“স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানান মুজিব কাকু” —– ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’




“স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানান মুজিব কাকু” —– ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’

সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শারমিন আহমদ। ১৯৯০ সালে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেলোশিপ ও উইমেন্স স্টাডিজ স্কলারসহ উইমেন্স স্টাডিজে মাস্টার অব আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ গ্রন্থটি দৈনিক মানবজমিন প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তাজউদ্দীন কন্যা লিখেছেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫শে মার্চের ভয়াল কালোরাতে আব্বু গেলেন মুজিব কাকুকে নিতে। মুজিব কাকু আব্বুর সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করবেন সেই ব্যাপারে আব্বু মুজিব কাকুর সাথে আলোচনা করেছিলেন। মুজিব কাকু সে ব্যাপারে সম্মতিও দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী আত্মগোপনের জন্য পুরান ঢাকায় একটি বাসাও ঠিক করে রাখা হয়েছিল। বড় কোনও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আব্বুর উপদেশ গ্রহণে মুজিব কাকু এর আগে দ্বিধা করেননি। আব্বুর সে কারণে বিশ্বাস ছিল যে, ইতিহাসের এই যুগসন্ধিক্ষণে মুজিব কাকু কথা রাখবেন। মুজিব কাকু, আব্বুর সাথেই যাবেন। অথচ শেষ মুহূর্তে মুজিব কাকু অনড় রয়ে গেলেন। তিনি আব্বুকে বললেন, বাড়ি গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকো, পরশু দিন (২৭শে মার্চ) হরতাল ডেকেছি। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্বু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং টেপ রেকর্ডারও নিয়ে এসেছিলেন। টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর প্রদানে মুজিব কাকু অস্বীকৃতি জানান। কথা ছিল যে, মুজিব কাকুর স্বাক্ষরকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন) অবস্থিত বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে এবং তাঁরা গিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করবেন।

২৫শে মার্চের ভয়াল কালো রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমদের সাক্ষাতের বর্ণনা দিয়ে শারমিন আহমদ আরও লিখেছেন, মুজিব কাকুর তাৎক্ষণিক এই উক্তিতে (বাড়ি গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকো প্রসঙ্গে) আব্বু বিস্ময় ও বেদনায় বিমূঢ় হয়ে পড়লেন। এদিকে বেগম মুজিব ওই শোবার ঘরেই সুটকেসে মুজিব কাকুর জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখতে শুরু করলেন। ঢোলা পায়জামায় ফিতা ভরলেন। পাকিস্তানি সেনার হাতে মুজিব কাকুর স্বেচ্ছাবন্দি হওয়ার এই সব প্রস্তুতি দেখার পরও আব্বু হাল না ছেড়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে মুজিব কাকুকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন। তিনি কিংবদন্তি সমতুল্য বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদাহরণ তুলে ধরলেন, যাঁরা আত্মগোপন করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু মুজিব কাকু তাঁর এই সিদ্ধান্তে অনড় হয়ে রইলেন।

আব্বু বললেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো- পূর্ব বাংলাকে সম্পূর্ণ রূপেই নেতৃত্ব্বশূন্য করে দেয়া। এই অবস্থায় মুজিব কাকুর ধরা দেয়ার অর্থ হলো আত্মহত্যার শামিল। তিনি বললেন, মুজিব ভাই, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হলেন আপনি। আপনার নেতৃত্বের ওপরই তারা সম্পূর্ণ ভরসা করে রয়েছে। মুজিব কাকু বললেন, ‘তোমরা যা করবার কর। আমি কোথাও যাবো না।’ আব্বু বললেন, ‘আপনার অবর্তমানে দ্বিতীয় কে নেতৃত্ব দেবে এমন ঘোষণা তো আপনি দিয়ে যাননি। নেতার অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় ব্যক্তি কে হবে, দলকে তো তা জানানো হয়নি। ফলে দ্বিতীয় কারও নেতৃত্ব প্রদান দুরূহ হবে এবং মুক্তিযুদ্ধকে এক অনিশ্চিত ও জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হবে।’”

আব্বুর সেদিনের এই উক্তিটি ছিল এক নির্মম সত্য ভবিষ্যদ্বাণী। স্বাধীনতার ঘোষণায় বঙ্গবন্ধুর অস্বীকৃতি জানানোর পর তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘মুজিব ভাই, এটা আপনাকে বলে যেতেই হবে। কারণ কালকে কি হবে, আমাদের সবাইকে যদি গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়, তাহলে কেউ জানবে না, কি তাদের করতে হবে। এই ঘোষণা কোন না কোন জায়গা থেকে কপি করে আমরা জানাবো। যদি বেতার মারফত কিছু করা যায়, তাহলে সেটাই করা হবে। মুজিব কাকু তখন উত্তর দিয়েছিলেন-‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে।’

শারমিন আহমদ আরও লিখেছেন, ‘আব্বুর লেখা ওই স্বাধীনতার ঘোষণারই প্রায় হুবহু কপি পরদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। ধারণা করা যায়, ২৫শে মার্চের কয়দিন আগে রচিত এই ঘোষণাটি আব্বু তার আস্থাভাজন কোন ছাত্রকে দেখিয়ে থাকতে পারেন। স্বাধীনতার সমর্থক সেই ছাত্র হয়তো স্বউদ্যোগে বা আব্বুর নির্দেশেই স্বাধীনতার ঘোষণাটিকে বহির্বিশ্বের মিডিয়ায় পৌঁছে দেন। মুজিব কাকুকে স্বাধীনতার ঘোষণায় রাজি করাতে না পেরে রাত ৯টার দিকে আব্বু ঘরে ফিরলেন বিক্ষুব্ধ চিত্তে। আম্মাকে সব ঘটনা জানালেন।’

মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা আব্বুসহ সকলকে অনুপ্রাণিত করে : তাজউদ্দীন কন্যা শারমিন
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে শারমিন আহমদ তার ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’ বইটিতে লিখেছেন, শহর ছেড়ে যাওয়ার পথে পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম আগারগাঁয়ে শুকুর মিয়া নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীর বাড়িতে তারা আশ্রয় নেন। এই বাড়ির সকলেই তাঁতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেখানে তারা শুনতে পান মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সমপ্রচারিত এই ঘোষণাটি আব্বুসহ সামরিক ও বেসামরিক সকল বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করে বলে বইটিতে উল্লেখ করেন শারমিন।

লক্ষ করেন বঙ্গ বন্ধু পাকিদের হাতে বন্দী হবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। তিনি লিখিত বা টেপে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে চাননি। পরে —- ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে।
সবচেয়ে কাছের নেতার কাছে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে চাননি অথচ ইতিহাস থেকে আমরা জানি …………………………………………

স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন । কথিত আছে, গ্রেপ্তার হবার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর (অর্থাৎ, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তত্কালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়।

ঘোষণাটি নিম্নরুপ:

অনুবাদ: এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।

২৬শে মার্চ বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সহ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েক’জন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ.হান্নান প্রথম শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন।

পরে ২৬শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া অনেকে বলে ৭ই মার্চ ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েদেন এক প্রকারে। অথচ ভাষণ শেষে করেন “জিয়ে পাকিস্তান” বলে। তারমানে তিনি তখন পর্যন্ত পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করতেন এবং সকল সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইতেন।
আর তা হলে এতেই প্রতিয়মান হয়—- শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নি যা আমিলিগ প্রচার করে।
এই কথা গুলি এ কয়েকদিন বিভিন্ন ব্লগে ও ফেসবুকে ঘুরা ঘুরি করছে।

আর সত্য একটা , তাহলে আসল সত্য কোনটি ??????????

১৮ thoughts on ““স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানান মুজিব কাকু” —– ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা’

  1. আসল ইতিহাস কোনটা সেটা জানা
    :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

    আসল ইতিহাস কোনটা সেটা জানা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে!

  2. তাজউদ্দিনের মেয়ে হয়েছে বলে সে
    তাজউদ্দিনের মেয়ে হয়েছে বলে সে যা বলবে তা সত্য বলে মেনে নিতে হবে কেন? এই শারমিন আহমেদ বিয়ে করেছে মিশরীয় ব্রাদারহুড নেতাকে। সে নিজেও এখন ব্রাদারহুডের একজন কর্মী। ব্রাদারহুড হচ্ছে জামায়াতের আদলে প্রতিষ্ঠিত ইখওয়ানে মুসলেমীন নামক একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন। যাদেরকে জামায়াত ও জামায়াতের প্রতিষ্ঠা মওদুদী নৈতিকভাবে বিভিন্ন সময় সমর্থন দিয়ে আসছে। গতকাল ফেসবুকে এই শারমিনকে দেখলাম ব্রাদারহুডের পক্ষে মিশরে বিক্ষোভ করছে। তাজউদ্দিনের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে তার মেয়ের বর্তমান আদর্শের কি কোন মিল আছে?

    ইতিহাস বিকৃতিকে সমর্থন করছেন দেখে বিনোদিত হইলাম। দেশপ্রেম ও আদর্শ নিয়ে টিকে থাকা অনেক কষ্টের। কিন্তু আদর্শকে বিক্রি করে দিয়ে সুশীল সাজা খুবই সহজ। নষ্ট শারমিনের নষ্টা কথা নিয়ে আপনার সমর্থন দেখে আপনার সম্পর্কে ধারনা আরো পরিষ্কার হলো।

  3. দুলাল ভাই আমি সমর্থন বা
    দুলাল ভাই আমি সমর্থন বা বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কিছুই করিনি, বর্তমানে একটা উঠা বিতর্ক কে সামনে এনেছি। যা আমাদের জন্য একটা পেইন। আর চলা বিতর্ক সত্য না হলে তা মিথ্যা। তাহলে এত ঘাবড়ানোর কোন কারণ নেই, আপনার মত অমি রহমান পিয়াল বলে বসল ========== শারমিন আহমদ জোহরা তাজউদ্দীন এর আগের ঘরের সন্তান । তিনি তাজউদ্দীন সন্তান না।

  4. তাজউদ্দিনের মেয়ে বলে সে বলেছে
    তাজউদ্দিনের মেয়ে বলে সে বলেছে তা সঠিক এই ধারনা আপনার মনে কিভাবে আসল? যারা নষ্ট হয়ে গেছে তারা পচে গেছে।

  5. সবাই জানে হ্যাডম কে?
    সবাই জানে হ্যাডম কে? তাজউদ্দীন আহমেদ না শেখ সাহেব?

    তাজউদ্দীন এর মাইয়ার তারেকের বেরাম ধরসে…..

  6. বইটি পড়ার আগ্রহ দেখা দিয়েছি ।
    বইটি পড়ার আগ্রহ দেখা দিয়েছি । পড়া শেষ করে বলা যাবে বইটি কী লেখা হয়েছে ইতিহাসের দায় মেটানোর জন্য নাকি ইতিহাসের ঘাড়ে বোঝা চাপানোর জন্য । আজিজে পাওয়া যাবে কি ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *