ফ্রয়েড ও আমার বিভ্রান্তি

আমি একজন লিভারেল মানুষ একইসাথে সহনশীল। ব্যাক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমার আরেকটা স্বভাব হলো আমি পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারি। কিন্তু বিকৃতি মানতে পারিনা সহজে। বিকৃতি আর সুস্থ পরিবর্তন এক জিনিস না। তাই বলে একে গলা টিপে মারারও ইচ্ছা আমার নাই। বিকৃতি হলো পরিবর্তনের বাই প্রডাক্ট। আপনি পরির্তন কামনা করলে এই বাই প্রডাক্টকেও সইতে হবো। নয়তো ভ্রমের সাথে সাথে আপনার সত্য আটকে যাবে।


আমি একজন লিভারেল মানুষ একইসাথে সহনশীল। ব্যাক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমার আরেকটা স্বভাব হলো আমি পরিবর্তনকে সহজে মেনে নিতে পারি। কিন্তু বিকৃতি মানতে পারিনা সহজে। বিকৃতি আর সুস্থ পরিবর্তন এক জিনিস না। তাই বলে একে গলা টিপে মারারও ইচ্ছা আমার নাই। বিকৃতি হলো পরিবর্তনের বাই প্রডাক্ট। আপনি পরির্তন কামনা করলে এই বাই প্রডাক্টকেও সইতে হবো। নয়তো ভ্রমের সাথে সাথে আপনার সত্য আটকে যাবে।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিক সুত্রের আমি একনিষ্ঠ ভক্ত আমি। সেটা সবক্ষেত্র। আইন্সটাইন হয়তো পদার্থ বিজ্ঞানে তার আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রমাণ কর গেছেন। কিন্তু এটা সামাজিক ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। পাপ-পুন্য, নৈতিকতা এমনকি ভালোবাসা-প্রেম এসবও আপেক্ষিক। এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস এবং উপলব্ধিও করি। উপলব্ধি ছাড়া বিশ্বাস পুর্ণতা পায়না। তবে সব কিছুই তো আর রিলেটিভ না। কন্সটেন্ট আছে, ভেরিয়্যাবালস আছে। আমি এই পরম,মানে কন্সটেন্ট খুঁজছি। জগতের সব কিছুই যেন আপেক্ষিক!

আমি ব্যাক্তি স্বাতন্ত্রে বিশ্বাসী। প্রত্যেকটা মানুষ ভিন্ন। একটা মানুষ নিজেই একটা হিমালয়। সেটা নারী হোক কিংবা পুরুষ। প্রত্যেক নারী-পুরুষ আলাদা আলাদা ভাবে পৃথক, পৃথক ব্যাক্তিত্ব। নারীরা সাধারনত এমন করে কিংবা পুরুষরা অমন হয় এটা আমার কাছে সঠিক মনে হয় না। একজন নারীর ব্যক্তি চরিত্র অন্য আরেকজন নারীর সাথে মিলবে এমন কোন কথা নেই। একই কথা পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানে কোন কিছুকে আপনি নির্দিষ্ট, নির্ধারিত ধরে বসে থাকলে বিপদ।

তবুও নারী এবং পুরুষের সাধারন মনসত্ত্ব আছে। যা নারীকে পুরুষ থেকে কিংবা পুরুষকে নারী থেকে পৃথক করে। মনস্তাত্ত্বিকগণ আলাদা আলাদা ভাবে এ মনসত্ত্ব ব্যাখা করছেন। সাধারন ভাবে পুরুষরা যা পছন্দ করে তা নারীর কাছে একঘেয়ে লাগে আবার নারীর কাছে যা চিত্তাকর্ষক পুরুষের কাছে তা ছেলেমানুষী। আবার একই বিষয় নারী পিরুষ ভিন্নভাবে উপভোগ করে। যেমন যৌনতা। তাই হাজার বছর আগের কামসূত্র এখনো প্রাসঙ্গিক। মানুষ এখনও তার সঙ্গী বা সঙ্গীনিকে তৃপ্ত করার সহজ সূত্র আবিস্কার করতে পারেনি।

অনেকে নারীকে রহস্যময়ী বলেন। বলেন নারী নাকি দূর্বোধ্য,তার মন বোঝা দায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি একথাগুলো পুরুষতান্ত্রিক দৃস্টিভঙ্গির প্রকাশ বলে তেমন গুরুত্ব দেইনা। যেহেতু পুরুষের নারীর মন জগতকের খবর পায় না তাই সে শুধু প্রতিক্রিয়াশীলতার আশ্রয় নিবে স্বাভাবিক। একজনকে শুধু হাসতে দেখে তো আর বলা যায়না সে সুখী মানুষ। তেমনি নারীর ভেতরটা না জেনে তাকে বিশেষনে বিশেষায়িত করতে গেলে তা সঠিক হবে না।
তবে আমার সব কথা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষন বাঁধা পরে গেছে সিগমুন্ড ফ্রয়েডের একটা উক্তিতে।

“একটাই প্রশ্ন, যার কোনো উত্তর আজও আমি দিতে পারিনি। সেটা হচ্ছে, একজন নারী কী চায়?”
— সিগমুন্ড ফ্রয়েড

যদিও সিগমুন্ড ফ্রয়েড নিজেও একজন পুরুষ তবু তার এমনতর মন্তব্য আমাকে বিভ্রান্ত করে দেয়। আমি যে নারী-পুরুষ না ভাবিয়া শুধু ব্যাক্তি মানুষের পূজা করি এ উক্তি সে দর্শনে একটু চির ধরায়।

নারীদের অজস্র বছরব্যাপী অন্তঃপুর বাসিনী করে রাখা হয়েছে। যুগের পর যুগ খাঁচায় থেকে যে মনসত্ত্ব এতকাল গড়ে ওঠেছে সেটা যে পুরুষের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকবে তা বলাই বাহুল্য।

৬ thoughts on “ফ্রয়েড ও আমার বিভ্রান্তি

  1. “একটাই প্রশ্ন, যার কোনো

    “একটাই প্রশ্ন, যার কোনো উত্তর আজও আমি দিতে পারিনি। সেটা হচ্ছে, একজন নারী কী চায়?”

    নারীরা শিশুর মত। বিয়ে হলে এবং মা হলে তাদের একটু পরিপক্কতা আসে। তার আগ পযন্ত নারীর মন অস্থির ও সদা পরিবর্তনশীল থাকে, একটা ছোট শিশুর মত — অপরিপক্ক ও অস্থির!

    1. এটা আপনি একটা পরিবর্তনের কথা
      এটা আপনি একটা পরিবর্তনের কথা বলেছেন হয়তো। কিন্তু এটা তো আর মনস্তত্ত বোঝার জন্য যথেষ্ট না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *