বাংলাদেশ- খুবলে খাওয়া মাংশপিন্ড

বাঙলাদেশ নিয়ে মুগ্ধতাটা সেই কৈশর পর্যন্তই অটুট ছিল, তার পর সেখানে অজশ্র প্রশ্নের আনাগোনা। ৭১ সালের পর দেশ এক উদ্ভট কায়দায় চলছে সাথে আমি নিজেও। ছেলে বেলায় নতুন বইয়ের মলাটের নিচে আবিস্কার করেছিলাম আমার দেশ সুজলা-সুফলা, উর্বর, সম্পদের অফুরন্ত ভান্ডার যেন এক সোনায় মোড়া সোনার বাংলা; যদিও বাস্তবতা ভিন্ন। এদেশ অজশ্র বিদেশী দস্যুর নির্মম লুটতরাজের পর স্বাধীনতা খুজে পেয়েছে । অনেকটা আখের রস ছাড়ানোর পর পড়ে থাকা ছোবরার মত আমার দেশ প্রায় অন্তঃসার হীন কিছু একটায় পরিনত,সেখান থেকে আরেক সংগ্রাম এর সুত্রপাত। ঘুরে দাড়ানোর সংগ্রাম। শত হোচটের পরও সেই লড়াই চলছে। আমাদের মহানায়কেরা নিহত হচ্ছেন। যারা বেচে থাকেন তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেচেছেন। অস্ৎ আর ভন্ডরা এদেশে দেবতা বনে যাচ্ছেন অহরহ। তাদের পূজোর আয়োজন চলে দিনরাত। এক দারোগার কথাই ধরা যাক- তার হাতে প্রচন্ড ক্ষমতা, চাইলে সে কোন পান-দোকানদারের গায়ে সজোরে চড় মেরে ১০০ টাকার চকচকে নোট বের করে নিতে পারে মানবাধিকার কে ধর্ষন করে, কিন্তু সারা পৃথিবী শাষন করা মার্কিন রাস্ট্রপতি কোন মার্কিন নাগরিকের গায়ে টোকাও দিতে পারেনা। এদেশে মন্ত্রী নামের কিছু গর্ধভ বাস করে যাদের পুত্র থেকে শুরু করে বেয়াইয়ের শালা পর্যন্ত সকলেই মহা শক্তিধর। স্বয়ং ঈশ্বর পর্যন্ত লজ্জা পান এদের ক্ষমতা দেখে। আমলা নামের এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা শয়তানি কে পবিত্র করেছে, তারা একেক জন পবিত্র শয়তান। টাউট বাটপার দের এইম ইন লাইফ হচ্ছে পলিটিশিয়ান হওয়া আর দেশকে ধর্ষন করা। আমরা প্রচন্ড অদ্ভুত এক রাস্ট্রে বাস করি;
যেখানে দুর্বৃত্তরাই সর্বসের্বা, সর্বশক্তিমান,
প্রভূ এবং সবশেষে ইশ্বর। এদেশে অপরাধ
রাজপূন্য। এদেশের মানুষ জানে না তাদের
রাস্ট্রের কাছ থেকে কি আশা করা উচিৎ,
আর রাস্ট্র নিজেই জানে না তার কর্তব্য কি!
অসংখ্য মূর্খ রাস্ট্রকার্য সমাধায় সংসদ নামের
এক গোয়াল ঘরে একত্রিত হয় আর কোন দুর্বৃত্ত
মারা গেলে শোকে কালো হয়ে যায় কিন্তু সেই
এলাকার কোন মেধাবী কিশোর খুন হওয়ায়
বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন হয় না।
মানুষ স্বর্গে ছিল আগে, এক নগণ্য
ভুলে সে আজ মর্ত্যে। ইশ্বর
প্রতিজ্ঞা করেছেন পর্যাপ্ত পূন্য সঞ্চয়ের পর
মানুষ আবার স্বর্গে যেতে পারবে আর পাপের
বোঝা বাড়লে নরকে। কিন্তু আমার দেশ আজ
বোধ হয়ে নরকের চেয়েও নিকৃস্ট। নিরাপত্তার
লেশমাত্র নেই কোথাও; হত্যা, খুন, গুম, ধর্ষন-
এর মহাউৎসব চলছে সর্বত্র।
মৌলবাদি সাম্প্রদায়িক শক্তি বিভৎস্য
চেহারা দেখাচ্ছে। আমাদের মন্ত্রী রা অসৎ,
নির্বোধ, বিমানবিক, ভীতু, মেরুদন্ডহীন ও
চাটুকার। রাস্ট্রের প্রতিটি অঙ্গে পচন
ধরেছে। ক্ষমতা মানুষ নয়, গুটিকয় পরিবারের
হাতে। ১৯৭১ আমাদের সেরা সময় ছিল।
আমাদের তখন কার স্বপ্ন ছিল এগিয়ে যাবার,
মাথা তুলে দাড়াবার কিন্তু
আমরা পিছিয়েছি, এগুইনি মোটেও। আমাদের
মহানেতারা সব মরে ভূত হয়ে গেছে আর
আমরা তাদের ছায়ার পেছনে দৌড়াচ্ছি আর
বিশ্বাস রেখে চলেছি। প্যান্ডোরা বাক্সের
তলায় কিছু আশা পড়ে ছিল, আমাদের
অবস্থাও তাই।
গ্রীক মিথের একাংশ বলা যাক-
বুদ্ধিমান দেবতা প্রমিথিউস দেবরাজ
জিউসকে অসন্তুস্ট করেন, আর জিউস
তাকে ককেশাস পর্বতের চূড়ায় আটকে রাখেন
শেকল দিয়ে বেধে। আর এক ঈগল নিযুক্ত
রাখা হয় সেখানে যেন সে প্রমিথিউসের যকৃৎ
খেতে পারে। সারাদিন খুবলে খুবলে ঈগল
প্রমিথিউসের যকৃত খেত আর পরদিন আবার
নতুন যকৃত প্রমিথিউসের দেহে বসানো হত।
যদি সে ক্ষমা প্রার্থনা করত
তবে ক্ষমা প্রমিথিউস তা পেত, কিন্তু
মানুষের প্রতি সে বিশ্বাস হারায় নি। তার
অপরাধে উপকৃত হয়েছিল মানুষ আর তাই তার
ধারনা ছিল কোন মানুষ তার প্রতিদান দেবে।
আর তার কয়েকশ বছর পর
মানুষে মাঝে সেরা বীর হারকিউলিস ঈগল
বধ করে প্রমিথিউস কে মুক্ত করেন।
আমাদের অবস্থা তা-ই। শয়তানেরা আমাদের
যকৃত না সারা দেহই খুবলে খাচ্ছে। আর
অপেক্ষায় আছি কারো জন্যে, যেমন অপেক্ষায়
ছিল প্রমিথিউস।

২ thoughts on “বাংলাদেশ- খুবলে খাওয়া মাংশপিন্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *