প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাকি অব্যবস্থাপনা?

‘আইন প্রতিপালন ও গণসচেতনতায় গড়বো দেশ, নৌ-নিরাপদ বাংলাদেশ’- এ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশে ৬ষ্ঠ বারের মতো নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হলো। যা ৪ মে শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত চলেছে। খুবই চমৎকার স্লোগান দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই স্লোগানের সার্থকতা কোথায়? নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের আগে একটা নৌ বিপর্যস্ততা দেখলাম। ঠিক আগের দিন ৩ মে দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের মুখে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদ নদীতে ডুবে যায় একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। ১২ জনের মৃতুদেহ উদ্ধার হয়। মাত্র তিন/চার মিনিটের মধ্যে ডুবে যায় একটি লঞ্চ!!!! যা রীতিমত বিস্ময়ের। সেখানে যথারীতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর বাঙলাদেশের তদন্ত কমিটর কথা নতুন করে নাইবা বললাম। অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, চালকদের অদক্ষতাসহ বেআইনী কারণগুলোর জন্যই ৪মে লঞ্চ ডুবি হয়েছে এটা জনগণ বুঝে গেছে। তো নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ দেখে ভাবলাম হয়তোবা পট পরিবর্তন হবে। ব্যবস্থাপনা কঠোর হবে। কিন্তু আশার গুড়ে বালি!! মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরে মেঘনায় ডুবে যায় এমভি মিরাজ-৪ নামে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চ। এখানেও অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত যাত্রী। মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে বাঙলাদেশে।
কিছু প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরছে।লঞ্চটিতে যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা ছিলো ১২২ জন। সেখানে যাত্রী ছিলো ২৫০ জনেরও বেশি। তাহলে প্রশ্ন হলো, কর্তৃপক্ষ যেখানে নিশ্চিত যে লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা ১২২ জনের, সেখানে তারা ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে কীভাবে লহ্চটি যাত্রা শুরু করতে পারে? ফিটনেস সনদবিহীন এবং অদক্ষ চালকের কারণেও যেমন লঞ্চ দুর্ঘটনা বাড়ছে, তেমনিভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটলেও ঝড়ের মৌসুমে কেন লঞ্চে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না? কেন মেনে চলা হয় না আবহাওয়ার পূর্বাভাস? কেন ঝড়ের মুখে যাত্রীদের প্রাণ হাতে নিয়ে লঞ্চ চালিয়ে যাওয়া হয়?
এসব অব্যবস্থাপনা দূর না করলে বছর বছর নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করে কোন লাভ নেই। গ্রাম্য ভাষায় বললে, ঐসব সপ্তাহ ধুইয়ে ধুইয়ে পানি খান আপনারা। যদি পারেন এসব অপকর্ম বন্ধ করুন। মৃত্যুর মিছিল থামান।

৫ thoughts on “প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাকি অব্যবস্থাপনা?

  1. গ্রাম্য ভাষায় বললে, ঐসব
    গ্রাম্য ভাষায় বললে, ঐসব সপ্তাহ ধুইয়ে ধুইয়ে পানি খান আপনারা। যদি পারেন এসব অপকর্ম বন্ধ করুন। মৃত্যুর মিছিল থামান

  2. আপনার পোস্টের টপিক থাকে
    আপনার পোস্টের টপিক থাকে চমৎকার। কিন্তু পোস্টটা লিখেন ফেসবুকের স্ট্যাটাস আকারে। আরো একটু ডিটেইলস লিখলে ভাল হয়। আপনার মধ্যে নাগরিক সাংবাদিকতার সম্ভবনা প্রচুর। কিন্তু ফেসবুকের রাহুগ্রাস থেকে বের হতে পারছেন না।

    1. ঠিকই বলেছেন চন্দ্রবিন্দু।
      :ভাঙামন: ঠিকই বলেছেন চন্দ্রবিন্দু। চেষ্টা করবো বিস্তারিত লিখতে। :চশমুদ্দিন:

Leave a Reply to আবীর সমুদ্র Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *