চডুই পাখি সিগারেট ছেড়ে খাওয়া দিছে

নুহাশ রা নতুন বাসায় উঠেছে। নুহাশের
রুমটা ডান দিকে। তার রুমের
সাথে একটা অ্যাটাচড বারান্দা আছে।
নুহাশ ভাবে,, ভালোই হলো। আমার
সিগারেট খাওয়ার জন্য অতি মূল্যবান
একটি প্লেস।!
নুহাশ প্রতিদিনই ওর বারান্দায় যায়
সিগারেট খাওয়ার জন্য,, আর প্রতিদিনই
খেয়াল করে যে,, ওর বারান্দার ঠিক



নুহাশ রা নতুন বাসায় উঠেছে। নুহাশের
রুমটা ডান দিকে। তার রুমের
সাথে একটা অ্যাটাচড বারান্দা আছে।
নুহাশ ভাবে,, ভালোই হলো। আমার
সিগারেট খাওয়ার জন্য অতি মূল্যবান
একটি প্লেস।!
নুহাশ প্রতিদিনই ওর বারান্দায় যায়
সিগারেট খাওয়ার জন্য,, আর প্রতিদিনই
খেয়াল করে যে,, ওর বারান্দার ঠিক
সামনের বারান্দাটা তেই
একটা মেয়ে প্রতিদিন
এসে দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়েটা অপূর্ব
সুন্দরী,, একদম কবিতার নায়িকাদের মতো।
মেয়েটা বারান্দায় এলেই নুহাশ
আড়চোখে মেয়েটাকে দেখতে থাকে।
নুহাশ খেয়াল করে,, মেয়েটা বারান্দায়
এসেই বারান্দার গ্রিল ধরে শুধু নিচের
দিকে তাকিয়ে থাকে!! নুহাশের খুব ইচ্ছা,,
মেয়েটার সাথে কথা বলবে। আজ তাই নুহাশ
সাহস করে মেয়েটাকে বলেই বসল//
— হ্যালো,, কেমন আছেন??
মেয়েটা ২ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে কোন
জবাব না দিয়ে ভেতরে চলে গেল!! নুহাশ
ভাবে,,
বাহবা কি দেমাগী মেয়ে রে…কথাই বলল
না।
পরদিন নুহাশ মেয়েটাকে বারান্দায়
দেখতে পেয়ে আবার জিজ্ঞেস করল// — এই
যে হ্যালো,, আপ্নার নামটা কি??
এবারও কোন জবাব নেই!! নুহাশ
মনে মনে বলে,, এই মেয়ে তো শুধু দেমাগীই
না.. বেয়াদবও বটে!! ধূর শালার, আর কথাই
বলবো না।
এভাবে নুহাশ শুধু মেয়েটার বারান্দায়
আসা যাওয়া দেখতে লাগল,, কিন্তু
ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও কথা বললো না!! ৩ দিন
পর,, মেয়েটা অনেকক্ষণ বারান্দায়
দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ তার
নাকে সিগারেটের গন্ধ আসতেই সে বলল//
— তা,, চড়ুই পাখিটা কি শুধু সিগারেটই
খায় !
নুহাশ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দেখল,,
মেয়েটার দৃষ্টি নিচে চড়ুই পাখির
বাসাটার দিকে।
পাখিগুলো ওখানে কিচিরমিচির শব্দ
করছে। নুহাশ বুঝতে পারলো,, চড়ুই পাখির
অসিলায় মেয়েটা তার সাথে কথা বলছে!!
নুহাশ সাথে সাথে জবাব দিলো//
— না, চড়ুই পাখিটা অনেক কিছুই খায়। কিন্তু
সিগারেট তার প্রিয় খাবার।
— কিন্তু সিগারেট খেলে কি চড়ুই পাখির ওই
ছোট্ট পেটটা ভরে??
— পেট না ভরলেও,, মনটা ভরে !
— কিন্তু, চড়ুই পাখিটা কি জানে যে,,
সিগারেট তার মন ও শরীর
কে কালো ধোঁয়া দিয়ে ভরে নষ্ট
করে দিচ্ছে??
— জানে।
— তারপরও চড়ুই পাখিটা কেন সিগারেট
খায়??
— কারণ,, কেউ কখনও
ভালবেসে মিষ্টি করে চড়ুই
পাখিটাকে সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার
কথা বলে নি !!
— আমি বললে কি চড়ুই পাখিটা সিগারেট
ছেড়ে দিবে??
— বলে দেখতে পারো। হয়ত তোমার
কথা চড়ুই পাখিটা শুনতেও পারে!!
— ঠিকাছে,, আমি বলছি। এই দুষ্ট চড়ুই পাখি,,
এসব পঁচা জিনিস খেতে হয় না।
ভালো জিনিস খাবে,, ভালো থাকবে।
এখনি ফেলে দাও বলছি।
— এত মিষ্টি করেও বলো না।
এতো মিষ্টিতে শেষে চড়ুই পাখির
ডায়বেটিস হয়ে সে মারাও যেতে পারে!!
ওপাশ থেকে চড়ুই পাখিটার হাসির আওয়াজ
শোনা যাচ্ছে…..
পরদিন নুহাশ বারান্দায়
অপেক্ষা করছে মেয়েটার জন্য।
মেয়েটা আসতেই নুহাশ বলল//
— চড়ুই পাখিটা কিন্তু সিগারেট
ছেড়ে দিয়েছে !
— বাহ্,, চড়ুই পাখিটা আমার
কথাকে এতো মূল্য দেই!
— দিতেই হলো। আচ্ছা, চড়ুই পাখিটার
কি কোন নাম আছে??
— হ্যাঁ আছে তো। চড়ুই পাখির নাম,, চড়ুই
পাখি!! এর থেকে সুন্দর নাম পৃথিবীতে আর
নেই।
— এর থেকে সুন্দর চড়ুই পাখিও কিন্তু
পৃথিবীতে আর নেই!!
আবার ওপাশ থেকে সেই ভুবন
ভোলানো হাসির আওয়াজ
পাওয়া যাচ্ছে…….
চড়ুই পাখি দুটির গল্প এভাবেই চলছিল। কিন্তু
আজ নুহাশের মা নুহাশের
কাছে এসে ওকে কিছু মেয়ের
ছবি দেখাতে লাগল। ওর নাকি বিয়ের বয়স
হয়ে গেছে !! কিন্তু নুহাশ বলল//
— মা, আমি বিয়ে করলে শুধু চড়ুই পাখিকেই
বিয়ে করব
— চড়ুই পাখিকে বিয়ে করবি মানে !
— এদিকে এসো, দেখাচ্ছি।
নুহাশ ওর মার হাত ধরে বারান্দায়
নিয়ে গেল। মেয়েটা বারান্দাতেই ছিল।
— ওই দেখো মা, আমার চড়ুই পাখি।
— রিমি!! আরে এই মেয়ে তো অন্ধ!! তুই
ওকে কিজন্য বিয়ে করবি। দেখিস না,,
মেয়েটা সারাদিন বারান্দার গ্রিল
ধরে নিচে তাকিয়ে থাকে। আমি এই
মেয়ের সাথে তোর বিয়ে কখনোই
দেবো না !!
বলতে বলতে নুহাশের মা চলে গেল। মার
কথাগুলো নুহাশের কান
দিয়ে ঢুকেছে ঠিকই,, কিন্তু মস্তিষ্কে হয়ত
পৌঁছায় নি। নুহাশ,, রিমি নামক মেয়েটার
চোখের মণি দুটোর দিকে অপলক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এও বোধহয় সম্ভব এই
নিষ্ঠুর পৃথিবীতে!!
নুহাশ বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারল
না। কারণ,, রিমি একটু পরেই ঘরের ভেতর
ঢুকে গেছে।
আজ প্রায় ১০ – ১২ দিন হয়ে গেল।
রিমি বারান্দায় এসে সিগারেটের গন্ধ
পাচ্ছে না। সে নাক দিয়ে অনবরত
সিগারেটের গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছে,,
কিন্তু পাচ্ছে না। রিমি ভাবে,, তার চড়ুই
পাখিটা মনে হয় উড়ে গেছে !
হঠাৎ শনিবারের এক মধ্যদুপুরে নুহাশ
রিমিদের বাসার কলিংবেল চাপল।
রিমির মা দরজা খুলে দিলেন। নুহাশ বলল//
— স্লামালিকুম আন্টি। আমি আপনাদের
সামনের বিল্ডিং এর রেহানা বেগমের
ছেলে।
— তুমি রেহানা আপার ছেলে!!
আসো আসো ভেতরে আসো। বসো……
— আন্টি রিমির ব্যাপারে কিছু কথা ছিল
আমার।
— রিমির ব্যাপারে!! কিন্তু রিমি তো এখন
ঘুমুচ্ছে। ওকে ডাকব??
— না না। কথাগুলো আপ্নাকেই বলার ছিল।
— বলো, কি কথা।
— আন্টি,,
আপনি অনুমতি দিলে আমি রিমি কে বিয়ে করতে চায়।
— অম বাবা,, তুমি মনে হয়
জানোনা যে রিমি চোখে দেখতে পায়
না!! ৩ বছর আগে একটা অ্যাক্সিডেন্টে ও অন্ধ
হয়ে যায়!!
— জানি আন্টি। আমি সবকিছু জেনেই বলছি।
— তুমি হয়তো ভাবছ যে, আমরা মনে হয়
টাকার অভাবে ওর
চিকিৎসা করাতে পারি নি। আসলে সেরকম
না,, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সব
ডাক্তারই বলেছে,, ওর চোখ আর ঠিক
হবে না !!
— আমি সব জানি। আর এজন্যই আমার হাত হবে ওর
চোখ। যেটাতে ভর করে ও জীবন
পাড়ি দেবে।
— কিন্তু রিমি কি জানে??
— রিমি কে শুধু বলবেন,, ওর চড়ুই
পাখিটা ওকে নিজের ছোট্ট
বারান্দাটাই নিয়ে যেতে চায়।
আজ চড়ুই পাখি দুটোর বিয়ে।
দাওয়াতে ময়না পাখি, টিয়া পাখি,
দোয়েল পাখি, টুনটুনি পাখি সবাই
এসেছে ওদের শুভকামনা দিতে। এর ভেতর
কিছু ঈগল আর কাক পাখি রূপী মানুষও আছে,,
যারা অখুশি!
কিন্তু ওদের দেখার সময় কৈ,, আজ যে চড়ুই
পাখি দুটির উড়াল দেওয়ার দিন………

৬ thoughts on “চডুই পাখি সিগারেট ছেড়ে খাওয়া দিছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *