“ধোঁকা ভাষন”

(৩য় পর্ব্ব)

একটু নড়েচড়ে আয়েস করে শেয়াল বলতে লাগলো;
শেয়ালঃ প্রথমেই আমাদের সমিতির একটা নামকরনের আবশ্যকতা উপলব্ধি করেছি আমি।
অনেক ভেবে একটা নাম ঠিক করেছি,
আপনাদের অনুমতি ক্রমে বলছি, সমিতির নাম হতে পারেঃ
পনিসস
প এ পশু~
নি তে নিরাপত্তা~
স এ সমবায়~
স এ সমিতি~
পশু নিরাপতঅ সমবায় সমিতি।
এখন এই প্রস্তাবে স্বপক্ষে আপনারা অনুমোদন দিলেই গৃহিত হতে পারে!
বলুন, আপনাদের মতামত ব্যক্ত করুন~

শতাধিক পশু সমস্বরে স্বিকৃতি জ্ঞাপন করলে, শেয়াল এবারে বললো;
শেয়ালঃ এবার আমি পদাধিকার বলে, পনিসসের সভাপতির পদ গ্রহন করার জন্যে মাননিয় ব্যঘ্র মামিজীর নামোল্লেখ করছি।
আপনাদের সমর্থন আছে কিনা বলুন!

(৩য় পর্ব্ব)

একটু নড়েচড়ে আয়েস করে শেয়াল বলতে লাগলো;
শেয়ালঃ প্রথমেই আমাদের সমিতির একটা নামকরনের আবশ্যকতা উপলব্ধি করেছি আমি।
অনেক ভেবে একটা নাম ঠিক করেছি,
আপনাদের অনুমতি ক্রমে বলছি, সমিতির নাম হতে পারেঃ
পনিসস
প এ পশু~
নি তে নিরাপত্তা~
স এ সমবায়~
স এ সমিতি~
পশু নিরাপতঅ সমবায় সমিতি।
এখন এই প্রস্তাবে স্বপক্ষে আপনারা অনুমোদন দিলেই গৃহিত হতে পারে!
বলুন, আপনাদের মতামত ব্যক্ত করুন~

শতাধিক পশু সমস্বরে স্বিকৃতি জ্ঞাপন করলে, শেয়াল এবারে বললো;
শেয়ালঃ এবার আমি পদাধিকার বলে, পনিসসের সভাপতির পদ গ্রহন করার জন্যে মাননিয় ব্যঘ্র মামিজীর নামোল্লেখ করছি।
আপনাদের সমর্থন আছে কিনা বলুন!

সকল পশু নিজ নিজ কন্ঠে ‘রাজি রাজি’ বলে সোল্লাশে চেঁচিয়ে উঠলে;
শেয়ালঃ থামুন থামুন, শান্ত হোন সকলে। আপনাদের সম্মতিক্রমে সভাপতির পদ গৃহিত হয়েছে। এবারে সম্পাদক পদের জন্যে আপনাদের কেহ প্রস্তাব উত্থাপন করুন!

পালের গোঁদা শুয়োর ঘোঁত্‍ করে বলে উঠলো;
শুয়োরঃ আপনি পণ্ডিত্‍ মানুষ, ঐ দায়িত্বটা আপনিই নিয়ে নিন্, ওটা আপনারই কাজ!

শেয়ালঃ তা কিকরে হয়, সকলের ভোট ছাড়া কিকরে?

সকল পশু একযোগে সোড়গোল তুলে যেন জঙ্গল কাঁপিয়ে দিল!

শেয়ালঃ আচ্ছা ঠিকাছে ঠিকাছে, আমি রাজি, আপনারা শান্ত হোন্!
এবার আসুন, আমরা কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন করে নেই!
আপনি খট্টাস বন্ধু যদি এই পদখানি গ্রহন করেন সকলের সম্মতিক্রমে,
কারন এই পদের জন্যে আপনিই এ
উপযুক্ত বটে!

খট্টাস বললে;
আপনার কথা ফেলি কি করে বলুন! কিন্তু বাকি সবাই মত দেবে’কি?

সকলে সমস্বরে তাদের মত আছে বলে ডেকে উঠলো!

এমনি সময় শুয়োরকে ছটফট করতে দেখা গেল।
বললো;
শুয়োরঃ এর পরে আর কোন পোষ্ট আছে?
শেয়ালঃ আছেতো,
সবচে’ আসল পদটি এখনো পরে আছে!
সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পরে রয়েছে, নেবেন নাকি আপনি?
শুয়েরঃ দিলে নিতে পারি কিন্তু. . . . . .

শেয়াল এ কথায় মৃদু হেসে বললো;
শেয়ালঃ সাংগঠনিক পদখানি মাননীয় শুয়োর বন্ধুকে দেওয়া হলে কারো আপত্যি থেকে থাকলে হস্ত তুলে বলতে পারেন !

উপস্থিত কোনো পশুকেই আপত্যি করতে না দেখে শেয়াল অবশেষে বললো;
শেয়ালঃ তাহলে এ কথাই রইলো।
সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ অলংকৃত করলেন মাননীয় শুয়োর মহোদয়!
বাকি সকল পশুই এই পনিসসের সন্মানিত সদস্য বলে বিবেচিত হবে।
সকলকেই ভোটের অধিকার দেয়া হলো এবং পরবর্তি তিন মাস এই কমিটির অধিনেই সুন্দরবনের পশু সমাজের যাবতীয় কর্ত্তৃত্ত প্রদান করা হলো।
যারা এই সমিতির নীতি ভঙ্গ করবে তারা’ই এই সুন্দরবনে বাসের অধিকার বঞ্চিত হবে।
তাহলেতো হয়েই গেল সকল করনীয়!
এবার আমাদের জেনে নিতে হবে, কেন আমরা এই পনিসস গঠন করেছি আর কিইবা আমাদের করনীয়!
পনিসসের মূল নীতি হব “কেউ খাবে আর কেউ খাবেনা, তা হবেনা ~ সকলের জন্যে সকলে আমরা, সকলে আমরা পরের জন্যে”
এটাই আমাদের শপথনামা।
আসুন আমরা সমস্বরে শপথনামা পাঠ করি গানের সুরে সুরে!

শেয়ালের সুরে সুর মিলিয়ে সমস্বরে সকল পশু শপথনামা তিনবার পাঠ শেষে, শেয়াল বললো;
শেয়ালঃ এবার শুনুন আমাদের অবশ্য পালনীয় করনীয় বিষয়।
আগামীকাল সকাল থেকে প্রতিদিন সন্ধাবধি যেখানে যে খাদ্য মিলবে কেউ খেতে পারবেনা।
দৌড়ে ছুটে এসে এই এখানে সভাপতি মহোদয়ের হেফাজতে জমা করে আবার ছুটবেন খাদ্য সন্ধানে!
সন্ধা হলে সকলে নিশ্চিন্তে এখানে মিলিত হয়ে সভাপতির মাধ্যমে সুসম বন্টনকৃত খাদ্য নিয়ে যাবেন নিজ নিজ আলয়ে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে!
এই ব্যাবস্থা যদি আমারা বাস্তবায়িত করতে পারি, তাহলে কাউকেই আর ক্ষুধার কারনে মৃত্যুবরন করতে হবেনা।
আশা করি আমি বোঝাতে পেরেছি।
এবারে আপনারা যে যার গন্তব্য প্রস্থান করতে পারেন আগামী সকাল হতে পনিসসে শপথকৃত অঙ্গিকার হৃদয়ে ধারন করে।

[৩য় পর্ব্ব সমাপ্ত]

শপথ নয়, অঙ্গিকার করা যেতে পারেঃ
পরবর্ত্তি পর্ব্বেই সকল বুড়ো শিশু পাঠক প্রবেশ করবে এক অত্যাশ্চর্য-মূগ্ধকর এক রাধাচক্কর-ঘূর্ণি-দোলায়]

২ thoughts on ““ধোঁকা ভাষন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *