পুরনো পাণ্ডুলিপি – ৭ম অংশ (শেষ অংশ)

জমিদারবাড়ি পৌঁছেই একটা কাঙ্খিত দৃশ্য দেখতে পায় সবাই। রাহি ঘোরের মাঝে এগিয়ে চলেছে জমিদারবাড়ির দিকে। প্রধান ফটক পেরিয়ে গেল সে। রিশাদ বলল, “ ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’ ছাড়া ওকে আর ফেরানো যাবে না।” ফারহা প্রশ্ন করে, “ ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’ কি?” নিশি ওকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলে। ওদের গ্রামের পুরনো নবাব এক জ্বীন পুষতেন। সেই জ্বীন দিয়ে তিনি গ্রামের লোকদের উপর অত্যাচার চালাতেন। তার মৃত্যুর পর জ্বীনটাকে জমিদারবাড়িতে বন্দি করে রাখা হয় মন্ত্রের মাধ্যমে। আর সেই মন্ত্র লেখা বই ই হল ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’। ওই মন্ত্র ছাড়া জ্বীনটাকে যেমন মুক্তও করা যাবে না, তেমন বন্দিও করা যাবে না। ফারিহা চট করে বলল, “মনে হয় আমি জানি বইটা কোথায়।” মালিহা ঘুরে ওর দিকে তাকায়, “কোথায়?”



৬ষ্ঠ অংশের পরঃ

জমিদারবাড়ি পৌঁছেই একটা কাঙ্খিত দৃশ্য দেখতে পায় সবাই। রাহি ঘোরের মাঝে এগিয়ে চলেছে জমিদারবাড়ির দিকে। প্রধান ফটক পেরিয়ে গেল সে। রিশাদ বলল, “ ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’ ছাড়া ওকে আর ফেরানো যাবে না।” ফারহা প্রশ্ন করে, “ ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’ কি?” নিশি ওকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলে। ওদের গ্রামের পুরনো নবাব এক জ্বীন পুষতেন। সেই জ্বীন দিয়ে তিনি গ্রামের লোকদের উপর অত্যাচার চালাতেন। তার মৃত্যুর পর জ্বীনটাকে জমিদারবাড়িতে বন্দি করে রাখা হয় মন্ত্রের মাধ্যমে। আর সেই মন্ত্র লেখা বই ই হল ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’। ওই মন্ত্র ছাড়া জ্বীনটাকে যেমন মুক্তও করা যাবে না, তেমন বন্দিও করা যাবে না। ফারিহা চট করে বলল, “মনে হয় আমি জানি বইটা কোথায়।” মালিহা ঘুরে ওর দিকে তাকায়, “কোথায়?”
“আমার বালিশের নিচে একটা পুরনো বই পেয়েছি। অনেক পুরনো আর হাতে লেখা এক বাণ্ডিল কাগজ। উপরে লেখা ‘মন্ত্র’। হতে পারে ওটাই ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’।” নাহিয়ান বলে, “রিশাদ তুই জলদি ফারহার সাথে যা।” ফারহা রিশাদের হাতটা টেনে বলল, “জলদি চলুন।”
নাহিয়ান দৌড়ে গিয়ে রাহিকে জাপটে ধরল। অনেক টেনেও ওকে ধরে রাখতে পারছিল না সে। ধূলোতে ছিটকে পড়ে গেল সে। নিশি দৌড়ে গিয়ে ধরল ওকে। এদিকে মালিহা ততোক্ষণে রাহির সামনে পৌঁছে গেছে। রাহির চোখ দুটো এবার খুলে গেল। জ্বলন্ত অগ্নিশিখার মতো জ্বলজ্বল করছে চোখ দুটো। মালিহা বলতে থাকে, “দাঁড়াও। কে তুমি? কোথায় নিয়ে যাচ্ছ রাহিকে?” রাহির ঠোঁট দুটো একটু নড়ে ওঠে। কিছুটা যান্ত্রিক কিছুটা কর্কশ ভারী স্বর বেজে ওঠে, “আমি নবাব তোগলক খাঁর পোষা জ্বীন। নবাব আমাকে দিয়ে অনেক অন্যায় করিয়েছেন। দেড়শ বছর ধরে আমি বন্দি ছিলাম। এই বালক আমায় মুক্ত করেছে। ওকে আমি আমার জগতে নিয়ে যাব।” “কিন্তু কেন? এখানে ওর বাবা-মা আছেন, বন্ধুরা আছে।”, একটু থেমে মালিহা আবার বলে, “আমি আছি। তাদের ফেলে ওকে কিভাবে নেবে তুমি?” জ্বীনটা আবার বলে, “মানুষ জাতি বড়ই খারাপ হচ্ছে দিন দিন। সৃষ্টির সেরা জীব আজ বিবেকহীন। চারিদিকে শুধুই অন্যায় আর অত্যাচার। ভালোবাসা, সুখ-শান্তি এসবের কোন অস্তিত্ব নেই আর। এই ছেলেটি আমায় বাঁচিয়েছে। ওকে আমি মানুষের কবল থেকে বাঁচাব।”
“ভুল। তুমি যা ভাবছো তা ঠিক নয়। একশ্রেণীর মানুষের দোষ তুমি সবার ঘাড়ে দিতে পার না। মানুষের মাঝে এখনো প্রেম, সম্প্রীতি, সহানুভূতি বেঁচে আছে।”
-“আমি বিশ্বাস করি না। আমি ওকে নিয়েই যাব।”
“পারবে না তুমি। আমি রাহিকে ভালোবাসি। ওকে আমার কাছ থেকে কেউ নিতে পারবে না।”
এমনি সময় রিশাদ আর ফারহা এসে পড়ল। রিশাদের হাতে ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’। বইটা খুলে পড়তে শুরু করল সে। রাহি অমানুষিকভাবে গোঙ্গাঁতে লাগল। সে দু’হাতে তার মাথা চেপে ধরে বসে পড়ল। রিশাদের পড়া শেষ হতেই নিকষ কালো আঁধারে লুটিয়ে পড়ল রাহির নিথর দেহ। সবাই দৌড়ে গেল রাহির কাছে। রাহি ধীরে ধীরে চোখ মেলল। আর কথা না বাড়িয়ে ওকে ধরে তুলল নাহিয়ান আর রিশাদ। রাহি জানাল ও একাই যেতে পারবে। সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে যেতে লাগল। কিছুদূর এসে কি যেন মনে পড়ল রিশাদের। সবাইকে চলে যেতে বলল। ও একটু পরে আসতেছে। ফারহা জানাল সেও যাবে রিশাদের সাথে।
জমিদারবাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়াল রিশাদ। মাটিতে যেখানে ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’ রেখেছিল তার আশেপাশে অনেক খুঁজল। কিন্তু কোথাও আর পেল না ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’র কোন হদিশ।
নাহিয়ান আর নিশি ঘরে ঢুকে গেলে মালিহা রাহির হাত চেপে ধরে, “একটু দাঁড়াও। তোমার কি কিছুই মনে নেই জমিদারবাড়ির গেটে আমি যা যা বললাম।” রাহি জিজ্ঞেস করে, “কি বলেছিলে?” “না থাক, কিছু না। আপনি ঘুমুতে যান।” বলে মালিহা ঘরে ঢুকে যায়।
কিছুক্ষণ বোকার মতো দাঁড়িয়ে থেকে রাহি বুঝতে পারে মালিহা ওকে তুমি বলে সম্বোধন করেছিল। এর কোন যুক্তিযুক্ত কারণ খুঁজে ব্যর্থ হয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে সেও ঘুমুতে চলে যায়।
লেখক ঘরে প্রবেশ করতেই তার স্ত্রী বলে ওঠেন, “গল্পটা কি শেষ করেছো?” “মোটামোটি। কাহিনী শেষ। শুধু ফিনিশিং দিতে হবে।”, লেখক উত্তর দেন। কেমন হয়েছে গল্পটা জানতে চান স্ত্রীর কাছে। “আমার কাছে তো ভালই লাগল। দেখো পাঠকরা কিভাবে নেয়।” রাত দুটোর কিছু পরে আবার কলম তুলে নেন লেখক।
“ফারহা একটা কথা বলি, don’t mind.”
-“বলুন।”
“তোমার কি বয়ফ্রেণ্ড আছে?”
-“মালু আপনাকে তাহলে বলে দিয়েছে। আছে মানে ছিল একমাস আগে।”
“ব্রেকআপ করলা কেন তাইলে?”
-“ও একটা প্লেবয়। ও আমাকে ঠকিয়েছে।”
“ওহ, sorry.” বলে রিশাদ ডান হাত দিয়ে ফারহার ডান কাঁধ চেপে ধরে। ফারহা তাতে বিন্দুমাত্র বাধা না দিয়ে বলে, “মালু এত কিছু বলেছে আর এটা বলে নি যে I like you?”
মালিহা জানালার পাশে বসে কাঁদছে। নিশি ভেবে পায় না এই বোকা মেয়ের কান্নার কারণ। সে নিজের মোবাইলে মেসেজটা আরেকবার পড়ে। রাহি ভাইয়া লিখছেন, ‘For Malu, ভালোবাসি এটুকু শুধু বলার, ভালোবাসি তুমি শুনে নাও না।” নিশি ভাবতে থাকে, ‘হায়রে কেউ না পেয়েও খুশি আর কেউ পেয়েও কাঁদতেছে।’ মায়াবী রাত এগিয়ে চলে সুখী ভবিষ্যতের সন্ধানে।
‘হুম গল্প শেষ।’, একটা তৃপ্ত মন নিয়ে লেখার টেবিল ত্যাগ করেন লেখক। তার দরজায় একটা করাঘাত হয়। লেখকপত্নী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাই নিজেই গিয়ে দরজাটা খুললেন লেখক। এমন দৃশ্য হয়তো তার কল্পনাতেও আসেনি কখনো। মেঝেতে এক বাণ্ডিল বাঁধানো কাগজ পড়ে আছে। উবু হয়ে কাগজগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। কাগজের উপরে লেখা ‘মন্ত্র’। ঠিক মাত্র শেষ করা গল্পের ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’র মতো। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন লেখক। তার হাতে ‘পুরনো পাণ্ডুলিপি’।

(সমাপ্ত)

১ম অংশঃ http://istishon.blog/node/7801
২য় অংশঃ http://istishon.blog/node/7811
৩য় অংশঃ http://istishon.blog/node/7830
৪র্থ অংশঃ http://istishon.blog/node/7845
৫ম অংশঃ http://istishon.blog/node/7858
৬ষ্ঠ অংশঃ http://istishon.blog/node/7874

২ thoughts on “পুরনো পাণ্ডুলিপি – ৭ম অংশ (শেষ অংশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *