রিনি – নিলাম – রিনি – নোয়াখালীর ট্রেন – রিনির মা

রিনিরা এলাকায় নতুন এসেছে। পরশুই উঠল। ২ দিনেই
এলাকার বৃদ্ধ,, যুব,, কিশোর,, বাচ্চা কাচ্চা সবার নজর
রিনির দিকে। এই বৈশাখের কাঠফাটা রোদেও
রিনি যখন এলাকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়,, তখন
কোথা থেকে যেন এলাকার উপর দিয়ে এক কাল্পনিক
ঠান্ডা ও শীতল হাওয়া বয়ে যায়।
রিনিদের বাসার সামনেই সাইফুলের ফ্লেক্সিলোডের
দোকান। রিনির উপর ক্রাশ খাওয়া ব্যক্তিদের
মধ্যে সাইফুলও একজন। সে প্রতিদিনই রিনিকে তার
দোকানের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করতে দেখে,, কিন্তু
কিছু বলতে পারে না।
আজ সকালের আকাশে বৈশাখের হিংস্র সূর্য
মামাকে দেখা যাচ্ছে না। পরাণ জুড়ানো শীতল
আবহাওয়া আজ। এই আবহাওয়াকে আরও মনোমুগ্ধকর

রিনিরা এলাকায় নতুন এসেছে। পরশুই উঠল। ২ দিনেই
এলাকার বৃদ্ধ,, যুব,, কিশোর,, বাচ্চা কাচ্চা সবার নজর
রিনির দিকে। এই বৈশাখের কাঠফাটা রোদেও
রিনি যখন এলাকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়,, তখন
কোথা থেকে যেন এলাকার উপর দিয়ে এক কাল্পনিক
ঠান্ডা ও শীতল হাওয়া বয়ে যায়।
রিনিদের বাসার সামনেই সাইফুলের ফ্লেক্সিলোডের
দোকান। রিনির উপর ক্রাশ খাওয়া ব্যক্তিদের
মধ্যে সাইফুলও একজন। সে প্রতিদিনই রিনিকে তার
দোকানের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করতে দেখে,, কিন্তু
কিছু বলতে পারে না।
আজ সকালের আকাশে বৈশাখের হিংস্র সূর্য
মামাকে দেখা যাচ্ছে না। পরাণ জুড়ানো শীতল
আবহাওয়া আজ। এই আবহাওয়াকে আরও মনোমুগ্ধকর
করে তুলতে রিনি আজ সাইফুলের দোকানে হাজির
ফ্লেক্সি করতে। রিনি নাম্বার বলতে লাগল। কিন্তু
রিনিকে এতো কাছ থেকে দেখে সাইফুলের
তো পাতলা পায়খানা হওয়ার অবস্থা !!
সে নাম্বারটা ঠিকমতো লিখতেই পারছে না,, ওর হাত
কাঁপছে। শেষমেষ সাইফুল কোনমতে নাম্বারটা লিখল।
ওদিকে বিকেলের মধ্যে এলাকার বাচ্চা – কাচ্চার
মুখে মুখে গরম খবর,, সাইফুল ভাইয়ের
কাছে পাওয়া যাচ্ছে রিনির নাম্বার…এখনই
লুফে নিন!!
সাইফুল বেচারা পড়ল এক প্যাড়াকে। এলাকায়
থাকতে হলে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা মানতেই হবে।
কিন্তু নাম্বার একটা,, গ্রাহক শ খানেক,, সবারই
রিনির নাম্বার চাই চাই। এরও সমাধান বের করা হলো।
রাতে বাজারে কুদ্দুসের চায়ের দোকানে রিনির নাম্বার
নিলামে ওঠানো হলো !! ডাকাডাকি ভালোই চলছে,, কেউ
ছাড় দেবার পাত্র নই।
শেষমেষ,, সর্বোচ্চ ১০২৩ টাকা দাম হাকিয়ে নাম্বার
পাওয়ার মালিক হলেন এলাকার বিখ্যাত চাল
ব্যবসায়ী ৩৯ বছর বয়সী বাচ্চু মিয়া। তার
ঘরে ৩টা বউ আছে,, কিন্তু ছেলেপুলে নাই। এ
ব্যাপারে বাচ্চু মিয়া তাদের স্ত্রী দেরকে দোষারোপ
করলেও,, এলাকার সবাই জানে আসল সমস্যা বাচ্চু
মিয়ার ডান্ডায় !!
যাহোক,, এসব নিয়ে সাইফুলের মাথা ঘামানোর টাইম নাই।
তাকে এখন রিনির নাম্বারটা নিলামের নিয়ম
অনুযায়ী বাচ্চু মিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
কিন্তু সাইফুলও কম চালাক নই। সে নাম্বার
দিয়েছে ঠিকই,, কিন্তু সেটা ঐ পাড়ার ১ রাত ২২৭
টাকা দরের নাইলার নাম্বার !
২ দিন পর…. রাতে সাইফুল একটা সিগারেট
ধরিয়ে সাহস করে রিনির নাম্বারে ফোন দিল। ওপাশ
থেকে সুন্দর মেয়েলি কন্ঠ//
— হ্যালো !
— ভালো আছেন??
— না। আপনি কে??
— ভালো নেই কেন!!
— আপনাকে বললে আপনি সমাধান করতে পারবেন??
— বলেই দেখুন না,, আমি কি কি করতে পারি!!
— বিদেশে আমার ফুপাতো ভাইকে এখনই
একটা জরুরি ফোন করতে হবে। কিন্তু মোবাইলে ব্যালেন্স
নেই,, রাত বাজে ১টা…দোকান টোকান সব বন্ধ। কি করব
ভেবে পাচ্ছি না !!
সাইফুল লাইন কেটে দিয়ে এক উড়ন্ত দৌড় দিল তার
দোকানের দিকে। কিছুক্ষণ পর সাইফুল আবার ফোন দিল
রিনির নাম্বারে//
— হ্যালো !
— টাকা পেয়েছেন??
— আপনাকে ৩০০ টাকা দিতে কে বলেছে!! ৫০
টাকা দিলেই হতো।
— সমস্যা নেই।
— সমস্যা আছে। আমি কাল সকালেই আপনার
নাম্বারে ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেবো।।
— ছিঃ ছিঃ,, এভাবে বলবেন না। আমাকে বন্ধু
ভেবে টাকাটা রেখে দিন।
— আচ্ছা,, আপনি এতো রাতে ফ্লেক্সি কোথায় পেলেন !
— আমার নিজের ফ্লেক্সির দোকান আছে,, ওখান
থেকে দিয়েছি।
— তাই নাকি!! কোথায় দোকান??
— আপনার বাসার আশেপাশেই !
— আমার বাসার আশেপাশে অম… অম…! এই
তুমি কি সাইফুল নাকি??
— আপনি আমাকে চেনেন !!
— হম,, আমি মাঝে মাঝে তোমাকে আড়াল
থেকে দেখি তো!!
— কেন দেখেন !
— সেটা বলতে পারব না!!
যাহোক,, এভাবেই চলছিল ফ্লেক্সি আলাপ। এর ভেতর
সাইফুল একদিন রিনিকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে,,
ওপাশ থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তাই এখন ওরা শুধু গল্প
করে না,, প্রেমের গল্প করে!!
আজ প্রায় ৩ মাস হয়ে গেলেও ওরা শুধু ফোনেই প্রেম করে।
সাইফুল অস্থির হয়ে গেল। সে বলল//
— চলো কাল কোথায় বেড়াতে যায়।
— না,, আমি যেদিন বাসা থেকে বেড়োবো…একবারে
বেড়োবো!! আর ফেরত আসব না !!
— মানে কি!!
— আচ্ছা তুমি কি কখনো আমাকে দেখছো??
— হ্যাঁ,, তোমার রূপের আগুনে আমি অনেকবারই
ঝলসে গেছি।
— তার মানে তুমি আমার ব্যাপারে একদম সিউর??
— হ্যাঁ,, পুরা সিউর।
— তাইলে চলো পালাই বিয়ে করে ফেলি।
— রহমত চাচা ( রিনির বাবা ) কিছু বলবে না !!
— ধূর!! ওই বুইড়া খাটাশ কি বলবে ! এখান
থেকে পালাতে পারলে আমি বাঁচি।
— কিন্তু পালাই কই যাবো !
— তোমার আসল বাড়ি কোথায়??
— নোয়াখালি।
— নোয়াখালি !! চলো কালকের
ট্রেনে আমরা নোয়াখালি রওয়ানা দেই।
তুমি নোয়াখালিতে একটা ফ্লেক্সির দোকান দিবো,,
টাকা যা লাগার আমি দিবো।
— তুমি কি আমার সাথে মশকারী করতেছো !!
— না। কালকে সকাল ১১ টায় স্টেশনে দেখা হবে। সবকিছু
গোছায় রাখো।
সাইফুলের একটু একটু ভয় লাগতেছে,, কিন্তু
আনন্দটা বেশি লাগতেছে। পরদিন,, সাইফুল ১০.৪৫ এ
নিউমার্কেট রেল স্টেশনে হাজির। সে একটা সিগারেট
ধরাই এদিক ওদিক রিনিকে খুঁজতেছে। সাইফুল হঠাৎ
স্টেশনে রিনির মা কে দেখল!!
সে তাড়াতাড়ি সিগারেট নিভাই ভয় পেতে লাগল,,
রিনির বাসায় সবকিছু জেনে গেছে নাকি !!
রিনির অল্পবয়সী মা সাইফুলের
সামনে এসে দাঁড়াইতেই,, সাইফুল বলল//
— স্লামালিকুম খালাম্মা। বাসায় সব ভালো তো??
— ( ফট করে সাইফুলের হাত ধরে ) এই
খালাম্মা কাকে বলতোছ !!
— ( হাত ছাড়াই একটু দূরে সরে যেয়ে ) জ্বী মানে,,
খালাম্মা আপনি এখানে!! কোথাও যাচ্ছেন নাকি??
— ছেলে বলে কি!! কোথাও যাচ্ছি মানে,, তোমার সঙ্গেই
তো যাচ্ছি নোয়াখালি !!
— অ্যাঁ!! আপ্নি কেন যাবেন!! রিনি কই??
— রিনি তো কলেজে। রিনি এখানে কেন আসবে !!
— কালকে রিনি যে আমাকে বলল এখানে আসতে।
— রিনি কেন বলবে ! ওইটা তো আমি বলছি !!
— অ্যাঁ!! এতদিন আমি কার সাথে কথা বলছি !!
— আমার সাথে।
— কিন্তু ফ্লেক্সি করার সময় রিনি যে এই
নাম্বারটা দিছিলো !!
— হম। এইটা তো আমারই নাম্বার।
আমি রিনিরে দিয়ে আমার
নাম্বারে ফ্লেক্সি করতে পাঠাইছিলাম।।
ট্রেন পুঁ পুঁ আওয়াজে হর্ণ বাজিয়ে চলা শুরু করল। ট্রেন
নোয়াখালির দিকে ঘন্টায় ১৫ কি.মি বেগে ছুটছে। আর
সাইফুল নোয়াখালির দিকে ঘন্টায় ২৫
কি.মি বেগে দৌড়োচ্ছে।
আশা করা যায়,, সাইফুল ট্রেনের আগেই
নোয়াখালি পৌঁছোবে…..…

২ thoughts on “রিনি – নিলাম – রিনি – নোয়াখালীর ট্রেন – রিনির মা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *