বাড়িতে কয়েক ঘন্টা

‘কালকে দুপুর এগারোটার সময় বাসায় আসলি , তখন বললাম একটা তরমুজ কিনে আন, সারাদিনে তর টিকিটাও খুজে পেলাম না । দুপুরে বললাম দুধ দিয়া ভাত খাস । বললি রাতে খাবি, রাত্রেও খেলি না । বরিশাল যাইয়া দাড়িডা ত ছাচছো ভালোমতনই । এখন ভালো ফ্যামিলির একটা মেয়েও পাওয়া যাবে না . . . .’ আম্মুর বয়ান ইজ নেভার টু এন্ড ! আমার কোলে ছিলো ছ নম্বর ভাগ্নে ত্বহা । আপুকে বল্লাম ‘ওর নখ গুলা কাটেন না ক্যানো ? কি বিশ্রী ! ময়লা জমে আছে নখে ।’

‘কালকে দুপুর এগারোটার সময় বাসায় আসলি , তখন বললাম একটা তরমুজ কিনে আন, সারাদিনে তর টিকিটাও খুজে পেলাম না । দুপুরে বললাম দুধ দিয়া ভাত খাস । বললি রাতে খাবি, রাত্রেও খেলি না । বরিশাল যাইয়া দাড়িডা ত ছাচছো ভালোমতনই । এখন ভালো ফ্যামিলির একটা মেয়েও পাওয়া যাবে না . . . .’ আম্মুর বয়ান ইজ নেভার টু এন্ড ! আমার কোলে ছিলো ছ নম্বর ভাগ্নে ত্বহা । আপুকে বল্লাম ‘ওর নখ গুলা কাটেন না ক্যানো ? কি বিশ্রী ! ময়লা জমে আছে নখে ।’
এবার কিছুটা থামলো । কতক্ষন পড়ে শুরু হলো নালিশ ‘নাফিয়াটা আস্তে আস্তে মোটাই হচ্ছে । চিকন হতে চায় , অথচ তৈল ছারা একবেলাও চলে না । তিন বেলাই তার মাছ গোসত চাই , নইলে ভাতই খাবে না ! সকালে দইয়ের উপরের মাখনটুকু সাবার করেছে !’
খাওয়া শেষ করে উঠেছি ‘কিরে ! তুই দৈ নিলিনা ক্যান ?’
‘মনে নাই!’
‘তা থাকবে ক্যান ? পানতা ভাত আর দই রাখলাম । খেয়ে তারপর উঠবি ।’
‘অ্যাতোগুলা ভাত রাখলা ক্যানো ?’
খাওয়ার ভিতর ছোট বোন আসলো ‘কিরে , তুই নাকি সকালে মাখন সব খায়া ফেলছিস ?’
বলতেই আরকে দিকে ঘুরে মুখ ভেচকিয়ে কান্না শুরু করলো ‘যত দোষ সব আমার ? না ? আমি ত দইয়ের কাছেও যাইনাই !’
নতুন ঝামেলায় পড়লাম । জিজ্ঞেস করলে বললো সকালে দই সে খায়েই নি ! শেষে আমার প্লেট থেকে অর্ধেক উঠিয়ে রাখলাম । বড় আপুকে রাগ দেখালাম ‘কিরে ? তুই মিথ্যা বললি ক্যানো ? ওতো সকালে দই খায়নি !’
‘বুঝতে পারি নাই’ বত্রিশপাটি দাত বের করে জবাব দিলো । আমি ছোট বোনকে বললাম দই টা খেয়ে নিতে । সে খাবে না ! অভিমান করেছে ।
বের হওয়ার সময় বড় বোন মেমরি কার্ড দিলো তার বাচ্চার জন্য কার্টুন ভরার জন্য । ছোট বোন বললো মেমরিতে তার জন্য সিনেমা ভরে আনার জন্য । ‘মোবাইলে সিনেমা দেখতে হয় না , চোখ নষ্ট হয়ে যাবে’
‘তাইলে কিসে দেখবো ?’
আমার কাছে এর জবাব নেই । বেশি প্যাঁচালে আবার ইমোশোনাল এপিসোড শুরু হয়ে যাবে !
এর মধ্যে কোথা থেকে আব্বু এসে উদয় হলো ! ‘আগে ত দাড়ির একটা চিহ্ন ছিলো ! সেটাও মুইছে ফেলছিস ?’
ভাগ্য ভালো এখনও পর্যন্ত চুলের দিকে নজর পড়ে নাই ।
আপু জিজ্ঞেস করলো ‘ছাছলি ক্যান দাড়িডা ?’
আমি বল্লাম ‘আরেহ. . . . আমতলী আসতে হৈবো জানলে কি আর ছাছতাম ? পরশু আমার শেভ করা অর্ধেক শেষ, তারপর বাবা ফোন করলো ! বললো , বাউফল থেকে নাসরিন নিয়া আমতলি আয় !’

১ thought on “বাড়িতে কয়েক ঘন্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *