হায়রে মানব হৃদয়!

মাঝে মাঝে কী যেন হয়! কোন
একটা কথা বা কবিতার কোন লাইন
অথবা গানের কোন সুর মাথার
মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে। খেতেই
থাকে ঘুরপাক, যা কিছু করি না কেন,
যত ব্যাস্ততাই থাকুক না কেন, কিছুতেই
সেটা মাথা থেকে সরে না। না, শত
চেষ্টা করেও সরানো যায় না।



মাঝে মাঝে কী যেন হয়! কোন
একটা কথা বা কবিতার কোন লাইন
অথবা গানের কোন সুর মাথার
মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে। খেতেই
থাকে ঘুরপাক, যা কিছু করি না কেন,
যত ব্যাস্ততাই থাকুক না কেন, কিছুতেই
সেটা মাথা থেকে সরে না। না, শত
চেষ্টা করেও সরানো যায় না।
অবশেষে আবার কখন যেন নিজ থেকেই
সে লাইন বা সুর কোথায় হারিয়ে যায়,
মাথাটাকে অনেক ঘামিয়েও
তাকে আর উদ্ধার করা যায় না।
মনে পড়েই না আর! দু’তিন দিন যাবত
মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, সেই কোন
ছোটবেলায় পড়াঃ
পাখীরা আকাশে ওড়ে
দেখিয়া হিংসায়
পিপীলিকা বিধাতার
কাছে পাখা চায়।
বিধাতা দিলেন পাখা
দেখ তার ফল,
আগুনে পুড়িয়া মরে
পিপীলিকা দল।।
বিধাতা অত্যন্ত শক্তিধর সত্ত্বা।
পিপীলিকা ‘চাহিবা মাত্র’
তাকে পাখা দেবার ক্ষমতা তাঁর
আছে। তিনি অতি দয়ালু –
পিপীলিকার ইচ্ছা তিনি নিমেষেই
পূরণ করে দিতে পারেন। তিনি পরম
করুণাময়, কারো দুঃখ-কষ্ট
তিনি সইতে পারেন না। তাঁর
আরো অনেক গুণ আছে, গুণের
বর্ণনা করে শেষ করা যায় না।
মানুষের কল্পনা শক্তি অসীম। সেই
অসীমত্বকেও
ছাড়িয়ে গেছে বিধাতার গুণাবলী ও
শক্তির বিশালতা। তাঁর সৃষ্টির
সেরা মানুষ – মানুষ সৃষ্টির জন্যই
তিনি বিশ্বব্রম্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন।
এই মানুষের প্রতিই তাঁর
ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি। আর তাই
মানুষের কষ্টে তিনি সব
চাইতে বেশি কষ্ট পেয়ে থাকেন।
তিনি যা করেন, সবই মানুষের মঙ্গলের
জন্যই করেন।
পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য
ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতি নিয়ত।
প্রতিদিন বিধাতা তাঁর প্রিয় মানুষের
সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছেন। এমনই
একটা ঘটনা ঘটেছিল এখন থেকে প্রায়
তিন বছর আগে। একটা মানুষের জন্ম
হয়েছিল সেদিন। সে মানুষটি নিজের
জান বাঁচাবার জন্য বাতাস
থেকে প্রয়োজনীয় অম্লজান
টেনে নিতে পারে নি,
চিকিৎসকেরা কৃত্রিম
ভাবে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
সে মানুষটি এই তিন বছর বয়সে এখনও
পর্যন্ত বসতে বা দাঁড়াতে শেখে নি,
শেখে নি হামাগুড়ি দিতে,
শিখতে পারে নি হাটতে।
মানুষটি একটি কথাও আজ পর্যন্ত
বলতে পারে নি। এই পৃথিবীর আলো আর
আঁধারের মাঝে যে কোন পার্থক্য
আছে তা জানা হয় নি তার। এই সুন্দর
বসুন্ধরা তার কাছে শুধুই শব্দময়।
অসীম শক্তির আঁধার বিধাতা তার
ক্ষমতা দিয়ে এই মানুষটিকে কেন এমন
অসম্পূর্ণ করে সৃষ্টি করলেন, কেন তার
জীবনকে স্বাভাবিক করলেন না!
যদি বা করলেনই এমন, দিবা-নিশি তার
কষ্ট দেখে তাঁর মনে কী একটুও কষ্টের
ছাপ পড়ছে না? তবে কেন তাকে তার
প্রাপ্য দিয়ে কষ্ট দূর করতে কার্পণ্য
করছেন? তা করবার ক্ষমতা যদি নাই
থাকে, তবে তিনি কেমন
সর্বশক্তিমান? যদি তাঁর কষ্ট নাই লাগে,
তবে তিনি কেমন ভালোবাসেন,
কিসের সে ভালোবাসা? কষ্ট
দেখতেও কী তাঁর আনন্দ? সত্যিই
যদি এতেই তিনি আনন্দ পান, তবে তাঁর
নিজের কাছে নিয়ে যেয়ে এই আনন্দ
তিনি আরও ভালো ভাবে উপভোগ
করতে পারেন, তাই বা করছেন না কেন?
কী এমন মঙ্গল তিনি লুকিয়ে রেখেছেন
তার এই নিষ্ঠুরতার মাঝে?
“আমি যাহা জানি,
তোমরা তাহা জানো না” এ
কথা বলে সান্ত্বনা দেওয়া যায়,
নড়বড়ে খুঁটির গোড়া শক্ত
করে আটকানো যায় না। বিধাতার
শক্তি আর ক্ষমতা দিয়ে ঐ
শিশুটিকে একজন স্বাভাবিক
মানুষে পরিণত করা না গেলেও এই
পোস্টদাতাকে শায়েস্তা করা যায়।
তাঁর অসংখ্য প্রিয় বান্দা তাঁর নৈকট্য
লাভের আশায় মুহূর্তমধ্যে এই ব্লগারের
মস্তক ছেদন করতে পারেন, কিন্তু ঐ
অসহায় শিশুটির জন্য সেই বান্দাগণসহ
স্বয়ং বিধাতার ক্ষমতা নিয়ে সংশয়
তাতে কমবে না এক বিন্দুও।
==========================================
[এই পোস্ট কারো ব্যক্তিগত
বিশ্বাসকে আহত করবার জন্য লেখা হয়
নি। যদি কারো বিশ্বাসে সামান্যতম
আঘাত লাগে সে জন্য
আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
আমার একান্ত ব্যক্তিগত
অনুভূতি থেকে বের হয়ে আসা এই পোস্ট
বন্ধুদে্র সহানুভূতি পাবার জন্যও নয়, কারণ
কোন আহারে, উহুরেতে সে মানুষটির
কিছুই যায়-আসে না; সে একটা জীবন্ত
জড় পদার্থ]

২ thoughts on “হায়রে মানব হৃদয়!

    1. আবারও আইছে আমার গুটু গুটু
      আবারও আইছে আমার গুটু গুটু ভাইয়ু! মাইক্রো ও মিলি কমেন্ট নিয়া!

      :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *