চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর ৪০ বছরের পথচলা

আভিধানিকভাবে তির্যক শব্দের অর্থ বক্র। সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়াসে গঠিত হয় তির্যক নাট্যগোষ্ঠী‘শিল্পের জন্য শিল্প নয়, জনগণের জন্যই শিল্প’– মতবাদে বিশ্বাসী তির্যক নাট্যগোষ্ঠী। বিশিষ্ট নাট্যজন রবিউল আলম’র উদ্যোগে ১৯৭৪ সালের ১৬মে চট্টগ্রাম আসকার দিঘীর পাড়ের পূরবী সংস্থার সাথে জড়িত কয়েকজন তরুণ গঠন করে ‘তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’। দলের একজন সদস্য রবিউল আলম দল সৃষ্টির মাত্র পনের দিনের মধ্যেই লিখে ফেলেন তির্যকের জন্য প্রথম নাটক ‘জননীর মৃত্যু চাই’ নাটকটি। মাত্র কয়েক দিনের মহড়ায় ’৭৪ এর এক সন্ধ্যায় রহমতগঞ্জের সিএন্ডবি মিলনায়তনে এটি মঞ্চস্থ করেন তারা। যার দর্শনী ছিলো ২ টাকা।

এই পর্যন্ত ‘তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’ প্রযোজিত ৩২টি নাটকের মধ্যে ১৮টিই নিজস্ব নাট্যকার- রবিউল আলম, আলী আনোয়ার মোল্লা, আবু নাসের ফেরদৌস ও রফিউল কাদের রুবেলের লেখা। এছাড়াও দেশি ও বিদেশি অনেক নন্দিত নাট্যকারের নাটকও ‘তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’ মঞ্চস্থ করেছে। যাঁদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন- মুনীর চৌধুরী, সেলিম আল দীন, হাসনাত আবদুল হাই, কাজী জাকির হাসান, সাইদ মাহমুদ, তাহমিনা আহমেদ, বদরুজজামান আলমগীর, অসীম দাশ, বাদল সরকার, সফদর হাশমী, শেখর সমাদ্দার, উইলিয়াম শেক্সপীয়ার, আবু রুশদ, মিখাইল শ্চেদ্রিন, বার্টল্ড ব্রেখট, আন্তন চেখভ, ওলে সোইঙ্কা, দারিয়ো ফো’।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর উদ্দেশ্যেই তির্যক নাট্যগোষ্ঠী মুক্ত নাটক ‘সোয়াত জাহাজ’৭১’ প্রযোজনা করে। এরপর পথ নাটক ‘লজ্জা’র মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে তির্যক নাট্যগোষ্ঠী

তির্যক নাট্যগোষ্ঠী প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘আততায়ী’। এই নাটকটি বিখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীন রচিত এবং জামিল আহমেদ নির্দেশিত। বিটিভি নাটকটি সরাসরি সম্প্রচার করে ১৯৮৪ সালের ১৩ জুলাই। ওটাই বিটিভির প্রথম মঞ্চ নাটক সরাসরি সম্প্রচার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিটিভি’তে যখন আবার মঞ্চ নাটক সম্প্রচার শুরু হয় ১৯৯৭ সালে, ওই বছরই ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের প্রথম নাট্যদল হিসেবে তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’র ‘বিপক্ষে বন্দুক’ নাটকটি প্রচারিত হয়। এই নাটকটি রচনা করেছেন রবিউল আলম এবং খালেদ হেলাল নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বার্টল্ড ব্রেখটের ‘সমাধান’ নাটকটির এই পর্যন্ত ৯৮টি সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। এটির নির্দেশনায় রয়েছেন জামিল আহমেদ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় নাট্যোৎসব ১৯৯২ তে ‘As you like it’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় দেশে ও বিদেশে। ২০০৭ এ জাতীয় নাট্যোৎসবে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ করে রফিউল কাদের রুবেল রচিত ও তরুণ নির্দেশক সাইদ হিরো নির্দেশিত ‘সত্ত্বান্ধ’তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’র আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস হলো ৩২তম প্রযোজনা-‘নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে’; মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি রচনা করেছেন বদরুজ্জামান আলমগীর এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম হাসান।

শিশু কিশোরদের জন্য তির্যক নাট্যগোষ্ঠী ১৯৭৭ সালে গড়ে তোলে ‘তির্যক লিটল থিয়েটার’। এ পর্যন্ত তিনটি শিশুতোষ নাটকের এগারটি সফল প্রদর্শনী করে এই সংগঠন। তির্যক নাট্যগোষ্ঠী চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, মাইজদী, চাঁদপুর, কক্সবাজারে নাটক মঞ্চায়ন করে সর্বস্তরের দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনকে আন্দোলিত করতে বিভিন্ন সময় তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’র আমন্ত্রণে দেশ-বিদেশের দর্শক নন্দিত অনেক নাট্যদল এসেছে এখানে। ১৯৮৯ সালের ৩০ ও ৩১ জানুয়ারী শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের ‘অন্য থিয়েটার’ মঞ্চায়ন করে ‘মাধব মালঞ্চী কইন্যা’, এর নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাষ চক্রবর্তী। ১৯৯০ সালের ১ ও ২ ফেব্রুয়ারী দিল্লীর ‘নয়া থিয়েটার’ মুসলিম হল মঞ্চে পরিবেশন করে নন্দিত নির্মাতা হাবিব তানভীরের নাটক ‘চরণ দাশ চোর’‘আগ্রাবাজার’। এছাড়াও বিশ্ব নাট্য জগতের অন্যতম গুরু বার্টল্ড ব্রেখট এর ৯২তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী হতে ৩ দিনব্যাপী আয়োজন করে ব্রেখট উৎসব। এই উৎসবে ব্রেখটের ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘ধূর্ত উই’‘সমাধান’ পরিবেশন করে যথাক্রমে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, ঢাকা থিয়েটার এবং তির্যক নাট্যগোষ্ঠী। বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব জামিল আহমেদকে এই উৎসবে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।


লোক নাট্যদল, ঢাকা’র ‘কঞ্জুস’ নাটকের একটি দৃশ্য


তির্যক নাট্যগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম’র ‘নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে’ নাটকের একটি দৃশ্য


অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়, চট্টগ্রাম’র ‘কবি’ নাটকের একটি দৃশ্য


নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’র ‘দ্য ফাদার’ নাটকের একটি দৃশ্য


গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়, চট্টগ্রাম’র ‘কমরেডস হাত নামান’ নাটকের একটি দৃশ্য

চট্টগ্রামের শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল খুব বেশি বিস্তৃত নয়। এমন নয় যে চট্টগ্রামের মানুষ সংস্কৃতি বিমুখ। বরং চট্টগ্রামেই রয়েছে সর্বাধিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্রতা। কিন্তু টিভি-মিডিয়ার রং ও জৌলুসের ভীড়ে চট্টগ্রাম নাট্যজগত কিছুটা বিবর্ণ। এর কারন হচ্ছে টিভিতে জনপ্রিয় ও পরিচিতমুখের শিল্পীরা সবাই ঢাকা কেন্দ্রিক। যার কারনে চট্টগ্রামে সেই অর্থে ‘সেলিব্রেটি’র সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে দর্শকদের আগ্রহের পরিমাণও কিছুটা কম। তবে নাটক পছন্দ করেন যারা তাদের একটা বিশাল অংশ রয়েছে এখানে। যারা নিয়মিতই নাট্যজগতের খোঁজ খবর রাখা ছাড়াও নাট্যোৎসব ও প্রদর্শনীতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। তির্যক নাট্যগোষ্ঠী সহ চট্টগ্রামের অন্যান্য নাট্যদলগুলোর অধিকাংশ কর্মীরাই অপেশাদার শিল্পী। অপেশাদার এই অর্থে- নাটকই তাঁদের একমাত্র জীবিকা নয়। চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ হৃদয়ের টানেই পেশাদারী মনোভাব নিয়েই নাট্যচর্চা করে যাচ্ছেন নিয়মিত। এখানে উল্লেখ্য, ইস্টিশন ব্লগেরই একজন পরিচিতমুখ এবং আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন বড়ভাই নাসির উদ্দিন খান তির্যক নাট্যগোষ্ঠী’র একজন নিরলস এবং নিবেদিত প্রাণ সিনিয়র নাট্যকর্মী, যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর তির্যক পরিবারের শক্তিমান শিল্পী হিসেবে চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত।

সম্প্রতি তির্যক নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার চার দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সর্বস্তরের নাট্যকর্মী, সংস্কৃতি কর্মী ও দর্শকের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আজ ১৬ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই উৎসবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছয়টি নাট্য সংগঠন নাটক মঞ্চস্থ করবে।

উদ্বোধনী দিনে আজ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইস্টিশন ব্লগে চট্টগ্রামের যাঁরা রয়েছেন, সবাইকে আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এই উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য। এছাড়াও প্রতিদিন মুক্তমঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে থাকছে আরো নানান আয়োজন।

তথ্যসূত্র: শাহরিয়ার হান্নান (তির্যক নাট্যগোষ্ঠী)

৩৬ thoughts on “চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর ৪০ বছরের পথচলা

  1. ধন্যবাদ শওকত খান।
    ইস্টিশনের

    ধন্যবাদ শওকত খান।
    ইস্টিশনের বন্ধুরা, সবার আমন্ত্রণ রইল।
    শিল্পকলায় একটা চা’র স্টল আছে। সেখানে রং চা, দুধ চা দুটাই পাওয়া যায়। খাওয়াবো।
    (দুধ চা’টা সুবিধার না)।
    ও, ওখানে সিগারেট/লেবুঞ্চুশও পাওয়া যায়, কেউ খাইতে চাইলে তাও খাওয়ানো যাবে।

  2. আজ থেকে শুরু হওয়া তির্যক
    আজ থেকে শুরু হওয়া তির্যক নাট্যাঙ্গনের নাট্য উৎসবের সফলতা কামনা করছি। ৪০ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে উঠা এই নাট্য সংগঠনটি চট্টগ্রামের গর্ব। বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকে তির্যক একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    1. কপাল ভাল থাকলে, এখানে সঙ্গী
      কপাল ভাল থাকলে, এখানে সঙ্গী একটা মিললে মিলে যেতেও পারে। চলে আসেন।

    2. ডার্ক ম্যান: চট্টগ্রাম জেলা
      ডার্ক ম্যান: চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি কিন্তু চান্দের দেশে না। চট্টগ্রামের মানুষ হয়ে সঙ্গীর অভাবে যেতে পারতেসেন না, এটা হতাশাজনক। ইচ্ছাশক্তিই আসল।

  3. প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই শওকত
    প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই শওকত ভাইকে চমৎকার একটি পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য। এই পোস্টে আসলেই অনেক কিছুর সাথে পরিচিত হতে পারলাম, অনেক অজানা জানলাম। মূর্খের জ্ঞান ভান্ডারে কিছু জিনিস ঢুকাতে পারলাম। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  4. শুভকামনা রইল।
    শুভকামনা রইল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    আইচ্ছা, ঢাকায় আপনাদের কোন ব্রাঞ্চ নাই? :ভালুবাশি:

    1. তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর কুতাও
      তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর কুতাও কুনো শাখা নাই।
      বি.দ্র: নাট্যাঙ্গনে ডাক্তারদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে… =P~ =P~ =P~

  5. শওকত ভাই@ যাদেরকে যেতে বলি
    শওকত ভাই@ যাদেরকে যেতে বলি তারা সব ব্যস্ত।আমার মত বেকার না।আপনি সঙ্গ দিলে চলে আসতে পারি এখনই।

    1. আমি চট্টগ্রামে থাকলে অবশ্যই
      আমি চট্টগ্রামে থাকলে অবশ্যই যেতাম। আশা করি এর মধ্যে আসতে পারলে আপনাকে সঙ্গী করে নিবো।

  6. তির্যকের নাট্য উৎসবের শুভ
    তির্যকের নাট্য উৎসবের শুভ কামনা করছি। নাট্যচচর্চায় ৪০বৎসরের মাইলফলক ছোঁয়ার জন্য তির্যকের নাট্যকর্মীদের অভিনন্দন।

  7. এই পোস্ট দেখে বিপুল উৎসাহ
    এই পোস্ট দেখে বিপুল উৎসাহ নিয়ে তির্যকের ৪০ বছরপুর্তি উৎসবে স্বস্ত্রীক গিয়েছিলাম। শিল্পকলা একাডেমী চত্বরটা চমৎকারভাবে সাজিয়েছে। ভালই একটা উৎসব আমেজ বজায় ছিল। চারদিকে কালো টি-শার্ট পরিহিত তির্যকের কর্মীদের ৪০ বছরপুর্তিতে বেশ উৎপুল্ল দেখাচ্ছিল। কিন্তু কালো টি-শার্টের সাথে ৪০ বছরপূর্তি বা নাট্য উৎসবের কোন ধরনের সম্পর্ক খুঁজে পেলাম না। টি-শার্টের পেছন দিকে চোখটা গিয়ে আটকে গেল। “দানায় দানায় আস্থা“র বিষয়টা বেশ মজাই দিয়েছে। কিন্তু Sponcerd by এর কোন অর্থ খুঁজে পেলাম না।

    তবে টি-শার্টের সামনের দিকটা বেশ ভাল লেগেছে।

    দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করার কালচার থেকে কি আমরা মুক্তি পাব না? বক্তারা মাইকই ছাড়তে চায় না। সন্ধ্যা ৭-০০ টার নাটক রাত সাড়ে আট টায় শুরু করতে না পারা ৪০ বছরের পুরানো একটা সংগঠন থেকে আমরা আশা করি না। হলে প্রচন্ড গরমে নাটক দেখায় মনস্থির করে রাখা সহজ ছিল না। একটা সময় চরম বিরক্তি নিয়ে চলে আসতে হল।

    1. সামনের দিকটা পেছনের চাইতে
      সামনের দিকটা পেছনের চাইতে ভালো ছিলো… :ভেংচি:
      স্পন্সরশীপ এর নমুনায় তো তির্যকই হারায় গেছে দেখতেসি !! দেখে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক কনফিডেন্সের দানার ৪০বছর পূর্তিতে তির্যকই স্পন্সর করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *