নিথর পা রানা প্লাজা


তোমার পা সরাও মা, তোমার পা সরাও বোন
পারছি না আমি আর-
আমার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে আসছে মুখ দিয়ে
পা’গুলো আজ বোবা করে দেয়, হাওয়ায় আর্তনাদ
একটু সরাও, সামান্য খানিকটা-ওখানে বেজেছিলো ঝংকার কোনো
আমি কি তবে ঝংকৃত হব আজো; বোবা শব্দে
কান্না জলে ভেসে গিয়ে ভাসিয়ে দেব পুরো বঙ্গোপসাগর।

মাথায় পা গিজগিজ করে তাই মাথাটা আজ আগ্নেয় লাভা-
ব্যর্থতা উদগিরণ হয় কেবল অশ্রাব্য গালাগালে
আমি আজ গালি দেব প্রাণখুলে,অসম বিন্যাসি সব
মজুরির দামে যেখানে লেনদেন হয় জীবনের দাম।


তোমার পা সরাও মা, তোমার পা সরাও বোন
পারছি না আমি আর-
আমার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে আসছে মুখ দিয়ে
পা’গুলো আজ বোবা করে দেয়, হাওয়ায় আর্তনাদ
একটু সরাও, সামান্য খানিকটা-ওখানে বেজেছিলো ঝংকার কোনো
আমি কি তবে ঝংকৃত হব আজো; বোবা শব্দে
কান্না জলে ভেসে গিয়ে ভাসিয়ে দেব পুরো বঙ্গোপসাগর।

মাথায় পা গিজগিজ করে তাই মাথাটা আজ আগ্নেয় লাভা-
ব্যর্থতা উদগিরণ হয় কেবল অশ্রাব্য গালাগালে
আমি আজ গালি দেব প্রাণখুলে,অসম বিন্যাসি সব
মজুরির দামে যেখানে লেনদেন হয় জীবনের দাম।

আমি আমাকে গালি দিই; আমি তোমাকে গালি দিই
আমার গালি আছড়ে পড়ে রাষ্ট্রযন্ত্রে
রাষ্ট্র প্রত্যুত্তরে ছুঁড়ে দেয় প্রেসনোট
আহা, জীবনমূল্য! অসহ্য ঘোষণা-
আমার গালাগালে নিকুচি হয় রাষ্ট্রযন্ত্র
চুতমারানি গালিগুলো ওড়ে যায় উঁচুতলায়,
আমার গালি আমাতে ফিরে; আমার গালি আমাকে শুধায়
কত চাও, কত নেবে- আমরা আজ বোবাদের ঈশ্বর

আমাদের পাড়া শ্মশান ঘাট, আমাদের পাড়া দেবালয়
আমাদের পাড়া মসজিদ-মন্দির, আমাদের পাড়া মৃত্যুমুখর
আমাদের পাড়ায় নিথর পা, মগজে নিথর সারা গ্রাম
আমাদের পাড়া মৃত্যুপুরি; অবাক বিস্ময়ে সাত আসমান!

পা সরাবে, পা সরাও-
নিথর পা লাথি মারে বারবার; বিবেক দরোজায়!

২৫০৪২০১৩

৫ thoughts on “নিথর পা রানা প্লাজা

  1. পা সরাবে, পা সরাও-
    নিথর পা

    পা সরাবে, পা সরাও-
    নিথর পা লাথি মারে বারবার; বিবেক দরোজায়!

    আমি এই কথাটুকু বিস্বাস করতে পারি না।

    ওই নিথর পা-টি যদি সত্যই আমাদের বিবেকের দরজায় লাথি মারতে পারতো তাহলে বোধহয় আমরা খানিকটা হলেও স্বস্তি পেতাম।
    আমাদের বিবেক এতোতাই অসাড় যে ওতেও আমাদের বোধোদয় হচ্ছে না, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জাগিয়ে তোলার আজ তাই এতো আয়োজন।

    আমাদের বিবেকের স্তব্ধতা সম্ভবত গ্রাস করেচে ওই পা-টি কে, যার কারনে আজো সে নিথর হয়েই ভেংচি কাটছে ১৭ লক্ষ মুখের দিকে তাকিয়ে।

  2. কি বলবো? আমাদের বলার মত মুখ
    কি বলবো? আমাদের বলার মত মুখ আছে? একজনের ফেসবুকের একটি লেখা তুলে দিলাম

    ২০০৫ সাল, স্পেকট্রাম গার্মেন্টস জেনোসাইড

    ভবন কারাখানা করার অনুপযুক্ত ছিল। নির্মাণ থ্রুটির কারণে ভবনের জায়গায় জায়গায় ফাটল ধরে গিয়েছিল। তবুও গার্মেন্টস মালিকের নির্দেশে শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন রেখেই কাজ চালিয়ে যায় ম্যানেজার। ফলাফল ভবন ধ্বসে ২০০ শ্রমিকের মৃত্যু…
    মালিকের নির্দেশ !!!

    সাল ২০১২, তাজরীন ফ্যাশন্স জেনোসাইড

    নিচের তলায় আগুন লাগার খবর পেলে শ্রমিকরা সবাই মেইন গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ম্যানেজার মালিকের নির্দেশে শ্রমিকদের কাছে মিথ্যা কথা বলে ‘ আরে অগ্নিকান্ডের মহড়া হচ্ছে। তোমরা তোমাদের কাজে যাও। ‘ এবং মেইন গেট তালা মারা দেয়া হয়। পরের পাচ ঘন্টায় ভেতরে ১১১ জন শ্রমিককে পুড়িয়ে গ্রিল করা হয়। মেইন গেট বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিক গ্রিল।
    মালিকের নির্দেশ !!!

    ২০১৩ সাল রানা প্লাজা জেনোসাইড

    এবারও ভবন ধসবে এ পুর্বাভাস আগেই পাওয়া দিয়েছিল। … সি আই ডির তদন্তে উঠে আসে, রানা প্লাজায় ফাটল ধরা পড়ার পর তা ধসে পড়তে পারে জেনেও গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা করেছিল। কাজ না করলে তাদের দেখানো হয়েছিল চাকরি হারানোর ভয়…ফলাফল কি আমরা জানি
    গার্মেন্টস মালিকরা বাধ্য করে…!!!

    তারপরও গার্মেন্টস মালিকদের কিছু বলা যাবেনা। কারণ তৈরি পোশাক খাত দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাত, হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাপার। কি হয় এ হাজার কোটি টাকা দিয়ে। গুলশান বারিধারায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট, ছেলের জন্য লেক্সাস কার ,বছর বছর ইওরোপ ট্যুর ওয়েস্টিনে কলগার্ল নিয়ে লক্ষ টাকার স্যুটে রাত্রিযাপন। আর শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কিভাবে নিশ্চিত হয়? বিল্ডিং চাপা দিয়ে আগুনে রোস্ট করে। তারপরও গার্মেন্টস মালিকদের কিছু বলা যাবেনা। তেনারা দেশের সম্পদ। নাম করা মাদারচোদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *