মিথ্যা ধর্ষন মামলা এবং একটি পরিবারের সংগ্রামের গল্পঃ

প্রেক্ষাপট -১

আনিস সাহেবের অক্সিজেন চলছে সকাল থেকে ।
এখন রাত তিনটা ।
স্তব্ধ হয়ে পাশে বসে আছেন দীর্ঘদিনের সহধর্মিনী ।
প্রথম হার্ট এটাক ছিল আনিস সাহেবের ।
ডাক্তার বাঁচার সম্ভাবনা বলেছিলো ২০% !
আনিস সাহেবের যে সিচুয়েশন তাতে, তার আইসিইউ-তে থাকার কথা ।
কিন্তু গল্পটা যে সময়ের, সেই সময় জেলা শহর গুলোতে আইসিইউ ব্যাপারটা এতো সহজলভ্য ছিল না ।
নিজের নামে যখন “ধর্ষন” মামলা হয়েছে শুনলেন, তখন তিনি বাসার পেছনের মাঠে তার আদরের পুত্রকে “লেজওয়ালা ঘুড়ি” বানিয়ে দিচ্ছিলেন ।



প্রেক্ষাপট -১

আনিস সাহেবের অক্সিজেন চলছে সকাল থেকে ।
এখন রাত তিনটা ।
স্তব্ধ হয়ে পাশে বসে আছেন দীর্ঘদিনের সহধর্মিনী ।
প্রথম হার্ট এটাক ছিল আনিস সাহেবের ।
ডাক্তার বাঁচার সম্ভাবনা বলেছিলো ২০% !
আনিস সাহেবের যে সিচুয়েশন তাতে, তার আইসিইউ-তে থাকার কথা ।
কিন্তু গল্পটা যে সময়ের, সেই সময় জেলা শহর গুলোতে আইসিইউ ব্যাপারটা এতো সহজলভ্য ছিল না ।
নিজের নামে যখন “ধর্ষন” মামলা হয়েছে শুনলেন, তখন তিনি বাসার পেছনের মাঠে তার আদরের পুত্রকে “লেজওয়ালা ঘুড়ি” বানিয়ে দিচ্ছিলেন ।
আড়াই বছরের পিচ্চি কন্যা তার মাথার চুল টেনে দিচ্ছিলো!
তার এই ছেলের ছোট্টবেলা থেকেই আবদার ঘুড়ি উড়ানোর ।
আনিস সাহেব অনেক বড় বড় ঘুড়ির গল্প শোনাতেন, যেগুলো নাকি ছোট বাচ্চারা উড়াতে পারবে না।
সেগুলো ঘুড়ি নাকি বাচ্চাদেরকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে!
মুগ্ধ হয়ে শুনতো ছোটন ।
সেই থেকে তার ঘুড়ি উড়ানোর সাধ ।
বড় ঘুড়ি যেহেতু উড়ানো রিস্কি, তাই লেজওয়ালা ঘুড়িই ভরসা ।
উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়বেটিকস সমস্যা আগে থেকেই ছিল, ধর্ষন মামলার ব্যাপারটা সহ্য করতে পারলেন না আনিস সাহেব ।
মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন ।
মামলার বাদী (তথাকথিত ভিকটিম) যিনি ছিলেন, তিনি সরকারী হাসপাতালের একজন নার্স এবং আনিস সাহেবের স্ত্রীর সহকর্মী ছিলেন ।
প্রফেশনাল ঠিকাদার ছিলেন আনিস সাহেব ।
টেন্ডারের মাধ্যমে অনেক কাজ পেতে/নিতে হতো ।
তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিল তৎকালীন সরকারের ক্যাডাররা ।
চাঁদা দাবি করা, জীবননাশের হুমকি ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ।
কোনটাতেই যখন পেরে উঠছিলো না, তখন শেষ অস্ত্র ছিল এই “মিথ্যা ধর্ষন” মামলা ।
বাদীকে নগদ ৫লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য অনেক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো ।

প্রেক্ষাপট -২

যথারীতি মিডিয়া বাদীর পক্ষ নিলো ।
সব কিছুতে নারীর প্রতি অন্যায় করলেও, এই একটা বিষয়ে মিডিয়া ব্যাপক উৎসাহী ।
নিউজ হলো ।
কয়েকদিন পর পর ফলো আপ করা হলো সেই নিউজে ।
আনিস সাহেবের পরিবার পড়লো অকুল পাথারে ।
জলের মতো টাকা বেড়িয়ে যেতে লাগলো ।
এর কাছে ওর কাছে ছুটতে বেড়াতে লাগলেন আনিস সাহেবের স্ত্রী ।
ছোট ছেলে-মেয়ে দুটোর দিকে তাকাতে পারেন না তিনি ।
আব্বুকে কেন পুলিশ ধরেছে?
আব্বু কবে বাসায় আসবে ?
এই টাইপের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না তিনি ।
রাতে ঘুমাতে পারেন না, আড়ালে গিয়ে কাঁদেন ।
সমাজের মানুষের চোখে অছুচ্ছ হয়ে গেলেন ।
আশে-পাশের মানুষ টিটকারী করে, হাসি তামাশা করে আড়ালে ।
কখনো মুখের সামনেই ।
ঐ দ্যাখ দ্যাখ…হে হে হে…
আত্মীয়রা ত্যাগ করলো, প্রতিবেশীরা তাদের ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলতে দেয় না!
ধর্ষকের ছেলে-মেয়ের সাথে মিশলে, যদি তাদের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়ে!
ছোট্ট সাজানো সংসার মুহুর্তেই তছনছ হয়ে গেল ।

প্রেক্ষাপট – ৩

মামলা চলাকালীন দ্বিতীয়বার হার্ট-এটাকের শিকার হয়েছিলেন আবার ।
প্রথম হার্ট-এটাকে আনিস মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে ফিরে এসেছিলেন ।
কারন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ভিন্ন ।
দীর্ঘ ২ বছরের মতো মামলা চলার পর, আনিস মিথ্যা ধর্ষন মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন।
তৎকালীন সরকারদলীয় নেতারা ছিলেন বাদীর পক্ষে এবং প্রচুর পরিমানে টাকা তারা খরচ করেছিলেন।
মিথ্যা সাক্ষী দিতে গিয়ে মামলার বাদী থেকে শুরু করে, বাকি সাক্ষীরা তালগোল পাকিয়ে ফেললেন!
কেউ বলল ধর্ষন করতে দেখেছেন বেড রুমে, কেউ বলল বারান্দায়, কেউ বলল কিচেনে!
মামলা চালাতে গিয়ে ১০-১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেল ।
আবাদী জমি সব বন্ধক রাখতে হলো ।
হাতে শূন্য কড়ি!
মামলার রায় হলো বৃহস্পতিবার ।
পরের মঙ্গলবার আনিসের তৃতীয় এবং সর্বশেষ হার্ট-এটাক হলো ।
মৃত্যু !!!

প্রেক্ষাপট -৪
মামলার বাদী, আনিসের মৃত্যুর পরের সপ্তাহেই সরকারদলীয় নেতাদের সাহায্যে বদলী নিয়ে অন্য একটি মেডিক্যাল কলেজে চলে গেলেন। ( পালিয়ে গেলেন বলা উচিত )
আনিসের স্ত্রী আর কোন ঝামেলায় থাকতে চাইলেন না ।
ছেলে-মেয়ে দুটোকে নিয়ে চলে গেলেন গ্রামে, মোটামুটি লোকচক্ষুর আড়ালে ।

পুনশ্চঃ
আনিস সাহেবের ছেলে ছোটন বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ।
বাবার পক্ষে সে এখন “মানহানি” মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।
ক্ষতিপূরন হিসেবে সে তার বাবাকে ফিরে চায়!
কারন সে বিশ্বাস করে,
তার বাবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি ।
দিনের পর দিন তার বাবাকে মানসিক যন্ত্রনা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে ।
হয়তো ছোটন ঠিক ।
আমরা শুধু সরাসরি খুনকে খুন মনে করি ।
কিন্তু দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রনা,হতাশা,কষ্ট নিয়ে অনেকে এগিয়ে যায় মৃত্যু দিকে।
তার খবর কি আমরা রাখি ??

বিঃদ্রঃ ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে । কিন্তু গল্পটা সত্যি ।

( সংক্ষেপিত )

৬ thoughts on “মিথ্যা ধর্ষন মামলা এবং একটি পরিবারের সংগ্রামের গল্পঃ

  1. যে দেশে কোন নীতি থাকে না, সেই
    যে দেশে কোন নীতি থাকে না, সেই দেশে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
    এটা কি আপনার জীবনের ঘটনা?

    1. নীতি আছে অবশ্যই! তবে আপনার
      নীতি আছে অবশ্যই! তবে আপনার আমার জন্য নয় । সমাজের রাঘব-বোয়ালদের জন্য সকল আইন । তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য ।

  2. বাংলাদেশের নস্ট রাজনৈতিক
    বাংলাদেশের নস্ট রাজনৈতিক দলগুলো মিথ্যা মামলা দেয়ার এমন কাজে সিদ্ধহস্ত। এই আপরাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *