পিতৃভূমি হন্তারক

মাঝে মাঝে একটা স্বপ্ন দেখি, কেউ একজন আমাকে পেছন থেকে অস্ত্র হাতে তারা করছে। আমি প্রাণপনে দৌড়াচ্ছি। কিন্তু লোকটা পিছু ছাড়ছে না। মাঝে মাঝে আমি লোকটাকে ইচ্ছে মত মারছি। কিন্তু একটু পরে আবার আমাকে সে তাড়া করে। এভাবে প্রাণভয়ে হাপাঁতে হাপাঁতে একসময় ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভাঙ্গার পরেও মাঝে মাঝে ভয় করে। আচ্ছা এটাতো স্বপ্ন। বাস্তবে যদি এমন হয়, তাহলে?


মাঝে মাঝে একটা স্বপ্ন দেখি, কেউ একজন আমাকে পেছন থেকে অস্ত্র হাতে তারা করছে। আমি প্রাণপনে দৌড়াচ্ছি। কিন্তু লোকটা পিছু ছাড়ছে না। মাঝে মাঝে আমি লোকটাকে ইচ্ছে মত মারছি। কিন্তু একটু পরে আবার আমাকে সে তাড়া করে। এভাবে প্রাণভয়ে হাপাঁতে হাপাঁতে একসময় ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভাঙ্গার পরেও মাঝে মাঝে ভয় করে। আচ্ছা এটাতো স্বপ্ন। বাস্তবে যদি এমন হয়, তাহলে?

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ও লামচরি পাশাপাশি দুটি গ্রাম। এই নামদুটো হয়তো আগেই আপনারা শুনে থাকবেন। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করে বিখ্যাত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলছে নদী কীর্তনখোলা। মোটামুটি শান্ত নদী হিসেবেই পরিচিত। বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে নদী। গ্রামের মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করতো এই নদীতে। বউয়েরা কাখেঁ করে কলসীতে পানি নিয়ে যেত। নদী নিয়ে হয়তো অনেকেরই আছে মধুর স্মৃতি। কিন্তু গ্রামবাসীর কাছে এই নদীটি হয়ে উঠেছে বিষ ফোড়াঁর মতো প্রথমে যে স্বপ্নের কথা বলেছিলাম , ঠিক তাই ঘটছে লামচরি ও চরবাড়িয়া এলাকার কিছু মানুষের বেলায়। নদী তাদের পিছন থেকে তাড়া করছে। ইতোমধ্যে অনেকের বসত বাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সামনে বর্ষাকাল। এজন্য এখন থেকেই কিছু মানুষ তাদের ঘর সরিয়ে নিচ্ছে।

আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা তাদের সামান্য পিতৃভূমির জন্য মামলা মোকদ্দমায় সর্বস্য হারিয়েছে। অথচ যা হারিয়েছে তা দিয়ে ঐ পিতৃভূমির কয়েকগুণ সম্পদ কিনতে পারত। প্রত্যেকের বাপদাদার সম্পদের উপর নাকি আলাদা একটা টান থাকে। এখন ঐসব মানুষের কথা একটু চিন্তা করে দেখুন যারা হয়তো ঘুমাতে যাওয়ার আগেও আস্ত ঘর দেখেছে। ঘুম থেকে উঠে দেখে তা খেয়ে ফেলেছে কোন এক রাক্ষসী। হয়তো কোন একজনের এটাই ছিল শেষ সম্বল। তাদের অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগলো।

এই অবস্থা থেকে উত্তরনের কোন পথ আছে কিনা আমার জানা নেই। জানিনা সরকার এদের রক্ষার কোন চেষ্টা করতে পারে কিনা। যদি সম্ভব হয় তাহলে কিছু একটা করুক।

১ thought on “পিতৃভূমি হন্তারক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *