চিকিৎসক নয় তাদেরকে চিকিৎসাজীবী বলি

বেশ কিছুকাল ব্লগে লেখা হয়না। কারন গুলো হতে পারে সময় সল্পতা,ব্যস্ততা অথবা অন্য আরও কিছু। কিন্তু এতদিন পরে আবার লিখতে বসে প্রথমেই এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে যাচ্ছি যা যতটা দুঃখজনক আবার তার থেকে বেশি লজ্জাজনক। facebook এ একটু ঘোরাঘুরি করছিলাম, কারন সেখানে করার মত কিছুই থাকে না… ঘুরতে-ঘুরতে হঠাৎ একটা হোঁচট খেলাম, বলা যায় বেশ জোরেশোরেই। এবার তাহলে সেই হোঁচট সমেত মূল কথায় আসি।

বেশ কিছুকাল ব্লগে লেখা হয়না। কারন গুলো হতে পারে সময় সল্পতা,ব্যস্ততা অথবা অন্য আরও কিছু। কিন্তু এতদিন পরে আবার লিখতে বসে প্রথমেই এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে যাচ্ছি যা যতটা দুঃখজনক আবার তার থেকে বেশি লজ্জাজনক। facebook এ একটু ঘোরাঘুরি করছিলাম, কারন সেখানে করার মত কিছুই থাকে না… ঘুরতে-ঘুরতে হঠাৎ একটা হোঁচট খেলাম, বলা যায় বেশ জোরেশোরেই। এবার তাহলে সেই হোঁচট সমেত মূল কথায় আসি।
বিগত কিছুদিন ধরে আমাদের দেশের চিকিৎসাজিবিগণ (আপাতত তাদেরকে চিকিৎসক বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখছি) আন্দলনে পতিত হয়েছেন, বরাবরের মত মন্ত্র একটাই-“চিকিৎসক মোরা, মহান পেশার অধিকারী, আমাদের সাথে অসদাচরণ মানি না মানবনা”… আন্দলন ধিরে ধিরে এমন দিকেই এগোচ্ছে যে আর কয়দিন পরে রোগীদের বিরুদ্ধে একটি চিকিৎসক জাগরণ মঞ্চ এবং তার পরে ফাসির দাবি এবং আরও কিছু হলেও হতে পারে। অপরাধ একটাই, রোগির মৃত্যুতে চিকিৎসকদের সাথে রোগীর আত্মীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ। এক্ষেত্রে যে ঘটনা ঘটেছিল সেধরনের ঘটনা গুলোকে এতদিন সহজে উরিয়ে দেয়ার ফলেই আজকে এমন হোঁচট খেলাম। facebook এ আর-টি.ভি-র পেজ এ একটি ভিডিও ফুটেজ পেলাম। এই ফুটেজটি দেখে প্রথমেই আল্লাহ-র কাছে শুক্রিয়া জানালাম কারন আমি নিজে চিকিৎসাজীবী হইনি। তা না হলে এই লজ্জার ভার আমার উপরেও কিছুটা হলেও পরত। যাই হোক, আমাদের চিকিৎসাজীবী গণ অভিযোগ করেন-” তারা তাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি কখনই করেন না,কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টার বেশি আর কিছুই তাদের করার নেই”, দ্বিতীয় লাইনটা একেবারেই সত্যি, অস্বীকার করার কোন পথ নেই, কারন মানুষের হায়াত তো আর ডাক্তার(মানে চিকিৎসাজীবী)-দের হাতে নয়। তবে প্রথম লাইনটিতে তারা যা দাবি করেন সেটা কতখানি সত্য সেটা প্রিয় পাঠক আপনি আপনার নিজের অভিগ্যতা থেকেও হয়ত বলতে পারবেন। কারন এই “মহান” পেশাজীবীদের ব্যাস্ততা তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টের মতই। যদি সরকারী হাসপাতালে এর প্রমান খুজি তবে এর সত্যতা পেতে কোন কষ্ট হবে না। নিজের অভিগ্যতা থেকেই বলি, কোন একটি কাজে কিছুকাল আগে গিয়েছিলাম এক নামকরা চিকিৎসাজীবীর কাছে। নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগেই পৌঁছে গেলাম। তবে পেলাম না। ভাবলাম এমন- “মহান” পেশার মানুষ, হয়ত ব্যাস্ত আছেন, সময় হলেই আসবেন। এভাবে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা পার হল। তবে ঐ বিশেষ জীবীর দেখা মিলল না। তখন বাধ্য হয়েই তার সহকারীর কাছে জানতে চাইলাম-
-আপনাদের স্যার কখন আসবেন?
-এসে পরবেন কিছুক্ষন পরেই।
-এখানে তার ডিউটি টাইম কখন?
-৬ টা থেকে শুরু। (তখন ঘড়িতে ৮ টা বাজে)
-কিন্তু তিনি তো এখনো আসলেন না।
-তিনি আরেক জায়গায় রোগী দেখেন, তাই মাঝে-মাঝে একটু দেরি হয়ে যায়।আরেকটু অপেক্ষা করুন,চলে আসবে।
পরে সে চিকিৎসাজীবী আরও ৪৫ মিনিট পরে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।
আপনাদের অনেকের জীবনেও এমন অপেক্ষার পালার ঘটনা আছে। অথবা মুমুর্ষ রোগী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাজীবীর দেখা মেলেনি অনেকের। এভাবে এই জীবীদের অবহেলায় কারো আপনজনের প্রান হারালে ক্ষোভ প্রকাশ করাটা খুবই স্বাভাবিক।আর তার প্রতি উত্তর যদি এই “চিকিৎসক” নামধারী এইসব বিশেষ জীবীরা আন্দোলন,হামলা,ভাংচুর এসবের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের কি “জীবী” বলা যায় সেটার উত্তর পাঠকরাই দিবেন আশা করি। আর যাই হোক, অন্তত তাদের “চিকিৎসক” বলতে আমার নীতিতে বাধে। কারন ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি যে- “চিকিৎসা এক মহান পেশা,এক নিবেদিত প্রানের পেশা।” আর এসব নিবেদিত প্রানরা যখন ধর্মঘট করে মানুষের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে আর মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে তখন তাদের চিকিৎসক কেন,মানুষ বলতেও বিবেকে বাধে। তবুও তাদের ব্যাবসায়ী না বলে “চিকিৎসাজীবী” বলি। কারন ব্যাবসায়ীদের অযথা অপমান করতে চাইনা। রাজশাহী মেডিকেলে আহত যমুনা টেলিভিশনের সেই ক্যামেরাম্যান রাসেল এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আই.সি.ইউ তে, মেডিকেলের বহির্বিভাগের চিকিৎসা বন্ধ করেছে চিকিৎসাজীবীরা। তবে এসব চিকিৎসাজীবীদের স্মৃতি শক্তি কতটা প্রখর জানিনা, কারন কিছুকাল আগেই এসব বিশেষ জীবীরা নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং সর্বদা নিবেদিত প্রান হিসেবে নিয়জিত থাকার শপথ করেছিলেন মানব সমাজের সাথে।
পরিশেষে পাঠকদের এবং ঐ সকল জীবীদের কাছে আমার প্রশ্ন
– এই অমানবিকতার পরেও কি তারা নিজেদের নামের আগে Dr./ডাক্তার অথবা চিকিৎসক কথাটা লেখার অধিকার রাখে কিনা?? তাই যদি রাখে তবে বিজ গনিতের মত এটাই প্রমান হয় যে-”চিকিৎসাজীবীরা একপ্রকার বহুমুখি ব্যাবসায়ি যার বানিজ্য শুরু হয় একই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে, মানবিক গুনাবলির সেখানে কোন স্থান নেই।

১৫ thoughts on “চিকিৎসক নয় তাদেরকে চিকিৎসাজীবী বলি

  1. সত্য লিখেছেন তবে ভুলে যাবেন
    সত্য লিখেছেন তবে ভুলে যাবেন না তারাই এখনো আমাদের যথাসম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
    তাদের অবদানকেও স্রদ্ধাভরে স্মরন করা উচিত।

    1. তাদের সেবার কথা আমি অস্বীকার
      তাদের সেবার কথা আমি অস্বীকার করি না… তবে চিকিৎসকদের সারিতে যখন কিছু কসাই শ্রেণির লোকজন শুধু সার্টিফিকেটের জোরে নিজেদের চিকিৎসক বলে দাবি করে তখন একজন সাধারন মানুষ হিসেবে সেটা মেনে নেয়া খুব কষ্টকর…

    2. ভুলে যাবেন না তারাই এখনো

      ভুলে যাবেন না তারাই এখনো আমাদের যথাসম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
      তাদের অবদানকেও স্রদ্ধাভরে স্মরন করা উচিত

      সহমত।

      1. আরে ভাই আমি তো ভুলি নাই…
        আরে ভাই আমি তো ভুলি নাই… শুধু চিকিৎসক আর চিকিৎসাজীবীর মধ্যে পার্থক্য টা বুঝাইছি… এটাও না বুঝলে তো দুঃখের কথা…

      2. ভাই আমি তো ভুলি নাই ,শুধু
        ভাই আমি তো ভুলি নাই ,শুধু “চিকিৎসক” আর “চিকিৎসাজীবী”-র মধ্যে পার্থক্যটা বুঝাইলাম… এটাও না বুঝলে তো ভাই দুঃখের কথা…

  2. বাংলাদেশ থেকে চিকিতসাজিবিতা
    বাংলাদেশ থেকে চিকিতসাজিবিতা ব্যান করার দাবী জানাই। দরকার নাই এই দেশে কোন চিকিতসাজিবিতার। সবাই একাই একশ। সব কসাইগুলারে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলা উচিৎ। তাইলে দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

      1. জি ভাই। রাগ দেখানোর অধিকার
        জি ভাই। রাগ দেখানোর অধিকার কসাইদের থাকতে নাই। কি আর করুম কন। এক একজনের কথা শুনলে মনে হয় এই দেশে চিকিৎসা সেবা বলে কিছু নাই। সবাই ঐশী পদ্ধতিতে সুস্থ্য আছে। সরকারী হাসপাতালে কোন চিকিৎসাই হয় না। সেখানে সবাই থাকে ধান্দাবাজিতে ব্যস্ত। গরীব রোগী যেগুলা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি যায় তাদের চিকিৎসা অটো হয়ে যায়।

  3. এই দেশে ডাক্তারের কোন প্রয়োজন
    এই দেশে ডাক্তারের কোন প্রয়োজন নাই। কারণ, ডাক্তারের চেয়েও বড় ডাক্তার হচ্ছে রোগী আর রোগীর আত্মীয়-স্বজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *