গল্পটা প্রেমেরও হতে পারত

রজত, ব্যাচেলর চাকুরীজীবি, মেসে থাকেন। তার বন্ধুরা তাকে খুব শান্তশিষ্ট হিসেবে জানে। প্রতিদিন সকালে নাস্তা করার পরে অফিসে চলে যায়। ফিরে এসে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমোয়। ঘুম থেকে উঠে ছোট্ট টিভিপর্দার সামনে বসে। এর ব্যতিক্রম
শুধু বুধবার। এদিন সে অফিস থেকে বাসায় ফিরে গোসল সেরে খাওয়াদাওয়া করে বেশ পরিপাটি হয়ে
বাসা থেকে বের হয়। মেসের অন্য সবাই ধরে নিয়েছে রজত এদিন তার
গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যায়। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কথা উঠলে সযত্নে এড়িয়ে চলে রজত।


রজত, ব্যাচেলর চাকুরীজীবি, মেসে থাকেন। তার বন্ধুরা তাকে খুব শান্তশিষ্ট হিসেবে জানে। প্রতিদিন সকালে নাস্তা করার পরে অফিসে চলে যায়। ফিরে এসে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমোয়। ঘুম থেকে উঠে ছোট্ট টিভিপর্দার সামনে বসে। এর ব্যতিক্রম
শুধু বুধবার। এদিন সে অফিস থেকে বাসায় ফিরে গোসল সেরে খাওয়াদাওয়া করে বেশ পরিপাটি হয়ে
বাসা থেকে বের হয়। মেসের অন্য সবাই ধরে নিয়েছে রজত এদিন তার
গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যায়। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কথা উঠলে সযত্নে এড়িয়ে চলে রজত।

প্রতি বুধবারের মত আজও পুরানবাজারের একটা গলিতে ঢোকে রজত। ঐ গলির মুখে ঢুকতেই বিভিন্ন রুমের সামনে থেকে বিভিন্ন বয়সীদের কন্ঠ থেকে ভেসে আসে ” এই আয়নারে, অনেক মজা দেব”, ” এই এদিকে আয় অল্প টাকা নেব, এদিকে আয়” টাইপের কথা। এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত রজত। তাই এসব কথায় কান না দিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। যাকে ভাল লাগে সেই ঘরে ঢুকে পরে। আজ এক জায়গায় হঠাৎ থমকে দাড়ায় রজত। ব্যাপারটা এরকম – এক সর্দারনী একটা ছেলেকে বুঝিয়ে বলছে ” ও হয়তো তোমাকে জিজ্ঞেস করতে পারে তোমার নাম আপন কিনা। তুমি বলবে হ্যা।” এরপরে কোন একটা ঘরে ঢুকে পরে রজত। কিন্তু মাথা থেকে ঐ ব্যাপারটা সরাতে পারেনা সে।

এর পরের সপ্তায় আবারও যথারীতি
ঐ নির্দিষ্ট পাড়ায় ঢোকে রজত। আগের সপ্তাহের মতো ঐ রুমটির দিকে খেয়াল করে রজত। এবং আগের মত একই ঘটনা দেখতে পায়।

পরের সপ্তাহে রজত নিজেই ঐ নির্দিষ্ট রুমের সামনে যায়। সেখানে গিয়ে আগের মতো কিছু কথা শোনে। এরপরে ঐ রুমে ঢুকে পরে রজত। ঢুকে দেখে পরীর মতো সুন্দর একটা মেয়ে খাটের উপর বসে আছে। পরনে শুধু একটা সায়া আর ব্লাউজ, ব্লাউজের কাপড়ের স্বল্পতা তার শরীরের লজ্জাস্থান গুলো ঢেকে রাখতে ব্যর্থ হয়। রজত কোন কথা না বলে তার পাশে গিয়ে বসে। পাশে বসতেই মেয়েটি তাকে বলে ” আপন
তুমি এতদিন কোথায় ছিলে? ওরা বলে তুমি নাকি ফিরে আসবে না। …..তুমি আমাকে এখানে থেকে নিয়ে চলো।” কথাগুলো ঠান্ডা মাথায় শোনে আপন। তার বুঝতে আর বাকি থাকেনা যে মেয়েটি মানষিক ভারসাম্যহীন। সে মেয়েটির কথার কোন জবাব না দিয়ে বের হয়ে আসে।

এরপরে কেটে গেছে কয়েক সপ্তাহ। রজত সেই মেয়েটিকে পতিতালয় থেকে উদ্ধার করে ভর্তি করিয়েছে মেডিকেল কলেজের মানষিক বিভাগে। সেখানে চিকিৎসারত আছে মেয়েটি। এমন এক সকালে রজতের মোবাইলে একটা কল আসলো। মেডিকেল কলেজের কোন অধ্যাপক তাকে ফোন করে জানায় যে মেয়েটি মোটামুটি সুস্থ। ডাক্তার তাকে মেয়েটির সাথে দেখা করতে বলে।

মেয়েটি তখন শুয়ে ছিল। রজতকে
দেখে উঠে বসে। রজতের সাথে কুশল বিনিময় করে। রজত এতদিন পর্যন্ত মেয়েটির পরিচয় জিজ্ঞেস করেনি। আজ মেয়েটি নিজেই রজতকে বলে আপনিতো নিশ্চয়ই আমার পরিচয় নিয়ে ভাবছেন। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা অনুরোধ করবো।
–নিশ্চয়ই, বলুন।
–আমি আপনাকে একটা খাম দেব। বাসায় ফিরে আপনি খামটি খুলবেন। ওই খামে আমার সম্পর্কে সব তথ্য লেখা আছে। তারপর কাল সকালে আপনি আমার সাথে দেখা করবেন।

–আচ্ছা।

সেদিন বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায় রজতের। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে মোবাইলের
রিংটোনে। চোখ মেলে দেখে সেই ডাক্তারের কল। কল রিসিভ করে যা শোনে তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলনা রজত। লাফ দিয়ে উঠে খামটি খোলে রজত। খামের ভেতরের কাগজটিতে যা লেখাছিল তা মোটামুটি এরকম:

” রজত সাহেব আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন। কিন্তু যে পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
আমার সাথে সামান্য কিছু টাকার জন্য এরকম করতে পারে সেই পৃথিবীতে বেচেঁ থাকার জন্য আমার
ন্যূনতম ইচ্ছেটুকু অবশিষ্ট নেই। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। নিচে আমার বাবা মায়ের ঠিকানা লেখা আছে। যদি পারেন আমার লাশটা আমার বাবা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।”
চিঠিটি পড়তে পড়তে রজতের চোখ ভিজে উঠলো। মনে মনে বললো “মেয়ে তুমি কি জানো তোমার প্রিয় মানুষ তোমাকে ধোকা দিয়েছে, আর আমার প্রিয় মানুষ আমাকে! ”

প্রতিদিন কাজ শেষে দেখতে যেতে যেতে রজত কখন যেন একটা সুখের ঘর বাধা শুরু করেছিল, আজ সকালে সেটা হঠাৎ হুরমুরিয়ে ভেঙ্গে পরলো।

পুনশ্চঃ রজতের কাছে এখন বুধবারে কোন বিশেষত্ব নেই

১৬ thoughts on “গল্পটা প্রেমেরও হতে পারত

  1. রজত সাহেব আপনি আমার অনেক

    রজত সাহেব আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন। কিন্তু যে পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ
    আমার সাথে সামান্য কিছু টাকার জন্য এরকম করতে পারে সেই পৃথিবীতে বেচেঁ থাকার জন্য আমার
    ন্যূনতম ইচ্ছেটুকু অবশিষ্ট নেই।

    মেয়েটা রজতের কথা একটুও ভাবলোনা!

    অকৃতজ্ঞ মেয়ে।

    এইসব মেয়ে চাপাবাজ ছেলেদের প্রেমে পড়ে সবকিছু উজাড় করে দেয়, আর ভাল মানুষদের চিনতেই পারেনা…!
    দোষ তাই তাদের নিজেদেরও, অনেকটাই।

  2. মনে মনে বললো “মেয়ে তুমি কি
    মনে মনে বললো “মেয়ে তুমি কি জানো তোমার
    প্রিয় মানুষ তোমাকে ধোকা দিয়েছে, আর
    আমার প্রিয় মানুষ আমাকে! ”

    ভাল লেগেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *