গণজাগরণ মঞ্চঃকোন্দল,অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও হতাশা!

গণজাগরণ মঞ্চের বর্তমান অবস্থা আমায় ব্যথিত করে।সত্যি বলতে,যেসকল সাধারণ মানুষ এই মঞ্চের দাবিগুলোর প্রতি আকুন্ঠ সমর্থন দিয়েছিল,রাস্তায় নেমে এই আন্দোলনকে সফল করেছিল,তাদের অনেককেই ব্যথিত করে।এখন স্পষ্টতই এই আন্দোলনে দুইটি পক্ষ দেখা গেছে।স্বাভাবিকভাবেই দুই পক্ষ দাবি করছে,তারা সঠিক এবং অপর পক্ষের দুরভিসন্ধি রয়েছে।কিন্তু আমি বিশ্বাস করব কাকে?এই দুই পক্ষের কাউকেই ফেসবুক-ব্লগ,টিভিতে দেখা ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে চিনি না!ইমরান ভাই,মারুফ ভাই এবং বাঁধন ভাই একবার আমাদের স্কুলে এসেছিলেন গত বছর মার্চ মাসে,তখনই শুধু একবার কথা হয়েছে।ইমরান ভাইয়ের সাথে হাত মিলিয়ে বলেছিলাম,“বেস্ট অফ লাক!”যখন দুই পক্ষের কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি না,তাহলে কে লক্ষ পূরণে সচেষ্ট তা বোঝা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যায়।যেসকল সাধারণ মানুষ আমার মত ফেসবুক আর টিভিতে দুই পক্ষের ঝগড়া দেখেন,তাদের জন্যও কে ঠিক,কে ভুল তা বোঝা কষ্টকর হয়,এটাই স্বাভাবিক।শাহবাগের কোন অনুষ্ঠানে মানুষের সমাগম অনেক কমে গিয়েছে আগেই,এখন মানুষ আরও মর্মাহত বোধ করবে এবং প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন জানাতে আগ্রহ পাবে না।তাই,এই বিভক্তি আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অবশ্যই জামাতের জন্য আনন্দের!আমার চেনা-জানা মঞ্চবিরোধীরা এখন দাম্ভিক আচরণ করছেন এবং দাবি করছেন,তাদের মঞ্চবিরোধিতা সঠিক ছিল।

তবে একথাও সত্য,মঞ্চ যদি আর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নাও নিতে পারে,এই মঞ্চ কখনোই সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ নয়।আমার ক্ষেত্রেই এই মঞ্চ অনেক পরিবর্তন সাধন করেছে,আমার মত অনেক কিশোরের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন ঘটেছে বলেই আ
মার বিশ্বাস।আমি আগে দেশ নিয়ে কখনোই ভাবতাম না এমনটা নয়।রাজাকারদেরকে আমি সবসময় ঘৃণা করে এসেছি,তবে এই আন্দোলনের ফলে আমি আগের থেকে অনেক বেশি জানি জামাতের কুকীর্তি সম্বন্ধে,তাদের লক্ষ সম্বন্ধে,শক্তি সম্বন্ধে!আমি কখনোই ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলব না,রেটিনাতে ভর্তি হব না।আমি ছাড়াও এদেশের আরও অসংখ্য সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই এমন মতামত পোষণ করেন।এই আন্দোলনের ফলেই কাদের মোল্লার ফাঁসি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এখন যদি এই মঞ্চের আন্দোলন থেমে যায়,তবে অনেক লক্ষই অপূর্ণ থেকে যাবে।এখনো অধিকাংশ দাবিই পূরণ হয়নি!সাম্প্রতিককালে ইসলামী ব্যাংকের অনুদান গ্রহণ,উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী-জামাত আঁতাতের গুজব,হেফাজতের আওয়ামী প্রীতি,হেফাজতকে রেলের জমি দান করা দেখে মনে হয় না যে খুব সহজে দাবি পূরণ হবে।আমি কিছু বিষয় মেলাতে পারি না।যেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,জাতিসংঘকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করতে পারেন,তাঁর সরকার কিভাবে ইসলামী ব্যাংকের অনুদান গ্রহণ করার আগ্রহ দেখাতে পারে,উপজেলা নির্বাচনে জামাতের সাথে আঁতাত করতে পারে!যারা নিজেদের সেকুলার দল হিসেবে দাবি করে,সেই আওয়ামী লীগ কিভাবে রেলের জমি দান করে হেফাজতকে?এই সরকারের মন্ত্রী-নেতারা বহুকাল আগে থেকে জামাত নিষিদ্ধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন,কিন্তু আমরা তা এখনো বাস্তবায়িত হতে দেখিনি।শীঘ্রই দেখারও কোন সম্ভাবনা নেই!

বিষবৃক্ষকে আরও বড় হতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে!তার মানে জনগণের প্রাণের এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে আবার আওয়াজ তুলতে হবে।মঞ্চের কাছ থেকেই সেই ডাক আসার কথা।কিন্তু এখন মঞ্চ দুই ভাগ।কার ডাক শুনে মানুষ আসবে?তারাও তো আমার মত দুই পক্ষের কাউকেই চেনে না!বরং তারা এমন মারামারি-দোষারোপ দেখে অতিষ্ঠ হবে এবং মুখ ফিরিয়ে নেবে।তাহলে,আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।জামাত আনন্দে উদ্বেল হবে।জনগণের চাপের মুখে পড়তে না হওয়ায় আওয়ামী লীগ হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে।হেরে যাব আমরা!

চারদিকে এত কিছু দেখে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে।সেগুলো দিয়ে শেষ করি।

-জোরপূর্বক চাঁদাবাজির মাধ্যমে নাকি ইমরান ভাই কোটিকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।এখন যখন সেই চাঁদাবাজি নিয়ে এত কথা হচ্ছে,কোন ভুক্তভোগী ব্যক্তি কেন সামনে এসে বলছেন না মঞ্চ তার কাছ থেকে জোর করে চাঁদা নিয়েছে?এমন কোন ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি কিন্তু বলা হচ্ছে মঞ্চ কোটিকোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে,কিসের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে?

-কোন এক পত্রিকার প্রতিবেদনে পড়েছিলাম,শহীদুল হক মামা বলেছেন,মঞ্চ কোটিকোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে।তিনি মঞ্চের খারাপ চান,সেটা বিশ্বাস করা কষ্টকর।তাহলে উনিও যখন এমন অভিযোগ করেন,তখন তা বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হয়।যদি তিনি মিথ্যা বলে থাকেন,তার কারণ কি হতে পারে?

-সরকার এখন মঞ্চের উপর লাঠিচার্জ করে।কেন করে?আর যখন সরকার মঞ্চের উপর লাঠিচার্জ করে,তখন তাদের অঙ্গসংগঠন মঞ্চের ভালো চাইবে সেটা বিশ্বাস করা কি কষ্টকর নয়?

-এপ্রিলের শুরুতে শাহবাগের মারামারিতে শেখ আসমান ভাইকে অভিযুক্ত করেন ইমরান ভাই।তবে তার পক্ষে অনেকে সাফাই গেয়ে বলেছেন,তিনি তখন চারুকলাতে বসেছিলেন।তাহলে ইমরান ভাইয়ের কথা যদি মিথ্যা হয়,এই মিথ্যা বলার কারণ কি?

-চারদিকে যখন এত বিতর্ক,তখন মঞ্চ কি পারে না অনলাইনে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে দিতে?নিয়মিত তার হালনাগাদ করতে?সেক্ষেত্রে কেউ আর কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না যদি সত্যি সত্যি মঞ্চ জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করে না থাকে।
-যারা ইমরান ভাইকে অব্যাহতি দিলেন,তারা ছয় দফা বাস্তবায়নে ঠিক কোন ধরণের পদক্ষেপ নিতে চান যা পূর্বে নেওয়া হয়নি?তারা কিভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে?

-পাঁচ ছাত্র সংগঠন ইমরান ভাইকে স্বৈরাচারী বলেছেন।টিভি টক শোতে বলেছেন,এখনো একত্রে কাজ করা সম্ভব নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে।কিন্তু ইমরান ভাইকে তার স্বৈরাচারী আচরণ থামাতে হবে।যখন একসাথে কাজ করা সম্ভব,তাহলে সংবাদ সম্মেলন করে কোন্দলটা বাইরে না নিলে ভালো হত না?কোন্দল বাইরে আসলে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়,তাদের মাঝে বিতৃষ্ণা আসে।

আমার প্রাণের এই মঞ্চ যদি সব প্রতিকূলতা দূর করে আবার লাখো মানুষের সমাগামে পরিণত হয়,তবে তার থেকে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।বর্তমানে সেই সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে হয়।কিভাবে প্রতিকূলতা দূর করা হবে,সে বিষয়ে আমার কোন ধারণা নেই।তবে আমি মনে-প্রাণে চাই,সকল প্রতিকূলতা দূর হোক,মঞ্চ তাদের দাবি আদায়ে সফল হোক।নাহলে প্রিয় বাংলাদেশের সামনে খুব কঠিন সময় অপেক্ষা করছে!

৭ thoughts on “গণজাগরণ মঞ্চঃকোন্দল,অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও হতাশা!

  1. ছোটভাই এইগুলো হচ্ছে নোংরা
    ছোটভাই এইগুলো হচ্ছে নোংরা রাজনীতির ম্যারপ্যাঁচ। আওয়ামীলীগ পারে না এমন কোন কাজ দুনিয়াতে নাই।

  2. পাঁচ ছাত্র সংগঠন ইমরান ভাইকে

    পাঁচ ছাত্র সংগঠন ইমরান ভাইকে স্বৈরাচারী বলেছেন।

    ঐ সঙ্গঠনগুলো তো আওয়ামী লীগের সাথেই আছে।

    আসলে, যার মনে যা, ফাল দিয়া উঠে তা…!

    1. সেটাই।তারাও এতদিন স্বৈরাচারের
      সেটাই।তারাও এতদিন স্বৈরাচারের সাথে গলা মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন।কিন্তু পুলিশ মঞ্চে যখন হামলা চালায়,তারা তখন সংবাদ সম্মেলন করেন!বিষয়গুলো বেশি কাকতালীয়!

  3. এই সব হল এদেশের নোংরা
    এই সব হল এদেশের নোংরা রাজনীতির অবৈধ সন্তান যারা দেশের নয় শুধু নিজের দলের ভাল কামনা করে!!

    1. মঞ্চের ক্ষতি করলে আখেরে
      মঞ্চের ক্ষতি করলে আখেরে দেশেরই,তাদের দলেরও ক্ষতি হবে,এ ব্যাপারটাই তারা বোঝে না!কারণ মঞ্চের দাবি পূরণ না হলে জামাত আরও শক্তিশালী হবে,তখন সবার সামনেই বিপদ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *