প্রিয় কৃষ্ণচূড়া

প্রতি ভালোবাসা দিবসের মত এবারও খালি হাতে পদ্যের সাথে দেখা করতে আসে মহীন। ওর খালি হাত দেখেই অভিমানী হয়ে ওঠে পদ্য।
: তোমার না এবার ফুল নিয়ে আসার
কথা?
:তাই? ফুল আনার কথা ছিল নাকি?
:তুমি আমাকে গতরাতে উইশ করোনি কেন?
:আমিতো তোমাকে বলেছিই ভালোবাসি।
পদ্য বুঝতে পারে ওর সাথে তর্ক করে লাভ নেই।ওদের ছয় বছরের প্রেম, এ পর্যন্ত একটা গোলাপ কেন কোন ফুলই মহীনের পদ্যকে দেয়নি। জিজ্ঞেস করলে বলে দেখ ফুল ছিড়ে
লাভ কি বল? হয়তো তোমাকে একটা ফুল দিলাম কিন্তু ফুলটি তো দুদিন পরেই শুকিয়ে যাবে। তারচেয়ে
যদি ফুলটি গাছে তাহলে কত্ত সুন্দর লাগবে। মহীনের গোড়া যুক্তির সাথে না পেরে উঠে চুপ করে থাকে পদ্য।

প্রতি ভালোবাসা দিবসের মত এবারও খালি হাতে পদ্যের সাথে দেখা করতে আসে মহীন। ওর খালি হাত দেখেই অভিমানী হয়ে ওঠে পদ্য।
: তোমার না এবার ফুল নিয়ে আসার
কথা?
:তাই? ফুল আনার কথা ছিল নাকি?
:তুমি আমাকে গতরাতে উইশ করোনি কেন?
:আমিতো তোমাকে বলেছিই ভালোবাসি।
পদ্য বুঝতে পারে ওর সাথে তর্ক করে লাভ নেই।ওদের ছয় বছরের প্রেম, এ পর্যন্ত একটা গোলাপ কেন কোন ফুলই মহীনের পদ্যকে দেয়নি। জিজ্ঞেস করলে বলে দেখ ফুল ছিড়ে
লাভ কি বল? হয়তো তোমাকে একটা ফুল দিলাম কিন্তু ফুলটি তো দুদিন পরেই শুকিয়ে যাবে। তারচেয়ে
যদি ফুলটি গাছে তাহলে কত্ত সুন্দর লাগবে। মহীনের গোড়া যুক্তির সাথে না পেরে উঠে চুপ করে থাকে পদ্য।
এভাবে দিন কাটতে কাটতে কখন যেন ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়ে যায় ওদের। জীবন যুদ্ধে নেমে পড়ে মহীন। কিন্তু পড়াশুনা শেষ করার পরেও চাকরির অনিশ্চয়তায় আগের টিউশনিগুলো ছাড়া হয়না। চাকুরীর দরখাস্ত করার টাকা অন্তত এখান থেকেই যোগান দিতে পারে ও।
এদিকে পদ্যের বাসায় বিয়ের তোরজোর চলে। পদ্য বিয়ের কথা বলে মহীনের কাছে। মহীনের শুধু অসহায় ভাবে তাকিয়ে থাকে। তার এই অসহায়ত্ব পদ্যের বিয়েকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনা।
আজ পদ্যের বিয়ে। সকাল থেকেই বাড়িতে ধুমধাম বিয়ের আয়োজন চলছে। এমন সময় বাড়ির গেটে এসে
মহীনের উপস্থিত, পদ্যের সাথে দেখা করতে চায়। বাড়ির লোকেরা স্বাভাবিক ভাবে দেখা করতে দিতে চায়না , কিন্তু পদ্য নিজেই বের হয়ে ওর সাথে দেখা করতে আসে।
:তোমার কি কয়েক ঘন্টা সময় হবে?
:তুমিতো জানোই আজ আমার বিয়ে। কেন এসেছ তুমি?
:তোমায় বিয়ে করতে না পারি অন্ততএকটা উপহার তো দেব!
কিছু না বলে বাড়ির ভেতর চলে যায় পদ্য। কয়েক মিনিট পরে ফিরে এসে দেখে চলে যাচ্ছে মহীন। পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলে “আমার উপহার না দিয়েই চলে যাচ্ছ যে?
মহীনের ফিরে তাকিয়ে দেখে পদ্য এসেছে , এজ মূহূর্তের জন্য মনে হয়
পদ্য সারাজীবনের জন্য ওর হয়ে গেছে। পদ্যকে নিয়ে রিকশা করে পাশের বাসস্ট্যান্ড এ পৌছে ওরা। এতক্ষণ পরে পদ্য জিজ্ঞেস করে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমাকে? মহীনের তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জানায় গোপনীয় ব্যাপার..
ঘন্টাখানেক পথ চলার পরে ওরা একটা গ্রামে পৌছায়। মহীনের বাড়ির
সামনে পৌছে যায় ওরা। ওদের বাড়িটা দুর থেকেই চোখে পরে। বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো গাছ। গাছটির পাশে গিয়ে বলে এই নাও তোমার উপহার। অবাক হয়ে চেয়ে থাকে পদ্য। মনেপরে ওর প্রথম দিনের কথা। সেদিন মহীন বলেছিল তোমার জন্য একটা উপহার রেখে দিয়েছি। সময়হলে দেব। পদ্যের চোখ
ঝাপসা হয়ে ওঠে। ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখে বাড়ির ভেতরে চলে যাচ্ছে মহীন।

২ thoughts on “প্রিয় কৃষ্ণচূড়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *