেটি আর তার বোন এযাত্রায় একমাত্র রক্ষা পেলো আর হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া পাকবাহিনী সবাইকে কতল করলো। আর বলতে চাই না। যত লিখছি ততৈ বিরক্ত হচ্ছি। তবে শেষ করার আগে এটুকুই বলতে চাই এক দেশের ইতিহাস যেমন অন্যদেশের হাতে গড়তে দেওয়া চলেনা তেমনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের আবেগ অন্যদেশের মানুষ বুঝবেনা। এই চলচ্চিত্রটি মুলত আমাদের একাত্তরের মা বোনদের ইজ্জতকে পুঁজি করা একটি বানিজ্যিক চলচ্চিত্র এবং এক অর্থে তা সফল কারন দেখলাম অধিকাংশ দর্শক আসলে গিয়েছে চলচ্চিত্রটিতে থাকা কিছু নারী নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে… তাই ধিক ঐ সকল দর্শককে, ধিক চলচ্চিত্রটির নির্মাতাদেরকে, ধিক সে সকলকে যারা সেন।সর ছাড়া আমাদের সামনে আমাদের সেই বীরাংগনা মা বোনদেরকে ছোট করার জন্য একটি নিম্নমানের ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে।

১৫ thoughts on “‘যুদ্ধশিশু’

  1. বাঙালিকে সবাই আবাল মনে করে।
    বাঙালিকে সবাই আবাল মনে করে। এজন্য বালছাল গিলানোর জন্য আমাদের আবেগের জায়গা নিয়ে ব্যবসা করার ফন্দি করছে দাদার দেশের মানুষরা।

  2. যা শালারা। ভাবছিলাম ছবিটি
    যা শালারা। ভাবছিলাম ছবিটি দেখব। দেখার মুডটাই নষ্ট হয়ে গেল। না এইসব বাল ছাল দেখে টাইম নষ্ট করার মানে হয়না। ধন্যবাদ।

    1. দেখতে পারেন। আসলে
      দেখতে পারেন। আসলে চলচ্চিত্রটিতে সব দৃশ্য তো আর অসামাঞ্জস্যপুর্ন নয়। তবে যেটুকু অসামাঞ্জস্যতা রয়েছে তাতেই ভুল গুলো ধরতে সুক্ষবুদ্ধির প্রয়জন হবার কথা নয়.. ধন্যবাদ

    1. ধন্যবাদ দুলাল ভাইয়া.. আসলে
      ধন্যবাদ দুলাল ভাইয়া.. আসলে আশানুরুপ না হওয়ায় এবং উপরন্তু চলচ্চিত্রটির উপর বিরক্তির কারনে বিস্তারিত লিখতে পারিনি।

  3. মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অন্যরকম
    মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অন্যরকম আবেগের জায়গা। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে অন্যরকম আগ্রহ থাকেই। চলচ্চিত্রটি এখনও দেখিনি। আপনার লেখা পড়ে কিছুটা ধারণা পেলাম। বাকিটা নিজে দেখে বুঝতে চাই। চলচ্চিত্রটি যেহেতু আমাদের দেশে প্রদর্শিত হচ্ছে তাই দেখার ইচ্ছে আছে।
    আর ভাষার ব্যাপারটা জেনে সত্যিই হতাশ হলাম। এতো তোড়জোড় করে যখন বাংলাদেশে আলাদাভাবে প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে তখন পরিচালক পারতেন ছবিটির ডাবিং বাংলাদেশী শিল্পীদের দিয়ে করাতে (মূল চলচ্চিত্র হিন্দিতে নির্মিত)।

    1. চলচ্চিত্রটি এক অর্থে দেখা
      চলচ্চিত্রটি এক অর্থে দেখা উচিত। কারন নিজে থেকে বিষয়গুলো উপলব্ধি করাটাই হচ্ছে বড় ব্যাপার… সেন্‌সর বোর্ডের দায়ভার এখানে সবচাইতে বেশি কারন আমার দেশের ইতিহাস, আমার দেশের কৃষ্টি কালচারের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে এমন চলচ্চিত্রকে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়ে তাদের নির্বুদ্ধিতা প্রকাশের জন্য..

  4. রিভিউতে সমালোচনা করে পুরাই
    রিভিউতে সমালোচনা করে পুরাই দেখি উড়ায় ফেলসেন !!! আপনার বাংলা বানানের এই দশার কারনে পুরোটা পড়তে গিয়ে কয়েকশোবার ডিগবাজি খেতে হলো। দাদাদের দেশের চলচ্চিত্রের পুঙ্গি বাজাতে গিয়ে নিজের মাতৃভাষারও পুঙ্গি বাজিয়ে দিয়েছেন পুরোপুরি।

    1. কোন বিষয়ের উপর যদি আপনি
      কোন বিষয়ের উপর যদি আপনি বিরক্ত হন বা ক্ষুব্ধ হন তবে সেই বিষয়ের উপর নির্দিশ্‌ট কিছু লিখতে গেলে তার ভুলত্রুটিগুলো আপ্নার কাছ থেকে প্রকাশ পাবে সর্বাগ্রে। দাদাদের চলচ্চিত্রের আমাদের সাথে অসম বিনিময় প্রথার একান্ত বিরোধী হওয়া সত্‌বেও শুধু মাত্র মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত বিধায় ‘যুদ্ধশিশু’ দেখতে গিয়েছিলাম। খুব বেশি কিছু আশা করিনি কিন্তু এভাবে লজ্জা পেতে হবে সেটাও ভাবিনি। ভুল বানানের জন্য দুঃখিত। অধমের মুঠফোনে বাংলা ফন্ট নাই। কোনমতে একটা সফটওয়ারের মাধ্যমে লিখি তাই কিছু ত্রুটির জন্য সত্যি লজ্জিত।

    1. আরো অনেক কিছুই বলে… ওরা মনে
      আরো অনেক কিছুই বলে… ওরা মনে করে আমাদের মেরুদন্ড নেই… আমাদের সব কিছুই ওদের অবদান…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *