এ বি সিদ্দিক অপহরণ প্রসঙ্গঃ ১০টি নিখোঁজ প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে……

এ বি সিদ্দিক অপহরন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি বরং যতদিন যাচ্ছে ততই সন্দেহ ঘনীভুত হচ্ছে। তার অপহরন নিয়ে জল ঘোলা করার চেস্টা করছে কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈ্তিক মহল এবং এর জের ধরে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে কুচক্ক্রিরা। গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও আইন শ্রিঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অপহরনের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য দশটি স্পেসিফিক পয়েন্ট কে ভিত্তি করে ঊত্তর খোঁজার চেস্টা চালাচ্ছেন।

এ বি সিদ্দিক অপহরন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি বরং যতদিন যাচ্ছে ততই সন্দেহ ঘনীভুত হচ্ছে। তার অপহরন নিয়ে জল ঘোলা করার চেস্টা করছে কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈ্তিক মহল এবং এর জের ধরে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে কুচক্ক্রিরা। গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও আইন শ্রিঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অপহরনের বিষয়টি সুরাহা করার জন্য দশটি স্পেসিফিক পয়েন্ট কে ভিত্তি করে ঊত্তর খোঁজার চেস্টা চালাচ্ছেন।
১০ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর রিজওয়ানা কিংবা তার স্বামীর কাছ থেকে না পেলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দারা পেয়েছেন চমকপ্রদ তথ্য। প্রাথমিকভাবে পাওয়া এসব স্পর্শকাতর তথ্যগুলো এখন গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কিংবা গোয়েন্দারা।
অন্যদিকে, ১০ প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এ বি সিদ্দিকের অপহরণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঝড় উঠেছে এ ঘটনাটি নিয়ে। এ কারণে এর নেপথ্য কাহিনী পুরোপুরিভাবে উন্মোচন করে জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের ঘটনার তদন্তে রিজওয়ানা ও তার স্বামী অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুকৌশলে অসহযোগিতা করছেন। উদ্ধার হওয়ার পর ছয় দিনে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ওয়াহিদ জানান, এ বি সিদ্দিক অপহরণ ঘটনা রহস্য উপন্যাসের মতো সন্দেহজনক। রহস্য উপন্যাসে অপহরণ কাহিনী ঘটে থাকে। সেখানে বড় মানুষকে অপহরণ করা হয়। যিনি অপহরণ হন তিনি নিজেও এ ধরনের কাহিনী তৈরি করেন। উপন্যাসের ক্ষেত্রে কেউ কেউ নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন ঘটনা ঘটায়। এখানেও তেমনি মনে হয়েছে। নানা ঘটনার পরস্পর বিরোধিতায় মনে হয় পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক। তিনি বলেন, সমাজে অপরাধ থাকবে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। নানা ডাইমেনশনে মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। শত্রু থাকতে পারে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িতদের সন্দেহ করা হলো রিজওয়ানার ব্যক্তি দ্বন্দ্বের বিষয়কে নিয়ে। এ বি সিদ্দিক যতটা সাদামাটা তার কর্মক্ষেত্র ততটা সাদামাটা কিনা? তার নিজের কাজের জন্যও তো অপহরণ হতে পারে। সে সব কথা না বলে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হলো। সূত্র মতে, সুরাহা না হওয়া প্রশ্নগুলো হলো-

প্রথম, গত ১৬ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড় ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে এ বি সিদ্দিক অপহৃত হলেও ব্যস্ততম ওই রাস্তায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দ্বিতীয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ওই রাস্তায় দিনের বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকলেও গাড়ি চালকের বক্তব্য অনুযায়ী নীল মাইক্রোবাসে হাত-পা-চোখ বাঁধা এ বি সিদ্দিককে কেউ দেখেনি। এমন প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজও পাননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয়, এ বি সিদ্দিকের বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমে দুই দফা ফেরি পার হলেও আসার পথে কোনো ফেরি ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরিতে মাইক্রোবাসটি অবস্থান করছিল। তবে সেখানেও কোনো লোক তাকে দেখতে পায়নি।

চতুর্থ, অপহৃত অবস্থায় এ বি সিদ্দিককে রাখা কক্ষ থেকে তিনি হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেছেন। একই সঙ্গে চোখ বাঁধা থাকলেও তিনি কীভাবে সময় বলে দিতে পারলেন?

পঞ্চম, মিরপুর আনসার ক্যাম্পের সামনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ বি সিদ্দিক মুক্তি পান। তবে ওই সময় থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন? সরাসরি ধানমন্ডি না গিয়ে তিনি উল্টোপথে কাজী পাড়া গেলেন কেন?

ষষ্ঠ, গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় বহুবার রিজওয়ানা তার স্বামীর বক্তব্য কেড়ে নিয়ে নিজে কথা বলেছেন। এর কারন কী?

সপ্তম, এ বি অপহরণের দিনই গাড়িচালককে রিজওয়ানা নিজের জিম্মায় নিয়েছিলেন কেন? ওই দিন গাড়িচালকের সঙ্গে র্যাব-পুলিশ কথা বলতে পারেনি।

অষ্টম, এ বি সিদ্দিকের কোনো শত্রু নেই দাবি করে রিজওয়ানা নিজেকে সামনে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। এর রহস্য কী?

নবম, অপহরণকারীদের অতিথিসুলভ ব্যবহার, মুরগি এবং গরুর মাংস দিয়ে আপ্যায়ন। বিভিন্ন সময় এ বি সিদ্দিককে ‘মামা’ এবং ‘ভাই’ সম্বোধন। বাড়িতে ফেরার সময় ইতিহাসের প্রথম কোন অপহরণকারী ভিকটিমকে নগদ ৩০০ টাকা পকেটে দিয়ে মানবিক হয়ে পড়লো ! এর রহস্য কী?

দশম, জোরপূর্বক গাড়িতে ওঠানো, পরে বিভিন্ন সময় মারধরের কথা বলেছেন এ বি সিদ্দিক। তবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। সর্বশেষ কোনো শর্ত ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

অপরাধ প্রতিবেদন ভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীর বলেন, এ বি সিদ্দিক অপহরণ আর উদ্ধারের ঘটনাটি বিস্ময়কর। অপরাধ বিজ্ঞানের কোনো ধারায়ই এটি পড়ে না। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে তার গায়ে একটি অাঁচড়ও দিল না, এটি হতে পারে না। উল্টো তাকে টাকা দিল, মুরগির মাংস, গরুর মাংস খাওয়াল, কেউ মামা বলে, কেউ ভাই বলে ডাকল- পুরো বিষয়টি হতবাক হওয়ার মতো।

তাহলে কি এটা সত্যিই একটা নাটক ছিল?

(http://www.somoyerkonthosor.com এবং http://www.bd-pratidin.com থেকে নেওয়া)

২৪ thoughts on “এ বি সিদ্দিক অপহরণ প্রসঙ্গঃ ১০টি নিখোঁজ প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে……

  1. এসব প্রশ্নের উত্তর অজানাই
    এসব প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যাবে আজীবন। প্রভাবের বলয় বড় শক্ত, ভাঙা যায় না। :দীর্ঘশ্বাস:

      1. সরকারী দলের প্রভাব, বিরোধী
        সরকারী দলের প্রভাব, বিরোধী দলের প্রভাব, চুশীল সমাজের প্রভাব। প্রভাবের কি শেষ আছে? এসন ঘটনার কোন সুরাহা আজ পর্যন্ত হয়েছে এই দেশে? কেন হয়নি? আপনার কথা শুনে তো মনে হয় এর জন্য দায়ী জনগণ। সরকারের কাজ কি তাইলে? বসে বসে তামাশা দেখা? বলছেন ওদের ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাপ আসবে। তা চাপ তো আরও নানান ঘটনায়ও ছিল। ইউনুচ নবীর ঘটনায় চাপ ছিল, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে চাপ ছিল। সেইক্ষেত্রে সরকার তো ঠিকই সেই চাপ তোয়াক্কা না করে নিজের কাজ চালায়ে গেছে। তাইলে এখন চাপড়ে ভয় পায় কেন?

        1. সরকারী দলের প্রভাব, বিরোধী

          সরকারী দলের প্রভাব, বিরোধী দলের প্রভাব, চুশীল সমাজের প্রভাব। প্রভাবের কি শেষ আছে?

          মোটকথা, আমি টানিয়া ধরিবই, পারিলে তুমি ছুটিয়া যাও……… এই তো?

  2. আরে ভাই, পুলিশ কতৃক ভিকটিমকে
    আরে ভাই, পুলিশ কতৃক ভিকটিমকে মাননীয় সাহেব/সাহেবান সম্বোধন করে প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর পাবে কিভাবে?
    রিমান্ডে নিয়ে ডিম থেরাপি দিলে সব ফকফকা হয়ে যেত!

    1. একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন,
      একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন, রিজওয়ানা হাসানের জন্য যারা এতোদিন মরা কান্না কাঁদলো তারাই কিন্তু এখন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। এই গুলো নাটক যে সত্তিকারের সাজিয়ে গুছিয়ে দেওয়া নায়ক নায়িকার অভিনয়, সেটা যত পরিষ্কার হতে থাকবে এই সকল শুশিল হুজুরেরা তত লেঞ্জা খানা পাছার ভিতর গুজে দিয়ে কুঁই কুঁই করতে থাকবে।

      এদেরকে নিয়ে আর পারি না!

  3. বাংলাদেশে এসব ঘটনা আজীবনই
    বাংলাদেশে এসব ঘটনা আজীবনই অজানা থেকে যায়। শাসকগোষ্টি চায়না অন্তরালের খবর মানুষ জানুক।

    1. শাসকগোষ্টি চায়না অন্তরালের

      শাসকগোষ্টি চায়না অন্তরালের খবর মানুষ জানুক।

      এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কিন্তু সরকার এবং প্রশাসন দু’তরফ থেকেই খোঁজা হচ্ছে।
      অসহযোগিতা করচে স্বয়ং রিজোয়ানা হাসান এবং তার স্বামী। একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করচে সরকার ও প্রশাসনকে।
      তাই, শাসকগোষ্টির ঘাড়ে যেনতেন ভাবে দোষারোপ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

      ওটা ফুটপাতের ল্যাংটা পাগলেও করে!

      1. রিজওয়ানা বা তার অপহৃত স্বামী
        রিজওয়ানা বা তার অপহৃত স্বামী অপহরন সম্পর্কে তথ্য দিতে টালবাহানা করলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রহস্য ভেদ করা। প্রয়োজনে তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তারা সহযোগীতা করছেনা বলে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায় না।

        1. তারা সহযোগীতা করছেনা বলে

          তারা সহযোগীতা করছেনা বলে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পায় না।

          ……… অবশ্যই পায় না কিন্তু তাদের ধরে এনে ছ্যাচানী দিলে মাসী যে নাখোশ হবেন!
          সেটা দেশ বিদেশের বাপ ভাইদের ডেকে এনে মানবধিকার লঙ্ঘনের কিচ্ছা কাহিনী শোনানো হবে, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা হবে,আরো কতো কিচুর পরিকল্পনা যে ছিল তা ক্যামনে বলি?

          সব্য কিচু যদি সরকারকেই করতে হয় তাহলে দেশে অন্য দল গুলোর প্রয়োজন কি?

  4. কে দেবে আপনার এসব প্রশ্নের
    কে দেবে আপনার এসব প্রশ্নের উত্তর? … রাষ্ট্র নাকি কোন ব্যক্তি? রাষ্ট্র কি তার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন?

    1. কে দেবে আপনার এসব প্রশ্নের

      কে দেবে আপনার এসব প্রশ্নের উত্তর? … রাষ্ট্র নাকি কোন ব্যক্তি?

      ধরে নিন প্রশ্নটা আমার। আপনার উত্তর কি?

  5. অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রিজওয়ানা
    অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রিজওয়ানা ও তার স্বামী কিছু লুকাতে চাচ্ছেন। সরকারের উচিত সেটা খুজে বের করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
    তাহলেই আসল খেলাটা কিসের সেটা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত।

    1. অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রিজওয়ানা

      অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় রিজওয়ানা ও তার স্বামী কিছু লুকাতে চাচ্ছেন।

      লুকোতে যে চাচ্ছেন সেটা কি কারো নজরে পড়ছে না?
      সে ব্যাপারে কেঊ কিছু বলছে না কেন?

    1. ………… যতক্ষণ না আমরা
      ………… যতক্ষণ না আমরা নিজেরা নিজেরা পারস্পারিক দোষারোপের মানশিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারব। আমরা সব কিছুতেই হয় সরকারের না হয় বিরোধীদের দোষ খুঁজে বেড়াই, নিজের দোষ কোথায় সেটা খুঁজে দেখিনা। নিজের দোষ চিনতে না পারলে এরকম ভানুমতির খেল অনাদিকাল চলতেই থাকবে, বিশ্বাস রাখুন।

      1. নিজের দোষ চিনতে না পারলে এরকম

        নিজের দোষ চিনতে না পারলে এরকম ভানুমতির খেল অনাদিকাল চলতেই থাকবে, বিশ্বাস রাখুন।

        জ্বি, দেশে অপহরণের মহামারী শুরু হয়েছে, এসবের জন্য অপহৃতরা নিজেরাই দায়ী।

        সবই হইতাছে নাটক! আওয়ামী সরকার মাছুম বাচ্চা!

        1. জ্বি, দেশে অপহরণের মহামারী

          জ্বি, দেশে অপহরণের মহামারী শুরু হয়েছে, এসবের জন্য অপহৃতরা নিজেরাই দায়ী।

          যা বাবা, এটা আবার কি বললেন?

        2. দেশে অপহরণের মহামারী শুরু

          দেশে অপহরণের মহামারী শুরু হয়েছে, এসবের জন্য অপহৃতরা নিজেরাই দায়ী।

          এটা কি আমি কোথাও বলেছি?
          আপনার সাথে অযথা বিতর্ক করার ইচ্ছে নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *