তাতে মনে হয় এ কোনো সফল-সার্থক খুদ্রাভিলাষ ছিলনা , ছিল এক ব্যর্থ প্রচন্ড উচ্চাভিলাষ ।

সেদিন আয়নার সামনে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম ।
নিজের চোখে চোখ রাখা যে অস্বস্তির –
নিষ্পাপ চাহনী , সরল দৃষ্টি , স্ক্যান্ডিনেভিয়ান আইরিশ
কিংবা আশৈশব চেনা সবুজাভ সলজ্জ চাহনী খুঁজে পাইনা ।
স্নিগ্ধতা নেই , কৌতূহল উধাও ।
একরাশ আধারে হেঁটে চলা অশরীরী
অপরাধ ক্লান্তি ভয় ভুল পাপ আর সন্দেহ উদ্রেককারী আলোর
বিবর্ণ ছায়া ও রক্তাক্ত আত্মার অস্থির পায়চারী ;
মৃত মানুষের চোখ দেখে দেখে আমার চোখ
অশ্রুবিন্দু ছাড়াই ঝাপসা হয়ে যেতে শিখেছে ।
অজানা রশ্মির মত দৃশ্যের ভেতরের আধখন্ড অনন্তের রহস্য
ভেদ করার দিকে উদগ্রীব গ্রীবা নিয়ে ব্যস্ত সে অখন্ড মনযোগে ।


সেদিন আয়নার সামনে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম ।
নিজের চোখে চোখ রাখা যে অস্বস্তির –
নিষ্পাপ চাহনী , সরল দৃষ্টি , স্ক্যান্ডিনেভিয়ান আইরিশ
কিংবা আশৈশব চেনা সবুজাভ সলজ্জ চাহনী খুঁজে পাইনা ।
স্নিগ্ধতা নেই , কৌতূহল উধাও ।
একরাশ আধারে হেঁটে চলা অশরীরী
অপরাধ ক্লান্তি ভয় ভুল পাপ আর সন্দেহ উদ্রেককারী আলোর
বিবর্ণ ছায়া ও রক্তাক্ত আত্মার অস্থির পায়চারী ;
মৃত মানুষের চোখ দেখে দেখে আমার চোখ
অশ্রুবিন্দু ছাড়াই ঝাপসা হয়ে যেতে শিখেছে ।
অজানা রশ্মির মত দৃশ্যের ভেতরের আধখন্ড অনন্তের রহস্য
ভেদ করার দিকে উদগ্রীব গ্রীবা নিয়ে ব্যস্ত সে অখন্ড মনযোগে ।

হাতে ফেয়ারনেস মারনাস্ত্র নিয়ে লাস্যময়ী মডেল
কর্পোরেট হাসিতে বিলবোর্ড আলো
করে বসে থাকে যখন,
তখন আমি দেখি কামার্ত গোঙ্গানীর সশব্দ অনিচ্ছা সঙ্গম ,
যদিও সেটা মানবিক সঙ্গম ছিল না , টিকেট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বড়জোর ।
বিলবোর্ড জুড়ে সঙ্গমের বিছানা – বীভৎস লাগে
চোখ ফেরাই সাথে মন ও ।
আমি দৃশ্যের ভেতরে দৃশ্য দেখে অসুখী হতে থাকি ,
বিপর্যস্ত , বিষণ্ণ , সাথে অবসাদ , বিবমিষা , অস্থিরতা , হতাশা , ক্রোধ , আক্রোশ।

আপনিই বলুন , এসব উথাল পাথাল ঢেউ বুকে ধরে রেখে
সন্তানের উষ্ণ গাল আর দয়িতার নাভীমুল থেকে
অন্ধকারের ঘ্রান আর চটচটে রক্তাক্ত থেতলে যাওয়া স্বপ্ন ছাড়া
ভিন্ন কিছু অনুভব করা সম্ভব ?

অন্ততঃ এই বীভৎস বিভীষিকার ঘেরাটোপে থাকা আমার প্রহর ,
কোন এক নার্সিসিস্ট সোসিওপ্যাথ নিয়ে গেছে কবেই
আমার প্রানের শহর ।

শহরে গান নেই , পাখী নেই , এ শহরের হৃদয় নেই
যদিও উৎকট শব্দস্রোত , হেলিকপ্টারের ডানা ঝাপটানো
এসব দেখে হ্যামিলনের পিছে পিছে হেঁটে চলে অবুঝ শিশুরা
নির্বোধ যুবারা , সং সেজে গায়ে গড়াগড়ি খেয়ে হাসা মস্তিস্কশুণ্য রমনীরা
এবং চারপাশে চুড়ান্ত সন্দেহবাদী চোখের আলস্যভরা সতর্ক শকুনেরা ।
এখানে সব কিছু আনুষ্ঠানিক ,
তাৎপর্য পূর্ণ কিছু মানে শামিয়ানা টানিয়ে মাইক বাজানো ,
উৎকৃষ্ট কিছু করার অর্থ দাঁড়ায় সভাপতি , বিশেষ অতিথি ,
পাচতারা হোটেল , ভোগবাদী আসর , অথবা বিকৃত বাসর ।
“ জীবনের জন্যে কবিতা “ শ্লোগান দিতে দিতে জীবনের দিকে
পীঠ ফিরিয়ে ঢুকছে মানুষ জীবনের জলসাঘরে ।
এসবই যথেষ্ট পীড়াদায়ক দৃশ্য ,
দৃশ্যের অন্তরালের দৃশ্যপটের ধারা বর্ণনা দিতে দয়া করে
অনুরোধ করবেন না আমাকে ।
পথে হেঁটে মানুষের মুখে মুখে আঁকা দেয়াল চিত্র দেখে
তাদের বুকের খাচার ভেতরে অলিন্দ নিলয়জুড়ে ইচ্ছের আহাজারীর
ব্যর্থ ছোটাছোটি দেখে ,
মৃত মন হৃদয় আত্মা নিয়ে হাটে যারা
সেই জম্বিদের অদ্ভুত দেহভঙ্গি দেখে
নিঃশব্দ , অদৃশ্য , নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষ গুলোর
বিধিলিপির সকরুন প্রক্রিয়ার চিত্রনাট্য দেখে ,
আর আমার ভেতরে পুষে রাখা যন্ত্রনার মেঘখন্ডে আগুন
ধরে যেতে দেখে –
এসব দেখে আমার হাঁটার গতি বাড়ে ,
অলিম্পিকের দৌড় আর হাঁটার মাঝখানের কিম্ভুতকিমাকার
দেহভাষা পেরিয়ে , ম্যারাথন, রীলের ব্যাটন ছুঁড়ে
অবশেষে প্রানপনে দৌড়াতে থাকি ।
চারপাশের মানুষ গুলো নিশ্চিন্ত মুখ অথচ গায়ে লাশের গন্ধ নিয়ে
নিরুপদ্রব আটপৌরে জীবন কাটানো দেখে আমি আরও ভীত হই ।
এ শহর এ দেশ এ সমাজ আমার যতই অচেনা ঠেকে
ততই আমি পালাতে থাকি ।

পথে ঘাটে চিৎ হয়ে , ডোবা- নালা-পুকুর- নদীতে উপুর হয়ে
ঢাউস বেলুন হয়ে , পচা গলা পোড়া ছেড়া কয়লা হয়ে যাওয়া
একতাল মাংস হয়ে যাওয়া , অথবা শুধুই
সাদামাটা কংকাল হয়ে যাওয়া কিংবা একেবারেই শুন্যে মিলিয়ে যাওয়াদের
দেখে আমি আরও দ্রুত পালিয়ে যেতে থাকি ।
অশ্রুবিন্দু ছাড়াই আমার চোখ ঝাপসা হতে থাকে
আমি জানি আমি কাদছি না ,
কারণ এত এত কান্নার জল ঝরছে
এ শহর ডুবে যেতে পারে কাঁদতে শুরু যদি করি ।
আমার দৃষ্টি অশ্রুবিন্দু ছাড়াই ঝাপসা হতে শিখে গেছে ,
যদিও ভেতরে পুষে রাখা যন্ত্রনার মেঘখন্ডে আগুন লেগে গেলে
এই নৈরাজ্যের মধ্যভাগে টলমল করে বিশাল অশ্রুবিন্দু ।
আমিও থেমে যেতে পারি অবর্ণনীয় কোন ভঙ্গিমায় ।
আমি যেদিন থেমে যাব , অনুপস্থিত হয়ে যাব ,
সেদিন আমাকে সনাক্ত করতে আসা লোকেরা সিদ্ধান্ত নেবে ,
এর লাশে , ভাঙ্গাচোরা অস্থিতে যেসব চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে ,
তাতে মনে হয় এ কোনো সফল-সার্থক খুদ্রাভিলাষ ছিলনা ,
ছিল এক ব্যর্থ প্রচন্ড উচ্চাভিলাষ ।

২ thoughts on “তাতে মনে হয় এ কোনো সফল-সার্থক খুদ্রাভিলাষ ছিলনা , ছিল এক ব্যর্থ প্রচন্ড উচ্চাভিলাষ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *