আস্তিক-নাস্তিক ‘মানুষ’ ধারণার বিনির্মাণ

গত এক বছরে আমি সবচেয়ে আলোচিত ব্যপার দেখেছি আস্তিক নাস্তিক প্রসঙ্গে। রাজনীতি, খেলা, বিনোদন, অবদমন, অরণ্যেরোদন অন্যান্য সবকিছু এক ঝলক এলেও, আস্তিক নাস্তিক প্রসঙ্গ এবং দ্বন্দ্ব বাংলাদেশ অনলাইনে একটা চিরস্থায়ী আসন দখল করে আছে। এমন কোন দিন নেই যে আমি এ ব্যপারে কোন পোস্ট দেখি নি। আস্তিক নাস্তিক প্রসঙ্গের মূল ব্যপারটা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। পূর্বে নাস্তিকরা যুক্তির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠার লড়াই চলত, এখন অবস্থার একটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাড়ছে মিলিট্যান্সি। এখন আর ছোট ছোট পোস্টে কোন যুক্তির বিষয় থাকে না; থাকে স্যাটায়ার আর আঘাত। বিষয়টা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক তা আমি জানি না। এতটুকু বলতে পারি নাস্তিকরা এখন যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহী নয়। এর কারণ এটা নয় যে তারা জিহাদী নাস্তিক; এর কারণটা হলো যুক্তি উপস্থাপণ যথেষ্ঠ হয়েছে। বাংলা অনলাইনে ধর্মের বিরুদ্ধে এমন কোন যুক্তি নেই যে যেটা উপস্থাপণ করা হয় নি। বিভিন্ন ব্লগেই এরকম হাজার হাজার লিখা ছড়িয়ে আছে। বেশিরভাগ ধার্মিকরা সেগুলো পড়ার প্রয়োজনবোধ করে নি অথবা পড়লেও ঠিক বিবেচনার জন্যে পড়ে নি। নাস্তিকদের ধার্মিকদের প্রতি একটা আক্ষেপ আছে। আক্ষেপটা হচ্ছে তারা কম পড়তে চায় এবং কম বুঝতে চায়। আমিও এই জিনিসটা দেখেছি। ধার্মিকরা খুব কম পড়াশোনা করে এবং জানাশোনার গণ্ডিটাও সীমিত। সবাই হয়তো এরকম নয়, তবে শতকরায় সেটা নব্বই শতাংশ বা তার বেশি তো হবেই। তারা একটু আনস্মার্ট হয় এবং যুক্তির জায়গাগুলো একটু কম বুঝতে পারেন। যেমন আমি যদি বলি, ‘একজন স্বত্তা একই সাথে সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞানী হতে পারে না’ তারা এই লাইনটার অর্থ ধরতে পারেন না এবং অর্থ ধরার চেষ্টাও করেন না। অথচ এটা একটা চমৎকার লাইন এবং চমৎকার যুক্তি। এই লাইনকে মিথ্যা প্রমাণ করা কখনোই সম্ভব নয়। আমি যতবার তাদের এই লাইনটা বুঝাতে গিয়েছি ততবার তারা আমার সাথে ঘাড়ামি করেছেন ফলস্বরুপ এই চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তিটা ধরতেই পারলেন না। সেক্ষেত্রে একজন মানুষ হিসেবে আমার ক্ষোভের কারণ আছে। আমার কষ্টের কারণ এটা নয় যে, আমি নাস্তিকতা বুঝাতে পারলাম না; আমার কষ্টটা এটাই যে মানুষগুলো যুক্তি থেকে ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে।

আজ আমি কোন নাস্তিকতার যুক্তি দিবো না; এগুলো এখন আর পছন্দ হয় না। আমি সমাজকর্মী না। নিতান্তই একজন অগুরুত্বপূর্ণ মানুষ যে সকালের জোড়া শালিকের সামনে হাটু গেড়ে সুখ প্রার্থনা করে। আমি আজ বুঝার চেষ্টা করবো কিছু মানুষকে,- যে মানুষেরা আস্তিক নাস্তিক পরিচয় নিয়ে কেমন আলাদা হয়ে গেলো! অথচ তাদের একসাথে থাকার কথা ছিলো, একসাথে গল্প করার কথা ছিলো, একসাথে দাবি আদায়ের লড়াইয়ে নামার কথা ছিলো। এদের প্রত্যেকের ব্যাক্তিগত পর্যায়ে গেলে দেখা যাবে এরা কেউই খারাপ মানুষ নন; কেউই চান না একটা কুকুরও যাতে না খেয়ে মারা যাক; এরা সবাই শিশুর গাল টিপে আদর করে; মানুষের সাহায্য করার জন্যে পিছু ছুটে; মোষলধারার বৃষ্টিতে ভিজে; রাতের তারাভরা আকাশের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকায়। আর মানুষ হবার বৈশিষ্ট্য এগুলোই। যে একবার তারাভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু আনমনা হবে সে-ই মানুষ। আমার কাছে মানুষের বড়ো পরিচয় এটিই যে মুগ্ধ হওয়া, একটু আনমনা হওয়া, একটু কষ্ট পাওয়া, একটু অভিমান করা, অকারণে ভালোবাসা।

আমি আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে সবাইকে বলব, দয়া করে আপনারা একটু ঠান্ডা হোন, একটু মানুষের মুখের দিকে তাকান; মানুষ যতটুকু অনুভব করতে পারে সে তারচেয়ে সুন্দর! মানুষের কষ্টের জায়গাটা বুঝার চেষ্টা করুন, মানুষের অসহায়ত্বের জায়গাটা ধরার চেষ্টা করুন। ধার্মিকরা একটু দেখুন নাস্তিকরা আসলে কি বলতে চায়,- আপনারা যদি মনে করেন নাস্তিকরা পৃথিবীটাকে হেরেমখানা বানাতে চায় তাহলে আপনি আমার সাথে এক বিকেলে নদীর পাড়ে বসে কথা বলুন, আমরা সেদিন ঘাসের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে কথা বলবো।

এখন আর লড়াইটা যুক্তির হয় না; এটা হয়তো কখনোই ছিলো না। এ লড়াইটা এখন চলে সিদ্ধান্তের। এখন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার লড়াই। এক সিদ্ধান্ত আরেক সিদ্ধান্তকে খারিজ করতে চায়, যুক্তি ফুরিয়েছে। যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা অন্য মতালম্বিদের ‘আদার’ করে দেয়া। এবং তাদের নামে এমন একটা আইডিয়া তৈরী করা যেটিকে ঠিক মানুষের মত মনে হয় না। যেমন নাস্তিক বললেই গ্রামের মানুষের মনে যেরকম একটা ‘আইডিয়া’ জন্মে এবং কল্পনায় যেভাবে নাস্তিককে কল্পনা করেন সেটাকে তারা ঠিক মানুষ মানুষ মনে করেন না। তারা ভাবতেই পারেন না নাস্তিকরা ক্রিকেট খেলা মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং বাংলাদেশ জিতলে বাচ্চাদের মত লাফায়। তাদের নাস্তিকদের প্রতি ধারণাটা জন্মে ‘মানুষ-না’ এই টাইপ। সুতরাং সে সেখানে মানবতা রাখার প্রয়োজন মনে করে না। তার সেক্ষেত্রে যুক্তি হয়ে যায়, নাস্তিকরা অমানুষ। অথচ নিজের গোত্রের প্রতি সে যথেষ্ট আন্তরিক, বিপদে আপদে প্রবলভাবে পাশে পাওয়া যায়, আক্ষরিক অর্থে ভালো মানুষ। এখানে নাস্তিকদের প্রতি অনর্থক বাজে একটা ধারণা তৈরী করার পেছনে বড় সড় অবদান রেখেছে ওয়াজ মাহফিলের বক্তারা। তাদের বক্তব্যের ধরণটা এরকম থাকে যে, নাস্তিকদের মানুষ প্রজাতি থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ যারা, তারা নাস্তিকদের প্রতি একটা বিদ্বেষ নিয়ে ওয়াজ থেকে উঠে, পরবর্তিতে নাস্তিক জবাইয়ের ডাক এলে সে তাতে সমর্থন দেয়। নাস্তিকদের প্রতি তার ভালোবাসা নেই এর কারণ এই না যে সে মানুষকে ভালোবাসতে পারে না। এর কারণ, সে নাস্তিকদের মানুষ মনে করে থাকে না।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন চর্চাটা মূলত সেক্যুলার। মানুষ জন্মগতভাবে সেক্যুলার হয়েই জন্মগ্রহন করে। একটি বাচ্চা সবাইকে ভালোবাসতে চায়। সাধারণভাবে বলতে গেলেও, যখন একজন মুসলমান কিশোর শুনে যে, কোন হিন্দুই বেহেশতে যাবে না- সে একটু কষ্ট পায়। সে নানানভাবে নিজেকে স্বান্তনা দেয় এই বলে যে, আল্লাহই ভালো জানেন কে বেহেশতে যাবে নাকি দোযখে যাবে। সে আশায় থাকে তার পরিচিত হিন্দু বন্ধুটি বেহেশতে যেতেও পারে- আল্লাহ সেটা দেখবে। মানুষের ভেতর যেমন সহজাত স্বার্থপরতা থাকে, তেমনই মানুষের ভেতর থাকে সহজাত উদারতা। আমাদের এই সমাজে সহজাত উদারতাকে কাজে লাগানোর কোন ব্যাবস্থা নেই। সহজাত স্বার্থপরতাকে কাজে লাগানোর জায়গা রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, অলিতে গলিতে। আমাদের দেশের মানুষের একটা ধর্ম নিরেপক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো; তাদের হিন্দু খৃষ্টানের কোন ভেজাল নেই; বিশ্বাস অবিশ্বাসেরও ব্যাপার স্যাপার নেই। চলার পথে নানান রকম মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে প্রস্তুত। বিভিন্ন ধার্মিক গোষ্ঠী অথবা প্রতিষ্ঠান এই সহজাত উদারতাটাকে একটু একটু নষ্ট করার প্রবনতায় থাকে। যাদের নষ্ট করা হচ্ছে তারাও বেশ ভালো মানুষ ছিলো, ব্যাপারগুলো ঘটে যাচ্ছে ব্যাক্তির সচেতনতার বাইরে! ব্যাক্তি জানতেও পারে না তার ফুলের মত একটা মন কিভাবে শুকিয়ে ঝরে গেছে।

আমার কলেজের বন্ধুরা, অনেকেই যারা ছিলো ধার্মিক, আমার প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র বিদ্বেষ নেই। তারা আমাকে বুঝাতেও চায় না, আমিও কিছু বুঝাতে চাই না। একসাথে শহীদ মীনারে টিকা লুচি খাই, সিগারেট নেয়ার জন্যে জোরাজোরি করি। তারা জুম্মার নামাজ পড়তে যাচ্ছে আতর লাগিয়ে, আমার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা হাসি দেয়, আমিও দেই, এখানে দ্বন্দ্বের আর কোন জায়গা নেই। এখানে মারামারি কাটাকাটি হচ্ছে না কারণ তারা আমার মানুষ রুপটাই দেখে, যেমন দেখি আমি তাদেরটা। হয়তো আমি তাদের বন্ধু না হলে, তারা যদি জানত গাজী ফাতিহুন নূর নামে এক নাস্তিকের কথা, গাজী ফাতিহুন নূরকে খুব ভালোভাবে নিতো না। গাজী ফাতিহুন নূর সেখানে কোন ব্যাক্তি না, একটা ‘আইডিয়া’ যার নাম নাস্তিক। সেই আইডিয়াটা অবশ্যই ভালো না, কেমন অমানুষ অমানুষ মনে হয়, শত্রু শত্রু মনে হয়।

এরকম আইডিয়া যে নাস্তিকদের ভেতর নেই তা বলা যাবে না। নাস্তিকরা সবক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছে না। ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে বলতে গেলে আমি অনেককে নিয়ে সন্তুষ্ট নেই। তাদের কর্মের পেছনে তাদের করা অনেক যুক্তি আছে, জোরালো আত্মপক্ষ সমর্থন আছে, কার্যকারণ আছে। তবুও আমি তাদের কর্মধারা দ্বারা সন্তুষ্ট নই; তাদের কথাবার্তা আমার পছন্দ হয় না; মানুষকে অবজ্ঞার একটা ছাপ থাকে। তাদের কিছু সংখ্যক ধার্মিক সম্পর্কে যে আইডিয়া ইন্সটিল করতে চাইছে সেটি পুরোপুরি ঠিক নয়। তাদের কাজকর্মের ইতিবাচক প্রভাব আছে, যেমন আছে কিছু অসৎ কৌশলও। তারা একটা যুদ্ধ হিসেবে নিচ্ছে এবং শুরু করছে বিভিন্ন রণকৌশল। অথচ এখানে যুদ্ধের কিছু নেই, এখানে আরো সহমর্মী হলে ভালো হতে পারে। তবে তারা রণকৌশলী হয়েছে দেয়ালে পিঠ ঠেকার পর; তারাও মূলত অসহায়বোধ করে। একজন মানুষ যখন দেখে দিনের পর দিন তাকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না, তখন খুবই স্বাভাবিক যারা কথা বলতে দিচ্ছে না তাদের শত্রু মনে করার। পরবর্তিতে সে তাদের শত্রু হিসেবেই মনে করে। আরেকটা কথা বলা প্রয়োজন, একটা নাস্তিক ধার্মিকদের যতই গালিগালাজ করুক না কেনো- একজন একক ধার্মিককে সে সামনাসামনি একজন মানুষ হিসেবেই ট্রিট করবে; কখনো গলা কাটতে যাবে না। সে ধার্মিক বলতে গালাগালি করে একটা ‘আইডিয়া’কে যে আইডিয়া তার কাছে কুতসিত হয়ে তার সামনে প্রতিভাত হয়। একজন ধার্মিক ব্যাক্তি যদি তার সামনে আসে তখন ব্যাক্তিটি তার সামনে আর আইডিয়া হিসেবে থাকবে না; হয়ে যাবে একজন মানুষ। একজন ধার্মিকও একজন নাস্তিককে হাসতে হাসতে খুন করতে পারবে না,- একটা নাস্তিককে খুন করার জন্যে ধার্মিকদের সবসময় নিজেকে প্ররোচিত করা লাগে-, এ প্ররোচনার কাজ মূলত করে থাকে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিকভাবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান। ওয়াজে দেয়া বক্তৃতায় একটা ধার্মিকের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয় মুসলমান বাদে বাকি সব ‘মানুষ থেকে দূরের’। এতে আস্তে আস্তে তার সহজাত উদারতা কমতে থাকে।

আমাদের সমস্যাটা এটাই নয় যে আমরা খারাপ মানুষ। আমাদের সমস্যা এটাই, আমরা মানুষকে বুঝার চেষ্টা করি না, মানুষের কষ্টের জায়গাটা বিচার করি না। এই বাস্তবতায় মানুষ সহনশীল থাকতে পারছে না। তবে মানুষের সহনশীল হবার আরো অনেক জায়গা আছে। মানুষ চাইলে আরো অনেক বেশি সহনশীল হতে পারে। মানুষ চাইলে মানুষের আরো অনেক কাছে যেতে পারে। সত্যিকার অর্থে বলতে আমি মানুষ মানুষের ভেদাভেদ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমার বয়স বেশি নয় সদ্য বিশের ঘর থেকে যাত্রা করছি, মানুষের প্রতি মানুষের হিংস্রতা আমাকে প্রবলভাবে আহত করে। আমি সবারই গলায় হাত দিয়ে চলতে চাই। মানুষ যখন আমাকে ঘৃণা করতে আসে আমার কষ্ট হয়, আমি যখন মানুষকে ঘৃণা করতে যাই তখনও আমার কষ্ট হয়। অর্মত্য সেনের একটা টার্ম আছে, ‘পরিচয় এবং হিংস্রতা’। আমরা মানুষেরা অসংখ্য আইডেনটিটি নিয়ে বড় হই। আমাদের থেকে কেউ একজন একই সাথে মুসলমান একই সাথে বাঙালি, একই সাথে শ্রমিক, একই সাথে জামায়াতে ইসলামি… এরকম অসংখ্য পরিচয় মানুষ ধারণ করে তার এক জীবনে। সমস্যাটা এখানে নয়। সমস্যাটা এখানেই যে আমাদের একজনের আইডেনটিটির মানুষ তার অন্য আইডেনটিটির জন্যে তেমন সহানুভূতিপূর্ণ হয় না। এক ধরণের প্রভুত্ব কায়েম করতে চায় যার জন্যে জন্ম নেয় হিংস্রতা। আমাদের এখানে চলে আধিপত্য আর দাসত্বের সম্পর্ক। আইডেনটিটি একই হলে বন্ধুত্ব হয়, আর অন্য আইডেনটিটি যারা ধারণ করে তাদের সাথে হয় একধরণের হিংস্র সম্পর্ক। আমাদের অচিরেই এই ধরণের অসভ্যতা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। মানুষকে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখতে হবে। অথবা, আরো ভালো করে বললে, আমি চাই মানুষকে স্বতন্ত্র ঘোষনা করা হোক। সহনশীলতার মাত্রা বাড়ুক একটু কোমলভাবে। একটা কথা আমি প্রায়ই বলি এবং বিশ্বাস করি এবং মনে করি, মানুষ নিজেকে যতটুকু মর্যাদাবানভাবে সে এরচেয়েও বেশি মর্যাদার যোগ্য।

২১ thoughts on “আস্তিক-নাস্তিক ‘মানুষ’ ধারণার বিনির্মাণ

  1. লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো।
    লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো। বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত।

  2. চমৎকার পোস্ট ! তবে
    এদের

    চমৎকার পোস্ট ! তবে

    এদের প্রত্যেকের ব্যাক্তিগত পর্যায়ে গেলে দেখা যাবে এরা কেউই খারাপ মানুষ নন; কেউই চান না একটা কুকুরও যাতে না খেয়ে মারা যাক; এরা সবাই শিশুর গাল টিপে আদর করে; মানুষের সাহায্য করার জন্যে পিছু ছুটে; মোষলধারার বৃষ্টিতে ভিজে; রাতের তারাভরা আকাশের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকায়।

    – এই কথাগুলো বড়জোর উইশফুল থিঙ্কিং বলতে পারি । কুকুরের যাতে না খেয়ে মারা যায়, শিশুর গাল টিপে আদর করে দেয়া, মানুষকে সাহায্য করতে চাওয়া ইত্যাদির পেছনে ক্রিয়াশীল হিসেবে কাজ করে ঐ মানুষটির আর্থ – সামাজিক অতীত এবং বর্তমান ।

    1. যেখানে আমি কাব্যিকতা দেয়ার
      যেখানে আমি কাব্যিকতা দেয়ার চেষ্টা করি সেখানে আমি পাঠকদের কাছ থেকে একটু ‘বুঝে নেয়া’ মানসিকতা আশা করি। ধন্যবাদ আপনাকে।

      1. আপনি এটা কাব্য হিসেবে ধরে
        আপনি এটা কাব্য হিসেবে ধরে নিয়ে নিশ্চয়ই লেখেন নি ? আর গদ্যর মধ্যে কাব্যময়তা কতটুকু স্থান পেতে পারে সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে । ‘ বুঝে নেয়া ‘ মানুষিকতার কথাই যখন তুললেন তখন বলতেই হচ্ছে স্পষ্ট করার অবকাশ থাকলে সেখানে কাব্যর স্বপ্নময় জগতের দিকে দিকনির্দেশ না করাই ভাল ।
        দুঃখিত আপনার পোস্টের প্রসঙ্গের বাইরে কিছু কথা বলতে হল বলে ।

  3. অনেকদিন পর ইস্টিশনে গাজিকে
    অনেকদিন পর ইস্টিশনে গাজিকে পেলাম। (আমি নিজেও কি অনেকদিন পর নই!)
    আমার সব সময়ই মনে হয় আমার মনের কথাগুলো গাজি ফাতিহুন নূর বলে ফেলে আমার চেয়েও গুছিয়ে এবং যৌক্তিকভাবে!
    এটা এক ধরনের প্রভাব হতে পারে। হতে পারে আমি গাজির যুক্তি দ্বারা প্রভাবিত! কিন্তু তবুও আমি আনন্দিত…
    নিজেকে এখনও পর্যন্ত একজন আস্তিক (এবং ধার্মিক না হলেও ধর্ম প্রাণ) দাবী করা এই আমি (প্রায়) সম্পূর্ণরূপে একমত নাস্তিক ফাতিহুন নূরের সাথে! আশ্চর্যজনক শোনালেও এটাই সত্য…

    কয়েকদিন আগে কোন একটা কারণে আমি, আমার বড় ভাই এবং আমার বড় মামা (তারা দুনেই কবি ও ভাবুক!) একটা তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম… সেখানে তারা প্রসংগত আমাকে প্রশ্ন করে- “মুক্তমনা”র সজ্ঞা কী?
    আমি স্পষ্ট করে জবাব দিয়েছিলাম- যে ব্যক্তির টলারেন্স বা অপরকে সহ্য করার ক্ষমতা (অসীম) যত বেশি সে ততটা মুক্তমনা…!
    আমি সত্যিই এটাই বিশ্বাস করি। আমার চারপাশে আমি অনেক সুশীল দেখতে পাই, যুক্তিবাদী দেখতে পাই, উদার মানুষ দেখতে পাই… কিন্তু তাদের মধ্যে “মুক্তমনা” দেখি না খুব একটা…!!!

  4. আমি বরাবরই গাজির লেখা পড়ে খুব
    আমি বরাবরই গাজির লেখা পড়ে খুব আরাম পাই। এটাও তার ব্যতিক্রম নয়। গতকাল থেকে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা দৌড়ের উপর আছি। তাই প্রচণ্ড ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও বিশদ আলোচনায় অংশ নেওয়ার মতো শক্তি অবশিষ্ট নেই। আগামীকাল আশা করি আলোচনায় অংশ নেবো পুরোদমে। :দেখুমনা:

  5. সাধারণ মানুষ
    যারা, তারা

    সাধারণ মানুষ
    যারা, তারা নাস্তিকদের
    প্রতি একটা বিদ্বেষ
    নিয়ে ওয়াজ থেকে উঠে,
    পরবর্তিতে নাস্তিক জবাইয়ের
    ডাক এলে সে তাতে সমর্থন দেয়।

    ব্যপারটা এমন-ই।

  6. “নাস্তিক বললেই গ্রামের
    “নাস্তিক বললেই গ্রামের মানুষের মনে যেরকম একটা ‘আইডিয়া’ জন্মে এবং কল্পনায় যেভাবে নাস্তিককে কল্পনা করেন সেটাকে তারা ঠিক মানুষ মানুষ মনে করেন না। তারা ভাবতেই পারেন না নাস্তিকরা ক্রিকেট খেলা মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং বাংলাদেশ জিতলে বাচ্চাদের মত লাফায়। তাদের নাস্তিকদের প্রতি ধারণাটা জন্মে ‘মানুষ-না’ এই টাইপ।”

    ব্যাপারটা কি গ্রাম শহরের? নাকি শিক্ষিত অশিক্ষিতের? আমার জানা মতে কিন্তু গ্রামেও নাস্তিকের বসবাস আছে।

    আপনার লেখাটি অনেক ভালো লেগেছে।

  7. ক্ষয়িষ্ণু, মধ্যযুগীয়,
    ক্ষয়িষ্ণু, মধ্যযুগীয়, অপালনযোগ্য আরবীয় সাংষ্কৃতি সমাজ আর রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় অবশ্যপালনীয় হয়ে উঠলে সংকট সৃষ্ঠি হবেই দেশে।

  8. আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের
    আবুল কাশেম ফজলুল হক স্যারের “সকল পক্ষের শুভ বুদ্ধি উদয় হোক” কথাটি শুনতে যতই ভাল লাগুক, তিনি ইসলামিস্ট মৌলবাদ ও চাপাতী বাহিনী উত্থানের সাথে ধর্ম, যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তামূলক লেখালেখিকে জড়িয়ে ফেলে আমাদের মত কুসংস্কারচ্ছন্ন সমাজে যে টিমটিম করে এ ধরনের চর্চা চলছিল তাকেও বিতর্কিত করে ফেলেন। পূর্বে বিশেষ রাজনীতির মানুষজন হুমায়ূন আজাদের লেখালেখির বিষয়বস্তুকে ভাল চোখে দেখত না। যদিও আহমদ শরীফ সমাজতন্ত্রী ছিলেন, উনার নস্তিকতা নিয়ে বিশাল লেখালেখি- তাদেরই উত্তরসূরীরা যখন অনলাইনে লিখতে শুরু করল তারা প্রতিক্ষ হয়ে উঠল ধর্মবাদীদের। যুক্তিহীন ধর্মবাদীরা চাপাতী তুলে নিলো। গোটা দেশের মানুষ চাপাতী বাহিনীদের পক্ষ নিলো। তাতেই কারুর কারুর মনে হলো নাস্তিকরা ভুল পথে আছে! কারণ জনগণ তাদের পক্ষে নেই! কি হাস্যকর এদের চিন্তাভাবনা! মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ যেখানে সেখানে কি তারা আশা করেন? মুসলিমদের মানসিক গঠন সম্পর্কে এদের কোন ধারণা নেই? প্রবীর ঘোষের বইয়ে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ভূমিকা লিখেন- ভাবা যায়! তার ভোটের ভয় তো ছিল না। তফাতটা কি আমাদের এখানকার সাথে? নাস্তিকদের পক্ষে জনগণ থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।

    লেখাটা ভাল লাগেনি কারণ মানুষের প্রতি প্রবল ভালবাসা অন্ধভাবে বিশ্লেষণকে লঘু করেছে। এদেশের মানুষ সেক্যুলার জীবনযাপন করে- এরকম লাইন রোমান্টিকতা ছাড়া আর কিছৃু না!

    নাস্তিকরা এখন যুক্তির বদলে শুধু স্যাটায়ার করতে আগ্রহী- একদমই ভুল পর্যবেক্ষণ। অনেকেই ভয়ে লেখা ছেড়ে দিয়েছে বা ধর্ম বাদ দিয়ে অন্য বিষয় নিয়ে লিখছে-এটুকুই। কিন্তু যারা যুক্তি ও বিশ্লেষণ দিয়ে লিখত তাদের মধ্যে যারা এখনো লেখা চালিয়ে যাচ্ছে তারা সেই একই রীতিতেই লিখছেন।

    যাই হোক, এই ধরণের লেখা আমি বুঝতে ব্যর্থ হই। কেননা যারা লেখেন তারা আসলে কি বলতে চান সেটা গলা কেশে বলেন না। মানুষকে ভাল না বাসলে মানুষ কেন সমাজে চেপে বসা ধর্মন্ধতার বিরুদ্ধে লেখে? এদেশের মানুষ সেক্যুলার, ধর্ম পালন ও না পালন নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই- মনে হলো কোন বাংলা সিনেমা দেখছিলাম!

    নাস্তিকরা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল এবং থাকবে। এবং তাদের লেখালেখি চিরকাল ধর্মের বিরুদ্ধে চলবে। কোমলমতি ধার্মীকরা তাতে আহত হবে। এই আহত হওয়ার লক্ষ্যেই নাস্তিকরা লেখে।

    1. নাস্তিকরা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল

      নাস্তিকরা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল এবং থাকবে। এবং তাদের লেখালেখি চিরকাল ধর্মের বিরুদ্ধে চলবে। কোমলমতি ধার্মীকরা তাতে আহত হবে। এই আহত হওয়ার লক্ষ্যেই নাস্তিকরা লেখে।

      ধার্মিকরা অাহত হলে নাস্তিকরা নিহত হবেই। ইসলামের বিধান কেউ বদলাতে পারবে না।

  9. নাস্তিক্যবাদিরা এখন অার সমাজে
    নাস্তিক্যবাদিরা এখন অার সমাজে-সংসারে টিকতে পারছে না তাই এখন তারা সহমর্মিতা সহনশীলতা অাশা করছে। অাশা করা ভাল। তবে মুখ বন্ধ রাখতে হবে।

    যে কেউ অাল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবে তাদেরকে হত্যা করা ইসলামে বৈধ যে কোন মুসলিম এই বিধান কার্যকর করতে পারবে।

    যারা অাখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের ভাল কাজগুলি ছাই-ভস্বের স্থুপের মত যা বাতাস এসে উরিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন তারা বলবে অামরাতো কোন মন্দ কাজ করতাম না ….. অাসলে কোরানে কারো কথাই অাল্লাহপাক বাকি রাখেন নি।

  10. একসাথে শহীদ মীনারে টিকা লুচি

    একসাথে শহীদ মীনারে টিকা লুচি খাই, সিগারেট নেয়ার জন্যে জোরাজোরি করি। তারা জুম্মার নামাজ পড়তে যাচ্ছে আতর লাগিয়ে, আমার দিকে তাকিয়ে থেকে একটা হাসি দেয়, আমিও দেই, এখানে দ্বন্দ্বের আর কোন জায়গা নেই।

    হ্যা এরকমটা হলে খুব ভালই হত। কোন দ্বন্দের অবকাশ থাকত না। এখানেই শেষ হয়ে যেত।নাস্তিক-আস্তিক সবাই মিলে মিশে বসবাস করতে পারত। কিন্তু সমস্যা বাদিয়েছেন আপনার স্বগত্রিয় নাস্তিকরা। আপনারা ইসলামের নবী, তার পবিত্র স্ত্রীগন আর আল্লাহকে নিয়ে অসভ্য আর নোংরা কথা-বার্তা লিখতে শুরু করলেন অনলাইনে। ফলে দুদিন আগে যাদের সাথে গলায় গলায় ভাব ছিল, লুচি-সিগারেট খে্তেন তারা আর বন্ধু রইল না। আপনারাই আগে ফাউল করলেন। আর ফাউল বাধিয়ে এখন নিজেরাই সমাজ আর সাধারণ মানুষের কাছে সহমর্মিতা আশা করছেন। নিজেদের সংশোধন করুন আগে। আমাদের ধর্ম , আমাদের নবীকে ভাল না লাগলে মানবেন না, ব্যাস। কিন্তু নোংরা কথা বললে তার মারাত্নক পতিক্রিয়া অবশ্যই হবে। কান্না-কাটি করে কোন লাভ হবে না।

  11. আজই আমার বাবা আমাকে ধর্ম নিয়ে
    আজই আমার বাবা আমাকে ধর্ম নিয়ে কিছুই না লিখতে বারণ করলেন। না পক্ষে না বিপক্ষে। এর কারণ নিশ্চয়ই সেকুলারিজম নয়।
    বাংলার মানুষ কোনদিন অমন ছিল না। এখনও নয়। এরা ছোট বাচ্চার গাল আদর করে টিপে দেয় ঠিকই কিন্তু মোওকা পেলে আচ্ছা মতো পিটায়ও।
    বাংলার মানষ নৃশংষ, কারণ হিসেবে শিক্ষার অভাবকে চিহ্নিত করতে পারেন। সামান্য দুই শতক জমির জন্যও এরা গোটা একটা পরিবার ধ্বংস করতে পিছ পা হয় না।
    তাই সব কথার সাথে পারলাম না মোটেও একমত হতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *