রাজনীতিতে আফ্রিকান মাগুর আর গুম খুন!

বর্তমান গুম, খুন আর দুবৃত্তায়নের রাজনীতি দেখে আবুল মনসুর আহমেদের লেখা ‘আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর’ জাতীয় একটা লেখা মনে আসছে, তাই লিখছি! আমার ছেলেবেলায় দেখা রাজনীতিবিদেরা ছিলেন, সরল সহজ জীবনযাপনে অভ্যস্ত আর দেশের প্রতি মানুষের প্রতি তাদের ছিল অসীম ভালবাসা। শক্তির প্রয়োগ যে ছিলনা তা না, তবে এভাবে এখনকার মত ব্যক্তি স্বার্থে কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে শক্তি ব্যবহৃত হত না; রাজনীতি সবসময় বাহুবলের চাইতে অধিক শক্তিশালী ছিল। ঐ সময়ের মানুষদের হয়তো মনে হত, একজন রাজনীতিকের দেশের প্রতি ভালবাসা আর ফলশ্রুত ত্যাগ থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক! তা নইলে রাজনীতি করা কেন?! কিন্ত বর্তমান সময়ের খুনে রাজনীতিবিদদের দেখলে তারা হয়তো বুঝতে পারতেন তাদের সময়কার রাজনীতিবিদদের স্বাভাবিক মানবিক গুনগুলোর কারণেই তারা ছিলেন অসাধারণ আর স্বাভাবিক আচরন আশা করাই বর্তমান সময়ে অস্বাভাবিক। সমাজবিদরা হয়তো ভেবে দেখবেন এত অধঃপতন কেন হল? কিভাবে হল?

রাজনীতি এখন শুধুই বাণিজ্যিক উচ্চাভিলাষের নাম! এই উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে সন্ত্রাস, হত্যা, গুম সবই জায়েজ হয়ে গেছে! রাজনীতিতে এখন মেধা, শিক্ষা, জ্ঞান, ত্যাগ-তিতিক্ষার কোন স্থান নাই। কিন্ত কি এমন হল যে, রাজনীতিকদের এমন চরিত্র বদল করতে হল? কিংবা চরিত্রবান রাজনীতিকরা দুশ্চরিত্র, সন্ত্রাসী আর অপরাধীদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে গেলেন?

সময় অনুযায়ী রাজনীতিকদের তিন ক্যাটাগরীতে ভাগ করে নেয়া যায়, এক, স্বাধীনতা পুর্ববর্তী থেকে শুরু করে আশির দশকের শেষ পর্যন্ত, দুই নব্বইয়ের দশক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর তিন দুই হাজার সাল থেকে এ পর্যন্ত। রাজনীতিকদের চরিত্র ক্রমবিবর্তন হয়েছে কিংবা নতুন ধরণের রাজনীতিকরা পুরোনদের নির্বাসিত করেছেন, কেউ বা সময়ের প্রয়োজনে চরিত্র বদল করেছেন। আশির দশকের রাজনীতিকরা সম্পদশালী ছিলেন না; তাদের রাজনীতির মুল শক্তিই ছিল ব্যপক জনসংযোগ আর জনসমর্থন। এ সময়ের রাজনীতিকরা রাজনৈতিক কর্মসুচী পালন করতে গিয়ে অনেক সময় নিজের স্ত্রীর হাতের চুড়িও বিক্রি করে দিতেন! কিন্ত মুলত তারা তুলনামুলক উচ্চবিত্তদের চাঁদার উপর নির্ভর করতেন! রাজনীতির পেছনে সময় দিতে গিয়ে তারা এমনই ছন্নছাড়া জীবন যাপন করতেন যে তাঁরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পড়ালেখা আর অন্যান্য সুবিধা অসুবিধার খেয়াল রাখতে পারতেন না।

জিয়াউর রহমান দলগঠন করতে গিয়ে রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই অপাংক্তেয়, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার আর অরাজনীতিক পেশাজীবিদের দলে টেনেছিলেন আর এরশাদ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে অনেক পুঁজিপতির জন্ম দেন; বেসামরিক অফিসার আর দলছুটদের সাথে এদেরও দলে টেনে নেন। এরশাদ এধরণের অরাজনীতিক পুঁজিপতিদের রাজনীতিতে সরসারি মন্ত্রীত্ব আর এমপিত্ব দিয়ে দলে টেনে আনেন। অপরদিকে আওয়ামী রাজনীতি চলতে থাকে পুঁজিহীন রাজনীতিকদের দ্বারা। আওয়ামী রাজনীতিবিদেরা মুলত তাঁদের রাজনৈতিক ইমেজ বা ক্যারিশমা, চাঁদার যোগান, আর জনসমর্থনের উপর নির্ভর করতেন।

১৯৮৬ এবং ১৯৯১ এর নির্বাচনে যথাক্রমে জাতীয় পার্টি আর বিএনপি নব্য পুজিপতিদের মনোনয়ন দেন। এরা আবার ব্যপক অর্থ ছড়িয়ে প্রশাসন, দুব্বৃত্তদের কিনে ফেলে! ভোটারদের মধ্য অর্থ ছড়িয়ে এরা রাজনীতির পুরোন খেলোয়াড়দের কোণঠাসা করে ফেলেন। ব্যপক অর্থনৈতিক লাভের আশায় সন্ত্রাসীরাও ভীড় করেন বিএনপি-এরশাদ কর্তৃক সৃষ্ট নব্য পুঁজিপতি রাজনীতিবিদদের পেছনে। এই ধারায় আওয়ামী লীগ খেতে থাকে মার। ৮৬ আর ৯১ এর নির্বাচন দেখে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড তাদের ‘ভুল’ সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেন; দলে আমন্ত্রণ জানান পুঁজিপতিদের। এবার শুরু হল পুঁজিপতি বনাম পুঁজিপতির যুদ্ধ, সন্ত্রাসী বনাম সন্ত্রাসীর যুদ্ধ। দেশপ্রেমিক রাজনীতিকরা ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হলেন। কেউ কেউ আবার সময়ের প্রয়োজনে নিজেরা টাকার পেছনে ছুটলেন আর এভাবেই একসময়ের ত্যাগী রাজনীতিক হয়ে গেলেন নব্য পুঁজিপতি আর অনেক ভাগ্যবান মালিক হলেন নতুন শিল্প আর ব্যাঙ্কের।

খুনী সন্ত্রাসীরা বুঝতে পারলেন রাজনীতি করলে অনেক লাভ আর রাজনীতির মুল শক্তি হল পুঁজি। কিন্ত রাজনীতিককেও তার বিকাশের জন্য সন্ত্রাসের উপর নির্ভর করতে হয়। এই সন্ত্রাসীরা এতদিন মুলত পুঁজিপতি-রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় থাকলেও একসময় পুঁজিপতি-রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেরাও পুঁজিপতি হয়ে উঠেন। সন্ত্রাস চালাতে গিয়ে তারা খুন-ডাকাতি-ধর্ষণ রাহাজানি করতে দ্বিধান্বিত হত না। মাঠ পর্যায়ে সন্ত্রাস চালিয়ে এরাও প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। এখানে মনে রাখতে হবে পুরাতন আমলের সনাতনী রাজনীতিকদের সাথে জনগনের সরাসরি যোগাযোগ থাকতো; অন্যদিকে পুঁজিপতি রাজনীতিকরা জনগনের সাথে সরাসরি কোন যোগাযোগ রাখেনা। যেহেতু ঐ সময়ের নির্বাচনে ভোট পাওয়ার জন্য জনতার উপর নির্ভর করতে হত না আর জনসভায় মাঠ ভরানো ছাড়া জনতার আর কোন ভুমিকাই ছিলনা সেহেতু যোগাযোগের জন্য পুঁজিপতি রাজনীতিবিদেরা সন্ত্রাসী টাউট বাটপারদের উপর নির্ভরশীল থাকতেন, আর নিজেরা শুধুমাত্র দলীয় প্রধানসহ দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। দেখা গেল এই সন্ত্রাসী টাউট বাটপাররা জনতার সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগে এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে নিজেরাই বিত্তশালী হয়ে উঠলেন আর তাদের পুজিপতি প্রভুর চাইতে অধিক ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলেন। একটা সময় শিল্পপতি কিন্ত আপাত ভদ্রলোক ক্যাটাগরীর রাজনীতিকদের জায়গা নিলেন সন্ত্রাসী কাম পুজিপতি ‘রাজনীতিবিদেরা’।

এই সন্ত্রাসী-পুজিপতি-রাজনীতিকরা থেমে নেই। সন্রাসী পুঁজিপতি মালিকেরা প্রতিনিয়তই শক্তি সংগ্রহ করছে। তাদের দুষ্কর্মের প্রধান শক্তি হচ্ছে ক্ষমতা আর আর ক্ষমতা বাড়াতে যা যা দরকার তার সবই তারা অর্জন করছে এবং করবে। সাম্প্রতিক বলবর্ধক হরমোন হিসেবে যোগ হয়েছে প্রিন্ট আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিকানা। দুই নেত্রী তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন আর তাঁদের স্বামী আর পিতার ইমেজের কারণে এই বিশাল ‘আফ্রিকান মাগুর’এর খাদ্যে এখনও পরিণত হননি। কিন্ত যে আফ্রিকান মাগুর এই দুই নেত্রী গত তিন দশকে সৃষ্টি করেছেন তারা দুই নেত্রীর পরবর্তী বংশধরদের রেহাই তো দিবেনই না, বরং এভাবে চলতে থাকলে শীতলক্ষ্যা, যমুনা, বুড়িগঙ্গা আর কর্ণফুলি নদীর পানি আরো অনেক কাল রক্তে রঞ্জিত হবে।

বর্তমান সময়ের রাজনীতিবিদরা আর কেউ নন, তারা এই যুগ বিবর্তিত রাজনীতিবিদ। গতকালকে এক আইনজীবি বন্ধু আমাকে বড় দুই দলের যে কোন এক দলের জেলা পর্যায়ের এক সেক্রেটারীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। লোকটার চুল পাকা বয়স্ক, কিন্ত আমার মনে হল জেলা পার্টি সেক্রেটারী পর্যায়ে যে ব্যক্তি পৌঁছাতে পেরেছেন, তিনি তো কোন নিষ্পাপ মানুষ নন। লোকটা একটু সরে যেতেই আমি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ উনি কতজনকে মেরেছেন বা মারিয়েছেন?’ বন্ধুর জবাব, ‘অগুনিত’। এই হল বর্তমান সময়ের রাজনীতি। আমাদের বুঝতে হবে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপি কিংবা বিএনপিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ এনে সন্ত্রাস গুম খুন কিছুতেই বন্ধ হবেনা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি থেকে সব সন্ত্রাসীদের উৎখাত আজ জরুরী হয়ে পড়েছে।

মানুষের মনুষ্যত্ববোধ আজ সর্বনিম্নে পৌঁছে গেছে। একজন ‘মানুষ’ যখন অন্য মানুষকে খুনের বিবরণ নির্লিপ্তভাবে দিতে থাকে তখন শিউরে উঠি। হাজার হাজার শিশু এখন ফুটপাথে ডাস্টবিনে পশুপাখীর সাথে খাবার কুড়িয়ে খায় আর তার পাশ ঘেঁষে ছুটে যায় বিএমডব্লিউ আর প্রাডো। এতো অবিচারের মধ্যে যে শিশু বড় হয় সেই শিশুর মধ্যে বিকশিত হয়না মানবিক বৃত্তি। অর্থ বিত্তের হাতছানি আর সমাজের প্রতি আক্রোশ তাকে নির্লিপ্ত খুনীতে পরিণত করে।

আজ আমরা বলছি মধ্য আয়ের দেশের পরিণত হওয়ার কথা। কথাটা অনেকাংশে সত্যিই এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশ অস্বীকার করার মত কোন বিষয় না। কিন্ত এত বৈষম্য আর অবিচারের মধ্যে যদি সমাজের এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে আমরা আটকে রাখি আর নিজেরা উলঙ্গ উল্লাসে মত্ত থাকি, তাহলে ‘মধ্য আয়ের দেশে’ নারকীয় সন্ত্রাস আর হত্যাকান্ড বাড়তেই থাকবে আর সুইডেন আসলাম আর মুরগী মিলনেরা একদিন প্রধানমন্ত্রীত্বের আসন কলঙ্কিত করবে। আমাদের কারো শরীরই লোহা দিয়ে বানানো না, এ কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।

১৬ thoughts on “রাজনীতিতে আফ্রিকান মাগুর আর গুম খুন!

  1. আমাদের বুঝতে হবে আওয়ামী লীগকে

    আমাদের বুঝতে হবে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপি কিংবা বিএনপিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ এনে সন্ত্রাস গুম খুন কিছুতেই বন্ধ হবেনা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি থেকে সব সন্ত্রাসীদের উৎখাত আজ জরুরী হয়ে পড়েছে।

    অর্থাৎ এইবার কয়লার ময়লাকে ধুইতে হইবে।
    কিন্তু কয়লার ময়লা ধুইতে ধুইতে যে সবার গা ময়লা হইয়া যাইবে, তাহার ময়লা ধুইতে গিয়া আরেক জনের……… তারপর আরেক জনের।
    নিজেকে নিষ্কলুষ রাখিয়া কয়লার ময়লা কে ধুইতে পারিবে বলিয়া মনে করেন?

    1. দলে যদি যোগ্যতা নিয়ে ঢুকি,
      দলে যদি যোগ্যতা নিয়ে ঢুকি, চোখে পড়ার মত কিছু চকচকে অবশিষ্ট থাকে তাহলে কিছু হলেও হতে পারে, বাইরে থেকে একজনা পার্টি করে বা টক শো’তে গিয়ে ভাল কথা বলা যাবে, কিন্ত কতটা কাজ হবে বলতে পারিনা। আপনার প্রশ্ন, কোটি টাকার প্রশ্ন আর সঠিক উত্তর ‘বিলিয়ন ডলারের’ উত্তর।

  2. আমার মতামত হচ্ছে- এই দুইটা
    আমার মতামত হচ্ছে- এই দুইটা দলই দুষিত হয়ে গেছে। এরা আর ঠিক হবেনা। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

    1. যেহেতু ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসীর
      যেহেতু ওয়েস্টার্ন ডেমোক্রেসীর তথাকথিত ভার্সন ফলো করছি আমরা সেহেতু সেখানকার অভিজ্ঞতায় আমরা কখনো ব্রিটিশ লেবার বা কন্সার্ভেটিব কিংবা আমেরিকান ডেমোক্রেট বা রিপাবলিকান পার্টির বিকল্প আসতে দেখিনি। এদেরই সংশোধিত হয়ে পরিশিলীত হতে হবে। এদের বাইর থেকে আপনি যদি ভাল কিছু করে আপাতত গন্সমর্থনও পান আপনার সেই কর্মসুচী ছিনতাই হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরুপ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গণ আদালতের পরে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত হয়ে এই আন্দোলন নিজেদের করে নিয়েছিল আর নিজেদের মত চালিত করতে পেরেছিল। শাহবাগ আন্দোলনতো আমাদের স্মৃতি না বর্তমান! চিন্তাই ছিন্তাই হওয়ার এমন অনেক উদাহরন বামপন্থীরাই সবচাইতে বেশী দিতে পারবেন। তবে আগ্রাসী ভুমিদস্যুদের হাতে মিডিয়া তুলে দেয়াটা যদি রোধ করা না যায় আমাদের খবর আছে। বিশবিদ্যালয় পাশ করা সব স্বাপ্নিক ছেলেগুলাকে সাংবাদিক বানিয়ে নিজেদের গোলাম করে ফেলছে এরা।

  3. আমাদের বুঝতে হবে আওয়ামী লীগকে

    আমাদের বুঝতে হবে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপি কিংবা বিএনপিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ এনে সন্ত্রাস গুম খুন কিছুতেই বন্ধ হবেনা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি থেকে সব সন্ত্রাসীদের উৎখাত আজ জরুরী হয়ে পড়েছে।

    আপনার কথাটা মানলাম। কিন্তু এই কাজটি করবে কে? দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যদি এইসব হ্যা, খুন ও গুমের কাজে জড়িত থাকে, সেই দলের কাছে উৎখাত করা আপনি কিভাবে আশা করেন? নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা কি আপনার চোখে পড়ছে না?

    1. কঠিন প্রশ্ন! তবে শুধু আওয়ামী
      কঠিন প্রশ্ন! তবে শুধু আওয়ামী লীগ কেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি জাতীয় পার্টি সবগুলা দলইতো মেধাগতভাবে ও রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া আর এজন্যই তো ভাল ছেলেদের আহবান করি এসব দলে আসতে! ভালর জোয়ারে যদি খারাপ ভেসে যায় বঙ্গোপসাগর হয়ে উত্তরমেরুতে।

      1. ভাইসব, ১৪ গুস্টির ১৯ চক্রে
        ভাইসব, ১৪ গুস্টির ১৯ চক্রে থেকে ভাল কিছু হবেনা। সৎ ও মেধাবি ছেলেরা যদি রাজনীতি করতেই চায়, এই গন্ডির বাইরে থেকেই করতে হবে।

  4. দিন দিন আওয়ামীলীগ ডুবে
    দিন দিন আওয়ামীলীগ ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু বুঝতে পারছে না। যখন বুঝতে পারবে তখন আর কিছুই করার থাকবে না।

    1. জানিনা! আওয়ামী লীগ ডুবে যাওয়া
      জানিনা! আওয়ামী লীগ ডুবে যাওয়া মানেই তো বিএনপি ভেসে উঠা বোঝায়, তাই বলি, আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার মত মেধা বিএনপিতে নেই। বড় দু দলে দুবৃত্তরা রাজনীতি করছে! ওদের রাজনীতি করার কথা না! মেধাবীরা বিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করছে আর সংসারের হিসাব মেলাচ্ছে! আওয়ামী লীগ, বিএনপি কেউই চিরতরে ডুবে যাবেনা। ভাল মানুষগুলো বড় দলে ঢুকে দলের ভেতরে বিপ্লব করা দরকার। মিডিয়া যদি দুবৃত্তদের দখলে চলে যায় ভাল মানুষদের এর কথা কেউ জানবেনা!

      1. কে বিপ্লব ঘটাবে?? আজকাল
        কে বিপ্লব ঘটাবে?? আজকাল বিপ্লব ঘটাতেও অনেক টাকা লাগে। তাছাড়া বুড়ো নীতিবান মানুষদের দিয়ে এইদেশে কিছু হবে না। তারা শুধু ঢাকায় বসে বসে মিডিয়া সেশন করে। কিন্তু কেউ রাজপথে নামে না। গ্রামে যায় না।
        বিপ্লব ঘটানোর একমাত্র উপায় অনূর্ধ্ব ৪০ দের নিয়ে দল গঠন করে সারা বাংলা চষে বেড়ানো।

        1. অনুর্ধ ৪০ এর ব্যাপারটার সাথে
          অনুর্ধ ৪০ এর ব্যাপারটার সাথে একমত। তবে রাজনীতিতে কেউ কাউকে জায়গা করে দেয়না। কিন্ত ভালরা যদি আশা করে বসে থাকে যে, তাদের জন্য পরিবেশ তৈরী করে দেয়া হবে তারপর অনুকুল পরিবেশে তারা বেড়ে উঠবে তাহলে তাদের রাজনীতিতিতে আর কখনো পরিবর্তন আসবেনা। দলে বিপ্লব করতে অনেক টাকা লাগে, এটার সাথে একমত নই, কারণ যার কাড়ি কাড়ি টাকা আছে, সে কখনো বিপ্লব ঘটাতে যাবে না, কিংবা আপনার কথামত সাড়া বাংলা চষে বেড়াবেনা।

      2. ভাল মানুষগুলো বড় দলে ঢুকে

        ভাল মানুষগুলো বড় দলে ঢুকে দলের ভেতরে বিপ্লব করা দরকার।

        আপনার বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে জানা নাই বোঝা যাচ্ছে। এখানে টাকার জোর, অস্ত্রবাজি, দুর্নীতি, আর ভন্ডামির রাজনীতি করে বড় দলগুলোর ৯৫% লোক। এখানে এই দলগুলোতে সৎ আর পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতার কেউ টিকে থাকতে পারেনা।

  5. আপনার কথাই তো সত্যিই! কিন্ত,
    আপনার কথাই তো সত্যিই! কিন্ত, সব জেনেও ভাল দিনের আশায় লিখে যেতে হয়, তাই লিখছি! আমরা লিখছি, অন্য কেউ হয়তো সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাবে! সব মানুষ তো সব ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না, আবার কোন কোন মানুষ নির্দিষ্ট কোন ক্ষেত্রে অনেক বেশি ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। তাঁর আগমন পর্যন্ত আমরা জনমত গঠন করি। বেশী জানিনা বলেইতো ব্লগে লিখি! বেশী জনলে তো টক শো তে থাকতাম (অনেক হাসি!)!

  6. দলিয় প্রধানরা হয়তো ভাল চান
    দলিয় প্রধানরা হয়তো ভাল চান জনগণের , কিন্তু চামচা নেতারা আর খায়্যা পাতী নেতারা সব নষ্টের মূল।
    পুরা পুরি ২০০১ এর মত ঝাকিএকটা লাগবেএদের

  7. সারা দেশকে তিনশো তালুকে ভাগ
    সারা দেশকে তিনশো তালুকে ভাগ করা হয়েছে! কিভাবে জিতবেন তা তালুকদার পদপ্রার্থীরা জানেন! এটাই গণতন্ত্র!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *