অরণ্য রাজীব

এই যে মনে কর ভোদার একটা ফুল, এটা এত দেখার কি আছে? আমার মাথায় ই ঢুকেনা!
উফ! চুপ থাক! চুপ থাক চুপ থাক হো ও চুপ থাক চুপ থাক …………(ছন্দ নকল করা হল)
ব্যাকগ্রাউন্ডে এই ছন্দ চলতে থাকুক। আমরা মূল গল্পে যাই।

এই যে মনে কর ভোদার একটা ফুল, এটা এত দেখার কি আছে? আমার মাথায় ই ঢুকেনা!
উফ! চুপ থাক! চুপ থাক চুপ থাক হো ও চুপ থাক চুপ থাক …………(ছন্দ নকল করা হল)
ব্যাকগ্রাউন্ডে এই ছন্দ চলতে থাকুক। আমরা মূল গল্পে যাই।
গল্পটায় যেতে হবে আশ্চর্য এক হিমবাহর মধ্য দিয়ে।প্রথমে ঠান্ডা ঠান্ডা লাগবে অথচ আরো গভীরে থাকবে চলমান অগ্নিগিরি এবং আমি সেখানে চাই বৈশাখের উল্লসিত বাতাসের মত তীব্র গতিময়তা যেন বাতাস আর আমার সংঘর্ষে সৃষ্ট হয় আরো একাধিক অগ্নিরথ ।আমি লাল আগুনের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাই তার থেকে আমার রক্ত আরো লাল। একসময় সে নিঃসঙ্গতায় জর্জরিত খুদার্ত কুকুরের মত নতজানু হয়ে আমার কাছে এক ফোঁটা বাঁচার আগুন চাইবে। যেখান থেকে মানুষ বাঁচতে শিখে।অগ্নিগিরি থেকে বের হওয়ার পর আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে এল।শীতের বাতাসে ঘাসের মত কোষগুলো থরথর করে কাঁপছে।আমি জ্বলছি জ্বলছি জ্বলছি জ্বলছি। খুব ভিষণ ভাবেই জ্বলছি।
আমি বললাম – তুমি কি পুড়ে যাচ্ছ?
হুম
তুমি কি আরো পুড়তে চাও? মানে আমি বলতে চাচ্ছি তুমি কি পুরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছ কি না?
না আমি মোটেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না!
তাহলে তুমি কি করতে চাচ্ছ?
আমি চাচ্ছি অগ্নিযুগ জয় করতে।
তুমি কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাচ্ছ?
এই মুহূর্তে বলতে পাচ্ছিনা।
তাহলে তুমি কিভাবে এটা কার্যকর করবে বলে মনে করছ?
তাকে ভুলতে হবে। যে কোন ভাবেই হোক তাকে ভুলতে হবে।তাকে মনে রেখে আমি যন্ত্রণা পাচ্ছি।মনে হচ্ছে অগ্নিগিরি আমাকে গ্রাস করে ফেলছে।আমি আমার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছি!
তুমি কি তোমার প্রেমিকার কথা বুঝাচ্ছ না?
তুমি চাইলে এটা ভাবতে পার।
তবে তুমি কিভাবে ভুলতে চাও তাতো বললে না!
ঠিক এখনো ভালভাবে সমন্বয় করতে পারিনি।
তবে তুমি কি একটু আকাশ দেখতে চাও?
হ্যা
দেখ।
ওহ! আকাশ দেখা এত সহজ!
হ্যা, ভিষণ সহজ।
আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমার উপরে আকাশ পাশে আকাশ তলে আকাশ।চারদিকে শুধু আকাশ আর আকাশ।
তুমি কি আকাশের বৃত্তের কেন্দ্র হলে?
আমার তাই মনে হচ্ছে।
সেজন্যে তুমি মুগ্ধ হচ্ছ নিশ্চয়?
হচ্ছি এবং বেশ উপভোগ করছি।
তুমি কি বলবে মুগ্ধতা একধরণের বোকা অনুভূতি কি না?
বেশ বলেছ। হতে পারে।
বোকারা সংসারে সুখি হয় ঠিক এই কারণে?
এখানে আমার কিছু কথা আছে।
কী?
বোকারা সংসারে সুখি এ কথাতো বোকারা বলে নি। বলেছে তারা, যারা নিজেদের চালাক মনে করে।এক্ষেত্রে আমার তাদেরি বোকা মনে হয়, যেজন্য তারা অসুখী থাকে।প্রকৃত অর্থে চালাকরাই সংসারে সুখি হয়।
তুমি সমুদ্রের বুকে ঢুকতে চাও?
চাই।
ঢুকো।

কেমন লাগছে সমুদ্রের বুকে?
কি হল কথা বলছো না যে!ওহ! দুঃখিত।
কেমন লাগছে তোমার?
ভিষণ ভাল।
কী মনে হচ্ছে?
মনে হচ্ছে আমি বহুকাল এখানে ছিলাম।এখানের প্রতিটা শব্দ আমার হৃদয়ে মৃদু ঝংকার তুলতো। জল আর শব্দের যৌথতায় আমি মগ্নতার শিড়ি বেয়ে কেবলী ঊর্ধ্বপদী ছিলাম ক্রমাগত।আর একসময় আমি হাড়িয়ে ফেলি যা ভাবছি।
এখন কী করতে চাচ্ছ?
অতীতের সাথে সখ্যতা করতে।
কিভাবে?
আমি সমুদ্রের নোনাজল তুলে রাখতে চাই আমার প্রতিটি কোষে।আমি যেন বুঝতে পারি আমি অশ্রু আর অশ্রু কখনো অশ্রু ফেলে না এবং এভাবেই আমি বহন করব চলমান সমুদ্র।
তুমি কি এখনো সমুদ্র বহন করছোনা?
করছি কিন্তু সেই সমুদ্রে জলের অভাব।
তুমি কি তোমার বুকের ব্যথার কারণ তুমিই হতে চাচ্ছ?
হ্যা।
কেন?
কারণ আমি কাউউকে অসম্মান করে জয়ী হতে চাই না আর এটা বাঙলার ঐতিহ্য।এবং আমি মনে করি অসম্মান করা পরাজয়ের লক্ষ্মণ।এই লক্ষণের বৈশিষ্ট্য ইংরেজদের, ইউরোপিয়ানদের। তারা মোটেও আমাদের মত সভ্য জাতী নয়।অথচ আজ আমাদের সভ্যতার মাপকাঠি হয়ে দারিয়েছে তারা!
তুমি কি এখন পাহাড় দেখতে চাও?

চাই।
তুমি কি জান পাহাড় দেখতে হয় দূর থেকে?
জানি।
তবে দেখ।
পাহাড় দেখাও এতো সহজ! আমার ভীষণ ভাললাগছে।
কি মনে হচ্ছে?
মনে হচ্ছে এতো ভাড়ি ভাড়ি বিশালাকৃতি পাহাড় পৃথিবীকে কি গভীর ভাবে চেপে ধরেছে।অথচ পৃথিবী কেমন নিরুত্তেজ। মনে হচ্ছে পাহাড় আর পৃথিবীর মাঝে কি গভীর প্রেম।আর আমি সম্পূর্ণ পৃথিবীর ভর বহন করছি।যেন পৃথিবী আর আমার কি আজন্ম প্রেম!আমিই কি পৃথিবী না? আমার নিজের ভিতরেও জেমন সার্বজনীনতা নাই, পৃথিবীর ভিতরও তেমন সার্বজনীনতা নাই।সেক্ষেত্রে আমি দাবি করতেই পারি, আমিই পৃথিবী এবং এ কথা আমার অধিকাংশ কোষের প্রতিক্রিয়া দ্বারা উচ্চারিত।
তুমি প্রেম সম্পর্কে কি ভাব?
ভাবি, প্রেমকে প্রেম হিসাবেই ভাবি।
না। আমি বলতে চাচ্ছি, পিওর লাভ বলতে তুমি কি মনে কর?
এটা খুবি হাস্যকর প্রশ্ন!
কেন?
পিওর লাভ শব্দটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এর কোন অস্তিত্ব নেই।আমাদের ভিতরে চলে ডমিনেশনের খেলা।আমরা প্রতিনিয়ত জয়ী হতে চাই।কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ বিভ্রান্তিকর এ জন্য যে, প্রেমের ক্ষেত্রে পরাজিত হওয়ার লক্ষ্মণ দেখা যায়।কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিষয়টি মোটেও এমন না।
তুমি কি একটা উদাহরণ দিবে?
মনে করুন, আমি একটি মেয়ের প্রতিটি কথা শুনছি। শুনছি এ কারণে যে মেয়েটা খুব শক্ত। তাই আমি চাইবো মেয়েটার সব কথা শুনে তার মনের মত হতে।যখন আমি তার মনের মত হয়ে যাব ঠিক তখন থেকেই আমি আমার মনের মত তাকে বানাতে চাইবো। অর্থাৎ তাকে প্রথমে দুর্বল করবো, তার কথা মত চলেই এবং বিষয়টি উপর থেকে দেখলে মনে হবে আমি পরাজিত হয়েছি।আর ইমোশনাল কথা সুর গান কবিতা এসব রাজনৈতিক বক্তব্য বই কিছুনা।
তাহলে অনেকেই যে দেবদাস হয়ে যায়?
তারা দেবদাস হয়, কেননা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে না।বারবার প্রেমিকার কথা মনে হয় কারণ তার প্রেমিকা তার মাথায় পা রেখে উপরে থাকে।
তুমি আকাশ দেখেছো, সমুদ্র দেখেছো, পাহাড় দেখেছো, এখন কি তুমি প্রস্তুত?
হুম। আমি প্রস্তুত।
তুমি এখন কি করতে চাও?
আমি চাই আমার সবথেকে দুর্বল অবস্থার সামনা সামনি হতে।অর্থাৎ অগ্নিগিরির চোখে আঙুল দেয়ার সময় এসেছে।
তুমি তোমার প্রেমিকার কোন বিষয়টির প্রতি দুর্বল?
চূড়ান্ত মুহূর্তে ওর মুখ থেকে বের হওয়া শীৎকারের বাতাস আমাকে আটকে রেখেছে।আমি এটার সাথেই যুদ্ধ করতে চাই।

হ্যালো?
শুনছি, বল?
তুমি কোথায়?
বাসায়।
আমি আসছি।
না।এসো না।আব্বু বাসায়।
থাকুক।আমি আসছি।তুমি দরজা খুল।আমি এখন শিড়ি দিয়ে উঠছি।
হ্যালো? হ্যালো? হ্যালো?

তুমি কি একটা পাগল?
হুম।চল তোমার রুমে চল।
কি বলছো এসব?
চল।
আব্বু টিভি দেখছে।
তো? চল।
রুম লক করলে কেন?
তোমাকে ভালবাসতে এসেছি।কাছে আস।
না।এখন না।
আয় বলছি।আয়।
দেখো,এরকম করো না।
তোর গায়ে এত কাঁচা গন্ধ! আমি জড়িয়ে ধরলাম।তার ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে বিছানায় শুয়ে পরলাম।এক হাত দিয়ে চুলের গুচ্ছ চেপে ধরেছি, আরেক হাত দিয়ে তার নরম বুকে শান্তি খুঁজছি।
আমি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম – জামাটি খুলে ফেলি?
খুল।
আমরা একে অপরের জামা খুললাম। শিশিরের মত টলমলে গভীর নাভিকূপ ভরিয়ে দিলাম আমার লালায়।বাদামি রঙের গম্ভীর স্তন্যের বোঁটায় মৃদু কামরে দিলাম।
তোমার নীচে লাল অগ্নিগিরির ভিতরে আমার লাল জ্বীবটা ঢুকিয়ে দেই?
দাও।
কে জেন দরজা টোকাটুকি করছে।তুমি থাম।
করুক।এখন আর থামা যাবেনা।
তাহলে তারাতারি কর।
ঢুকাব?
হুম।
ব্যথা পেলে বলবে।
আমরা ভালবাসতে থাকি, একে অপরের গন্ধ নিয়ে, নিশ্বাস নিয়ে, শীৎকার নিয়ে।চূড়ান্ত মুহূর্তের আগমন ঘটে।ওর শীৎকারের বাতাস লাগে আমার নাকে।আমি উঠে যাই।
কি হল?
তোমার সাথে আমি আর সম্পর্ক রাখছিনা।
এসব কি বলছ?
আমি ঠিকি বলেছি।তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো।এখন আমার পালা।
তোমার আমার মিলন কি হবেনা?
না হবে না।কারণ এখানে মানুষ দুজন। দুজনের সাথে মিলন হয়না, সংঘর্ষ হয়।
তুমি মুক্ত হতে পারবে?
আমি আকাশ দেখেছি।
তুমি কান্না সইতে পারবে?
আমি সমুদ্র বহন করছি।
তুমি কষ্ট সহ্য করতে পারবে?
আমি পৃথিবী।
তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না।
দুর্বলদের সাথে রাখতে নেই।
ও কাঁদছে, আমি দেখছি।আমার হাতের পাশদিয়ে ডানা গজায়। আমি তাকে বলি,আমাকে পেতে হলে ধান ক্ষেতে এসো। পাশাপাশি গাছ হয়ে থাকবো। আর দেখব কে বেশি বাঙলার মাটিকে উর্বর করতে পারে।আমি আকশে উড়াল দিলাম।আমার একটি পালক ঘুরতে ঘুরতে তার নগ্ন শরীরের ভাঁজে আটকে থাকে।বলিষ্ঠ অথচ কোমল একটি হাত আমাকে মাটির ভিতর গেঁথে দেয়।তার চোখে আমি দেখতে পাই বাঙলার মমতা।প্রচন্ড বাতাসে আমার পাতা খেলা করে জীবনের সাথে।অন্ধকার হলে ভাবি, জীবনটা কত আজীব আর আমাদের সকলের নাম অরণ্য রাজীব।

১৪ thoughts on “অরণ্য রাজীব

    1. এখন ভাই এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল
      এখন ভাই এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হয়ে ম্যাগনেটিক ট্রেনের যুগ। আপনি তো মেইল ট্রেন। :হাসি:
      জাস্ট কিডিং… :ফুল: :বুখেআয়বাবুল:

      1. কি আর করবে, তাগো সরকারের
        কি আর করবে, তাগো সরকারের বিদ্যুৎ নিয়া জনগণের সাথে যে তামাশা করছে সেই তামাশার শিকার নিজেই। গরমে এবং দলের প্রতারণায় মাথার তার ছিঁড়ে গেছে মনে হচ্ছে।

        1. একটু সুশীতল বায়ু শীতলীকরণ
          একটু সুশীতল বায়ু শীতলীকরণ যন্ত্রের যদি স্পর্শ পাইতাম তাহলে হয়তো তুলা সদৃশ মগজখানা শীতল থাকিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *