নারী ও সমাজ

আমাদের সমাজ কোন নারীর জন্য সৃষ্টি হয়নি, হয়েছে পুরুষের জন্যে। আইন আদালত, সমাজ ব্যাবস্থা, নিয়মনীতি, ধর্ম সবকিছু পুরুষের সুবিধের জন্যে। পুরুষ যদি বলে নারী তুমি এখন ঘুমাবে, নারী ঘুমাতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তোমার অতীতের সকল বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, নারী সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তুমি এবার মা হবে। নারী মা হতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তোমার কাম উদ্দিপনা নেই, এটা শুধু পুরুষের আছে। নারী তোমাকে তাই মানতে হবে। অর্থাৎ পুরুষ যা বলবে নারীকে তাই করতে হবে।


আমাদের সমাজ কোন নারীর জন্য সৃষ্টি হয়নি, হয়েছে পুরুষের জন্যে। আইন আদালত, সমাজ ব্যাবস্থা, নিয়মনীতি, ধর্ম সবকিছু পুরুষের সুবিধের জন্যে। পুরুষ যদি বলে নারী তুমি এখন ঘুমাবে, নারী ঘুমাতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তোমার অতীতের সকল বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, নারী সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তুমি এবার মা হবে। নারী মা হতে বাধ্য। পুরুষ যদি বলে, নারী তোমার কাম উদ্দিপনা নেই, এটা শুধু পুরুষের আছে। নারী তোমাকে তাই মানতে হবে। অর্থাৎ পুরুষ যা বলবে নারীকে তাই করতে হবে।

এখনো গ্রামে স্কুল কলেজের (অধিকাংশ শহুরে) মেয়েদের বিয়ের সময় নুন্যতম তাদের মতামত নেয়া হয়না। বাবা মা, বড় ভাই, মামা যা বলবে তাই হবে। পাত্র বুড়ো না জোয়ান, মদ খায় না জঙ্গি-ছাগু, কালো না ধলা, শিক্ষিত না মূর্খ। নারীর কিছুই দেখার অধিকার নাই, মতামত দেয়ার অধিকার নাই, নিজের পছন্দ অপছন্দ বলার অধিকার নাই।পুরুষ যা বলবে নারী চোখ বন্ধ করে তা মেনে নিবে। আর বিয়ের সময় পুরুষ খুটিয়ে খুটিয়ে নারীর দেহ দেখবে, হাটা দেখবে, কন্ঠ মধুর না কর্কশ দেখবে, চুল বড় না ছোট দেখবে, চামড়া সাদা না কালো দেখবে, মেয়ের ছেলে বন্ধু আছে কিনা দেখবে। বুক দেখবে, উড়ু দেখবে, নিতম্ব দেখবে! মাছ বাজারের মাছ টিপে দেখার মতো দেখবে!

কোন একটি কাজ পুরুষ করছে নারীও করছে। নারী ভুল করলে চারদিক থেকে আক্রমণ করে বলা হবে, আগেই বলেছিলাম এই কাজ নারীর দ্বারা হবে না। নারী দুর্বল, নারী ভীতু, নারী বুদ্ধিমান নয়। কিন্তু একই কাজ পুরুষ ভুল করলে কেউ তেমন ভাবে আক্রমণ করবেনা। শুরু এটুকুই বলতে পারে, ভুল হতেই পারে, ব্যাপার না। আবার ঠিক হয়ে যাবে।

কোন নারী যদি কোন ভাবে একবার ধর্ষিত হয়। তাহলে সেই নারীর আর রক্ষা নেই। সারাজীবন সে ধর্ষিত হতেই থাকবে। দ্বিতীয় বার ধর্ষিত হবে তার পরিবারের কাছে। পরিবার বলবে, নিশ্চিত তুমি খারাপ কিছু করেছিলে, খারাপ ভাবে চলেছিলে অথবা খারাপ ছেলেদের সাথে মিশেছিলে। তৃতীয় বার ধর্ষিত হবে ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তাররা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখবে কিভাবে ধর্ষিত হলো। কোথায় কোথায় দাগ আছে, রক্ত আছে, ছেড়া আছে! চতুর্থ বার ধর্ষিত হবে যদি সেই নারী আইনের আশ্রয় নিতে চায়। নানান ভাবে ধর্ষিতাকে প্রশ্ন করবে কিভাবে ধর্ষিত হলে, কোন এঙ্গেলে হলে? কতজন মিলে করেছে? তুমি কি নিজের ইচ্ছাতে করেছিলে? আগেও কি তাদের সাথে শুয়েছিলে? তোমাকে কি টাকা পয়সা দিয়েছিলো? দেখাও দাগ আছে কিনা! কাটা আছে কিনা! দেখাও রক্ত বেড়িয়েছে কিনা! আর পঞ্চম বারের ধর্ষণ নারীর সারাজীবনেও শেষ হবেনা। সারাজীবন এই নারী ধর্ষিত হতেই থাকবে। এই সমাজ, দেশ,আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীর কাছে।

এই সমাজে ধর্ষকের কোন শাস্তি নাই। ধর্ষক সপ্তাহ-পনেরো দিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে পারলেই সব মিটমাট হয়ে যাবে। বেড়িয়ে আসার পর সঙ্গী সাথীরা গর্বিত করার ঢংগে পিঠ চাপড়ে দিবে। বুঝাতে চাইবে তুমি মস্তবড় কাজ করেছ। বার বার করার জন্য চারদিক থেকে উৎসাহ প্রধান করবে।

নারীর কোন দেশ নাই, পরিবার নাই, সমাজ নাই, ধর্ম না। সব ধর্ম, সব রাষ্ট্র, সব পরিবার, সমাজ একই রকম। সবাই নারীর দোষ খুঁজে বেড়াবে, দুর্বলতা খুঁজে বেড়াবে, ব্যার্থতা খুঁজে বেড়াবে। সবাই বলবে এই নারী খারাপ, এই নারী বেশ্যা, এই নারীর সাথে অন্য কেউ মিশলে সেও খারাপ হবে যাবে। রাস্তায় দেখলে তাকে থুতু দিবে, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করবে, ভয়ংকর খারাপ মন্তব্য ছুড়ে দিবে তার উদ্দেশ্যে! যেন সে নিজের ইচ্ছাই ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষিত হওয়াটাই যেন তার পেশা!

১ thought on “নারী ও সমাজ

  1. এখনো গ্রামে স্কুল কলেজের
    এখনো গ্রামে স্কুল কলেজের (অধিকাংশ শহুরে) মেয়েদের বিয়ের সময় নুন্যতম তাদের মতামত নেয়া হয়না। বাবা মা, বড় ভাই, মামা যা বলবে তাই হবে। পাত্র বুড়ো না জোয়ান, মদ খায় না জঙ্গি-ছাগু, কালো না ধলা, শিক্ষিত না মূর্খ। নারীর কিছুই দেখার অধিকার নাই, মতামত দেয়ার অধিকার নাই, নিজের পছন্দ অপছন্দ বলার অধিকার নাই।পুরুষ যা বলবে নারী চোখ বন্ধ করে তা মেনে নিবে—————— খাঁটি কথা। তবে এখন পরিবর্তন এসেছে কিছু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *