গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৩





গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৩


পর্ব: ০১

পর্ব: ০২

টোপাভাতি

পুতুল খেলার মতোই মেয়েদের আরেকটি প্রিয় খেলা হলো টোপাভাতি বা রান্না করার খেলা। যদিও মেয়েদের খেলা তবে সাধারনত মেয়ে ছেলে উভয় শিশুরা মিলে এই খেলা খেলে থাকে।
টোপা মানে মাটির হাঁড়ি বা রান্না করার বাসন এবং ভাতি হলো ভাত রান্না করা। এজন্য রান্না করার এ খেলাকে টোপাভাতি বলা হয়।


নিয়মকানুন

প্রথমে শিশুরা পাটকাঠি বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ছোট খেলাঘর তৈরি করে। এরপর এর উপরে গাছের পাতা, কলা পাতা অথবা পলিথিন দিয়ে ছাউনি দেয়। এর পর পানি দিয়ে ঘর লেপা ও মাটি খুড়ে চুলা তৈরি করা হয় অথবা খেলনা চুলোয় চলে রান্না আর তা না থাকলে তিনটে ইটের টুকরো বা ঢেলা দিয়ে বানানো হয় চুলা ।এর পর একজনকে কাছেই কোথাও কাল্পনিক বাজারে পাঠানো হয়। সে বাজার (ঝোপঝাড়ে যায় বাজার করতে) থেকে বিভিন্ন কাল্পনিক জিনিসপত্র বাজার করে আনে। সেখানে থাকে মাছ-মাংস থেকে সব রকমের তরকারি।

সাধারনত গাছের পাতা তরকারি হিসেবে,
বালু ভাত হিসেবে ,
ধুলোকে চিনি বা লবণ হিসেবে বাজার হতে নিয়ে আসে,
বাজার করার সময় কাঁঠাল গাছের পাতা টাকা হিসেবে ক্যাবহার করা হয়।

মেলা থেকে কেনা টিনের বটি দিয়ে চলে তরি-তরকারি কাটার কাজ। চুলায় ফু দিয়ে-দিয়ে আগুন জ্বলানো হয়। আগুনের ধোঁয়ার চোখ হয়ে যায় লাল। সবটাই অভিনয়। কিন্তু দেখলে মনে হবে বাস্তব সংসারেই ঘটে চলছে এসব।
এরপর একজন সেসব জিনিসপত্র রান্না করে সবাইকে খেতে দেয়। মুখ দিয়ে শব্দ করে পাতার থালায় চলে খাওয়ার পর্ব। এ সময় এক অনাবিল আনন্দে ভরে থাকে বাচ্চাদের মুখ।
শিশুরা রান্নার জন্য সাধারনত খেলনা হাড়ি-পাতিল ব্যবহার করে থাকে।আর গাছের বড় পাতাকে ব্যবহার করা হয় বাসন হিসেবে এবং খাওয়ার সময় থাল হিসেবেও গাছের পাতা ব্যবহার করে থাকে। এই খেলার মধ্যে গ্রাম বাংলার পারিবারিক আবহ ফুটে উঠে।

মজার খেলা পিকাবো বা কানামাছি


বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলাধুলার মধ্যে কানামাছি একটি চমৎকার খেলা। এ দেশের সর্বত্র শিশু কিশোররা এ খেলা খেলে থাকে। কানামাছি খেলার সময় নিচের ছড়াটি বলতে হয়।


“কানামাছি ভোঁ ভোঁ

যারে পাবি তারে ছো”


নিয়মকানুন


এ খেলায় কাপড় দিয়ে একজনের চোখ বেঁধে দেয়া হয়, সে অন্য বন্ধুদের ধরতে চেষ্টা করে। যার চোখ বাঁধা হয় সে হয় ‘কানা’। অন্যরা ‘মাছি’র মতো তার চারদিক ঘিরে কানামাছি ছড়া বলতে বলতে তার গায়ে টোকা দেয়। চোখ বাঁধা অবস্থায় সে অন্যদের ধরার চেষ্টা করে। সে যদি কাউকে ধরতে পারে এবং বলতে পারে তার নাম তবে ধৃত

ব্যক্তিকে কানামাছি সাজতে হয়।

১১ thoughts on “গ্রামীণ-দেশজ খেলা যা আর খেলা হয়না তেমন—পরিচয় করিয়ে দিই আপনাদের সঙ্গে পর্ব: ০৩

  1. কানামাছি খেলাটা ছো্ট্ট বেলায়
    কানামাছি খেলাটা ছো্ট্ট বেলায় আমাদের একদম কমন খেলা ছিল। আমার বাসায় যখন পিচ্চিরা সব এক হয়, তখন ওদেরকে এই খেলায় লাগিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য নস্টালজিক হই।

  2. পোস্টের সাথে ট্যাগের মিল নাই।
    পোস্টের সাথে ট্যাগের মিল নাই। মডুদের অনুরোধ জানাচ্ছি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নামের একটা ট্যাগ করার জন্য। এই ধরনের পোস্টগুলো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ট্যাগে গেলে লেখাগুলো খুঁজে পেতে সহজ হবে।

  3. দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি
    দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে আপনার পোস্টগুলো ভাল লাগে। এতদিন পাঠক হিসাবে ছিলাম। এবার কিছু লেখা শেয়ার করার জন্য টিকেট কাটলাম।

  4. কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো ফিরে
    কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো ফিরে গেলাম ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে। অসংখ্য ধন্যবাদ কিছুটা সময়ের জন্য শান্তি দেবার জন্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *