তিস্তা বাঁচাও…বাঙলাদেশ বাঁচাও

বাঙলাদেশ নদী মাতৃক দেশ (!) এজাতীয় কথা আমি শৈশবে বই পুস্তকে পড়েছিলাম। কারণ জ্ঞান হবার পর থেকে বইয়ের কথা গুলোর সাথে বাস্তবের অনেক অমিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। মরে যেতে দেখছিলাম নদী গুলোকে। উজানের দেশ ভারতের প্রায় একক সিদ্ধান্ত, বাঙলাদেশের ধারাবাহিক নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফলে নদীগুলো হারিয়ে ফেলেছে তাদের বৈশিষ্ট্য। অথচ বিভিন্ত সময় বিভিন্ন চুক্তির চেষ্টা ও চুক্তিও হয়েছিলো। কিন্তু ফলাফল শূণ্য। ভারত-বাঙলাদেশের গঙ্গা চুক্তির কথা আমরা জানি। তা স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রায় এক দেশক পেরিয়ে গেছে। কোন সুফল বয়ে আনেনি এই স্বাক্ষর। ফারাক্কা বাঁধের মরণ ছোবলে অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা এখন মৃত্যু পথযাত্রী! ব্রহ্মপুত্র, সুরমার সাথেও চলছে টিপাইমুখী বাঁধ নামক আরেকটি বিষাক্ত গোখরের খেলা। তিস্তা নদী…………………….. আমি তিস্তা পাড়ের মানুষ। ছোট বেলায় মুরুব্বিদের মুখে অনেক শুনেছি তিস্তার ভয়াবহতার কথা। কিছুটা চোখেও দেখেছি। কিন্তু সেই তিস্তা এখন ধূ ধূ মরুভূমি। ভারতে নির্মিত তিস্তা নেটওয়ার্ক এর ফলে অনেক আগে থেকেই তিস্তার প্রাণ যায় যায়। তার উপর পশ্চিমবঙ্গের একক সিদ্ধান্তে যে পানি টুকু তিস্তা পেত, সেটাও এখন শতকরা ০০%-এ নেমে এসেছে। ফলশ্রুতিতে তিস্তা মৃত্যুপথযাত্রী। ভারত পানি চুক্তির নামে বছরের পর বছর করে যাচ্ছে ছেলেখেলা। বাঙলাদেশকে করছে অধিকার বঞ্চিত। যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তারও অগ্রাহ্য।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন আছে। যা বাঙলাদেশ সরকার প্রয়োগ করতেই পারে। Convention on the Law of the Non-Navigational Uses of International Watercourses এ উল্লেখ আছে “পক্ষদ্বয়ের মধ্যকার বিবাদের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ যদি সম্মতিতে পৌছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা কোনো তৃতীয় পক্ষকে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য আহবান জানাতে পারবে।” এর একটা সুন্দর বাস্তবায়নও আমরা দেখতে পেরেছি। পাকিস্তান-ভারতের সিন্দু চুক্তিতে যখন দুই পক্ষ সিদ্ধান্তে পৌছুতে পারছিলো না, তখন সেখানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করেছে বিশ্বব্যংক। অথচ বাঙলাদেশ এই সুবিধা গ্রহণ করতে ব্যর্থ।
আন্তর্জাতিক নদীধারা আইন এর কাজ শুরু হয় ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর আলোচনার পর Convention on the Law of the Non-Navigational Uses of International Watercourses নামক আন্তর্জাতিক দলিল বের হয়। যাতে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী আইভরি কোস্টের অনুস্বাক্ষরসহ ৩৪টি অনুস্বাক্ষর হয়েছে। আর মাত্র একটি দেশের অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে এই কনভেনশনটি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু ১৯৯৭ সাল থেকে আজ অবধি বাঙলাদেশের কোন সরকারই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যা সত্যিই নিন্দনীয়।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে ইচ্ছে করছে, বাঙলাদেশ নদী মাতৃক দেশ ছিলো এবং থাকবেই। কোন দেশের কুটকৌশল কিংবা নিজ দেশের নতজানুনীতি এটাকে পরিবর্তন করতে পারবে না। বাঙলাদেশের আপামর জনতা তা হতে দিবে না। জয় আমাদের হবেই।
লিখেছেন : কমরেড মোজাম্মেল, যুগ্ন আহবায়ক, তিস্তা রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, ঢাকা।

৪ thoughts on “তিস্তা বাঁচাও…বাঙলাদেশ বাঁচাও

  1. মোদীতো আসার আগেই ফাটা কেষ্ট
    মোদীতো আসার আগেই ফাটা কেষ্ট হয়ে গেছে। তবে বাঙলাদেশ সরকারের উচিত ইলিশ মাছ আর জামদানি শাড়ী উপহার না দিয়ে একটু কঠোর হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *