জঙ্গিবাদ দমনকারীরাই যখন জঙ্গিবাদের উদ্যেক্তা!

খবরে প্রকাশ- মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়
৫৪টি আন্তর্জাতিক
সন্ত্রাসী সংগঠনের নামের
একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বার্ষিক
প্রতিবেদনের এই তালিকায়
বাংলাদেশের হরকাত-উল-জিহাদ-ই-
ইসলামের (হুজি-বি) নামও রয়েছে,
যা বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ



খবরে প্রকাশ- মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়
৫৪টি আন্তর্জাতিক
সন্ত্রাসী সংগঠনের নামের
একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বার্ষিক
প্রতিবেদনের এই তালিকায়
বাংলাদেশের হরকাত-উল-জিহাদ-ই-
ইসলামের (হুজি-বি) নামও রয়েছে,
যা বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ
নামে পরিচিত। আজ থেকে নয় বছর
আগে সংগঠনটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ
হয়। কিন্তু তবুও
তা নাকি বর্তমানে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যাথার কারণ
হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে। (সূত্র:
ইত্তেফাক, ০৩-০৫-২০১৪)।
ঐ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে,
২০০৮ সালের পাঁচ মার্চ হুজি-
বি আন্তর্জাতিক সংগঠন
হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের
তালিকাভুক্ত হয়। আফগান ফেরত ৪০০
যোদ্ধার সমন্বয়ে সংগঠনটির জন্ম
হয়েছিল ১৯৯২ সালের এপ্রিলে।
এছাড়াও মোট ৫৪ টি সংগঠনের
সারসংক্ষেপ
তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন স্টেট
ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক ঐ
প্রতিবেদনে।
প্রথমেই বলে রাখি, এই ৫৪ টি সংগঠনের
ব্যাপারে মার্কিন সরকারের অবস্থান
কাগজে কলমে একরকম হলেও
বাস্তবতা যে অন্য রকম হবে না,
তা সন্দেহাতীতভাবে বলা যাচ্ছে না।
পরিষ্কার কথায় বলতে গেলে,
সংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করাই
যদি মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হয়
তাহলে মার্কিন প্রশাসন অবশ্যই
কৃতীত্বের দাবিদার। কারণ এই
সংগঠনগুলোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট
দেশগুলোর অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। এর
প্রায় সবক’টি সংগঠনকেই সংশ্লিষ্ট
দেশগুলো নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের
কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য
আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।
সুতরাং আপাতভাবে মার্কিন
সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশংসাসূচক
বললেও ভুল হবে না। কিন্তু যদি তাদের
উদ্দেশ্য সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ
করা না হয়ে এগুলোকে নিয়ে ব্যবসা বা
আন্তর্জাতিকভাবে কোন স্বার্থ
হাসিল করা হয়, তা হবে অতি গর্হিত
কাজ। আশ্চর্য হলেও সত্য যে,
যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ইতিহাস কিন্তু
দ্বিতীয় সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করে।
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশেকে
নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের
কথা বলা হয়েছে। আমার
আপত্তি এখানেই। যদি সত্য সত্যই
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের
স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এ
উদ্বেগের কথা জানিয়ে থাকে,
তাহলে তো কোন কথাই নেই। কিন্তু
যদি তা না হয়ে (আফগানিস্তান,
পাকিস্তান, সিরিয়া,
লিবিয়া ইত্যাদি দেশের
ক্ষেত্রে যেমনটি হয়েছিল) অন্য কোন
মতলব বাস্তবায়নের
পথে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হয়,
সেটা তখন মার্কিন সরকারের
উদ্বেগের কারণ
না হয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের
কারণ হবে। এটা বলাই যায় যে,
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের
ক্ষেত্রে আন্তরিকতায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কোন
অংশে পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের
যে সংগঠনের কথা উল্লেখ
করা হয়েছে তা ২০০৫
সালে বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ
ঘোষণা করে। আর এখন ঐ সংগঠনের কোন
অস্তিত্ব
বাংলাদেশে আছে কি না তাও
যথেষ্ট সন্দেহের বিষয়। কিন্তু হঠাৎ
করে কেনই বা এটাকে নিয়ে মার্কিন
পররাষ্ট্র দপ্তরের মাথা ব্যাথা শুরু
হলো তার কোন উত্তর আপাতত
মিলছে না।
গত কয়েক দশক যাবৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ব দরবারে অন্যতম
পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত
হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
থেকে পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও
সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের
মধ্যে যে শীতল প্রতিযোগিতা চলছিল
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের
মাধ্যমে তা শেষ হয়েছে দুই দশক আগে।
ফলে এখন পুঁজিবাদী মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবেলায়
মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে এমন কোন
শক্তি নেই। আর এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র গত
দুই দশক ব্যাপী এমন কিছু
কর্মপদ্ধতি তৈরি ও বাস্তবায়ন
করেছে যা এই
পরাশক্তিকে বিশ্বব্যাপী অনেকটাই
নৈতিক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তাদের এরূপ বার্ষিক প্রতিবেদন,
বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠনকে সন্ত্রাসী-
জঙ্গি ইত্যাদি আখ্যা দান, সন্ত্রাস ও
জঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধের সূচনা,
বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ
বিষয়াবলীতে অযাচিতভাবে
নিজেদের সম্পৃক্ত
করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড নিয়ে তুমুল
বিতর্ক রয়েছে খোদ সংশ্লিষ্ট
দেশগুলোতেই। জঙ্গিবাদ ও
সন্ত্রাসবাদের উত্থানে প্রত্যক্ষ মদদ
দিয়েছিল কারা-
তা বিশ্ববাসী জানে। তিলকে তাল
বানিয়ে শত্র“কে ধ্বংস করার
সা¤্রাজ্যবাদী নীতি আমাদের
অজানা নয়।
øায়ুযুদ্ধে সোভিয়েট ইউনিয়নের
অধঃপতন হয় মূলত ১৯৭৯ সালে আফগান
দখলকে কেন্দ্র করে। এসময় মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরব,
যুক্তরাজ্য আফগানিদের পক্ষ হয়ে অর্থ,
অস্ত্র, সামরিক প্রশিক্ষণ,
মোজাহেদীনদের রিক্রুট, প্রচার-
প্রচারণার কাজগুলো করে দিয়েছিল।
১৯৯১ সালে সোভিয়েট ইউনিয়নের
পতনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে তখন একক
পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাদের
অতীত কার্যকলাপের ফল
কিছুটা বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
তাদেরই অর্থ ও সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
জেহাদীরা হয়ে উঠে তাদের প্রধান
শত্র“। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসকল
মুসলিমকে সোভিয়েত পতনের ঢাল
হিসেবে ব্যবহার করেছে সেই
মুসলিমগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
পক্ষে লড়ে নি, লড়েছিল সোভিয়েট
ইউনিয়নের বিপক্ষে। আর কমন
ইন্টারেস্টভোগী যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল
পুরোপুরি সমর্থন, শিখিয়েছিল অস্ত্র
চালাবার প্রশিক্ষণ।
এমনকি তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহও
করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র
এটা বোঝেনি, অথবা বুঝলেও মূল্যায়ন
করে নি যে,
আফগানযুদ্ধে সে যাদেরকে ব্যবহার
করছে তারা ব্যবহৃত হচ্ছে একটি আদর্শ
দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে। সে আদর্শ
হলো ইসলাম। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তখন
ইসলামের আদর্শ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ
করলেও ওসামা বিন লাদেনসহ অন্যান্য
যোদ্ধারা কিন্তু
জঙ্গি বা সন্ত্রাসী খেতাব পায় নি,
কারণ সে যোদ্ধারা কার্যত ছিল
আমেরিকার শুভাকাংখী। কিন্তু
পরবর্তীতে ঐ আদর্শগত কারণেই যখন ঐ
লোকগুলোই
যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হয়ে উঠলো, তখন
তারাই হয়ে গেলো পৃথিবীর
সবচেয়ে বড় জঙ্গি, সন্ত্রাসী,
উগ্রপন্থী ইত্যাদি। এখন যে হরকাতুল
জিহাদের কথা বলা হচ্ছে- সেই
সংগঠনটিকে অনেকে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রেরই তৈরি বলে মতামত
দিয়ে থাকেন। মার্কিন ঐ
প্রতিবেদনেই স্বীকার
করা হয়েছে যে, ১৯৯২ সালের এপ্রিল
মাসে আফগান ফেরত ৪০০ সদস্য
নিয়ে গঠিত হয়েছিল হরকাতুল জিহাদ
(সূত্র: প্রাগুক্ত)। অর্থাৎ, এই সংগঠনের
প্রাথমিক পর্যায়ের সকল কর্মীই মার্কিন
প্রশিক্ষিত ও মার্কিন অস্ত্র-
শস্ত্রে সজ্জিত হওয়ারই কথা; আর আজ যখন
সংগঠনটি বিলুপ্তপ্রায় তখন নতুন
করে আবার আমেরিকার
মাথা ব্যাথা শুরু হচ্ছে। কাজেই
সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেখেই
যে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তরের
মাথা ব্যথা করছে না, সে যুক্তিও
উড়িয়ে দেবার নয়।
যাই হোক, সোভিয়েত ধ্বংসের পর
কথিত এই নতুন জঙ্গিদের ধ্বংস করার জন্য
চালু করা হলো নতুন যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত
হলেন তাদেরই প্রশিক্ষিত
যোদ্ধা ওসামা বিন লাদেন। এই
জঙ্গীদের কিন্তু কোন অস্ত্রের
কারখানা ছিল না। তাদের হাতের
বেশিরভাগ অস্ত্রই ছিল যুক্তরাষ্ট্রেরই
দেওয়া এবং কিছুটা ছিল রাশিয়ার
হাত থেকে হস্তগত করা। এই লাদেন
সম্পর্কে দু-চার কথা না বললেই নয়।
ওসামা বিন লাদেন ১৯৫৭ সালের ১০
মার্চ সৌদি আরবে ধনাঢ্য
পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে,
তিনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ পরিবারের
ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন।
তিনি ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের
অর্থায়নে আফগানিস্তানে সোভিয়েত
বাহিনীর বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায়
অংশ নেন। সম্ভবত তখনই তার
সঙ্গে তালেবান শীর্ষ
নেতা মোল্লা ওমরের পরিচয় ঘটে। আর
সেই থেকেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ
যোগাযোগ। পরে লাদেন
যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হয়ে উঠেন। আর তখনই
তাকে খেতাব দেওয়া হয় জঙ্গি। শুরু হয়
যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা,
যার ভিলেন হিসেবে দাঁড় করানো হয়
লাদেনকে। এই লাদেনের
সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরি সম্পর্কের
রেশ ধরে হাজার হাজার
মানুষকে জীবন দিতে হয়। আজ ১০ বছর
ধরে চেষ্টা করার পর একজন
লাদেনকে মেরে যুক্তরাষ্ট্র
দেখছে যে, আরও শত শত লাদেন
ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে, যাদের
হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে ঐ
যুক্তরাষ্ট্রই। শুধু তাই নয়, এখনও বিভিন্ন
উপায়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে জঙ্গিদের
অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ
উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। সিরিয়ার
আসাদ
সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর
জন্য প্রায় ৫০
টি জঙ্গিগোষ্ঠি পত্যক্ষভাবে সেখানে
যুদ্ধে রত আছে যাদের রসদ
যুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।
বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে
নাড়া ফেলেছে। বিশ্ববাসী আবারও
প্রমাণ পেয়েছে যে, জঙ্গিদের ব্যবহার
করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল করার
কৌশল এখনও অপরিবর্তনীয় আছে।
পশ্চিমা এই মোড়লদের কাছে মানবতা,
সন্ত্রাস দমন ও জঙ্গি দমন ইত্যাদি যে শুধু
মুখের বুলি, তা ক্রমেই
বিশ্ববাসী অনুধাবন করতে সক্ষম হচ্ছে।
আমাদের নেতা-নেতৃরাও যে জানেন
না, তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশের
ছেলে নাফিসকে তারা কথিত
স্ট্রিং অপারেশনের
মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে আটক করলো,
বিচার করলো, ৩০ বছর কারাদণ্ড দিল।
আর তাদের ছেলে নরওয়ের ব্রেইভিক
৯২ জনকে গুলি করে হত্যা করল,
বোমা ফাটাল, তাকে নামে মাত্র
শাস্তি দিল- মাত্র ২১ বছর। এখন
তাকে আবার বিশ্বখ্যাত
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে সভ্য
করানো হচ্ছে। সকলের ভালই
জানা আছে নাফিস কথিত যে অপরাধ
করেছে তার পেছনে ‘অক্সিজেন’
যোগানোর কাজটি কিন্তু
করেছে তাদেরই দেশের আইন
প্রয়োগকারী সংস্থা। এসব অনৈতিক
কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞান
থাকা সত্ত্বেও, তাদের
মিথ্যাবাদিতা, প্রতারণামূলক চরিত্র
সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও
তারা আমাদেরকে জ্ঞান
দিতে পারেন কারণ আমরা ঐক্যবদ্ধ নই,
আমরা ক্ষুদ্র
স্বার্থে দলাদলি এবং কোন্দলে ডুবে
আছি। নিজের নাক কেটে অন্যের
যাত্রাভঙ্গ করাতে পারলেই
আমরা খুশি। কিন্তু এর ফল শেষতক
কোথায়
গিয়ে দাঁড়াবে তা কি আমাদের
নেতা-নেত্রীরা ভেবে দেখেছেন?
তারা কি ভাবেন জঙ্গিদের অস্ত্রের
যোগান কোত্থেকে আসে?
মনে রাখতে হবে এসব তারাই
বিলি করছে যারা অদূর
ভবিষ্যতে এসবের অজুহাতে আমাদের
উপর আক্রমণ করে আমাদের ধ্বংস করবে-
অন্তত নিকট অতীত আমাদের তাই
জানাচ্ছে। তখন আমাদের মধ্য থেকেই
কেউ একজন বেরিয়ে আসবে হামিদ
কারজাই, একজন নুরে মালেকী।
এরপরও কি আমরা পশ্চিমা মোড়লদের
দিকে মাছের
মতো হা করে তাকিয়ে থাকবো? না,
আমাদের এখন একমাত্র করণীয়
হবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। যে সন্ত্রাস ও
জঙ্গিদমন করতে পশ্চিমারা বছরের পর
বছর যাবৎ চেষ্টা করেও সফল
হতে পারে নি বরং আরও
উস্কে দিয়েছে তা আমরা অনায়াশেই
করে ফেলতে পারবো যদি ঐক্যবদ্ধ হই।
জঙ্গিদেরকে আদর্শিকভাবে অনুপ্রাণিত
করে থাকে ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা-
পুরোহিতরা। ধর্ম এসেছে মানবতার
কল্যাণে, মানুষের মুক্তির জন্য। কিন্তু
ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মকে মানবতার
কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে বৈষয়িক
স্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল
করছে, যার ফলে জন্ম হচ্ছে বিকৃত
আদর্শের অনুসারী উগ্রপন্থী-জঙ্গির।
সুতরাং আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ
হতে হবে ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ,
সন্ত্রাসবাদ ও বৈদেশিক
নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।
গড়ে তুলতে হবে- ঐক্যবদ্ধ সোনার
বাংলাদেশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জাতির
নেতারা কি পারবেন ১৬
কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ
করে ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ,
সন্ত্রাসবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ
গড়তে যে দেশটি- যে কোন রকম
বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান
নেবার ক্ষমতা রাখবে?

৭ thoughts on “জঙ্গিবাদ দমনকারীরাই যখন জঙ্গিবাদের উদ্যেক্তা!

  1. এটা কি মোবাইল থেকে
    এটা কি মোবাইল থেকে লিখা??/
    “আমেরিকা সময়ের প্রয়োজনে সন্ত্রাসের জন্মদাতা,
    আর প্রয়োজন ফুরালে সন্ত্রাসের কবরদাতা””

      1. তবে লিখা গুলি মোবাইল হতে লিখা
        তবে লিখা গুলি মোবাইল হতে লিখা তো, পড়তেএকটমস্যা মনে হচ্ছে । পোস্ট গুলি লিখে পড়ে পিসি হতে কি পোস্ট রা যায় না ?????

  2. আমেরিকা মুখে বলে জঙ্গীবাদ দমন
    আমেরিকা মুখে বলে জঙ্গীবাদ দমন করতে হবে। ভেতরে ভেতরে চায় মৌলবাদ আগে সংশ্লিষ্ট দেশটাকে শেষ করুক! তারপরে নাহয় দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *