ঠাকুর আর একবার ফিরে এসো……

আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বররা ভূত ভবিষ্যৎ সবই জানেন।
১৯০৫ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ হয় তখন তার বিরোধিতা করে কবিগুরু লিখেছিলেন “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”
পূর্ব বাংলারা বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করলেন “হিন্দুদের সুখ সুবিধা রক্ষার্থে রবিন্দ্রনাথা ঠাকুর এই গান গেয়েছেন”
এতো বছর পরেও সেই বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্বের কোন রঙ বদালায়নি। কবিগুরু জানতেন বঙ্গভঙ্গ মানে শুধু একটি ভূখণ্ডের বিচ্ছেদ না। একটি জাতির বিচ্ছেদ, একটি অগ্রগতির বিচ্ছেদ, একটি সাংস্কৃতির বিচ্ছেদ। যার জন্য বাঙালি জাতিকে মূল্য দিতে হবে। এবং সেই মূল্য আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বররা ভূত ভবিষ্যৎ সবই জানেন।
১৯০৫ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ হয় তখন তার বিরোধিতা করে কবিগুরু লিখেছিলেন “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”
পূর্ব বাংলারা বুদ্ধিজীবীরা বলতে শুরু করলেন “হিন্দুদের সুখ সুবিধা রক্ষার্থে রবিন্দ্রনাথা ঠাকুর এই গান গেয়েছেন”
এতো বছর পরেও সেই বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্বের কোন রঙ বদালায়নি। কবিগুরু জানতেন বঙ্গভঙ্গ মানে শুধু একটি ভূখণ্ডের বিচ্ছেদ না। একটি জাতির বিচ্ছেদ, একটি অগ্রগতির বিচ্ছেদ, একটি সাংস্কৃতির বিচ্ছেদ। যার জন্য বাঙালি জাতিকে মূল্য দিতে হবে। এবং সেই মূল্য আমরা দিয়ে যাচ্ছি।
ইংরেজ আমলে জোতগুলো বিদ্রোহ হয়েছে তার সব গুলোই প্রায় বাংলা থেকে হয়েছে। এমনকি ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সিপাহী বিদ্রোহ টা হয়েছিল বারাসাতে। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছিলেন “আমাকে রক্ত দেও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো” এই নেতাও কিন্তু বাংলারই সিংহ।
সব দিক বিচার করে এটা প্রতিয়মান হয় যে ইংরেজরা ভারতীয়দের মদ্ধে বাঙালি জাতিকেই বেশি ভয় পেতেন। একারনে বাংলা বিভাজন ছিল তাদের কৌশল।
কবি গুরু এই কৌশল বুঝতে পেরেই তিনি এর প্রতিবাদ করেছিলেন।
সেই বঙ্গভঙ্গর কৌশলকে কাজে লাগিয়ে শুধু ধর্মের দোহায় দিয়ে ১৯৪৭ সালে বাঙ্গালি জাতিকে কেটে দু টুকরো করা হল। যার ক্ষত আজো অনেক বাঙ্গালি বয়ে নিয়ে চলেছেন।
কিন্তু অনেক বাংলাদেশী মুসলিম রবি ঠাকুরকে গালি দেয় শুধু তার এই গান লেখার কারনে। আজো অনেক মুসলিম স্কুল কলেজে রবিন্দ্রনাথ নিষিদ্ধ। কিন্তু তারা একবারও উপলব্ধি করে না যে, যদি সেদিন আমরা রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে পারতাম তা হলে আজ আমাদের অবস্থা এতো শোচনীয় হত না।

আজ বেশ কিছুদিন যাবত ভারত পরিভ্রমণে আছি। হয়তো আগামি ৬/৭ বছর ভারতেই থাকতে হবে। এখানের যা দেখি তাতেই মুগ্ধ হই। সবকিছুর মূলই পূর্ব বঙ্গের মত। শুধু তার উপরে এরা ভারতীয় তকমা সেটে দিয়েছে।
এদের শিক্ষা, এদের আচার, এদের বুদ্ধি, এদের বিবেক, এদের দেশপ্রেম সবই আমাকে মুগ্ধ করে।
গতকাল এক দাদার সাথে কথা বলার এক ফাকে তিনি বললেন “কলকাতা বাংলাদেশের থেকে ৫০ বছর এগিয়ে আছে। আর পুরো ভারত এগিয়ে আছে ১০০ বছর”। শুনে বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো।
শুধু ভাবলাম এক সময় তো আমরা একই ছিলাম। শুধু ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে আমাদের বিচ্ছিন্ন করা হল। না হলে আজ আমরাও এদের মতই উন্নত থাকতাম।
আমি এখানে যতগুলো মানুষের সাথে কথাবলেছি তারা সবাই-ই খুব বিনয়ের সাথে বলেছেন আমরা এক সময় পূর্ব বঙ্গে ছিলাম। কেউ বলেছে আমার বাবার আদি বাড়ি বরিশাল, কেউ বলেছে বিক্রমপুর, কেউ বলেছে ফরিদপুর, কেউ বলেছে খুলনা।
এরা কেউ এদের আদি পুরুষের ভিটে দেখেনি। কিন্তু সেই না দেখা ভিটের প্রতি এদের সে যে কি প্রেম, নিজ চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।
আমরা বাংলাদেশে বসে অনেকেই ভারতীয় হিন্দুদের নিয়ে অনেক কটূক্তি করি। আমাদের বিচারে কলকাতার মানুষের মত কৃপণ বুঝি এই জগতে আর হয়না।
কিন্তু আমি দেখেছি বাংলাদেশী প্রসঙ্গে এরা কত বেশি আন্তরিক। আমি যার সাথে কথা বলেছি সেই মন খারাপ করে বলেছে “খুব মনে চায় বাংলাদেশে যেতে। কিন্তু ওখানে জ্যাম নাকি খুব ভয়ঙ্কর? রাজনৈতিক শান্তিও নেই”। আমি প্রতিটি মানুষকে বোঝাতে ছেয়েছি, সমস্যাতো কিছু থাকেই। তাই বলে তুমি যেমনটা ভাবছ তেমনটা নয়।
অনেকেই রাজি হয়েছে অন্তত একবারের জন্য হলেও নিজের ভিটেটা দেখতে যেতে। কোথায় পোতা আছে বাপ, ঠাকুরদার নাড়ী।
কলকাতায় দেখি সবাই অপার স্বাধীনতা ভোগ করে। কেউ কারো স্বাধীনতার পথে বাধা না। সবাই সামাজিক দায়েক্ত গুলো পালন করে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করছে। এর কোন ব্যাত্তয় নেই।
একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। কলকাতার প্রায় ৯০% মানুষ প্রতিদিন ট্রেনে চলাচল করে। সবার যত ব্যাস্ততাই থাকনা কেন তারা নিয়ম করে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট কেনে। কিন্তু কি অদ্ভুত জানেন? কখনোই রেল কতৃপক্ষ সেই টিকিট চেক করে না। আর এরাও কখনো টিকিটের টাকা ফাকি দেয় না। এমন অসংখ্য দেশপ্রেমের গল্প আছে এদের।
অথচ আমরা এখনো পড়ে আছি আমাদের গোঁড়ামি নিয়ে। কেউ আছি মুক্তিযুদ্ধের তকমা গায়ে জড়িয়ে, কেউ আছি ধর্মের তকমা গায়ে জড়িয়ে। কিন্তু আসল বাঙ্গালির তকমা কেরও গায়ে নেই।
আমি জানি না কবে সকল হানাহানি ভুলে গিয়ে আমরা মানুষ হব। কবে বুঝতে পারবো যে, এই দেশটি (বাংলাদেশ) আমার। এর সব কিছুর দাইক্ত আমার।
আজ যখন গুগলে সার্চ দেই তখন গুগল বলে রবিন্দ্রনাথ ভারতীয়, সত্যজিৎ রায় ভারতীয়, অমর্ত্য সেন ভারতীয়। দেখে কেমন যেন হিংসা হয়। আজ যদি ধর্মের ব্যাবধান ভুলে আমরা এক হতাম তা হলে বিশ্ব মাজারে আমি আরও বেশি সম্মানিত হতাম।
হায়রে ধর্ম! এই ধর্মই আমাদের সকল অধর্মের মূল। যতদিন বাংলাদেশীরা ধর্মকে ছুড়ে ফেলতে না পারবো ততদিন আমাদের মুক্তি নেই।
ঠাকুর………… আর একটি বার ফিরে এসো এই পূর্ব বাংলার মাঠে। তুমি বিনা আমরা পথ ভ্রষ্ট।
আর একবার ফিরে এসো ঠাকুর আমার মুক্তির বারতা নিয়ে। আমার সবুজ আঙ্গিনায়।
শুভ হোক তোমার জন্মদিন…………।।

২ thoughts on “ঠাকুর আর একবার ফিরে এসো……

  1. পুরো ভারত এগিয়ে আছে ১০০ বছর”।
    পুরো ভারত এগিয়ে আছে ১০০ বছর”। শুনে বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো।
    শুধু ভাবলাম এক সময় তো আমরা একই ছিলাম। না হলে আজ আমরাও এদের মতই উন্নত থাকতাম।———
    একমত হতে পারলাম না………………………………। কেমতে তাঁরা আমাদের হতে ১০০ বছর এগিয়ে?????????????????

    1. যে সকল কারনে ভারত আমাদের থেকে
      যে সকল কারনে ভারত আমাদের থেকে ১০০ বছর এগিয়ে (ব্যাক্তি পর্যবেক্ষণ)
      ১। সাইকোলজি
      ২। টেকনোলোজি
      ৩। শিক্ষা
      ৪। সেকুলারিজম কালচার
      ৫। পশ্চিমা কালচারের সাথে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
      ৬। মাল্টি কালচারাল এক্তিভিটিস
      ৭। দেশ প্রেম
      ৮। অন্নের কালচারের প্রতি সহানুভূতি প্রবন।
      এবার আপনার কাছে প্রশ্ন।
      এই দেশে ঘণ্টায় ২০০কিঃমিঃ বেগে ট্রেন চলে। আপনার কি মনে হয় না তারা আমাদের থেকে উন্নত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *